আইনকানুন একাডেমি

Course Content
The Code of Civil Procedure
দেওয়ানি কার্যবিধির প্রতিটি ধারা একেবারে ধরে ধরে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দিকগুলো বুঝবো আমরা ভিডিও লেকচারের মাধ্যমে এবং পর্যাপ্ত এমসিকিউ অনুশীলন করবো পরীক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে।
0/6
The Code of Civil Procedure, 1908

ম্যাপিং : বার কাউন্সিলের সিলেবাসে Jurisdiction of civil courts [দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার], Res judicata and Res subjudice  [রেস জুডিকাটা ও রেস সাবজুডিস] এবং Place of suing [মোকদ্দমার স্থান] এই তিনটি শিরোনামের বিষয়বস্তু আমাদের সিলেবাসে আছে। আবার, Transfer of suits [মোকদ্দমা স্থানান্তর] শিরোনামে একটি টপিক সিলেবাসের মাঝামাঝি হঠাৎ করে হাজির হয়েছে যদিও সেটি এই ৯ থেকে ২৫ ধারার ভেতরেরই একটি টপিক। সুতরাং, এই কয়েকটি বিষয় একত্রে আলোচনা করা চলে। দেওয়ানি কার্যবিধির এই অংশের আলোচনাটি খুব জরুরি। গুরুত্ব দিয়ে পড়–ন। পড়ার আগে অবশ্যই সাপ্লিমেন্টারি বুকের ….. নং পৃষ্ঠায় থাকা পুরো প্রবন্ধটি না হলেও অন্তত সুচিপত্রের বিন্যাসটি ও তার উপবিভক্তিসমূহ [৯—২৫ ধারাসমূহের] একবার পড়ে আসা জরুরি। চলুন, মূল আলোচনায় চলে যাই।

 

মূল আলোচনা

দেওয়ানি বিষয়বস্তুগত এখতিয়ার প্রসঙ্গ : ধারা ৯

৯ ধারাটি নিয়ে কোনো বিশেষ আলোচনা এখানে নতুন করে সম্ভবত প্রয়োজন নেই। এ প্রসঙ্গে প্রথম লেকচারে দেওয়ানি আদালতের বিষয়বস্তুগত এখতিয়ার বা দেওয়ানি মোকদ্দমার পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ছিলো। সেটি প্রয়োজনে আবারো পড়ে আসুন। ৯ ধারার মূল কথা হলোÑ দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমাই শুধু একটি দেওয়ানি আদালত বিচার করতে পারে। এই ধারাটি দেওয়ানি আদালতের বিষয়বস্তুগত এখতিয়ারকে নির্দিষ্ট করেছে – এই তথ্য বিবেচনায়  রাখবেন। মূল ধারাটি পড়ে রাখুন।

 

ধারা ৯ : বারিত না হলে আদালত সকল দেওয়ানি মোকদ্দমা বিচার করবে [Courts to try all civil suits unless barred] : আদালতের (এখানে বর্ণিত বিধানাবলী সাপেক্ষে) সকল দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ার থাকবে, কেবল সেই সকল মোকদ্দমা ব্যতীত, যেগুলো বিচারার্থে গ্রহণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বারিত হয়েছে।

 

ব্যাখ্যা : যে মোকদ্দমায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার সম্পর্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, সেই মোকদ্দমা দেওয়ানি প্রকৃতির, যদিও উক্ত অধিকার সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় আচার বা উৎসব সম্পর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

 

রেস সাবজুডিস : ধারা ১০

এবার এর পরের ১০ ধারা। উদাহরণে যাবো আগে।

 

খোরপোষের দাবিতে সালমা তার স্বামী শরীফের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারি মাসে ঢাকার একটি আদালতে মোকদ্দমা করে। উক্ত মামলা চলাকালীন সময়েই পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে সালমা তার নিজের এলাকায় কুমিল্লা কোর্টে আরেকটি মোকদ্দমা দায়ের করে সালমা, উক্ত একই ব্যক্তিকে বিবাদী করে এবং উক্ত একই খোরপোষের দাবিতে।

উক্ত দুইটি মোকদ্দমাই কি চলতে থাকবে? নাকি যেকোনো একটি মোকদ্দমা চলবে? সেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমাটি চলবে এবং অপর মামলাটির পরিণতি কি হবে? আপনার কমনসেন্স কী বলে?

 

কমনসেন্স অথবা আপনার স্মৃতি থেকে আপনি হয়তো সঠিকভাবেই ভাবছেন যে, দুইটি মোকদ্দমা একসাথে চলতে পারে না, যেকোনো একটি মোকদ্দমা চলবে এবং প্রথমে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটিই শুধু চলবে এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি স্থগিত হয়ে যাবে বা খারিজ হয়ে যাবে।

 

সালমার দায়েরকৃত মোকদ্দমার ঘটনাসমূহ এবং তার পরিণতি যে ধারার মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে- সেটিকেই রেস সাবজুডিস [Res Subjudice]  বলে যা দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ নং ধারায় উল্লে­খ করা আছে। এর সারবস্তু হচ্ছেÑ কোনো আদালতে একই পক্ষসমূহের ভেতর কোনো মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পরবর্তীতে দায়েরকৃত কোনো মোকদ্দমার পক্ষসমূহ ও বিষয়বস্তু একই হলে আদালত উক্ত পরবর্তী মোকদ্দমাটির কোনো বিচার কার্য করবে না। এই ধারায় একটি ছোট্ট ব্যতিক্রম আছে। ব্যতিক্রমটি হলো- পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যদি বিদেশী কোনো আদালতে হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয় ও পক্ষ একই হওয়া সত্বেও বাংলাদেশের আদালতে পরবর্তী মোকদ্দমাটির বিচার করা যাবে।

 

রেস সাবজুডিস আইনের অন্যতম একটি নীতি। মূল ল্যাটিন শব্দ রেস [Res] অর্থ বিষয়। সাবজুডিস [Subjudice] অর্থ আদালতের বিবেচনাধীন। রেস সাবজুডিস অর্থ আদালতের বিবেচনাধীন বিষয়। দেওয়ানি আইনে রেস সাবজুডিস এর সমার্থক অর্থ মোকদ্দমা স্থগিত রাখা বা থাকা। কোনো মোকদ্দমা ইতিমধ্যেই আদালতের বিবেচনাধীন বা বিচারাধীন থাকলে একই বিষয় ও একই পক্ষসমূহের ভেতর মোকদ্দমা পরবর্তীতে দায়ের হলে পরবর্তী মোকদ্দমাটি স্থগিত হয়ে যায়Ñ এটিই এই ১০ ধারা বা রেস সাবজুডিস বা মোকদ্দমা স্থগিত রাখার মূল কথা।

 

এবার এর মূল ধারাটি দেখে নিই :

 

ধারা ১০ : মোকদ্দমা স্থগিত রাখা [Stay of suit] : কোনো আদালত এমন কোনো মোকদ্দমার বিচার চালাবেনা, যার বিচার্য বিষয়বস্তু প্রত্যক্ষভাবে এবং মূলত পূর্বে দায়েরকৃত অপর একটি মোকদ্দমারও বিচার্য বিষয়, তা একই পক্ষগণের মধ্যে অথবা এমন পক্ষগণের মধ্যে যাদের অধীনে তারা বা তাদের মধ্যে কোনো একজনের সূত্রে পরবর্তী মোকদ্দমার পক্ষগণ বা পক্ষগণের মধ্যে কোনো একজন স্বত্ব দাবি করেন, যেখানে এরূপ মোকদ্দমা একই অথবা বাংলাদেশের অন্য কোনো আদালতে বিচারাধীন আছে, যে আদালতের প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুর করার এখতিয়ার আছে, অথবা বাংলাদেশের বাইরে সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বা চলিত কোনো আদালত যার এইরূপ এখতিয়ার আছে, অথবা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন কোনো মোকদ্দমা  [No Court shall proceed with the trial of any suit in which the matter in issue is also directly and substantially in issue in a previously instituted suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim litigating under the same title where such suit is pending in the same or any other Court in Bangladesh having jurisdiction to grant the relief claimed, or in any Court beyond the limits of Bangladesh established or continued by the Government and having like jurisdiction, or before the Supreme Court.]|

 

ব্যাখ্যা : কোনো বিদেশী আদালতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা যদি বাংলাদেশের কোনো আদালতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার সাথে একই কারণযুক্ত হয়, তবুও এটি বাংলাদেশের আদালতে উক্ত মোকদ্দমা বিচারে বাধা হবে না [The pendency of a suit in a foreign Court does not preclude the Court in Bangladesh from trying a suit founded on the same cause of action.]|

 

রেস জুডিকাটা : ধারা ১১—১৪

এবার ধরুন, আপনি চুক্তিভঙ্গের জন্য একজনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে রায় আপনার পক্ষে গেল না। তখন আপনি উক্ত রায় হবার পর আবারো মামলা করলেন উক্ত চুক্তিভঙ্গের জন্য।

 

কমনসেন্স থেকে ভাবুন, রায় হবার পর একই বিষয় নিয়ে আপনি কি দ্বিতীয় মামলা করতে পারেন আদৌ?

 

আপনি একই বিষয় নিয়ে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার মোকদ্দমা করতে পারেন না। তবে, আপনি নিশ্চয় জানেন- নিম্ন আদালতের কোনো রায়ে সংক্ষুব্ধ বা হতাশ হয়ে আপনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। কোনো মামলায় আপিল করার সাথে দ্বিতীয়বার বা পুনরায় মামলা করার বিষয়টি কখনো গুলিয়ে ফেলবেন না।

 

যাই হোক, আপনি আদালতের দেওয়া রায়কে না মেনে, একই বিষয়বস্তু নিয়ে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার মামলা করতে পারেন না, এই বিষয়টিই দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারায় বলা আছে। বাংলায় এটিকে ‘দোবারা দোষ’ নামে অভিহিত করা হয় যার মূল ল্যাটিন ভাষার শব্দ ‘রেস জুডিকাটা’ [Res Judicata]। এখানে রেস  [Res] শব্দের অর্থ বিষয় ও জুডিকাটা [Judicataশব্দের অর্থ আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত। অর্থাৎ, আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত বিষয় [A thing settled by judicial decision] । রেস জুডিকাটা আইনের অন্যতম প্রধান একটি নীতি। এই নীতির মূল কথাটি একটি ম্যাক্সিমে প্রকাশ পেয়েছে যার মূলকথা হচ্ছে : ÔOne suit and one decision is enough for any single disputeÕ. অর্থাৎ একটি সিঙ্গেল বিরোধ বা ঘটনার ক্ষেত্রে একটি মোকদ্দমা ও একটি সিদ্ধান্ত বা রায়ই যথেষ্ট।

 

আমরা মূল ধারাটি এখানে পড়ে ফেলি।

 

ধারা ১১ : দোবারা দোষ  [Res Judicata] : কোনো আদালত এমন কোনো মোকদ্দমার বা বিচার্য বিষয়ের বিচার করবে না, যার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ ও মূলত একই পক্ষসমূহের মধ্যে পূর্ববর্তী কোনো মোকদ্দমার প্রত্যক্ষ ও মূলত বিচার্য বিষয় ছিলো, অথবা পক্ষসমূহের মধ্যে যাহাদের ভেতরে তারা অথবা তাদের কোনো একজন একইরূপ অধিকারের শর্তে মোকদ্দমায় দাবি করছেন এবং মোকদ্দমাটি এমন একটি আদালতে শ্রম্নত ও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, যে আদালত এ রকম পরবর্তী মোকদ্দমা অথবা মোকদ্দমায় এরূপ বিচার্য বিষয় পরবর্তীতের উত্থাপিত হয়েছে, তার বিচার করতে এখতিয়ারসম্পন্ন  [No Court shall try any suit or issue in which the matter directly and substantially in issue has been directly and substantially in issue in a former suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim, litigating under the same title, in a court competent to try such subsequent suit or the suit in which such issue has been subsequently raised, and has been heard and finally decided by such Court.]|

 

 

ব্যাখ্যা ১ : ‘পূর্ববর্তী মোকদ্দমা’ বলতে এমন মোকদ্দমা বোঝাবে যা আলোচ্য মোকদ্দমার পূর্বে অথবা পরে যখনই দায়ের করা হয়ে থাকুক, যার বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। [Explanation I.-The expression “former suit” shall denote a suit which has been decided prior to the suit in question whether or not it was instituted prior thereto.]

 

ব্যাখ্যা ২ : এই ধারার উদ্দেশ্যে কোনো আদালতের যোগ্যতা, তার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার সম্পর্কিত বিধি—বিধানসমূহের বিষয় উল্লে­খ না করেই নির্ধারণ করতে হবে। [Explanation II.-For the purposes of this section, the competence of a Court shall be determined irrespective of any provisions as to a right of appeal from the decision of such Court.]

 

ব্যাখ্যা ৩ : উপরে উল্লি­খিত বিষয়টি পূর্ববর্তী মোকদ্দমায় একপক্ষ কর্তৃক দাবিকৃত ও অপরপক্ষ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অস্বীকৃত বা স্বীকৃত হতে হবে। [Explanation III.-The matter above referred to must in the former suit have been alleged by one party and either denied or admitted, expressly or impliedly, by the other.]

 

 

ব্যাখ্যা ৪ : পূর্ববর্তী মোকদ্দমায় যে বিষয়টি আত্মপক্ষ সমর্থন বা বিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারত, বা হওয়া উচিত ছিলো, তা উক্ত মোকদ্দমার প্রত্যক্ষ ও মূলত বিবেচ্য বিষয় ছিলো বলে ধরে নিতে হবে। [Explanation IV. – Any matter which might and ought to have been made ground of defence or attack in such former suit shall be deemed to have been a matter directly and substantially in issue in such suit.]

 

ব্যাখ্যা ৫ : যে প্রতিকার আরজিতে প্রার্থনা করা হয়েছে তা ডিক্রিতে সুস্পষ্টভাবে মঞ্জুর করা না হয়ে থাকলে অত্র ধারার উদ্দেশ্যে তা দিতে অস্বীকৃত হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। [Explanation V. – Any relief claimed in the plaint, which is not expressly granted by the decree, shall, for the purposes of this section, be deemed to have been refused.]

 

ব্যাখ্যা ৬ : যখন একের অধিক ব্যক্তি কোনো সাধারণ অধিকার বা সকলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিগত অধিকারের জন্য সরল বিশ্বাসে মোকদ্দমা করে, তখন উক্ত স্বার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল লোক অত্র ধারার উদ্দেশ্যে ঐরূপ মোকদ্দমাকারী ব্যক্তিগণের অধীনে দাবি করেছে বলে ধরে নিতে হবে। [Explanation VI. – Where persons litigate bona fide in respect of a public right or of a private right claimed in common for themselves and others, all persons interested in such right shall, for the purposes of this section, be deemed to claim under the persons so litigating.]

 

১০ ও ১১ ধারা, উভয়টির বিধান যেকোনো আদালতের জন্য পালন করা বাধ্যতামূলক। এই দুইটি ধারা নিয়ে পাতার পর পাতা আলোচনার আছে। কিন্তু ধারা, ধারার বিষয়বস্তু, উদাহরণ, ব্যতিক্রম এগুলো মনে রাখলেই চলবে, অন্যান্য বিস্তৃত তাত্ত্বিক আলোচনা এখানে অপ্রাসঙ্গিক। তবে, এই দুইটি ধারার ক্ষেত্রে একটি কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে বলবো -১০ ধারা অনুসারে পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমাটি আদালত খারিজ করে দেবেন না বরং সেটির বিচারকাজ স্থগিত রাখবেন। ১০ ধারার শিরোনামটি মনে রাখলেই চলে- মোকদ্দমা স্থগিত রাখা [Stay of Suit] । অন্যদিকে, ১১ ধারা অনুসারে কোনো পদক্ষেপ নেবার প্রয়োজন হলে আদালত মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেবেন। এখানে স্থগিত করার ব্যাপার—স্যাপার নেই। মনে থাকবে তো?

 

১২, ১৩ ও ১৪ ধারা তিনটি পড়ে রাখুন। শিরোনামসমেত বিষয়বস্তু মনে রাখুন। পরীক্ষার জন্য জরুরি।

 

ধারা ১২ : অতিরিক্ত মোকদ্দমার বাধা [Bar to further suit]: কোনো নিয়মাবলীর অধীনে একজন বাদীকে যখন কোনো বিশেষ কারণ সম্পর্কে অতিরিক্ত মোকদ্দমা দায়ের করা হতে নিবারণ করা হয়, তখন যে আদালতের প্রতি এই কোড প্রযোজ্য হয় সেরূপ কোনো আদালতে সে একই কারণ নিয়ে মোকদ্দমা করতে পারবে না। [Where a plantiff is precluded by rules from instituting a further suit in respect of any particular cause of action, he shall not be entitled to institute a suit in respect of such cause of action in any Court to which this Code applies.]

 

ধারা ১৩ : যখন বিদেশী রায় চূড়ান্ত না হয় [When foreign judgment not conclusive: যখন একই পক্ষসমূহের মধ্যে অথবা যাদের সূত্রে তারা অথবা তাদের কেউ একই অধিকারের স্বত্ব দাবিকারী এমন পক্ষসমূহের মধ্যে যখন কোনো বিষয়ে কোনো বিদেশী রায় দ্বারা সরাসরি সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়, তখন উক্ত রায় নিম্নলিখিত ক্ষেত্র ব্যতিরেকে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবেÑ

 

ক) যেখানে যথাযথ এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত কর্তৃক ইহা ঘোষিত না হয়ে থাকে;

খ) যেখানে মোকদ্দমার গুণাগুণের উপর ইহা দেওয়া হয়নি;

গ) আন্তর্জাতিক আইনের ভুল ধারণায় অথবা মোকদ্দমাটির প্রতি প্রযোজ্য বাংলাদেশী আইন অস্বীকার করে রায় প্রদান করা হয়েছে বলে কার্যক্রম দৃষ্টে প্রতীয়মান হবে;

ঘ) যে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে রায়টি লাভ করা হয়েছে, তা যদি স্বাভাবিক ন্যায় বিচারের পরিপন্থি হয়;

ঙ) যেখানে ইহা প্রবঞ্চনার মাধ্যমে লাভ করা হয়েছে;

চ) যেখানে এতে বাংলাদেশে প্রচলিত কোনো আইনের পরিপন্থি কোনো দাবি বজায় রাখা হয়েছে।

 

ধারা ১৪ : বিদেশী রায় সম্পর্কে অনুমান [Presumption as to foreign judgments : বিদেশী রায়ের সত্যায়িত নকল বলে কথিত কোনো দলিল আদালতে পেশ করা হলে এবং বিপরীত কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলে আদালত ধরে নিবেন যে, রায়টি উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতই প্রদান করেছেন কিন্তু উক্ত আদালতের এ ব্যাপারে এখতিয়ার ছিলো না বলে প্রমাণিত হলে ঐ রূপ অনুমান উঠিয়ে নেওয়া হবে। [The Court shall presume, upon the production of any document purporting to be a certified copy of a foreign judgment, that such judgment was pronounced by a Court of competent jurisdiction, unless the contrary appears on the record; but such presumption may be displaced by proving want of jurisdiction.]

 

১৩ ও ১৪ ধারাদ্বয় বিদেশী রায় সম্পর্কে বলেছে। কখন বিদেশী আদালতের প্রদত্ত রায় চূড়ান্ত বলে গণ্য করবে বাংলাদেশের দেওয়ানি আদালত সে সম্পর্কে বিধানটি বিবেচনায় রাখা জরুরি। সাধারণভাবে, কখন বিদেশী আদালতের রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে না তা নিম্নরূপ –

১. যদি উক্ত আদালতের তদ্রুপ রায় প্রদানের এখতিয়ার না থাকে।

২. মোকদ্দমার গুণাগুণের ওপর যদি রায় না হয়।

৩. আন্তর্জাতিক আইন অথবা বাংলাদেশের আইনকে অস্বীকার করে এরূপ রায় প্রদত্ত হলে।

৪. কোনো প্রতারণার মাধ্যমে রায় সংগ্রহ করলে।

৫. বাংলাদেশের কোনো আইন বিরোধী দাবি রায়ে স্বীকার করলে।

অন্যদিকে, ১৪ ধারায় উল্লেখিত বিদেশী রায় সম্পর্কে অনুমান প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে যে, কোনো বিদেশী রায়ের জাবেদা নকল [Certified Copy] দেশের আদালতে পেশ করা হলে আদালত তা সঠিক বলে গণ্য অনুমানে [Shall presume]  গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।

 

মোকদ্দমার স্থানীয় এখতিয়ার প্রসঙ্গ : ধারা ১৫—২০

এবারে আমরা, দেওয়ানি কার্যবিধির প্রথম ভাগের আরেকটি উপশিরোনামের ভেতরে থাকা ধারাসমূহ দেখবো। উপশিরোনামটি হলো ‘মোকদ্দমার স্থান’। এই উপশিরোনামে দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সংক্রান্তে আঞ্চলিক এখতিয়ারের বিস্তৃতি সম্পর্কে বিধান বর্ণিত আছে ১৫ থেকে ২৫ ধারাসমূহে। আঞ্চলিক এখতিয়ার মূলত এর ভেতরে ১৫ থেকে ২০ ধারাসমূহে বর্ণিত আছে। তারওপরে এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি এবং মোকদ্দমার স্থানান্তর সংক্রান্ত বিধান অপরাপর ধারাসমূহে।

 

মোকদ্দমার স্থানীয় বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে প্রথম ধারাটি খুবই বেসিক একটি ধারা যার মূল কথাটি হলো যে, বিচার করার ক্ষমতাসম্পন্ন সবচেয়ে নিম্ন আদালতেই মোকদ্দমাটি দায়ের করতে হবে। ১৫ ধারায় এই কথাটিকে আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার এবং আর্থিক এখতিয়ার উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। যেমন, একজন যুগ্ম জেলা জজ সীমাহীন আর্থিক এখতিয়ার ভোগ করে থাকলেও ৫ লক্ষ টাকার মোকদ্দমা বা যা কিনা ১৫ লক্ষ টাকার ওপরে নয় এমন মোকদ্দমাটি সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী জজ আদালতেই দায়ের করতে হবে।

 

আবারো বলি, যোগ্যতাসম্পন্ন সর্বনিম্ন আদালত বলতে আদালতের আর্থিক ও আঞ্চলিক এখতিয়ারের কথা বলা হচ্ছে। কোনো একটি জেলার কোনো একটি থানার অন্তুর্ভুক্ত জমির বাটোয়ারা নিয়ে কোনো মামলা উক্ত জেলার জেলা জজ আদালত বিচার করতেই পারেন। কেননা, তার আর্থিক এখতিয়ার এবং আঞ্চলিক এখতিয়ার উভয়ই আছে। কিন্তু সেই মামলার মূল্যমান অনুযায়ী উক্ত জেলা জজ আদালতের অধস্তন কোনো সর্বনিম্ন আদালত যার কিনা উক্ত মামলা আঞ্চলিক ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই বিচার করার এখতিয়ার আছে, তার কাছেই দায়ের করতে হবে।

 

কোনো দেওয়ানি মোকদ্দমার বিষয়বস্তু নিয়ে কীভাবে একটি মোকদ্দমা দায়েরের স্থান নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে ১৬ ধারা থেকে বিধান বর্ণিত আছে। ১৬ ধারার মূল কথা হলো  – মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যেখানে, মোকদ্দমা দায়ের হবে সেখানে। খানিকটা ছন্দে ছন্দে – বিষয়বস্তু যেখানে মামলা হবে সেখানে – এভাবে মজা করে মনে রাখে অনেকে। তবে, ছন্দের এই সাধারণীকরণ যথেষ্ট নয়। ১৬ ধারায় বলা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রেই মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর স্থানীয় অবস্থানকে বিবেচনায় মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে সংশ্লিষ্ট আদালতে। সেক্ষেত্রে কোনো স্থাবর সম্পত্তি

ক. পুনরুদ্ধার করার জন্য

খ. বাটোয়ারা করার জন্য

গ. বন্ধক বা রেহেন মুক্ত করার জন্য

ঘ. স্বত্ব বা অধিকার নির্ণয়ের জন্য

ঙ. অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণ

এবং

চ. অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোককৃত অবস্থা থেকে মুক্ত করার জন্য

বিষয়বস্তু যেখানে অবস্থিত সেখানে মোকদ্দমাটি দায়ের করা যাবে। লক্ষ্যণীয় যে, গ ও ঙ দফায় থাকা ইস্যুতে মোকদ্দমার কারণ উদ্ভবকে কেন্দ্র করেও আদালতের স্থানীয় এখতিয়ার নির্ধারণ নির্দিষ্ট করা যেতে পারে -সেটিও বলা আছে এই ধারাতেই।

 

কিন্তু, ব্যাপারটি তো এমনও হতে পারে যে, কোনো মোকদ্দমার বিষয়বস্তু একাধিক আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে অবস্থান করে একইসাথে। সেক্ষেত্রে কোন আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে তা ১৭ ধারায় বিধান করা আছে। ১৭ ধারামতে কোনো মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যে যে স্থানীয় এলাকায় অবস্থিত কার যেকোনো স্থানে মোকদ্দমাা দায়ের করা যাবে।

 

১৮ ধারাটি পড়াতে পড়াতে লিখিত পরীক্ষার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলাম যে, এমন একটি প্রশ্ন আসা অস্বাভাবিক নয় যে, আদালতের এখতিয়ার অনিশ্চিত হলে তা বিচারের পদ্ধতি কী? বা এরূপ ক্ষেত্রে বিচারের পরিণতি কী? – এই প্রশ্নদ্বয়ের মীমাংসা ১৮ ধারায় বর্ণিত আছে। বস্তুতপক্ষে, এরূপ ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট একটি দেওয়ানি আদালত তার মন্তব্য নথিতে লিপিবদ্ধ করবেন এবং সেরূপে যদি একটি বিচার সম্পন্নও হয়ে যায় এবং ডিক্রি প্রদান করে, তবে তা গ্রহণীয় এবং শুদ্ধ হবে। তবে, কোনো আপিল বা রিভিশন আদালতে, তথা ডিক্রিটি হয়ে যাবার পর উক্ত আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন বা আপত্তি উঠলে, উক্ত আপিল বা রিভিশন আদালত তখনই এটি বিবেচনায় নেবেন যদি দেখা যায় যে, এখতিয়ার নিয়ে আপত্তির যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে এবং ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়েছে।

 

অন্যদিকে, ১৯ ধারার শিরোনামেই দুইটি বিষয়ে স্পষ্টত বিধান আছে যে, যদি কোনো মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণের [compensation] প্রশ্ন ওঠে, যা কিনা –

১. ব্যক্তির ক্ষতি, অথবা

২. অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি

সংক্রান্ত, তাহলে ব্যক্তিটি যেখানে বসবাস করেন অথবা অস্থাবর সম্পত্তিটি যেখানে অবস্থিত সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। অথবা, যদি ব্যক্তি ও সম্পত্তিটি ভিন্ন ভিন্ন আদালতের এখতিয়ারাধীন হয়ে থাকে, তাহলে যেকোনো স্থানে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে।  ১৯ ধারাটিকে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা এবং ব্যক্তি ও অস্থাবর সম্পত্তি – এই তিনটি শব্দ দিয়ে মনে রাখতে চেষ্টা করবেন।

 

এদিকে, ২০ ধারায় –

১. বিবাদীর বসবাসের স্থান, অথবা

২. নালিশের কারণ উদ্ভব হয় যেখানে হয়

– এই দুইটি ইস্যুতে কোনো মোকদ্দমার স্থানীয় বা আঞ্চলিক এখতিয়ার প্রভাবিত বা নির্ধারিত হতে পারে – সেটি বলা আছে। সাথে, এটিও বিবেচনায় নেবেন যে, একাধিক বিবাদীগণ যে যে আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের ভেতরে বসবাস করে সেগুলোর যেকোনোটিতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে। অনুরূপভাবে, মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব আংশিক বা পূর্ণভাবে যে যে স্থানে সেসবেরও যেকোনো স্থানে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে।

 

আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের নানা রকমফেরের কথা বলা আছে ১৬ থেকে ২০ ধারাসমূহে। এসবের ক্ষেত্রে কমনসেন্স প্রয়োগ করলেই চলে। এর জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৭ থেকে ১৮৫ পর্যন্ত ধারাগুলোর কথা একবার স্মরণ করতে পারেন। সেখানে অপরাধ সংঘটিত হবার স্থান, অপরাধের অংশবিশেষ ঘটার স্থান, অপরাধীর বাসস্থান ইত্যাদি নানা বিবেচনাতেই মামলা করার স্থান সম্পর্কে বলা ছিলো। কিন্তু ঘুরেফিরে কোনো না কোনোভাবে কোনো আদালতের স্থানীয় এখতিয়ারের সীমার মধ্যে কোনো অংশবিশেষ বা বাদী বা বিবাদীর বসবাস থাকলে সেই অনুযায়ী এর যেকোনো একটিতেই মামলা করা যেতে পারে। দেওয়ানি কার্যবিধির মোকদ্দমা দায়ের করার স্থানীয় বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করার ব্যাপারটিও একইরকম। একটি ঘটনার বর্ণনা বা তথ্যগুলো শুনে আপনিও সহজেই কমনসেন্স প্রয়োগ করে বলে দিতে পারবেন যে, কোন এলাকার কোন আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করা দরকার। একদমই জটিল কিছু নয়। এমসিকিউ পরীক্ষা বা লিখিত পরীক্ষা উভয়ের জন্যই এখতিয়ার নির্ধারণ বা মোকদ্দমা দায়েরের আদালত নির্দিষ্টকরণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নিচে একে একে ধারাগুলো দেখে রাখুন।

 

মোকদ্দমার স্থান [Place of Suing]

 

ধারা ১৫ : যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে [Court in which suits to be instituted] : প্রত্যেকটি মোকদ্দমা উহা বিচার করার যোগ্যতাসম্পন্ন সর্বনিম্ন পর্যায়ের আদালতে দায়ের করতে হবে।

 

ধারা ১৬ : বিষয়বস্তু যেখানে অবস্থিত, মোকদ্দমা সেখানেই দায়ের করতে হবে [Suits to be instituted where subject-matter situate]:  যেকোনো আইনে নির্ধারিত আর্থিক বা অন্যান্য এখতিয়ার সাপেক্ষে-

 

ক) খাজনা বা মুনাফাসহ বা ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য,

 

খ) স্থাবর সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য,

 

গ) স্থাবর সম্পত্তির বন্ধক বা দায় উদ্ধারের অধিকার, হরণ, বিক্রয় বা

 

ঘ) স্থাবর সম্পত্তির অন্য কোনো প্রকার অধিকার বা স্বার্থ নির্ণয়ের জন্য,

 

ঙ) স্থাবর সম্পত্তির অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে,

 

চ) আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারের জন্যÑ

 

আনীত মোকদ্দমাগুলি যে সকল আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা, (গ) দফায় বর্ণিত মোকদ্দমার ক্ষেত্রে যে স্থানে মোকদ্দমার কারণ পূর্ণভাবে অথবা আংশিকভাবে উদ্ভব হয়, সেসব আদালতেই দায়ের করতে হবে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদী কর্তৃক বা তার পক্ষে দাখিলী কোনো স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত প্রতিকার বা উহার অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা, প্রার্থীত প্রতিকার যদি সম্পূর্ণরূপেবিবাদীর ব্যক্তিগতভাবে অনুগতভাবে আনুগত্যের ফলে লাভ করা যায়, তবে তাহলে যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে সম্পত্তি অবস্থিত, অথবা (ঙ) দফায় বর্ণিত ক্ষেত্রে যে স্থানে পূর্ণ বা আংশিকভাবে মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হয়েছে অথবা যে আদালতের স্থানীয় সীমানার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বিবাদী বাস করে বা ব্যবসা—বাণিজ্য চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কর্ম করে সেই আদালতে দায়ের করা যাবে।

 

ব্যাখ্যা : এই ধারায় ‘সম্পত্তি’ বলতে বাংলাদেশে অবস্থিত সম্পত্তি বোঝায়।

 

ধারা ১৭ : বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমা  [Suits for immovable property situate within jurisdiction of different Courts: স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত বা উহাতে অনিষ্টের কারণে আনীত মোকদ্দমার সম্পত্তি যদি বিভিন্ন আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে থাকে, তাহলে উক্ত সম্পত্তির অংশবিশেষ যে আদালতের এখতিয়ার অবস্থিত, সেরূপ যেকোনো আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যেতে পারে  [Where a suit is to obtain relief respecting, or compensation for wrong to, immovable property situate within the jurisdiction of different Courts, the suit may be instituted in any Court within the local limits of whose jurisdiction any portion of the property is situate]|

 

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য সম্পর্কে সমগ্র দাবিটিই এরূপ আদালত বিচারার্থে গ্রহণ করতে পারেন।

 

ধারা ১৮ : আদালতসমূহের স্থানীয় এখতিয়ার অনিশ্চিত হলে মোকদ্দমা দায়েরের স্থান  [Place of institution of suit where local limits of jurisdiction of Courts are uncertain : ১) যখন কোনো স্থাবর সম্পত্তি দুই বা ততোধিক আদালতের কোনোটির স্থানীয় সীমানার এখতিয়ারে অবস্থিত, সেই সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, এরূপ আদালতের মধ্যে যেকোনো একটি আদালত যদি সন্তুষ্ট হয়ে মনে করেন যে, কথিত রূপে অনিশ্চয়তার সঙ্গত কারণ রয়েছে, তাহলে ঐ মর্মে একটি বিবৃতি লিপিবদ্ধ করে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কে যেকোনো মোকদ্দমা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারবেন এবং এরূপ মোকদ্দমার ডিক্রির সেরূপ কার্যকারিতা থাকবে, যেরূপ এই আদালতের স্থানীয় সীমানার এখতিয়ারে উক্ত সম্পত্তি অবস্থিত হলে কার্যকারিতা থাকত। [Where it is alleged to be uncertain within the local limits of the jurisdiction of which of two or more Courts any immovable property is situate, any one of those Courts may, if satisfied that there is ground for the alleged uncertainly, record a statement to that effect and thereupon proceed to entertain and dispose of any suit relating to that property, and its decree in the suit shall have the same effect as if the property were situate within the local limits of its jurisdiction:]

 

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমাটির প্রকৃতি ও মূল্য এমন হতে হবে যার সম্পর্কে আদালত এখতিয়ার প্রয়োগ করতে সক্ষম। [Provided that the suit is one with respect to which the Court is competent as regards the nature and value of the suit to exercise jurisdiction.]

 

২) যেখানে (১) উপধারা অনুসারে বিবৃতি লিপিবদ্ধ করা হয়নি এবং আপিল বা রিভিশন আদালতে এই মর্মে আপত্তি উত্থাপন করা হয় যে, সম্পত্তিটি যে স্থানে অবস্থিত সেই স্থানের এরূপ সম্পত্তি সম্পর্কিত মোকদ্দমায় আদালত এখতিয়ার বিহীনভাবে ডিক্রি বা আদেশ প্রদান করেছেন, তাহলে আপিল আদালত বা রিভিশন আদালত আপত্তিটি মঞ্জুর করবেন না, যদি না তিনি মনে করেন যে, মোকদ্দমা দায়ের করার সময় আদালতের এখতিয়ারের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সম্পর্কে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিলো না এবং ইহার ফলে ন্যায় বিচার ব্যর্থ হয়েছে।

 

ধারা ১৯ : ব্যক্তি বা অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা [Suits for compensation for wrongs to person or movables] : কোনো ব্যক্তি বা কোনো অস্থাবর সম্পত্তির প্রতি এক আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে অনিষ্ট সাধন করা হলে এবং বিবাদী অপর আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা এখতিয়ারের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে বসবাস করলে বা ব্যবসা চালালে অথবা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কাজ করলে, বাদী তার ইচ্ছা অনুসারে দুই আদালতের যেকোনো একটিতে ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা করতে পারে। [Where a suit is for compensation for wrong done to the person or to movable property, if the wrong was done within the local limits of the jurisdiction of one Court and the defendant resides, or carries on business, or personally works for gain, within the local limits of the jurisdiction of another Court, the suit may be instituted at the option of the plantiff in either of the said Courts.]

 

উদাহরণ : ক) ‘ক’ চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং সে ‘খ’ কে ঢাকায় মারধর করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে ‘ক’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে পারে।

 

খ) ‘ক’ চট্টগ্রামে বসবাস করে এবং ঢাকায় ‘খ’ সম্পর্কে মানহানিকর বিবৃতি প্রকাশ করে। ‘খ’ ঢাকায় অথবা চট্টগ্রামে ‘ক’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করতে পারে।

 

ধারা ২০ : যেস্থানে বিবাদী বসবাস করে বা নালিশের কারণ উদ্ভব হয়, সেস্থানে অন্যান্য মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে [Others suits to be instituted where defendants reside or cause of action arises: ১) উপরে বর্ণিত সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে, প্রত্যেকটি মোকদ্দমা এমন আদালতে দায়ের করতে হবে। যার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে—

 

ক) বিবাদী অথবা একাধিক বিবাদী থাকলে তাদের প্রত্যেকে মোকদ্দমাটি শুরু হওয়ার সময় প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করে বা ব্যবসা—বাণিজ্য চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কাজ করে; অথবা [the defendant, or each of the defendants where there are more than one, at the time of the commencement of the suit, actually or voluntarily resides, or carries on business, or personally works for gain; or]

 

খ) একাধিক বিবাদী থাকলে তাদের মধ্যে কোনো একজন মোকদ্দমা দায়েরের সময় প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করে বা ব্যবসা—বাণিজ্য চালায় বা লাভের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে, এই শর্তে যে, এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি থাকতে হবে অথবা যে সকল বিবাদী উপরে বর্ণিত মতে বসবাস করে না বা ব্যবসা চালায় না বা লাভের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাজ করে না, এরূপ মোকদ্দমা দায়েরের ব্যাপারে মৌনভাবে সম্মতি দেয়; অথবা [any of the defendants, where there are more than one, at the time of the commencement of the suit, actually or voluntarily resides, or carries on business, or personally works for gain, provided that in such case either the leave of the Court is given, or the defendants who do not reside, or carry on business, or personally work for gain, as aforesaid, acquiesce in such institution; or]

 

গ) মোকদ্দমার কারণ সম্পূর্ণরূপে বা আংশিক উদ্ভব হয়। [the cause of action, wholly or in part, arises.]

 

ব্যাখ্যা : ১) কোনো ব্যক্তির একস্থানে স্থায়ী বাসস্থান ও অন্যস্থানে অস্থায়ী বাস থাকলে, তার অস্থায়ী বাসস্থানের এলাকায় কোনো মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হলে তিনি উভয় স্থানে বসবাস করেন বলে ধরে নিতে হবে। [Explanation I.-Where a person has a permanent dwelling at one place and also a temporary residence at another place, he shall be deemed to reside at both places in respect of any cause of action arising at the place where he has such temporary residence.]

 

ব্যাখ্যা : ২) কোনো কর্পোরেশন বাংলাদেশে ইহার একমাত্র অথবা প্রধান অফিসে ব্যবসা চালায় বলে ধরতে হবে, অথবা যেখানে ইহার অধঃস্তন কোনো কার্যালয় আছে, সেই এলাকায় মোকদ্দমার কোনো কারণ উদ্ভব হলে, উহা তথায় ব্যবসা চালায় বলেও ধরতে হবে।  [Explanation II.-A Corporation shall be deemed to carry on business at its sole or principal office in Bangladesh or, in respect of any cause of action arising at any place where it has also a subordinate office, at such place.]

 

উদাহরণসমূহ :

ক) ‘ক’ ঢাকার একজন ব্যবসায়ী। ‘খ’ চট্টগ্রামে ব্যবসা চালায়। ‘খ’ তার প্রতিনিধি দ্বারা ঢাকাতে ‘ক’ এর মালামাল খরিদ করে এবং বাংলাদেশ বিমানে অর্পণ করার জন্য ‘ক’ কে অনুরোধ করে। ‘ক’ তদানুসারে মালগুলি ঢাকায় অর্পণ করে। ‘ক’ মালগুলির মূল্যের জন্য ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ঢাকায় যেখানে মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হয়েছে, অথবা চট্টগ্রামে যেখানে ‘খ’ ব্যবসা চালায়, মোকদ্দমা করতে পারে।

 

খ) ‘ক’ কক্সবাজারে ‘খ’ ঢাকায় এবং ‘গ’ চট্টগ্রামে বসবাস করে। ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ একত্রে খুলনায় থাকাবস্থায় ‘খ’ ও ‘গ’ একত্রে যৌথভাবে একটি চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য প্রমিসরি নোটে স্বাক্ষর করে উহা ‘ক’ কে দেয়। ‘ক’ খুলনাতে ‘খ’ ও ‘গ’ এর বিরুদ্ধে যেখানে মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হয়েছে, মোকদ্দমা করতে পারে। সে ‘খ’ এর বিরুদ্ধে ঢাকায়, যেখানে সে বসবাস করে এবং ‘গ’ এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে যেখানে সে বসবাস করে মোকদ্দমা করতে পারে। কিন্তু এরূপ প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে বিবাদীদের মধ্যে যে ব্যক্তি বসবাস করে না, সে আপত্তি করলে আদালতের অনুমতি ব্যতীত মোকদ্দমার কার্য অগ্রসর হতে পারে না।

 

আঞ্চলিক এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি : ধারা ২১—২৩

ধারা ২১, ২২ ও ২৩ আরেকটি লটে পড়তে হবে। কোনো বাদী তো ১৬ থেকে ২০ ধারাসমূহে বর্ণিত বিধান অনুসারে কোনো মোকদ্দমার সংশ্লিষ্ট আদালত নির্ধারণপূর্বক মোকদ্দমা দায়ের করবেন, কিন্তু, বিবাদী যদি এসে আপত্তি করেন যে, এই আদালতে মোকদ্দমা চলবে না বা এই আদালতের এখতিয়ার নেই বা এই আদালতের চেয়ে আরো যোগ্যতর এখতিয়ার অমুক আদালতের রয়েছে – সেক্ষেত্রে পদ্ধতিটি কী হবে – সে সম্পর্কে ২১ ধারায় বলা হয়েছে। ২১ ধারাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা। এই ধারা অনুসারে – াদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করতে চাইলে ‘প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে এবং বিচার্য বিষয় স্থির করার সময় বা তার পূর্বে’ই বলতে হবে। না হলে পরবর্তীতে আপিল বা রিভিশন আদালতে এ রকম কোনো আপত্তি বা দাবি সম্পর্কে আদালত কোনো কিছু মঞ্জুর করবে না। ২১ ধারার প্রতিটি শব্দ মনোযোগ দিয়ে ভেঙে ভেঙে পড়তে হবে। আগে ধারাটি পড়–ন একবার।

 

ধারা ২১ : এখতিয়ার সম্পর্কে আপত্তি [Objections to jurisdiction: যে আদালতে প্রথম মোকদ্দমা করা হয়, সেই আদালতে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে এবং বিচার্য বিষয় স্থির করার সময় বা তৎপূর্বে আপত্তি উত্থাপন করা না হলে এবং পরিণামে ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ না হলে কোনো আপিল বা রিভিশন আদালত মোকদ্দমা দায়েরের স্থান সম্পর্কে কোনো আপত্তি মঞ্জুর করবেন না  [No objection as to the place of suing shall be allowed by any appellate or revisional Court unless such objection was taken in the Court of first instance at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, and unless there has been a consequent failure of justice.]|

 

২১ ধারাটি থেকে নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ পাওয়া যায় যেগুলো খুবই গুরুত্ব দিয়ে উপলব্ধিতে রাখা প্রয়োজন –

১. এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে [at the earliest possible opportunity]  করতে হয়।

২. বিচার্য বিষয় স্থির হবার পূর্বে [before such settlement]  যেকোনো সময়েও এই আপত্তি করা যায়।

৩. বিচার্য বিষয় স্থির হবার সময়েও [issues are settled at] করা যায়।

৪. উপরোক্ত সময়গুলোতে আপত্তি করা না হলে আপিল বা রিভিশন আদালতে এরূপ আপত্তি করা যায় না – এটিই সাধারণ নিয়ম।

৫. তবে, আপিল বা রিভিশন আদালতেও এরূপ আপত্তি করা যাবে কিন্তু তা শর্তাধীন যে, ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে [there has been a consequent failure of justice] বলে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

৬. সবশেষ পয়েন্ট অনুসারে আদালত সন্তুষ্ট হলে আপিল বা রিভিশন আদালতও এখতিয়ার সম্পর্কে আপত্তি মঞ্জুর করতে পারেন।

৭. ২১ ধারাটি অনুসরণে কোনো আঞ্চলিক এখতিয়ার তো বটেই, আর্থিক এখতিয়ার নিয়ে আপত্তিও করা যায়।

৮. এই ধারাটি বিবাদীর দিক থেকে এখতিয়ার সংক্রান্তে আপত্তি তোলার মূল ধারা।

 

এবার ২২ ও ২৩ ধারাদ্বয় একসাথে দেখুন।

 

ধারা ২২ : একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য মোকদ্দমা স্থানান্তরের ক্ষমতা [Power to transfer suits which may be instituted in more than one Court : যখন কোনো মোকদ্দমা দুই বা ততোধিক আদালতের যেকোনো একটিতে দায়ের করা চলে এবং মোকদ্দমাটি এরূপ যেকোনো একটি আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে, তখন যেকোনো বিবাদী অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ ও বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা তৎপূর্বে অপর একটি আদালতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করতে পারে এবং আদালত এরূপ আবেদনপত্র পাওয়ার পর অপর পক্ষের আপত্তি (যদি থাকে) শ্রবণ করে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতসমূহের কোনোটিতে মোকদ্দমা অগ্রসর হবে তা নির্ধারণ করবেনা  [Where a suit may be instituted in any one of two or more Courts and is instituted in one of such Courts, any defendant, after notice to the other parties, may, at the earliest possible opportunity and in all cases where issues are settled at or before such settlement, apply to have the suit transferred to another Court, and the Court to which such application is made, after considering the objections of the other parties (if any), shall determine in which of the several Courts having jurisdiction the suit shall proceed.]|

 

ধারা ২৩ : যে আদালতে দরখাস্ত করতে হয় [To what Court application lies: ১) যখন এখতিয়ারসম্পন্ন একাধিক আদালত একই আপিল আদালতের অধীন হয়, তখন সেই আপিল আদালতে ২২ ধারা অনুসারে দরখাস্ত দাখিল করতে হবে।

 

২) এরূপ আদালতগুলি বিভিন্ন আপিল আদালতের অধীন হলে দরখাস্ত হাইকোর্র্ট বিভাগে দাখিল করতে হবে।

 

৩) বিলুপ্ত

 

২২ ধারা অনুসারে- একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য কোনো মোকদ্দমা কোনো একটি আদালতে আরজি দাখিলের মাধ্যমে শুরু হলে বিবাদীপক্ষ অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ‘প্রথম সম্ভাব্য সুযোগে এবং বিচার্য বিষয় স্থির করার সময় বা তার পূর্বে’ আদালত স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে ও সে অনুযায়ী অন্য এখতিয়ারাবান আদালতে মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করা যেতে পারে। ২৩ ধারায় আবেদনের পদ্ধতি। ২৩ ধারাটি বোঝার জন্য আপিল এখতিয়ার সম্পর্কে বেসিকটুকু জেনে নিয়ে পড়লে ভালো করবেন। ২৩ ধারার বক্তব্য অনুসরণে নিম্নোক্ত ধরণে কোনো মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করা যায়।

 

ক. নিজ জেলার ভেতরে স্থানান্তরের আবেদন

১. সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ এবং যুগ্ম জেলা জজের কোনো মোকদ্দমা যদি ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের হয় তাহলে – জেলা জজের নিকট আবেদন করতে হয়।

২. যুগ্ম জেলা জজের কোনো মোকদ্দমা যদি ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের হয় তাহলে – হাইকোর্টে আবেদন করতে হয়।

৩. জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের কোনো মোকদ্দমা হয় তাহলে – হাইকোর্টে আবেদন করতে হয়।

খ. এক জেলা থেকে অন্য জেলায় স্থানান্তরের আবেদন

১. সর্বক্ষেত্রে হাইকোর্টে আবেদন করতে হয়।

 

 

মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিধান : ধারা ২৪ ও ২৪ক

২২ ও ২৩ ধারাতে মোকদ্দমা স্থানান্তর সংক্রান্তে যে বিধান তা মূলত বিবাদীপক্ষের আবেদনে হয়ে থাকে এবং এরূপ আবেদন তখনই করা যায় যখন কিনা একাধিক আদালতে দায়েরযোগ্য কোনো মোকদ্দমার অস্তিত্ব থাকে। কিন্তু, কোনোরকম আবেদন ছাড়াও একটি ক্ষমতাসম্পন্ন দেওয়ানি আদালত মোকদ্দমা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার ইত্যাদির সিদ্ধান্ত দিতে পারে স্বতঃপ্রবৃত্ত [suo moto] হয়ে। কোনো দেওয়ানি আদালতের মোকদ্দমা স্থানান্তর করার নিয়ম ২৪ ও ২৪ক ধারাদ্বয়ে বর্ণিত আছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতে যেমন, নানা প্রয়োজনেই নানা ধারাতেই ফৌজদারি মামলার স্থানান্তরের ইস্যুগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলো; দেওয়ানি কার্যবিধিতে তেমনটি নয় – বরং এই দুইটি ধারাতেই মোটামুটিভাবে পূর্ণাঙ্গ বিধান বর্ণিত আছে। ধারা দুইটি খুব ভালোভাবেই মনে রাখা বাঞ্ছনীয়।

 

ধারা ২৪ : স্থানান্তর ও প্রত্যাহারের সাধারণ ক্ষমতা [General power of transfer and withdrawal: ১) মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষের আবেদনক্রমে, সকলপক্ষকে নোটিশ দিয়ে এবং তাদের কারো বক্তব্য শুনার ইচ্ছা করলে তা শ্রবণ করে অথবা কোনো নোটিশ না দিয়ে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে হাইকোর্র্ট বিভাগ অথবা জেলা আদালত যেকোনো স্তরে—

 

ক) তার সম্মুখে বিচারাধীন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম তার অধীনস্থ এবং

 

ইহা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন কোনো আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন, অথবা

 

খ) তার অধীনস্থ কোনো আদালত হতে কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন, এবং

 

১. ইহার বিচার বা নিষ্পত্তি করতে পারেন, অথবা

 

২. ইহার বিচার বা নিম্পত্তি করার উপযুক্ত কোনো আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্যে স্থানান্তর করতে পারেন, অথবা

 

৩. যে আদালত হতে উহা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই আদালতে বিচার বা নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করতে পারেন।

 

২) কোনো মোকদ্দমা (১) উপধারা অনুসারে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হয়ে থাকলে পরে যে আদালতে ইহার বিচার হয়, সেই আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ সাপেক্ষে পূর্ণ বিচার করতে পারেন, অথবা যে পর্যায় হতে উহা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, সেই পর্যায় হতে বিচার শুরু করতে পারেন।

 

৩) এই ধারার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত ও সহকারী জজের আদালতকে জেলা কোর্টের অধীন বলে গণ্য করতে হবে।

 

৪) স্মলকজ কোর্ট হতে স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত মোকদ্দমার বিচারকারী আদালতকে উক্ত মোকদ্দমার ব্যাপারে স্মলকজ কোর্ট বলে গণ্য করতে হবে।

 

ধারা ২৪ক : স্থানান্তর ইত্যাদিতে পক্ষগণের উপস্থিতি [Appearance of parties on transfer of suit, etc] : ১) ২২ ধারার অধীনে মোকদ্দমা স্থানান্তরিত হলে অথবা কোনো এক পক্ষের আবেদনে ২৪ ধারার (১) উপধারার অধীনে কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরিত বা প্রত্যাহৃত হলে, ঐ স্থানান্তর বা প্রত্যাহারের আদেশ প্রদানকারী আদালত যদি নিজেই এই মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রমের বিচার নিষ্পত্তি করেন, তবে তার নিজের সম্মুখেই অথবা যে আদালতে উহা স্থানান্তরিত হয়েছে, তার সম্মুখে পক্ষগণের উপস্থিতির জন্য অবশ্যই একটি তারিখ ধার্য করবেন।

 

২) যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের আবেদন ব্যতিরেকে কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম এক আদালত হতে অন্য আদালতে স্থানান্তরিত হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার পক্ষগণকে অবশ্যই যে আদালত হতে মোকদ্দমা, আপিল বা অন্যান্য কার্যক্রম স্থানান্তরিত হয়েছে, সেই আদালতে উপস্থিতির জন্য পূর্ব নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে হবে এবং এরূপ আদালত তখন সেই পক্ষগণকে স্থানান্তরের সেই আদেশটি অবশ্যই অবহিত করাবেন এবং পক্ষগণকে ঐ দিনই অথবা অন্য আদালতের অবস্থানের দূরত্বের প্রতি  লক্ষ  রেখে সেরূপ যুক্তিসঙ্গত দ্রুততর তারিখে যে আদালতে মোকদ্দমা, আপিল বা অন্য কার্যক্রমটি স্থানান্তরিত হয়েছে, সেই আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিবেন।

 

/43
74

CPC [9-14] - Advanced Exam

এখানে দেওয়ানি কার্যবিধির ৯-১৪ ধারাসমূহ নিয়ে অ্যাডভান্সড লেভেলের এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 43

1. Res Subjudice বিষয়টি কোন ধারণাটির মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যবিধিতে প্রকাশিত হয়েছে?

2 / 43

2. দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার প্রথম ব্যাখ্যায় নিচের কোনটিকে সংজ্ঞায়িত করা আছে?

3 / 43

3. The Code of civil procedure, 1908 এর ধারা ১১ এর কত নাম্বার ব্যাখ্যায় Constructive Resjudicata সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে? [জুডি. : ২০২১]

4 / 43

4. ল্যাটিন শব্দ Subjudice এর অর্থ কী?

5 / 43

5. দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা সম্পর্কে ধারণা বর্ণিত আছে?

6 / 43

6. দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার শিরোনাম হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

7 / 43

7. Stay of suit — দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার শিরোনাম?

8 / 43

8. Bar to further suit - দেওয়ানি কার্যবিধির ১২ ধারার প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

9 / 43

9. কোন ক্ষেত্রে একই মামলা দ্বিতীয় বার করতে কোনো বাধা নেই?

10 / 43

10. নিষ্পত্তিকৃত কোনো মোকদ্দমা পুনরায় বিচারাধীন করার ক্ষেত্রে বাধার কথা দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বলা আছে?

11 / 43

11. আরজিতে প্রার্থনা করা হয়েছে, কিন্তু সুস্পষ্ট কোনো ডিক্রি মঞ্জুরকৃত হয়ে না থাকলে সে বিষয়ে নিচের কোনটি সঠিক?

12 / 43

12. ‘A suit in which the .......... is contested is a suit of a civil nature ’ — শুণ্যস্থানে কী বসবে?

13 / 43

13. দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় দেওয়ানি মামলা বিষয়ে দেওয়ানি আদালতগুলোকে সাধারণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে? [বার : ২০১২]

14 / 43

14. দোবারা দোষ (res judicata) বিষয়ে দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারায় বিধান আছে? [বার : ২০১২]

15 / 43

15. রেস জুডিকাটা কোন ধরণের বাদী বা বিবাদীগণের ওপর প্রযোজ্য হয় না?

16 / 43

16. দেওয়ানি কার্যবিধির ১১ ধারার বিধানে কতটি ব্যাখ্যামূলক অনুচ্ছেদ রয়েছে?

17 / 43

17. রেস জুডিকাটা বলতে নিচের কোনটি বোঝায়?

18 / 43

18. Any matter which might and ought to have been made ground of defence or attack in such former suit shall be deemed to have been a matter directly and substantially in issue in such suit - এটিকে নিচের কোনটি হিসেবে অভিহিত করা হয় দেওয়ানি কার্যবিধিতে?

19 / 43

19. ল্যাটিন শব্দ judicata এর অর্থ কী?

20 / 43

20. দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা আমলে নেওয়ার বিধান The Code of Civil Procedure, 1908 এর কোন ধারায় উল্লেখ রয়েছে? [বার : ২০২৩]

21 / 43

21. দেওয়ানি কার্যবিধিতে রেস জুডিকাটা নীতির উল্লেখ আছে কত ধারায়?

22 / 43

22. ল্যাটিন শব্দ judicata এর অর্থ কী?

23 / 43

23. One suit and one decision is enough for any single dispute - এই ধারণাটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় প্রকাশিত হয়েছে?

24 / 43

24. বিদেশী রায় সম্পর্কে অনুমান সম্পর্কিত বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

25 / 43

25. The Code of Civil Procedure, 1908 এর ... ধারা একই বিচার্য বিষয় নিয়ে একই পক্ষগণের মধ্যে একাধিক বিচারকার্য নিষিদ্ধ করে। [বার : ২০২২]

26 / 43

26. দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা বলতে বোঝাবে -

27 / 43

27. দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারার বর্ণিত বিষয় হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

28 / 43

28. সিভিল প্রসিডিউর কোডের কোন ধারায় রেস সাব—জুডিস এর নীতি বর্ণিত আছে? [বার : ২০১৩]

29 / 43

29. দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারার শিরোনাম হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

30 / 43

30. Res Judicata — দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার শিরোনাম?

31 / 43

31. কোনো মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায়, পুনরায় একই পক্ষগণ ও বিচার্য বিষয় নিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করতে বিধিনিষেধ কোন ধারায় আছে দেওয়ানি কার্যবিধির?

32 / 43

32. The Code of Civil Procedure, 1908 এর ১১ ধারায় res judicata কতবার ব্যবহৃত হয়েছে? [জুডি. : ২০১৯]

33 / 43

33. দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় বর্ণিত মোকদ্দমা স্থগিত করার বিধানটি আদালতের জন্য -

34 / 43

34. Principle of Res Judicata একটি ..... বিষয়। [বার : ২০২২]

35 / 43

35. কখন কোনো বিদেশী রায় চূড়ান্ত বলে গণ্য করবে না একটি দেওয়ানি আদালত?

36 / 43

36. ‘অতিরিক্ত মোকদ্দমার বাধা’ দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

37 / 43

37. ল্যাটিন শব্দ Res এর অর্থ কী?

38 / 43

38. দেওয়ানি প্রকৃতির মোকদ্দমা অর্থ এমন মোকদ্দমা যেখানে ..... সংশ্লিষ্ট স্বার্থ জড়িত থাকে। [বার : ২০২২]

39 / 43

39. constructive res judicata - ধারণাটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বর্ণিত হয়েছে?

40 / 43

40. Res Subjudice - এর নীতিবলে দ্বিতীয় মোকদ্দমাটি -

41 / 43

41. Stay of suit — বলতে নিচের কোনটি বোঝায়?

42 / 43

42. কোন ক্ষেত্রে রেস সাবজুডিস নীতির ব্যতিক্রম আছে?

43 / 43

43. Res Sub Judice শব্দটি দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?

Your score is

0%