আইনকানুন একাডেমি

Course Content
The Code of Civil Procedure
দেওয়ানি কার্যবিধির প্রতিটি ধারা একেবারে ধরে ধরে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দিকগুলো বুঝবো আমরা ভিডিও লেকচারের মাধ্যমে এবং পর্যাপ্ত এমসিকিউ অনুশীলন করবো পরীক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে।
0/6
The Code of Civil Procedure, 1908

ম্যাপিং : আমরা এবারে সিলেবাসে উল্লি­খিত পরপর ৪টি বিষয় এই লেকচারে আলোচনা করবো। সিলেবাসের ক্রম অনুযায়ী বিষয়টি এভাবে আছে- Pleadings and amendment of pleadings, Plaint, Written statement and set off, Summons। আদেশগুলোর ক্রম অনুযায়ী সাজালে এভাবে দাঁড় করানো যায় Ñ Summons

 বা সমন [আদেশ ৫], প্লি­ডিংস ও প্লি­ডিংস এর সংশোধন [আদেশ ৬], আরজি [আদেশ ৭] এবং জবাব ও পাল্টা দাবি [আদেশ ৮]। আদেশগুলো ধারাবাহিকভাবে থাকায় একসাথেই আলোচনা করবো।

 

উল্লি­খিত ৫—৮ আদেশগুলোতে দেওয়ানি কার্যবিধির অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ব্যাখ্যা করা আছে। যেমন, প্লি­ডিংস এ কর্তন ও সংশোধন [৬ আদেশের ১৬ বিধি], আরজি ফেরত ও আরজি নাকচ [৭ আদেশের ১০ ও ১১ বিধি], দাবি সমন্বয় বা সেট অফ [৮ আদেশের ৬ বিধি], আরজি ও জবাবের উপাদানসমূহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো এই কয়েকটি আদেশের ভেতরেই বর্ণিত আছে। উপরন্তু, এই কয়েকটি আদেশ ঠিকঠাক জানতে বুঝতে পারলে একটি দেওয়ানি মামলার প্রাথমিক পরিগঠন সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা তৈরি হবে। একটি দেওয়ানি মামলার শুরুর একগুচ্ছ কাজ কী বা কেমন, কোনটার পরে কোনটা এটি বুঝে ফেলা একটা বিরাট আনন্দেরও ব্যাপার বলে আমরা মনে করি। ফলে, এই লেকচারটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আপনাদেরকে পাঠ করতে হবে। এই কয়েকটি আদেশ থেকে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে প্রশ্নও আসে এমসিকিউ পরীক্ষায়। হেলাফেলা করার কোনো সুযোগই নেই।

 

মূল আলোচনা

সমন প্রসঙ্গ : ৫ নং আদেশ ও ২৭—৩২ ধারাসমূহ

সমন সম্পর্কে ফৌজদারি কার্যবিধিতে আমাদের পর্যাপ্ত ধারণা হয়ে যাবার কথা। দেওয়ানি কার্যবিধিতে সমন একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। কোনো মোকদ্দমা আরজির মাধ্যমে দায়ের করা হলেই আদালতের প্রথম কাজ হলো আরজি মোতাবেক বর্ণিত বিবাদীগণকে জানানো যে, তাকে বা তাদেরকে বিবাদী করে একটি দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে। সুতরাং, উক্ত মোকদ্দমার বিরোধীয় বিষয়বস্তু নিয়ে নির্দিষ্ট দিনের ভেতরে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য জবাব দাখিল করতে হবে আদালতে। এই বিষয়টি যে চিঠি বা পত্রের মাধ্যমে বা অন্য কোনো মাধ্যমে জানানো হয় সেটিই সমন বলে পরিচিত দেওয়ানি মোকদ্দমায়। ৫ আদেশে সমন সম্পর্কে বিস্তারিত থাকলেও এর আরো কিছু বেসিক বিষয় বর্ণিত আছে কার্যবিধির ২৭ থেকে ৩২ ধারায় [‘সমন ও আবিষ্কার’ শিরোনামে]। উক্ত ধারা কয়েকটির পাঠও আমরা এই লেকচারেই নিয়ে রাখবো।

 

আবারো উল্লে­খ করি, দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশগুলো থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়বস্তু ও ধারণা একেবারে বিধি ও আদেশের নম্বরসহ আপনাদের মনে রাখতে হবে। এটি একদিনে হবে না। একাধিকবার পড়তে হবে সেজন্য। কিন্তু তার মানে এসব নিয়ে ভড়কে যাবারও কিছু নেই। কেননা, আদেশগুলোতে মূলত কোনো একটি বিষয়বস্তুর সমস্ত দিক উল্টেপাল্টে বলা আছে। আদেশগুলোকে একটি ধারাবাহিক ঘটনার [মানে একটি মামলার ক্রম অগ্রসরমান ঘটনার] আকারে একবার বুঝে নিতে পারলেই এর খুব ডিটেইলস আর মনে রাখার প্রয়োজন পড়বে না। এটি প্রথম বারের পাঠেই সেরে ফেলতে হবে। অর্থাৎ, প্রথমবারেই আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে, কোনটার পর কোনটা করতে হবে, কোনো বিশেষ শর্তের অনুপস্থিতির ফলে বিকল্প কোন ব্যবস্থা করতে হবে, বা কোনো বিষয়বস্তুর উপাদানগুলো কী কী, সেগুলোর ব্যতিক্রম কী কী ইত্যাদি। আমরা যেমন ফৌজদারি কার্যবিধিতে পড়ে এসেছিলাম যে, কিভাবে সমন জারি করতে হবে, সমনকৃত ব্যক্তিকে পাওয়া না গেলে কি করতে হবে, সমনকৃত ব্যক্তির বাড়িতে কেউ না থাকলে কি করতে হবে ইত্যাদি।

 

তো, একটার পর একটা আদেশগুলো পড়তে থাকুন। বোল্ড—আন্ডারলাইন খেয়াল করে করে পড়–ন। প্রতিটি আদেশের শেষে এসবের প্রয়োজনীয় সারসংক্ষেপ করা আছে।

 

প্রথমে সমন সম্পর্কিত ধারাগুলো দেখে নিন। ধারা ২৭ থেকে ৩২। এখানে এর তাত্ত্বিক ধারণাগুলো আছে আর এর বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি বলা আছে ৫ নং আদেশটিতে। আমাদের মূল মনোযোগ সবসময় আদেশেই রাখতে হবে।

 

সমন ও আবিষ্কার  [Summons and Discovery]

 

ধারা ২৭ : বিবাদীর প্রতি সমন : মোকদ্দমা সঠিকভাবে দায়ের করা হলে, বিবাদীকে হাজির হয়ে দাবির জবাব দেয়ার জন্য সমন দেওয়া যেতে পারে এবং উহা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারি করা যেতে পারে।

 

ধারা ২৮ : বাতিল।

 

ধারা ২৯ : বিদেশে সমন জারি : বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত দেওয়ানি বা রাজস্ব আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সমন এবং অন্যান্য পরোয়ানা বাংলাদেশের আদালতসমূহে প্রেরণ করা যেতে পারে এবং উহাকে বাংলাদেশী আদালতের সমন বলে ধরে নিয়ে জারি করা যেতে পারে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে এরূপ আদালতের প্রতি এই ধারার শর্তসমূহ প্রযোজ্য বলে ঘোষণা করবেন।

 

ধারা ৩০ : আবিষ্কার ও অনুরূপ বিষয়ের আদেশ দানের ক্ষমতা : যেরূপ নির্ধারণ করা হয়, সেরূপ শর্ত এবং সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে কোনো আদালত যেকোনো সময় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোনো একপক্ষের আবেদনক্রমেÑ

 

ক) প্রশ্নাবলী সরবরাহ ও জবাবদান, দলিল ও তথ্য গ্রহণ এবং সাক্ষ্য হিসেবে দাখিলযোগ্য দলিল বা অন্য কোনো বস্তু আবিষ্কার, পরিদর্শন, দাখিল, অন্তরীণ বা ফেরত সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বা সঙ্গত আদেশ দিতে পারেন;

 

(খ) সাক্ষ্য দান বা দলিল দাখিল বা উপরোক্ত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তির হাজির হওয়া দরকার তার প্রতি সমন প্রদান করতে পারেন;

 

গ) কোনো তথ্য শপথনামা দ্বারা প্রমাণের আদেশ দিতে পারেন।

 

ধারা ৩১ : সাক্ষীর প্রতি সমন : সাক্ষ্য দান, দলিল পেশ ও অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে ২৭ ও ২৯ ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

 

ধারা ৩২ : হাজির না হলে দণ্ড : যার প্রতি ৩০ ধারা অনুসারে সমন দেওয়া হয়েছে, আদালত তাকে হাজির হতে বাধ্য করতে পারেন এবং এই উদ্দেশ্যেÑ

 

ক) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন;

খ) তার সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রয় করতে পারেন;

গ) তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারেন;

ঘ) তার হাজিরার জন্য তাকে জামানত দেয়ার আদেশ দিতে পারেন; এবং জামানত না দিলে তাকে দেওয়ানি কারাগারে প্রেরণ করতে পারেন।

 

উপরোক্ত ধারাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কিছু নেই। ধারাগুলো ধারাবাহিকভাবে মনে রাখার বিকল্প নেই। ৩২ ধারার তথ্য বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ২৭ ধারায় যেখানে বিবাদীর প্রতি সমনের কথা বলা হচ্ছে, ২৯ ধারায় উক্ত সমনটি যখন বিদেশে পাঠাতে হবে তার বিধান, অন্যদিকে ৩১ ধারায় বলা হচ্ছে সাক্ষীর প্রতি যখন সমন পাঠানো হবে তার বিধান। এদিকে, ৩০ ধারায় আবিষ্কার বা Discovery নামে একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে পরের লেকচারে আলোচনা আছে। নিচে ৫ আদেশটি বিস্তারিত স্টেপ বাই স্টেপ পড়ে নিন। মনের ভেতরে ঘটনা সাজিয়ে সাজিয়ে পড়তে থাকুন। আদেশটির শেষে এ নিয়ে সংক্ষিপ্তসার করে দেওয়া আছে। সেটির সাথে মিলিয়ে নিন।

 

আদেশ ৫ : সমন প্রেরণ ও সমন জারি [Issue and service of summons]

১ : সমন : ১) যথাযথ উপায়ে মোকদ্দমা দাখিল করবার পর নির্ধারিত তারিখে হাজির এবং দাবির সমর্থনে জবাব দানের জন্য মোকদ্দমা দায়েরের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এতদুদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা বিবাদীর নিকট সমন প্রেরণ করবে;

 

তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালত কর্তৃক নিযুক্ত কর্মর্কর্তা উক্ত সময়সীমার মধ্যে সমন প্রেরণ করতে ব্যর্থ হোন, তাহলে সে অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন;

 

আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদী আরজি পেশ করার সময়েই হাজির থাকে এবং বাদীর দাবি স্বীকার করে নেয়, তবে এরূপ সমন প্রেরণ করা যাবে না।

 

২) বিবাদীর উপর উপবিধি (১) অনুসারে সমন প্রেরণ করা হয়ে থাকলে;

 

ক) ব্যক্তিগতভাবে, অথবা

 

খ) যথাযথভাবে নির্দেশ প্রাপ্ত এবং মোকদ্দমা সম্পর্কে সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোনো উকিল দ্বারা; অথবা

 

গ) অনুরূপ সকল প্রশ্নের উত্তর দানে সক্ষম কোনো ব্যক্তির সঙ্গে উকিলের দ্বারা বিবাদী হাজিরা দিতে পারে।

 

৩) এরূপ প্রত্যেকটি সমনে বিচারক অথবা তার নিযুক্ত কোনো কর্মচারীর স্বাক্ষর থাকবে এবং আদালতের সিলমোহর দ্বারা ছাপ দিতে হবে।

 

২ : সমনের সঙ্গে নকল বা বিবৃতি সংযুক্ত করতে হবে : প্রত্যেক সমনের সঙ্গে আরজির নকল অথবা যদি অনুমতি প্রদত্ত হয়, তবে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি থাকতে হবে।

 

৩ : আদালত বাদী বা বিবাদীকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন : ১) আদালত যদি কোনো কারণে মনে করেন যে, বিবাদীর ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার প্রয়োজন আছে, তবে সমনে নির্ধারিত তারিখে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমনে নির্দেশ থাকবে।

 

২) আদালত যদি কোনো কারণে মনে করেন যে, একই তারিখে বাদীরও ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার প্রয়োজন আছে, তবে আদালতে বাদীর হাজিরার জন্যও আদেশ প্রদান করবেন।

 

৪ : কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বসবাস না করলে কোনো পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া যাবে না : কোনো পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাবে না, যদি না সে—

 

ক) আদালতের সাধারণ মূল এখতিয়ারের স্থানীয় সীমানার মধ্যে; অথবা

 

খ) এরূপ সীমানা ব্যতিরেকে, কিন্তু এমন স্থানে যেখান হতে আদালতের দূরত্ব পঞ্চাশ মাইলের কম, অথবা যেখানে সে বাস করে সেই স্থান হতে যেখানে আদালত অবস্থিত, সেই স্থানের দূরত্বের ছয় ভাগের পাঁচভাগ পথে রেল, বা স্টীমারের যোগাযোগ রয়েছে বা অন্যবিধ গণ যানবাহন চালু করা আছে- দুইশত মাইলের কম দূরত্বে বসবাস করে।

 

৫ : বিচার্য বিষয় নির্ধারণ বা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন দিতে হবে : সমন কেবল মাত্র বিচার্য বিষয় নির্ধারণকল্পে না মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য দেওয়া হচ্ছে তা আদালত সমন দেয়ার সময় স্থির করবেন এবং সমন অনুসারে নির্দেশ থাকবে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, স্মল কজ আদালতে শ্রম্নত প্রত্যেকটি মোকদ্দমায় ক্ষেত্রে মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সমন দিতে হবে।

 

৬ : বিবাদীর হাজিরার তারিখ নির্ধারণ : বিবাদীর হাজিরার তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতের চলতি কাজ, বিবাদীর বাসস্থান এবং সমন জারির জন্য প্রয়োজনীয় সময়ের প্রসঙ্গ বিবেচনায় আসবে এবং তারিখ এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে বিবাদী হাজির হওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পায় এবং অনুরূপ তারিখে জবাব দিতে পারে।

 

৭ : বিবাদীর নির্ভরকৃত দলিল হাজির করার জন্য সমন : বিবাদীকে হাজির হওয়ার এবং জবাব দেয়ার জন্য প্রেরিত সমনে যে সকল দলিল বিবাদীর আয়ত্তে বা ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে, যেগুলির উপর সে মোকদ্দমার সমর্থনে নির্ভর করতে ইচ্ছুক, সেগুলি দাখিল করার জন্য নির্দেশ থাকবে।

 

৮ : চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য ইস্যুকৃত সমনে বিবাদীকে সাক্ষী করার নির্দেশ থাকবে : যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার চূড়ান্ত শুনানির জন্য সমন দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদী যে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যের উপর তার মোকদ্দমার সমর্থনে নির্ভর করতে ইচ্ছুক, সেই সকল সাক্ষীকে হাজিরার জন্য ধার্য করার জন্যও সমন জারি সমনে নির্দেশ থাকবে।

 

৯ : জারির জন্য সমন অর্পণ বা প্রেরণ : যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে বিবাদী উহার এখতিয়ারের ভিতর বসবাস করলে বা বিবাদীর পক্ষে সমন গ্রহণ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি ঐ এখতিয়ারের ভিতর বসবাস করলে আদালত অন্য কোনোরূপ নির্দেশ প্রদান না করলে, হয় উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট স্বয়ং জারি করার জন্য কিংবা তার অধস্তন কোনো লোক কর্তৃক বা উপধারা ৪ এর বিধান অনুযায়ী জেলা জজ কর্তৃক তালিকাভুক্ত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন অর্পিত বা প্রেরিত হবে।

 

২) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে সেখানকার না হয়ে অন্য কোনো আদালতের কর্মকর্তাও হতে পারেন, এবং সেরূপ কর্মকর্তার ক্ষেত্রে তার নিকট ডাকযোগে বা আদালতের নির্দেশ মতো অন্য কোনো উপায়ে সমন প্রেরণ করা যাবে।

 

৩) আদালত উপবিধি ১) এ বর্ণিত বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদীকে হাজির হবার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একই সাথে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে বা ইলেকট্রনিক মেইল সার্ভিস এর মাধ্যমে বাদীকে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দেবেন।

 

৪) জেলা জজ উপবিধি ১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি তালিকা প্রস্তুত করবেন (সময় সময় হালনাগাদসহ) এবং তার প্রশাসনিক অধিক্ষেত্রের সকল দেওয়ানি আদালতসমূহকে তা অবহিত করবেন।

 

৫) যখন সমন উপযুক্ত কর্মকর্তা কিংবা কুরিয়ার সার্ভিসের নিকট প্রেরণ করা হয়, তখন তিনি বা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত সমন প্রাপ্তির ৩০ (তিরিশ) দিনের মধ্যে তা প্রেরণ করবেন এবং আদালতকে এই বিষয়ে অবহিত করবেন;

 

তবে শর্ত থাকে যে, যদি উপযুক্ত কর্মকর্তা অথবা কুরিয়ার সার্ভিস উক্ত নির্ধারিত সময়সীমার ভেতরে সমন প্রেরণে ব্যর্থ হোন, তাহলে উক্ত কর্মকর্তা অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রে, জেলা জজ উপবিধি ৪) অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকা হতে তা বাদ দেবেন।

 

৯ক : জারির জন্য সমন বাদীকে প্রদান : ১) আদালত বিধি ৯ এ বর্ণিত সমন প্রেরণের বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিবাদীকে হাজির হবার জন্য সমন জারি করতে, বিবাদীর নিকট সঠিক পদ্ধতিতে সমন প্রেরণ এবং এই সকল বিষয়ে সরবরাহের নিমিত্ত বাদীকে সমন হস্তান্তর করার অনুমতি প্রদান করতে পারবে।

 

২) এই সমন জারি তখনই কার্যকর হবে যখন বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত কিংবা আদালতের পক্ষে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা আদালতের সিলমোহরযুক্ত কপিটি সরবরাহ বা দাখিল করার জন্য বিবাদীকে ব্যক্তিগতভাবে প্রদান করে।

 

৩) বিধি ১৬ এবং ১৮ তে বর্ণিত এই বিধির বিধানমতে ব্যক্তিগতভাবে সমন জারির ক্ষেত্রেও প্রয়োগযোগ্য হবে যেন তিনি জারিকারী কর্মকর্তা এবং বাদী হলফনামা সহকারে আদালতে একটি আবেদন দাখিল করবেন।

 

৪) যখন এরূপ সমন দাখিল করা হয়, এবং তা গ্রহণে অস্বীকার করে অথবা সে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে বা অন্য কোনো কারণে তা ব্যক্তিগতভাবে সরবরাহ করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে আদালত বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমন পুনঃজারি করবেন যেন যথানিয়মে আদালত কর্তৃক বিবাদীর নিকট সমন জারি করা হয়।

 

১০ : জারির পদ্ধতি : বিচারক বা তার পক্ষে এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত এবং আদালতের সিল মোহরাঙ্কিত সমনের একটি নকল অর্পণ বা প্রেরণ করে জারি করতে হবে।

 

১১ : কতিপয় বিবাদীর উপর জারি : অন্য কোনো রূপ নির্ধারিত না থাকলে, বিবাদীর সংখ্যা একাধিক হলে বিবাদীগণের প্রত্যেকের উপর সমন জারি করতে হবে।

 

১২ : যেক্ষেত্রে সহজ হয়, সেক্ষেত্রে বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে বা তার প্রতিনিধির উপর সমন জারি : যেকোনো স্থানে সহজসাধ্য হলে, বিবাদীর উপর সমন ব্যক্তিগতভাবে জারি করতে হবে, যদি না সমন জারি গ্রহণের জন্য তার কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থেকে থাকে, যেক্ষেত্রে এরূপ প্রতিনিধির উপর জারিই যথেষ্ট হবে।

 

১৩ : যে প্রতিনিধির মাধ্যমে ব্যবসা চালানো হয়, সেই প্রতিনিধির উপর সমন জারি : ১) সমন প্রদানকারী আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এলাকার সীমানার মধ্যে বসবাস করেনা, এরূপ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবসা বা কার্য সংক্রান্ত মোকদ্দমায় ব্যবস্থাপক বা প্রতিনিধি হিসেবে উক্ত ব্যক্তির পক্ষে উক্তরূপ স্থানীয় এলাকার সীমানায় ব্যবসা বা কার্য পরিচালনা করেন, তার উপর সমন জারি করলেই উত্তম জারি বলে গণ্য হবে।

 

২) এই বিধির উদ্দেশ্যে জাহাজের পোতাধ্যক্ষ মালিকের বা ভাড়াকারীর প্রতিনিধি বলে গণ্য হবে।

 

১৪ : স্থাবর সম্পত্তির জন্য মোকদ্দমার সম্পত্তির ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধির উপর সমন জারি : স্থাবর সম্পত্তি বিষয়ক কোনো প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ লাভের জন্য কোনো মোকদ্দমা করা হলে যদি বিবাদীর উপর ব্যক্তিগভাবে সমন জারি করা না যায় এবং সমন গ্রহণের জন্য বিবাদীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি না থাকলে সম্পত্তির ভারপ্রাপ্ত বিবাদীর যেকোনো প্রতিনিধির উপর সমন জারি করা যাবে।

 

১৫ : বিবাদীর পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যদের উপর সমন জারি : কোনো মোকদ্দমার বিবাদীকে যদি পাওয়া না যায়, এবং তার পক্ষে সমন গ্রহণ করার কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি না থাকলে তার সাথে বসবাসকারী পরিবারের কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের উপর সমন জারি করা যাবে।

 

ব্যাখ্যা : এই বিধির অর্থে কোনো চাকর পরিবারের লোক বলে গণ্য নয়।

 

১৬ : সমন গ্রহণকারী ব্যক্তির প্রাপ্তি স্বীকারমূলক স্বাক্ষর লাগবে : যেক্ষেত্রে সমন জারিকারক কর্মচারী বিবাদীকে ব্যক্তিগতভাবে বা তার প্রতিনিধিকে বা তার তরফে অন্য কোনো ব্যক্তিকে সমনের নকল অর্পণ বা প্রদান করে, সেক্ষেত্রে সমনের নকল এরূপে অর্পণ বা প্রদান করার সময় সমন জারির প্রাপ্তি স্বীকারস্বরূপ মূল সমনের উপর এরূপ নকল গ্রহণকারী ব্যক্তির দস্তখত গ্রহণ করবে।

 

১৭ : বিবাদী সমন গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে বা বিবাদীকে পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে পদ্ধতি : বিবাদী বা তার প্রতিনিধি বা উপরে বর্ণিত অপর কোনো ব্যক্তি যদি প্রাপ্তি স্বীকারমূলক স্বাক্ষর দিতে অস্বীকার করে অথবা, সমন জারিকারক কর্মচারী যথাবিহিত এবং সঙ্গত সকল চেষ্টা করেও যদি বিবাদীকে না পায়, এবং বিবাদীর পক্ষে সমন গ্রহণ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি বা সমন জারির যোগ্য অন্য কোনো ব্যক্তি না থাকে, তবে যে গৃহে বিবাদী সাধারণত বসবাস করে বা ব্যবসা চালায় বা অন্য কোনো লাভজনক কাজ করে, সেই গৃহের বহিঃদ্বারে বা গৃহের অন্য কোনো দৃষ্টি আকর্ষক অংশে সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে দিবে এবং সে যে পরিস্থিতিতে সমনের নকলটি এভাবে ঝুলিয়ে জারি করেছে, তার একটি প্রতিবেদন এবং যে ব্যক্তি (যদি থাকে) উক্ত গৃহ সনাক্ত করেছে এবং যার উপস্থিতিতে সমনের নকল লটকানো হয়েছে, তার নাম ও ঠিকানা মূল সমনের উল্টো পৃষ্ঠে বা তৎসঙ্গে গ্রথিত কাগজে মূল সমনটি সমন প্রদানকারী আদালতে ফেরত দিবে।

 

১৮ : জারির সময় ও পদ্ধতি উল্টো পৃষ্ঠে লিখন : যেক্ষেত্রে ১৬ বিধি অনুসারে সমন জারি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে সমন জারিকারক কর্মচারী কোনো সময় কি পদ্ধতিতে সমন জারি করা হয়েছে, তা এবং যে ব্যক্তি সমন গ্রহণকারীকে সনাক্ত করেছে এবং সমন অর্পণ বা প্রদান করা প্রত্যক্ষ করেছে, তার নাম ও ঠিকানা (যদি থাকে) সম্বলিত একটি প্রতিবেদন মূল সমনের উল্টো পৃষ্ঠে তৎসঙ্গে গ্রথিত অন্য কাগজে লিখে আদালতে দাখিল করবে ।

 

১৯ : জারিকারক কর্মচারীর জবানবন্দি গ্রহণ : যেক্ষেত্রে সমন ১৭ বিধি অনুসারে ফেরত দেওয়া হয়েছে সেক্ষেত্রে সমন জারিকারক কর্মচারীর প্রতিবেদন যদি উক্ত কর্মচারীর শপথনামা দ্বারা পরীক্ষা করা না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত উক্ত কর্মচারীকে শপথ করিয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করবেন বা অন্য আদালত কর্তৃক গ্রহণ করাবেন, অথবা যদি উক্ত কর্মচারীর প্রতিবেদন শপথনামা দ্বারা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে, তবে তার কার্যক্রম সম্পর্কে জবানবন্দি গ্রহণ করতে বা করাতে পারবেন এবং সঙ্গত মনে করলে অতিরিক্ত তদন্ত অনুষ্ঠান করতে পারেন এবং সমন যথারীতি জারি হয়েছে মর্মে ঘোষণা দিবেন অথবা যেভাবে জারি করা উচিত সেভাবে জারির জন্য আদেশ দিবেন।

 

১৯ক : জারিকারক কর্মচারীর ঘোষণা : জারিকারক কর্মচারী কর্তৃক সমনের নিম্নে স্বাক্ষরিত ঘোষণা সমন জারি বা সমন জারির প্রচেষ্টার বিষয়ে সাক্ষ্য হিসাব গৃহীত হবে।

 

১৯খ : ব্যক্তিগত জারির অতিরিক্ত হিসেবে ডাকযোগে ও যুগপৎভাবে সমন প্রেরণ করতে হবে : ১) আদালত ৯ হতে ১৯ বিধিতে (উভয় সমেত) বর্ণিত পদ্ধতিতে সমন জারির জন্য প্রেরণের সাথে তদরিক্ত এবং যুগপৎভাবে আরও নির্দেশ দিবেন যে, বিবাদীর বা তার সমন জারি গ্রহণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির ঠিকানায় বা যে স্থানে বিবাদী বা তার প্রতিনিধি প্রকৃত পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করে, ব্যবস্থা চালায় বা ব্যক্তিগতভাবে লাভের জন্য কাজ করে, প্রাপ্য স্বীকৃতিসহ নিবন্ধিত ডাকযোগে সমন জারি করতে হবে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত অপ্রয়োজনীয় মনে করলে নিবন্ধিত ডাকযোগে সমন জারির জন্য প্রেরণ করা, অত্র বিধির অধীনে প্রয়োজন হবে না।

 

২) যখন কোনো প্রাপ্তি স্বীকারের বিবাদী বা তার প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেছে বলে ধারণাক্রমে আদালত তা গ্রহণ করেন বা সমনে ধারণকৃত ডাক সংক্রান্ত বস্তুটি ডাক কর্মী কর্তৃক সমনের উল্টো পৃষ্ঠে এই মর্মে প্রদত্ত একটি লিখন যুক্তভাবে আদালতের কাছে ফেরত আসে যে, বিবাদী বা তার প্রতিনিধিকে যখন সমনে ধারণকৃত ডাক সংক্রান্ত বস্তুটি প্রদান করার সময় গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে, সমন প্রদানকারী আদালতে বিবাদীর উপর ঐ সমন যথারীতি জারি হয়েছে বলে ঘোষণা করবেন;

 

তবে শর্ত থাকে যেক্ষেত্রে সমন সঠিকভাবে লিখিত ঠিকানায় আগাম প্রদত্ত এবং যথাযথভাবে প্রাপ্য স্বীকৃতিসহ নিবন্ধিত ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়েছিল, সেক্ষেত্রে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র হারিয়ে গেলে বা সাময়িকভাবে হারিয়ে গেলে অথবা অন্য কোনো কারণে সমন প্রেরণের ত্রিশ দিনের মধ্যে আদালত কর্তৃক তা না পাওয়া সত্ত্বেও অত্র উপ বিধিতে উল্লি­খিত ঘোষণা প্রদান করা যাবে।

 

২০ : বিকল্পভাবে জারি : ১) যেক্ষেত্রে আদালত যুক্তিসঙ্গত কারণে বিশ্বাস করেন যে, বিবাদী জারি এড়ানোর জন্য লুকিয়ে থাকছে, অথবা অন্য কোনো কারণে সাধারণ উপায়ে সমন জারি করা যাচ্ছে না, সেক্ষেত্রে আদালত ভবনের কোনো দৃষ্টি আকর্ষক স্থানে অথবা ঘরে বিবাদী সর্বশেষ যে গৃহাংশে বসবাস করেছে বা ব্যবসা চালিয়েছে বা অন্য কোনো লাভজনক কাজ করেছে (যদি থাকে) বলে জানা যায়, সেই গৃহের কোনো দৃষ্টি আকর্ষক অংশের সমনের একটি নকল ঝুলিয়ে জারি করার জন্য অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত উপায়ে জারি করার জন্য আদালত আদেশ দিবেন।

 

১ক) যখন আদালত উপবিধি ১) অনুযায়ী সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সমন জারির আদেশ দান করে, তখন উক্ত সংবাদপত্রটি হতে হবে দৈনিক সংবাদপত্র যার প্রচার ঐ স্থানে থাকতে হবে যেখানে বিবাদী সর্বশেষ জ্ঞাত ঠিকানায় প্রকৃতপক্ষে এবং স্বেচ্ছায় বসবাস করেন কিংবা ব্যবসা পরিচালনা  করেন কিংবা ব্যক্তিগত লাভের জন্য কাজ করেন বলে জানা যায়।

 

২) বিকল্পভাবে জারির কার্যকারিতা : আদালতের আদেশক্রমে সমন জারি বিকল্পভাবে হলে তা বিবাদীর উপর ব্যক্তিগতভাবে জারির ন্যায়ই কার্যকর হবে।

 

৩) বিকল্পভাবে জারির ক্ষেত্রে বিবাদীর হাজিরার সময় নির্ধারণ : যেক্ষেত্রে আদালতের আদেশক্রমে সমন জারি বিকল্পভাবে হয়, সেইক্ষেত্রে বিবাদীর হাজিরার জন্য আদালত প্রয়োজনীয় সময় নির্ধারিত করবেন।

 

২১ : যেক্ষেত্রে বিবাদী অন্য কোনো আদালতের এখতিয়ারে বসবাস করে সেক্ষেত্রে সমন জারি : সমন প্রদানকারী আদালত বিবাদী যে স্থানে বসবাস করে, সেই স্থানের উপর এখতিয়ারসম্পন্ন কোনো আদালতের (হাইকোর্টর্ বিভাগ নয়) নিকট ইহার কোনো কর্মচারীর মাধ্যমে বা ডাকযোগে অথবা বিধি ৯ এর উপবিধি ৪) এ বর্ণিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সমন প্রেরণ করতে পারবেন।

 

২২ : বাতিল।

 

২৩ : যে আদালতে সমন পাঠানো হয়, সেই আদালতের কর্তব্য : যে আদালতের নিকট ২১ বিধি অনুসারে কোনো সমন প্রেরিত হয়, সেই আদালত উহা পাওয়ার পর এরূপভাবে অগ্রসর হবেন যেন উক্ত সমন সেই আদালত কর্তৃক প্রদত্ত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কিত রেকর্ডপত্র (যদি থাকে) সহ প্রদানকারী আদালতের নিকট সমন ফেরত পাঠাবেন।

 

২৪ : কারাগারে আটক বিবাদীর উপর সমন জারি : বিবাদী কারাগারে আকট হয়ে থাকলে বিবাদীর উপর সমন জারির জন্য কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপর অর্পণ করতে বা ডাকযোগে অথবা বিধি ৯ এর উপবিধি ৪) এ বর্ণিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে প্রেরণ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রেরিত হবে।

 

২৫ : বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করলে এবং কোনো প্রতিনিধি না থাকলে সমন জারি : ১) যেক্ষেত্রে বিবাদী বাংলাদেশের বাইরে বসবাস করে এবং সমন গ্রহণ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার কোনো প্রতিনিধি বাংলাদেশে না থাকে, সেক্ষেত্রে আদালত যেস্থানে অবস্থিত তথাকার মধ্যে বিবাদীর ডাক যোগাযোগ থাকলে অথবা বিধি ৯ এর উপবিধি ৪) এ বর্ণিত কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিবাদীর নামে সমন তার ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে।

 

২) আদালত উপবিধি ১) এ বর্ণিত সমন প্রেরণের বিধানের অতিরিক্ত হিসেবে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদীকে হাজির হবার জন্য সমন জারি করতে পারে এবং একইসঙ্গে ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে অথবা ইলেকট্রনিক মেইল সার্ভিসের মাধ্যমে বাদীকে নিজ খরচে সমন প্রেরণের নির্দেশ দেবেন।

 

২৬ : আদালতের মাধ্যমে বৈদেশিক ভূখণ্ডে সমন জারি : ক) যেক্ষেত্রে সরকারের উপর ন্যস্ত কোনো বৈদেশিক বা অতি—রাষ্ট্রীক এখতিয়ার প্রয়োগ ক্রমে, বিবাদী যে বৈদেশিক ভূখণ্ডে বসবাস করে, সেই স্থানে অত্র কোডের অধীনে কোনো আদালত কর্তৃক সমন জারির ক্ষমতা সম্পন্ন কোনো আদালত স্থাপিত হয়েছে বা চালু রাখা হয়েছে, অথবা

 

খ) সরকার, সরকারি গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে ঘোষণা করেছেন, এরূপ কোনো ভূখণ্ডে অবস্থিত কোনো আদালত উপরোক্ত কোনো এখতিয়ার বলে স্থাপিত বা চালু হয়ে না থাকলেও অনুরূপ কোনো আদালত কর্তৃক অত্র কোডের অধীনে কোনো আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সমন জারি হলে তা আইন সঙ্গত জারি বলে গণ্য হবে, সেক্ষেত্রে সমন বিবাদীর উপর জারি করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ আদালতের নিকট ডাকযোগে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রেরণ করা যাবে এবং উক্ত আদালত যদি উক্ত সমন ফেরত পাঠানোর সময় বিচারক বা আদালতের অন্য কোনো কর্মচারী কর্তৃক সমনের উল্টো পৃষ্ঠে এই মর্মে লিখে স্বাক্ষর করা হয় যে, বিবাদীর উপর ইতোপূর্বে এতে নির্দেশিত পদ্ধিতিতে সমন জারি করা হয়েছে, তবে সেই পৃষ্ঠাঙ্কন জারির প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।

 

২৬ক : বাতিল।

 

২৭ : বেসামরিক সরকারি কর্মচারী বা রেল বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মচারীর উপর জারি : যেক্ষেত্রে বিবাদী কোনো সরকারি কর্মচারী (বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর অধীনে নয়) বা রেল অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মচারী হয়, সেক্ষেত্রে যদি আদালতের কাছে অধিক সুবিধাজনক বলে প্রতীয়মান, তবে বিবাদীর উপর জারির জন্য উক্ত সমন, বিবাদীর কাছে রাখার জন্য উহার ১টি নকলসহ বিবাদী যে অফিসে চাকুরি করে, সেই অফিসের প্রধানের নিকট প্রেরণ করা যেতে পারে।

 

২৮ : সৈনিক, নাবিক ও বৈমানিকের উপর সমন জারি : বিবাদী যদি সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক হয়, তবে আদালত জারির জন্য সমনের সঙ্গে বিবাদী কর্তৃক রাখার জন্য উহার একটি নকল তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করবেন।

 

২৯ : যে ব্যক্তির নিকট সমন জারির জন্য অর্পণ বা প্রদান করা হয়, তার কর্তব্য : ১) কোনো সমন ২৪, ২৭ বা ২৮ বিধির অধীনে কোনো ব্যক্তির নিকট জারির জন্য অর্পণ বা প্রদান করা হলে, সেই ব্যক্তি উহা জারি করতে এবং সম্ভব হলে বিবাদীর লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারসহ তার স্বাক্ষরযুক্ত করে উক্ত সমন ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে এবং এরূপ স্বাক্ষর জারির প্রমাণ বলে গণ্য হবে।

 

২) যেক্ষেত্রে কোনো কারণে জারি অসম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে যে কারণে জারি করা সম্ভব হয়নি এবং জারি করার জন্য যে ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়েছে তার পূর্ণ বিবরণসহ উক্ত সমন আদালতে ফেরত পাঠাতে হবে এবং এরূপ বিবরণ সমন জারির প্রমাণ রূপে গণ্য হবে।

 

৩০ : সমনের স্থলে পত্র প্রতিস্থাপন : ১) ইতোপূর্বে এতে যাই অন্তর্ভুক্ত থাকুক, তা সত্ত্বেও আদালত বিবাদীর মর্যাদা বিবেচনা করে তার প্রতি সমন না দিয়ে সমনের প্রতিকার রূপে বিচারক বা তার পক্ষে নিযুক্ত কোনো কর্মচারীর স্বাক্ষর যুক্ত কোনো পত্র প্রেরণ করতে পারেন।

 

২) উপবিধি (১) অনুসারে প্রতিকল্পিত পত্রে সমনের সকল বিষয় উল্লে­খ করতে হয় এবং উপবিধি (৩) এর বিধান সাপেক্ষে উক্ত পত্র সর্বক্ষেত্রেই সমনের মতোই গণ্য হবে।

 

৩) এরূপে প্রতিকল্পিত পত্র ডাকযোগে বা আদালতের মনোনীত বিশেষ দূত মারফত অথবা আদালতের মতে কোনো ডাকযোগে বা আদালতের মনোনীত বিশেষ দূত মারফত অথবা আদালতের মতে কোনো উপযুক্ত পদ্ধতিতে বিবাদীর নিকট প্রেরণ করা যাবে, এবং যেক্ষেত্রে বিবাদীর পক্ষে সমন গ্রহণ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি রয়েছে, সেক্ষেত্রে উক্ত পত্র সেই প্রতিনিধির নিকট অর্পণ বা পাঠানো যেতে পারে।

 

৩১ : যখন সমন জারি সমাপ্ত হবে : যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হোন যে, এই আদেশে বর্ণিত যেকোনো পদ্ধতিতে সমন প্রেরণ করা হোক না কেন সমনটি সঠিভাবে জারি হয়েছে মর্মে গণ্য হবে।

 

তার মানে, মোকদ্দমা দায়ের হলেই সমন পাঠাতে হবে বিবাদী বা বিবাদীগণের নামে। সমনটি মামলা দায়েরের ৫ কর্মদিবসের ভেতর পাঠাতে হবে এবং সমনে আদালতের সিলমোহর ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর স্বাক্ষর থাকতে হবে। সমনের সাথে আরজির কপি সংযুক্ত করতে হবে। বিচার্য বিষয় নির্ধারণের জন্য, নাকি দিপাক্ষিকভাবে নিষ্পত্তি করার জন্য, নাকি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য এই সমন পাঠানো হচ্ছে, সেটি সমন প্রদানকারী আদালত নির্ধারণ করবেন [বিধি ৫]। আবার স্মল কজ আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্যই সমন পাঠানোর বাধ্যবাধকতা আছে। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য জারিকৃত সমনে প্রয়োজনীয় সাক্ষী নিয়ে বিবাদী সরাসরি উক্ত হাজিরার দিনে হাজির হতে পারবেন স্মল কজ আদালতে [বিধি ৮]। বিবাদীর ওপর সমন জারি করার জন্য বাদীকেও সমনটি দেওয়া যেতে পারে, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে! মজার বিষয় কিন্তু [বিধি ৯ক]। বিবাদী একাধিক হলে অন্য কোনো ভিন্ন নির্দেশনা না থাকলে প্রত্যেক বিবাদীকেই আলাদাভাবে সমন জারি করতে হবে [বিধি ১১]। বিবাদীকে না পাওয়া গেলে বা তার কোনো প্রতিনিধি না থাকলে বিবাদীর সাথে বসবাসকারী অন্যান্য কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যের ওপরও সমন জারি করা যেতে পারে [বিধি ১৫]; তবে বাড়ির কোনো ভৃত্য বা চাকর পরিবারের লোক বলে গণ্য হবে না। সমন জারি করার সময় সমনকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর নিতে হবে এবং সমন জারির রিপোর্ট লিখবেন সমন জারিকারক, এবং তা সমনের উল্টোপৃষ্ঠায় [বিধি ১৬ ও ১৮]। ব্যক্তিগতভাবে জারির অতিরিক্ত হিসেবে অবশ্যই যুগপৎভাবে নিবন্ধিত ডাকযোগে [Registered post] প্রাপ্য স্বীকৃতিসহ [Acknowledgement Due] পাঠাতে হবে [বিধি ১৯খ]। যারা শিক্ষানবিশ হিসেবে আদালতপাড়ায় নিয়মিত যান, তাদের এই প্রাপ্য স্বীকৃতি বা Acknowledgement Due ব্যাপারটি জেনে থাকবার কথা ইতিমধ্যেই। বিভিন্ন চেকের মোকদ্দমায় দেখবেন উকিল নোটিশের Acknowledgement Due বা সংক্ষেপে AD  ফেরত এসেছে কিনা এটি খেঁাজ নিতে হয়। AD  ফেরত আসা মানে হলো- যার প্রতি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছিলো তিনি নোটিশটি পেয়েছেন কিনা; এটি বোঝা যাবে তার প্রাপ্তিমূলক স্বাক্ষর দেখে।

 

আবার বিবাদী যদি সমন এড়াবার জন্য লুকিয়ে থাকে, তাহলে আদালত ভবনে, বা বিবাদীর বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ অংশে সমনের নকল লটকিয়ে অথবা কোনো দৈনিক সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও সমন জারি করা যেতে পারে [বিধি ২০]। এটি আপনারা ফৌজদারি কার্যবিধিতেও পড়ে এসেছিলেন। মনে আছে কি? ৩৩৯খ ধারা! আর সবশেষে এই জারি তখনই সমাপ্ত হবে যখন কিনা আদালত সন্তুষ্ট হবে যে, এটি জারি হয়েছে [বিধি ৩১]।

 

সাপ্লিমেন্টারি বুকের … পৃষ্ঠায় ৫ নং আদেশের সারসংক্ষেপটি এখুনি একবার দেখে নেওয়া উত্তম হবে।

 

প্লিডিংস প্রসঙ্গ :: ৬ নং আদেশ

মামলার দুইটি পক্ষ থাকে এটি আমরা আগেই জেনে এসেছি। কিন্তু এই দুইটি পক্ষ আদালতে নিশ্চয় মুখে মুখে তাদের বক্তব্য বলে না। তাদেরকে লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে হয়। বাদী পক্ষ মামলা দায়ের করার জন্য যে লিখিত বক্তব্য আদালতকে দেয় তাকে আরজি বা Plaint বলে। বিবাদী পক্ষ বাদী পক্ষের আরজির বিপরীতে আদালতে হাজির হয়ে যা লিখিতভাবে জানায় তাকে জবাব বা লিখিত জবাব বা Written statement বলে।

 

আর প্লি­ডিংস বা pleadings বলতে এই দুটোকেই বোঝায়। খোদ ৬ আদেশের ১ বিধিতেই বলা হচ্ছে- ‘প্লি­ডিংস বলতে আরজি বা লিখিত জবাব বোঝাবে।’ কিন্তু আরেকটু উল্টেপাল্টে ব্যাপারগুলো বুঝে নিতে পারি।

 

ইংরেজিতে plead বলে একটা শব্দ আছে। এই plead শব্দের কাছাকাছি একটা শব্দ কিন্তু আমরা দেওয়ানি কার্যবিধির ২ ধারায় সংজ্ঞা আকারে পড়ে এসেছি – pleader। এর মানে উকিল। যাই হোক plead শব্দ থেকেই প্লি­ডিংস বা pleadings শব্দটা এসেছে। plead শব্দটির প্রথম মানে হলো : to make repeated urgent requests to somebody for something. এর আরেকটি মানে- to offer something as an explanation or excuse, specially for failing to do something or for doing something wrong.  আইনে ব্যবহৃত এই শব্দের তৃতীয় আরেকটি মানে হলো : o present a case to a court of law.

 

ইংরেজি বিভিন্ন অভিধান ও বাংলা একাডেমির অভিধান পর্যালোচনা করে আপনাদের বোঝাপড়ার সুবিধার্থে pleadings শব্দের সবচাইতে বোধগম্য বাংলা হতে পারে : নালিশ উপস্থাপন। তথাপি, ব্ল­্যাক ল ডিকশনারি মোতাবেক অর্থটি জেনে রাখি, সেন্সটা আরেকটু পাকাপোক্ত হবে।

pleading : A formal document in which a party to a legal proceeding (esp. a civil lawsuit) sets forth or responds to allegations, claims, denials, or defenses.

 

আইন শব্দকোষে pleading এর অর্থটাও বেশ গুছিয়ে বলেছে। পুরো একটা লাইনে প্রপারলি চিত্রটা ফুটে উঠেছে। বলা হচ্ছে :

pleading : আরজি বা জবাব : দেওয়ানি মোকদ্দমায় একপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিলকৃত লিখিত নালিশ বা জবাব, যাহা উক্ত পক্ষ বিচার চলাকালে অপর পক্ষের বিরুদ্ধে প্রমাণ করিতে ইচ্ছুক।

 

তো, এই হলো আরজি, জবাব এবং প্লি­ডিংস সম্পর্কে বেসিক ধারণা। এগুলো যথাক্রমে ৭, ৮ এবং ৬ আদেশের বিষয়বস্তু। এইসব আদেশে আরজি—জবাব ইত্যাদির উপাদানসমূহ আরো বিস্তারিত খঁুটিনাটি বিষয় বর্ণিত আছে।

 

এবার নিচে প্লি­ডিংস নিয়ে বিস্তারিত আদেশটি দেখবো। আদেশ ৬। প্রতিটি বিষয়বস্তুই পড়ে পড়ে এগোতে থাকেন আগের আদেশটির মতোই। এর শেষে কিছু আলোচনা যুক্ত করা আছে। সারসংক্ষেপিত তথ্যের জন্য সাপ্লিমেন্টারি বুক দেখে নেবেন।

 

আদেশ ৬ : সাধারণভাবে আরজি জবাব [Pleadings generally]

১ : আরজি জবাব  [Pleading] : ‘আরজি জবাব’ বলতে আরজি বা লিখিত বর্ণনা বোঝাবে। [“Pleading” shall mean plaint or written statement.]

 

২ : আরজি জবাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি বর্ণিত হবে, সাক্ষ্য নয় [Pleading to state material facts and not evidence] : কেবলমাত্র আরজি জবাবদানকারী পক্ষ তার দাবি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের উপর যে সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নির্ভর করে, সেগুলির সংক্ষিপ্ত আকারে একটি বিবরণ প্রত্যেক আরজি—জবাব অন্তর্ভুক্ত করবে, কিন্তু যে সকল সাক্ষ্য দ্বারা এগুলি প্রমাণ করা হয়, তা নয়, এবং প্রয়োজন মতো ধারাবাহিকভাবে সংখ্যা দিয়ে তথ্যের বর্ণনা অনুচ্ছেদে বিভক্ত করতে হবে। কোনো তারিখ, ক্রম, যোগফল এসব অবশ্যই সংখ্যায় বা অংকে লিখতে হবে। [Every pleading shall contain, and contain only, a statement in a concise form of the material facts on which the party pleading relies for his claim or defence, as the case may be, but not the evidence by which they are to be proved, and shall, when necessary, be divided into paragraphs, numbered consecutively. Dates, sums and numbers shall be expressed in figures.]

 

৩ : আরজি জবাবের নমুনাসমূহ [Forms of pleading] : ‘ক’ পরিশিষ্টে বর্ণিত নমুনাসমূহ যখন যেক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সেক্ষেত্রে সেগুলি এবং যেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না সেক্ষেত্রে যথাসম্ভব অনুরূপ ধরণের কোনো নমুনা সকল আরজি জবাবের জন্য ব্যবহার করতে হবে। [The forms in Appendix A when applicable, and where they are not applicable forms of the like character, as nearly as may be, shall be used for all pleadings.]

 

৪ : যেক্ষেত্রে প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে বিশদ বিবরণ দিতে হবে [Particulars to be given where necessary]  : যে সকল ক্ষেত্রে আরজি জবাবদানকারী পক্ষ কোনো মিথ্যা বিবরণ, প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ, স্বেচ্ছাকৃত খেলাপ অথবা অন্যায় প্রভাবের উপর নির্ভর করে এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত নমুনাসমূহে উদাহরণস্বরূপ প্রদর্শিত বিবরণগুলি ছাড়াও আরও অধিক বিবরণসমূহ প্রয়োজন হলে (প্রয়োজন বোধে তারিখ ও দফাসহ) আরজি জবাবে বর্ণনা করতে হবে। [In all cases in which the party pleading relies on any misrepresentation, fraud, breach of trust, wilful default, or undue influence, and in all other cases in which particulars may be necessary beyond such as are exemplified in the forms. aforesaid, particulars (with dates and items if necessary) shall be stated in the pleading.]

 

 

৫ : অতিরিক্ত এবং অধিকতর ভালো বিবৃতি বা বিবরণ [Further and better statement, or particulars] : মোকদ্দমার খরচ এবং অন্যান্য ন্যায়সঙ্গত শর্ত সাপেক্ষে দাবি বা আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রকৃতি সম্পর্কে অতিরিক্ত এবং উত্তম বিবৃতি দানের বা আরজি জবাবে বর্ণিত কোনো বিষয় সম্পর্কে অতিরিক্ত এবং উত্তম বিবরণ দানের আদেশ সকল ক্ষেত্রে দেওয়া যেতে পারে। [A further and better statement of the nature of the claim or defence, or further and better particulars of any matter stated in any pleading, may in all cases be ordered, upon such terms, as to costs and otherwise, as may be just.]

 

৬ : পূর্বশর্ত : যে পূর্ববর্তী শর্ত সম্পাদন বা সংঘটন সম্পর্কে বাদী বা বিবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক, আরজি জবাবে তা বাদী বা বিবাদী, যেই হোক, স্বতন্ত্রভাবে সুনির্দিষ্ট করবেন এবং এসব সাপেক্ষে, বাদীকে বিবাদীর মোকদ্দমায় প্রয়োজনীয় সকল পুর্ববর্তী শর্ত প্রতিপালন বা সংঘটনের নিশ্চয়তা কখন তা হেতু ভাষণে পরোক্ষভাবে প্রকাশিত হতে হবে।

 

৭ : ব্যতিক্রম : সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যতীত কোনো আরজি জবাবে কোনো পক্ষের পূর্বকালীন আরজি জবাবের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো দাবি সম্পর্কে নতুন অজুহাত উত্থাপন বা ঘটনার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

 

৮ : চুক্তি অস্বীকার : যেক্ষেত্রে কোনো আরজি জবাবে একটি চুক্তির অভিযোগ বর্ণিত হয়, সেক্ষেত্রে বিপরীত পক্ষ কেবলমাত্র চুক্তিটি অস্বীকার করলে ইহার দ্বারা কেবলমাত্র অভিযোগে বর্ণিত প্রকাশ্য চুক্তির ঘটনা অথবা যে সকল ঘটনার বিষয় হতে চুক্তিটির পরোক্ষ প্রকাশ ঘটতে পারে, তা অস্বীকার করা বোঝাবে; এবং অনুরূপ চুক্তির আইনের বৈধতা বা পর্যাপ্ততাকে অস্বীকার বোঝাবে না।

 

৯ : দলিলের ফলাফল বর্ণনা করতে হবে [Effect of document to be stated] : কোনো দলিলের সারমর্ম যেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, সেক্ষেত্রে আরজি জবাবে উহার সমগ্রটি বা আংশিক বর্ণনা না করে উহার আরোপিত প্রভাব যথাসম্ভব সংক্ষেপে বর্ণনা করলেই যথেষ্ট হবে, যদি না দলিলের নির্দিষ্ট শব্দগুলি বা উহার কোনো অংশ গুরুত্বপূর্ণ হয়। [Wherever the contents of any document are material, it shall be sufficient in any pleading to state the effect thereof as briefly as possible, without setting out the whole or any part thereof, unless the precise words of the document or any part thereof are material.]

 

১০ : দ্বেষ, জ্ঞাত বিষয় ইত্যাদি : যেক্ষেত্রে কোনো দ্বেষ, প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য, জ্ঞাত বিষয় বা কোনো ব্যক্তির মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অভিযোগ করার প্রয়োজন হয়, যে পরিস্থিতিতে তা অনুমান করা যায় ইহা লিপিবদ্ধ না করে উহা তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করলেই যথেষ্ট হবে।

 

১১ : বিজ্ঞপ্তি : যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির কাছে কোনো তথ্য বিষয় বা জিনিসের বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে অভিযোগ করার প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে এরূপ বিজ্ঞপ্তিকে তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করলেই যথেষ্ট হবে। যদি না অনুরূপ বিজ্ঞপ্তির নমুনা বা নির্দিষ্ট শর্তগুলি বা যে অবস্থা এরূপ বিজ্ঞপ্তি অনুমান করা হয়, তা প্রয়োজনীয় হয়।

 

১২ : অনুমিত চুক্তি বা সম্পর্ক [Implied contract, or relation] : যখন কোনো ব্যক্তিগণের মধ্যে চিঠির অনুক্রম বা কথোপকথন বা অন্য কোনোরূপ ঘটনা সমষ্টি হতে কোনো চুক্তি বা কোনো সম্পর্ক অনুমান করতে হয়, তখন অনুরূপ চুক্তি বা সম্পর্ককে তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করলেই এবং অনুরূপ চিঠিসমূহ কথোপকথন বা ঘটনাবলী সাধারণভাবে উল্লে­খ করে বর্ননা না করলেও ইহা যথেষ্ট হবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি অনুরূপ আরজি জবাব প্রদান করে, যে যদি এরূপ ঘটনাবলী হতে অনুমিত একটি অপেক্ষা অধিক বিকল্প চুক্তি বা সম্পর্কের উপর নির্ভর করতে ইচ্ছুক হয়, তবে সে তা বিকল্পরূপে বর্ণনা করতে পারে। [Whenever any contract or any relation between any persons is to be implied from a series of letters or conversations or otherwise from a number of circumstances, it shall be sufficient to allege such contract or relation as a fact, and to refer generally to such letters, conversations or circumstances without setting them out in detail. And if in such case the person so pleading desires to rely in the alternative upon more contracts or relations than one as to be implied from such circumstances, he may state the same in the alternative.]

 

১৩ : আইনের অনুমান [Presumption of law] : কোনো ঘটনার বিষয় যদি কোনো পক্ষের অনুকূলে আইনত অনুমান করা হয়, বা যার প্রমাণের দায়িত্ব অন্য পক্ষের উপর বর্তায়, তবে তা ¯পষ্টরূপে প্রথমে অস্বীকার করা না হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আরজি জবাবে তা অভিযোগ করার প্রয়োজন নাই (যেমন, বাদী যেক্ষেত্রে কেবলমাত্র হুন্ডি বিনিময় পত্রের ভিত্তিতে মোকদ্দমা করেছে এবং দাবির স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে পণ্যের জন্য মোকদ্দমা করেনি)। [Neither party need in any pleading allege any matter of fact which the law presumes in his favour or as to which the burden of proof lies upon the other side unless the same has first been specifically denied (e.g., consideration for a bill of exchange where the plaintiff sues only on the bill and not for the consideration as a substantive ground of claim).]

 

১৪ : আরজি জবাব স্বাক্ষরিত হবে [Pleading to be signed] : প্রত্যেক আরজি জবাব পক্ষ এবং তার উকিল (যদি থাকে) কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে;

তবে শর্ত থাকে যে, ক্ষেত্রে অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো উত্তম কারণে আরজি জবাবদানকারী পক্ষ আরজি জবাবে স্বাক্ষর করতে অসমর্থ হয়, সেক্ষেত্রে তার পক্ষে উহা স্বাক্ষর দানের বা মোকদ্দমা দায়ের করার বা আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য তার দ্বারা যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি কর্তৃক উহা স্বাক্ষরিত হতে পারবে। [Every pleading shall be signed by the party and his pleader (if any):

Provided that where a party pleading is, by reason of absence or for other good cause, unable to sign the pleading, it may be signed by any person duly authorized by him to sign the same or to sue or defend on his behalf.]

 

১৫ : আরজি জবাব সত্যপাঠ [Verification of pleadings] : ১) বর্তমানে বলবৎ যেকোনো আইনে অন্যরূপ যে বিধান আছে, তা ব্যতীত প্রত্যেক আরজি জবাবের নিম্নে পক্ষ বা আরজি জবাব দানকারী পক্ষদের মধ্যে একজন অথবা অপর কোনো ব্যক্তি, যিনি মোকদ্দমার ঘটনাবলীর সাথে পরিচিত বলে আদালতের সন্তুষ্টিতে প্রমাণিত, তৎকর্তৃক আরজি জবাবের সত্যতা প্রতিপাদন করতে হবে। [Save as otherwise provided by any law for the time being in force, every pleading shall be verified at the foot by the party or by one of the parties pleading or by some other person proved to the satisfaction of the Court to be acquainted with the facts of the case.]

 

২) সত্যতা প্রতিপাদনকারী ব্যক্তি আরজি জবাবের দফার সংখ্যা উল্লে­খ পূর্বক নির্দিষ্ট করে বলবেন যে, কোনোগুলির সত্যতা তিনি স্বজ্ঞানে প্রতিপাদন করছেন এবং কোনোগুলির সত্যতা তিনি অপরের নিকট হতে প্রাপ্ত এবং তার বিশ্বাস মতে সত্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিপাদন করেছেন।

 

৩) যিনি সত্যতা প্রতিপাদন করবেন, তিনি উহাতে স্বাক্ষর দিবেন এবং যে তারিখে ও স্থানে উহা স্বাক্ষরিত হলো তা উল্লে­খ করবেন।

 

১৬ : আরজি জবাবে কর্তন [Striking out pleadings] : মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে কোনো আরজি জবাবে উল্লিখিত কোনো বিষয় অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক হলে অথবা উহার দ্বারা সুষ্ঠুু বিচার ক্ষতিগ্রস্ত, বিভ্রান্ত বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আদালত তা কর্তন করার বা সংশোধন করার আদেশ দিতে পারেন। [The Court may at any stage of the proceedings order to be struck out or amended any matter in any pleading which may be unnecessary or scandalous or which may tend to prejudice, embarrass or delay the fair trial of the suit.]

 

১৭ : আরজি জবাব সংশোধন [Amendment of pleadings] : মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত যেকোনো পক্ষকে ন্যায়সঙ্গত পদ্ধতিতে ও শর্তে তার আরজি জবাবে পরিবর্তন বা সংশোধন করার অনুমতি দিতে পারেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যাবে। [The Court may at any stage of the proceedings allow either party to alter or amend his pleadings in such manner and on such terms as may be just, and all such amendments shall be made as may be necessary for the purpose of determining the real questions in controversy between the parties.]

 

 

তবে শর্ত থাকে যে, মামলার বিচারকার্য শুরু হবার পর সংশোধনের কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য কবে না, যদি না আদালত অভিমত পোষণ করে যে, যথেষ্ট চেষ্টা করা সত্ত্বেও পক্ষগণ বিচারকাজ শুরু হবার পূর্বে বিষয়টি উত্থাপন করতে পারতেন না; [Provided that no application for amendment shall be allowed after the trial has commenced, unless the Court is of opinion that in spite of due diligence, the party could not have raised the matter before the commencement of trial]

 

আরো শর্ত থাকে যে, বিচারকাজ শুরু হবার পর যদি সংশোধনের আবেদন করা হয় এবং আদালত এই মত পোষণ করেন যে, বিচারকাজ পরিচালনাকে বিলম্ব করার জন্য এটি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত আপত্তিকারীকে যেরূপ উপযুক্ত মনে করেন তদ্রুপ ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ পরিশোধ করতে আদেশ দেবেন। [Provided further that if an application for amendment is made after the trial has commenced and the Court is of opinion that the application is made to delay the proceedings, the Court shall make an order for the payment to the objector such cost by way of compensation as it thinks fit.]

 

 

১৮ : আদেশ প্রদানের পরে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে [Failure to amend after order] : কোনো পক্ষ আরজি জবাব সংশোধনের অনুমতি সূচক আদেশ লাভ করার পর যদি আদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংশোধন না করে অথবা আদেশে কোনো সময় নির্ধারণ করা না হলে আদেশের তারিখ হতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি সংশোধন না করেন, তবে উক্ত নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সংশোধন করার অনুমতি পাবেন না, যদি না আদালত উক্ত মেয়াদ বর্ধিত করে থাকেন। [If a party who has obtained an order for leave to amend does not amend accordingly within the time limited for that purpose by the order, or if no time is thereby limited then within fourteen days from the date of the order, he shall not be permitted to amend after the expiration of such limited time as aforesaid or of such fourteen days, as the case may be, unless the time is extended by the Court.]

 

 

তার মানে, এই প্লি­ডিংস এ কোনো সাক্ষ্য বর্ণিত হবে না এবং সংক্ষেপে বিবরণী দিতে হবে। প্লিডিংসে তথ্যগুলো ক্রমানুসারে প্যারাগ্রাফে বিভক্ত থাকতে হবে। কোনো তথ্য সংখ্যাতে প্রযোজ্য হলে তা সংখ্যাতেই দিতে হবে [বিধি ২]। তবে, যেক্ষেত্রে প্রয়োজন, যেমন, মিথ্যা বর্ণনা, প্রতারণা ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিশদ বর্ণনা দেওয়া যাবে [বিধি ৪]। প্রসঙ্গক্রমে কোনো দলিলের কথা আসলে সেটি সম্পর্কে অংশ বা সমগ্র ধরে কোনো বিবরণ দেওয়া যাবে না, বরং দলিলটির কি প্রভাব সেটি প্লি­ডিংস এ বলতে হবে [বিধি ৯]। যেকোনো প্লি­ডিংস সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং আইনজীবী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে [বিধি ১৪]। প্লি­ডিংস এ মোকদ্দমার সংশ্লিষ্ট পক্ষ সত্যপাঠ দেবেন যে, উপরোক্ত বর্ণিত দফাগুলোতে বিবরণীসমূহ সঠিক ও তার সজ্ঞানে সেটি লিখিত হয়েছে, সত্যপাঠে তার স্বাক্ষর থাকতে হবে তারিখসহ [বিধি ১৫]। এই বিধিতেই স্বাক্ষর করার স্থানের উল্লেখেরও বিধান রয়েছে। যারা কোর্টে নিয়মিত যান, তারা সম্ভবত বাস্তবে এটি দেখতে পান না। কেননা, ধরে নেওয়া হয় যে আইনজীবীর স্বাক্ষর উক্ত প্লি­ডিংস এ আছে, তাঁর চেম্বার বা টেবিলেই এই স্বাক্ষর করা হয়েছে, ফলে এটি আলাদাভাবে উল্লে­খ করার প্রয়োজন হয় না। বিধি ১৬ তে প্লি­ডিংস কর্তন, ১৭ তে প্লিডিংস সংশোধনের ক্ষেত্র, সময় ও পদ্ধতি এবং ১৮ তে সংশোধনের ব্যর্থতার পরিণতি সম্পর্কে বলা আছে। ১৬ থেকে ১৮ বিধি তিনটি বিস্তারিত আলোচনার আছে।

 

বিধি ১৬ অনুযায়ী প্লি­ডিংস এর কোনো অংশ কর্তন করা যাবে। বাদী বা বিবাদী প্রাথমিকভাবে মোকদ্দমা দায়েরের সময় অথবা জবাব দেওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে বা তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধতা থেকে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসাজনক কিছু বলে ফেলতে পারে প্লি­ডিংসে। এমনতর কিছু বলে ফেললে সেগুলো প্লি­ডিংস থেকে কর্তন বা বাদ দেয়ার আদেশ দিতে পারেন আদালত। এটি সংশোধন করার আদেশ আকারেও আদালত দিতে পারে – এটিও লক্ষ্যণীয়। কেননা, প্লিডিংস সংশোধন বলতে শুধু ১৭ বিধিটিরই নির্দেশ করেন অনেকে; কিন্তু, ১৬ বিধিটিও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ১৬ বিধি অনুযায়ী কোনো কিছু অপ্রয়োজনীয় [Unnecessary],, কুৎসাজনক [scandalousও মোকদ্দমার সুষ্ঠু বিচার বাধাগ্রস্থ করতে পারে [tend to prjudice, embarass or delay the fair trial of the suit-এই তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে এই কর্তন করার আদেশ আদালত দিতে পারে। এই তিনটি ক্ষেত্রের কথা মনে রাখবেন বিধিটির নম্বরসহ।

 

আরজি দায়ের করার পর যখন মোকদ্দমা শুরু হয়ে যায়, তখন এমন অবস্থার উদ্ভব হতেই পারে যে, আরজিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লে­খ করা বাদ পড়ে গেছে। সেরকম অবস্থায় আরজি বা জবাব অর্থাৎ প্লি­ডিংস এর সংশোধন করা যায় ৬ আদেশের ১৭ বিধি মোতাবেক। এখানে বলা হয়েছে যে, মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়েই প্লি­ডিংস সংশোধন করা যায়। আদালত এই অনুমতি দিয়ে থাকেন তবে তা ‘বিরোধের প্রকৃত প্রশ্ন নির্ধারণের উদ্দেশ্যেই এরূপ যাবতীয় সংশোধন করা যাবে’ [for the purpose of determining the real questions in controversy between the parties]। এমনকি বিচারকার্য শুরু হবার পরেও যদি আদালত অভিমত পোষণ করে যে, যথেষ্ট চেষ্টা করা সত্ত্বেও বা পর্যাপ্ত সতর্ক হবার পরেও বিচারকাজ শুরু হবার আগে পক্ষগণ বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারতো না, তবে এরূপ ক্ষেত্রেও সংশোধনের অনুমতি দিতে পারে। এটি আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। আদালতে অনেক সময় মোকদ্দমার পক্ষগণ বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রিতা করার জন্য বা বিলম্ব করার জন্য এইসব সংশোধনী আনার চেষ্টা করে থাকে। এসব ক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করে বা আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এইসব সংশোধন—টংশোধন কিছু না, সবই বিচারকাজকে বিলম্বিত করার চেষ্টা মাত্র, সেক্ষেত্রে আদালত উল্টো সংশোধন করার আবেদনকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশও দিতে পারেন। বেশ উত্তেজনাময় বিষয় কিন্তু!

 

সংশোধনের অনুমতি পাবার পর সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে কী পরিণতি হবে সে সম্পর্কে ৬ আদেশের শেষ বিধি ১৮ তে বলা হচ্ছে। আদালত যদি প্লি­ডিংস সংশোধনের অনুমতি দিয়েও দেয় তাহলে- হয় আদেশে নির্ধারিত সময়ের ভেতরে অথবা আদেশে সময় উল্লে­খ না থাকলে আদেশের ১৪ দিনের ভেতরে এই সংশোধন করতে হয়। এর ভেতরে সংশোধন না করলে সংশোধনের সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। তবে, এক্ষেত্রেও আদালতের ক্ষমতা রয়েছে এটিকে বর্ধিত করার। আবারো এটি আদালতের বিবেচনামূলক ক্ষমতা। সময়কে বর্ধিত করার আদালতের যে সহজাত ক্ষমতা রয়েছে তা বোঝার জন্য এখুনি একবার কার্যবিধির ১৪৮ ধারাটি দেখে আসুন। কাজে দেবে।

 

বাদীর প্লিডিং তথা আরজি প্রসঙ্গ : ৭ নং আদেশ

এবার আদেশ ৭। প্লি­ডিংস এর ভেতরে আরজি ও জবাব উভয়ই অন্তুর্ভুক্ত ছিলো। প্লি­ডিংস সম্পর্কে ৬ ধারায় প্লি­ডিংস এর সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য আলোচনা ছিলো যা কিনা আরজি এবং জবাব উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য ছিলো। আর এই আরজি ও জবাব সম্পর্কে ডিটেইল বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা আছে ৭ ও ৮ নং আদেশে। আদেশ ৭ আরজি নিয়ে। আবারো আদেশটির প্রতিটি বিধি স্টেপ বাই স্টেপ পড়ে নিন। শেষে আলোচনা আছে পরিমিত আকারে। 

 

আদেশ ৭ : আরজি [Plaint]

 

 

১ : যে সকল বিষয়সমূহ আরজিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে [Particulars to be contained in plaint] : আরজিতে নিম্নলিখিত বিবরণগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে-

 

ক) যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে, তার নাম;

খ) বাদীর নাম, বসবাসের বর্ণনা এবং স্থান;

গ) বিবাদীর নাম, বসবাসের বর্ণনা এবং স্থান, যতদূর তার নির্ণয় করা যায়;

ঘ) বাদী বা বিবাদী নাবালক বা মানসিক বিকারগ্রস্ত হলে সেই মর্মে বিবৃতি;

ঙ) যে ঘটনার সূত্রে মোকদ্দমার কারণ উদ্ভব হয়েছে এবং তা কোন সময়ে

চ) আদালতের এখতিয়ার আছে বলে প্রমাণকারী তথ্যসমূহ;

ছ) বাদী যে প্রতিকার দাবি করে;

জ) যেক্ষেত্রে বাদী তার আংশিক দাবির দাবি—সমন্বয় বা বর্জন করতে অনুমোদন দিয়েছে, দাবির যে অংশ অনুরূপভাবে সমন্বয় বা বর্জন করা হয়েছে; এবং

ঝ) মোকদ্দমার এখতিয়ার এবং কোর্ট ফি—র উদ্দেশ্যে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুর মূল্য যতদূর স্বীকার করা হয়, সেই সম্পর্কে একটি বিবৃতি।

[The plaint shall contain the following particulars:

(a) the name of the Court in which the suit is brought;

(b) the name, description and place of residence of the plaintiff;

(c) the name, description and place of residence of the defendant, so far as they can be ascertained;

(d) where the plaintiff or the defendant is a minor or a person of unsound mind, a statement to that effect;

(e) the facts constituting the cause of action and when it arose;

(f) the facts showing that the Court has jurisdiction;

(g) the relief which the plaintiff claims;

(h) where the plaintiff has allowed a set-off or relinquished a portion of his claim, the amount so allowed or relinquished; and

(i) a statement of the value of the subject-matter of the suit for the purposes of jurisdiction and of court-fees, so far as the case admits.]

 

২ : টাকার মোকদ্দমার ক্ষেত্রে [In money suits] : যেক্ষেত্রে বাদী টাকা আদায় করতে চান, সেক্ষেত্রে আরজিতে দাবির যথাযথ পরিমাণ বর্ণনা করবেন। কিন্তু যেক্ষেত্রে বাদী অন্তবর্তীকালীন মুনাফার জন্য বা বিবাদীর এবং তার মধ্যে অমীমাংসিত হিসাব বাবদ সম্ভাব্য পাওনা টাকার জন্য মোকদ্দমা করেন, সেক্ষেত্রে যে জন্য মোকদ্দমা করা হবে, তার আনুমানিক পরিমাণ বর্ণনা করবেন। [Where the plaintiff seeks the recovery of money, the plaint shall state the precise amount claimed: In money suits But where the plaintiff sues for mesne profits, or for an amount which will be found due to him on taking unsettled accounts between him and the defendant, the plaint shall state approximately the amount sued for.]

 

৩ : যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু স্থাবর সম্পত্তি [In subject-matter of the suit is immovable property]  : মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যদি স্থাবর সম্পত্তি হয়, তবে আরজিতে উক্ত সম্পত্তি সনাক্ত করার উপযুক্ত বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং যদি উক্ত সম্পত্তি চৌহদ্দি বা সেটেলেমেন্ট রেকর্ডে উল্লি­খিত নম্বর দ্বারা সনাক্ত করা সম্ভব, তবে অনুরূপ চৌহদ্দির বা নম্বর আরজিতে বর্ণনা করতে হবে। [Where the subject-matter of the suit is immovable property, the plaint shall contain a description of the property sufficient to identify it, and, in case such property can be identified by boundaries or numbers in a record of settlement of survey, the plaint shall specify such boundaries or numbers.]

 

 

৪ : বাদী যখন প্রতিনিধি হিসেবে মোকদ্দমা করে [When plaintiff sues as representative] : যেক্ষেত্রে বাদী প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে মোকদ্দমা করে, সেক্ষেত্রে আরজিতে শুধু ইহা দেখালে চলবে না যে, বিষয়বস্তুতে তার একটি প্রকৃত স্বার্থ বিদ্যমান আছে, ইহাও দেখাতে হবে যে, সে যাতে ইহা সম্পর্কে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারে তজ্জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ (যদি থাকে) গ্রহণ করেছে।  [Where the plaintiff sues in a representative character the plaint shall show not only that he has an actual existing interest in the subject-matter, but that he has taken the steps (if any) necessary to enable him to institute a suit concerning it.]

 

৫ : বিবাদীর স্বার্থ ও দায়িত্ব দেখাতে হবে [Defendant’s interest and liability to be shown] : আরজিতে দেখাতে হবে যে মোকদ্দমার বিষয়বস্তুতে বিবাদীর স্বার্থ রয়েছে অথবা বিবাদী স্বার্থ দাবি করে এবং বাদীর দাবির জবাব দেয়ার জন্য সে সাক্ষাৎ করতে বাধ্য। [The plaint shall show that the defendant is or claims to be interested in the subject-matter, and that he is liable to be called upon to answer the plaintiff’s demand.]

 

৬ : তামাদি আইন হতে অব্যাহতির অজুহাত [Grounds of exemption from limitation law] : তামাদি আইনে উল্লিখিত সময়ের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর যদি মোকদ্দমায় অব্যাহতির দাবি করা হয়, তা আরজিতে দেখাতে হবে।

 

৭ : প্রতিকার ¯পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে [Relief to be specifically stated] : বাদী সাধারণভাবে বা বিকল্পভাবে যে প্রতিকার দাবি করে, আরজিতে তা ¯পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে এবং যে সাধারণ বা অন্য প্রকার প্রতিকার আদালত সঙ্গত বিবেচনায় ঠিক প্রার্থনা করার মতোই সর্বদা প্রদান করে থাকেন, তা প্রার্থনা করার প্রয়োজন নাই এবং বিবাদীর লিখিত বিবৃতিতে যে প্রতিকার দাবি করা হয়, সেক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হবে। [Every plaint shall state specifically the relief which the plaintiff claims either simply or in the alternative, and it shall not be necessary to ask for general or other relief which may always be given as the Court may think just to the same extent as if it had been asked for. And the same rule shall apply to any relief claimed by the defendant in his written statement.]

 

৮ : পৃথক অজুহাতের উপর প্রতিষ্ঠিত প্রতিকার [Relief founded on separate grounds] : বাদী যেক্ষেত্রে আলাদা এবং ¯পষ্ট অজুহাতের উপর প্রতিষ্ঠিত কতিপয় ¯পষ্ট দাবি বা মোকদ্দমার কারণ সম্পর্কে প্রতিকার প্রার্থনা করেন, সেগুলি যথাসম্ভব পৃথক ও ¯পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে। [Where the plaintiff seeks relief in respect of several distinct claims or causes of action founded upon separate and distinct grounds, they shall be stated as far as may be separately and distinctly.]

 

৯ : আরজি গ্রহণের পদ্ধতি [Procedure of admitting plaint]  : ১) বাদী আরজির সাথে যে সকল দলিল দাখিল করেছে (যদি থাকে), সেগুলির একটি তালিকা আরজির পশ্চাতে লিখে বা সংযুক্ত করে দিতে হবে; এবং আরজি গৃহীত হলে যতজন বিবাদী রয়েছে, সাদা কাগজে আরজির তত সংখ্যক নকল দাখিল করতে হবে, যদি না আরজির দৈর্ঘ্য বা বিবাদীদের সংখ্যার কারণে অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণে আদালত মোকদ্দমায় বাদীয় দাবির বা দাবিকৃত প্রতিকার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দাখিল করতে অনুমতি প্রদান করেন, যেক্ষেত্রে তিনি অনুরূপ বিবৃতি দাখিল করবেন। [The plaintiff shall endorse on the plaint, or annex thereto, a list of the documents (if any) which he has produced along with it; and, if the plaint is admitted, shall present as many copies on plain paper of the plaint as there are defendants,

unless the Court by reason of the length of the plaint or the number of the defendants, or for any other sufficient reason, permits him to present a like number of concise statements of the nature of the claim made, or of the relief claimed in the suit, in which case he shall present such statements.]

 

২) যেক্ষেত্রে বাদী প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতায় মোকদ্দমা করে বা বিবাদী বা অন্য কোনো  বিবাদীকে প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতায় অভিযুক্ত করা হয়, সেক্ষেত্রে এরূপ বিবৃতিতে বাদী কোনো ক্ষমতা মোকদ্দমা করলেন বা বিবাদীকে কোনো ক্ষমতায় অভিযুক্ত করা হলো, তা প্রদর্শন করতে হবে ।

 

৩) আরজির সাথে উক্তরূপ বিবৃতির সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য বাদী আদালতের অনুমতিক্রমে উহা সংশোধন করতে পারবে।

 

৪) আদালতের প্রধান উপরোক্ত তালিকা এবং নকল বা বিবৃতি পরীক্ষা করে যদি দেখতে পান যে, সেগুলি সঠিক আছে, তবে তিনি ঐগুলিতে স্বাক্ষর করবেন।

 

১০ : আরজি ফেরত [Return of plaint] : ১) মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে, যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা উচিত ছিলো, সেই আদালতে দাখিল করার জন্য আরজি ফেরত দেওয়া হবে। [The plaint shall at any stage of the suit be returned to be presented to the Court in which the suit should have been instituted.]

 

২) আরজি ফেরত দেয়ার সময় বিচারক উহার উপর উহার দাখিলের ও ফেরত দেয়ার তারিখ, উহা দাখিলকারী পক্ষের নাম, এবং উহা ফেরত দেয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি লিপিবদ্ধ করবেন। [On returning a plaint the Judge shall endorse thereon the date of its presentation and return, the name of the party presenting it, and a brief statement of the reasons for returning it.]

 

১১ : আরজি নাকচ [Rejection of plaint] : নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আরজি নাকচ করা হবেÑ

 

ক) যেক্ষেত্রে ইহা মোকদ্দমার কারণ ব্যক্ত করে নাই;

 

খ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মতো বাদী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উহা সংশোধন করতে ব্যর্থ হয়েছে;

 

গ) যেক্ষেত্রে দাবিকৃত প্রতিকারের যথার্থই মূল্যায়ন করা হয়েছে; কিন্তু প্রয়োজন অপেক্ষা কম মূল্যের স্ট্যাম্পযুক্ত কাগজে আরজি লেখা হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশিত বাদী নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রীত স্ট্যাম্প কাগজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

ঘ) যেক্ষেত্রে আরজির বিবৃতি অনুযায়ী উক্ত মোকদ্দমা কোনো আইন দ্বারা নিষিদ্ধ বলে প্রতীয়মান হয়;

 

তবে শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার মূল্যমান বা আবশ্যকীয় স্ট্যাম্প কাগজ দাখিল করার জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময় কোনো ক্রমেই একুশ দিনের অধিক হবে না।

 

১২ : আরজি নাকচের পদ্ধতি [Procedure on rejecting plaint] : কোনো আরজি নাকচ করা হলে বিচারক উহার কারণ উল্লে­খ পূর্বক একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন।

 

১৩ : আরজি নাকচ করা হলে যেক্ষেত্রে নতুন আরজি দাখিলের কোনো বাধা নাই [Where rejection of plaint does not preclude presentation of fresh plaint] : ইতোপূর্বে এতে বর্ণিত কারণগুলির কোনোটির দরুণ আরজি নাকচ হলে বাদীকে একই কারণে মোকদ্দমা করার জন্য নতুন আরজি দাখিল করার অধিকার হতে ইহা তার নিজের ক্ষমতায় বঞ্চিত করবে না। [The rejection of the plaint on any of the grounds hereinbefore mentioned shall not of its own force preclude the plaintiff from presenting a fresh plaint in respect of the same cause of action.]

 

আরজিতে যে সকল দলিলের উপর নির্ভর করা হয়

 

১৪ : আরজির সঙ্গে দলিল দাখিল [Production of documents along with the plaint] : ১) যেক্ষেত্রে বাদী তার হস্তগত বা আয়ত্ত্ব¡াধীন দলিলপত্রসমূহের উপর তার দাবির সমর্থনে প্রমাণ হিসেবে নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে তিনি আরজি দাখিল করার সময় এইগুলি আদালতে উপস্থাপন করবেন এবং একই সময় দলিলগুলি আরজির সঙ্গে নথিভুক্ত করার জন্য অর্পণ করবেন। [Where a plaintiff relies upon documents in his possession or power as evidence in support of his claims, he shall produce them in Court when the plaint is presented, and shall at the same time deliver the documents to be filed with the plaint.]

 

২) অনুরূপ দলিলের ফটোস্ট্যাট বা অবিকল নকল বাদীর উকিল কর্তৃক সত্যায়িত করে স্থলবর্তী করা হলে, শুনানির সময় বা আদালত যখনই চাইবেন, সেগুলি দাখিল করা হবে, এই মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করা হলে আদালত এই সকল দলিল ফেরত দিতে পারবেন। [The Court may return such documents on their being substituted by photostat or true copies attested by the plaintiff’s pleader on the undertaking that they will be produced at the time of hearing or whenever asked for by the Court.]

 

৩) যেক্ষেত্রে বাদী তার দাবির সমর্থনে এমন অন্য প্রকার দলিলপত্রের উপর নির্ভর করেন, যেগুলি তার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন নয়, সেক্ষেত্রে তিনি সেই সকল দলিল একটি তালিকায় লিপিবদ্ধ করে আরজির সঙ্গে যুক্ত বা সংলগ্ন করবেন এবং কার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন আছে তা বর্ণনা করবেন। [Where the plaintiff relies on any other documents not in his possession or power in support of his claim, he shall enter such documents in a list to be added or annexed to the plaint and state in whose possession or power they are.]

 

১৫ : বাদীর দখলে বা আয়ত্ত্বে কোনো দলিল না থাকলে বিবৃতি [Statements in case of documents not in plaintiff’s possession or power] : যেক্ষেত্রে এই সকল কোনো দলিল বাদীর হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন না থাকে, সেক্ষেত্রে তিনি সম্ভব হলে, ইহা যার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন আছে তা বর্ণনা করবেন।

 

১৬ : হারানো হস্তান্তরযোগ্য দলিলের উপর মোকদ্দমা [Suits on lost negotiable instruments] : যেক্ষেত্রে কোনো হস্তান্তরযোগ্য দলিলের ভিত্তিতে মোকদ্দমা করা হয় এবং উক্ত দলিল হারিয়ে গেছে বলে প্রমাণিত হয় এবং উক্ত দলিলের উপর অন্য কারো দাবির বিরুদ্ধে বাদী আদালতের সন্তুষ্টি মোতাবেক নিরাপত্তা প্রদান করে, সেক্ষেত্রে বাদী আরজির সাথে উক্ত দলিল আদালতে উপস্থিত করলে এবং উহার নকল আদালতে দাখিল করলে আদালত যেরূপ ডিক্রি প্রদান করতেন, সেরূপ ডিক্রিই প্রদান করতে পারবেন।

 

১৭ : দোকানের হিসাব খাতা দাখিলকরণ : ১) ১৮৯১ সালের মহাজনী জমা খরচ সাক্ষ্য আইনে (Banker’s books Evidence Act, 1891) যতদূর অন্য প্রকার বিধান আছে, তা ব্যতীত, বাদী যে দলিলের ভিত্তিতে মোকদ্দমা করেন, তা যদি দোকানের হিসাব খাতা অথবা তার দখলীয় বা আয়ত্ত্ব¡াধীন অন্য কোনো জমা—খরচে লিপিভুক্ত বিষয় হয়, তবে বাদী আরজি দাখিলের সময় খাতাটির বা জমা খরচের সঙ্গে যে লিপিভুক্ত বিষয়ের উপর তিনি নির্ভর করেন, ইহার একটি নকল দাখিল করবেন।

 

২) মূল লিপিভুক্ত বিষয় চিহ্নিত করা হবে এবং ফেরত দেওয়া হবে। আদালত বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্মচারী অবিলম্বে উক্ত দলিল সনাক্তকরণের উদ্দেশ্য চিহ্নিত করবেন; এবং দলিলের সকল পরীক্ষা ও মূল দলিলের সাথে উহা মিলিয়ে দেখার পর যদি উহাকে সঠিক পাওয়া যায়, তবে সেই মর্মে প্রত্যয়ন করবেন এবং খাতাটি ফেরত দিবেন এবং নকলটি নথিভুক্ত করাবেন।

 

১৮ : আরজির সঙ্গে হাজির না করা দলিলের [Inadmissibility of document not produced when plaint filed] : ১) বাদী কর্তৃক যে দলিল আরজির সাথে আদালতে হাজির করা উচিত বা আরজির উপর লিখিত বা আরজির সাথে সংযুক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং যা অনুরূপভাবে হাজির বা তালিকাভুক্ত করা না হয়, মোকদ্দমার শুনানির সময় আদালতের অনুমতি ব্যতীত বাদীর পক্ষে তা সাক্ষ্য স্বরূপ গৃহীত হবে না। [A document which ought to be produced in Court by the plaintiff when the plaint is presented, or to be entered in the list to be added or annexed to the plaint, and which is not produced or entered accordingly, shall not, without the leave of the Court, be received in evidence on his behalf at the hearing of the suit]

 

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে এরূপ অনুমতি প্রদান করবেন না। [Provided that the Court shall not grant such leave save in exceptional circumstances.]

 

২) বিবাদীর সাক্ষীকে জেরা করার জন্য বা বিবাদী কর্তৃক উত্থাপিত কোনো বিষয়ের জবাবদানের জন্য যে দলিল আদালতে হাজির করা হয় অথবা কেবলমাত্র কোনো সাক্ষীকে তার স্মৃতিশক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে দলিল তার হাতে প্রদান করা হয়, অত্র বিধির কোনো কিছুই সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। [Nothing in this rule applies to documents produced for crosse xamination of the defendant’s witnesses, or in answer to any case set up by the defendant or handed to a witness merely to refresh his memory.]

 

প্রথমেই ৭ আদেশটির সামগ্রিক পরিচয় নিলে দেখা যায় যে, বিধি ১ থেকে ৮ পর্যন্ত আরজির বিষয়বস্তু সম্পর্কিত বিধান, এর ভেতর ৬ বিধিতে তামাদি অব্যাহতির অজুহাত এবং ৭ ও ৮ বিধিতে প্রতিকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আলোচনা আছে। ৯ বিধিতে আরজি গ্রহণের পদ্ধতি এবং ১০ থেকে ১৩ পর্যন্ত বিধিগুলোতে আরজি ফেরত ও আরজি নাকচের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ দুইটি ধারণা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে। আর ১৪ থেকে ১৮ বিধিতে আরজির সাথে সম্পর্কিত দলিলসমূহ কিভাবে উপস্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে বলা আছে। খুবই কমপ্যাক্ট ধারাবাহিকতা আছে এই বিধিগুলোতে। মনে রাখা কঠিন নয়।

 

আরজির সাধারণ বিষয়সমূহ : বিধি ১—৯

একটি আরজিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে সে সম্পর্কে অতি পরিষ্কার ভাষাতেই ৭ আদেশের ১ বিধিতে বলা আছে। আপনি যদি এই বিধিতে বর্ণিত বিষয়গুলোর সাথে মিলিয়ে কয়েকটি বাস্তব আরজি দেখেন, তাহলে এই বিষয়গুলো অন্ধের মতো মুখস্থ করার দরকার পড়বে না এবং সেটি মনেও থাকবে ভালো। এজন্য কষ্ট করে কোর্টে গিয়ে সিনিয়রের কাছ থেকে কয়েকটি নমুনা আরজি ফটোকপি করে নিয়ে এসে পড়তে পারেন। আমরাও এই লেকচারের শেষে একটি আরজির নমুনা দিলাম; মিলিয়ে নেবেন ১ বিধিটির সাথে। অর্থের মোকদ্দমায়  [money suit] অর্থের যথাযথ পরিমাণ এবং স্থাবর সম্পত্তির মোকদ্দমায় [suit on immovable property] সম্পত্তির চৌহদ্দি বা রেকর্ডে উল্লি­খিত সংশ্লিষ্ট নম্বর উল্লে­খ করতে হবে আরজিতে [বিধি ২ ও ৩]। আরজিতে বর্ণনা এমন হতে হবে যা দ্বারা বোঝা যাবে যে, বিবাদীর স্বার্থ ও দায়িত্ব আছে উক্ত বিরোধীয় বিষয়ে এবং সে কারণেই বিবাদী উক্ত মোকদ্দমায় হাজির হতে বাধ্য বা তিনি তার সম্ভাব্য স্বার্থের প্রয়োজনেই এই মোকদ্দমায় লড়াই করতে আসবেন [বিধি ৫]। আমরা এর আগের লেকচারে দেখে এলাম যে, মোকদ্দমা দায়েরের পদ্ধতি সম্পর্কে ৪ আদেশে বলা আছে। কিন্তু এই ৭ আদেশের ৯ বিধিতে আরজি গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে ৯ বিধিতে বর্ণিত আছে বিস্তারিত। এই ৯ বিধির বিষয়বস্তুটি শিরোনামসমেত মনে রাখা অবশ্য কর্তব্য। এই বিধিটির সাথে ৪ আদেশটি ও ২৬ ধারা আবারো একবার দেখে নিলে কিন্তু বোঝাপড়াটা দৃঢ় হয়। দেখে নিন না এখুনি!

 

যদিও ১ বিধিতে বলেছে যে একটি আরজিতে কী কী লাগবে, তথাপি বিধি ১ থেকে ৮ পর্যন্ত পর্যালোচনায় একটি আরজির মূল যে কাঠামো দাঁড়ায় সেটি নিম্নরূপ:

 

১. মোকদ্দমার পক্ষ [মোকদ্দমায় দুইটি পক্ষ থাকবে বলাই বাহুল্য! এই দুই পক্ষের নাম ঠিকানা বাসস্থান ইত্যাদি উল্লে­খ করতে হবে।]

 

২. মোকদ্দমা উদ্ভবের কারণ [cause of action] , [ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনাসমেত মোকদ্দমার কারণ যেভাবে উদ্ভব হলো তার বিবরণ]

 

৩. মোকদ্দমার মূল্য নির্ধারণ [মোকদ্দমার বিরোধীয় বিষয়বস্তুটি কত মূল্যের এটি নির্ধারণ করে উল্লে­খ করতে হবে। আদালতের এখতিয়ার এবং প্রতিকারের উদ্দেশ্যে এটি অতীব জরুরি।]

 

৪. আদালতের এখতিয়ার [যে আদালতে মোকদ্দমাটি দায়ের করা হবে, মোকদ্দমার মূল অনুযায়ী সেই আদালতের এখতিয়ার আছে কিনা সেটি দেখতে হবে, এবং সে হিসেবে উক্ত আদালতেই মোকদ্দমাটি দায়ের করতে হবে। আদালতের নাম আরজির শুরুতেই উল্লে­খ করতে হয় বিধায় মোকদ্দমার ঘটনা ও মূল্য নির্ধারণ করে শুরুতেই এটি নির্ধারণ করে নিতে হয়।]

 

৫. তামাদি দ্বারা বারিত কি না [৭ আদেশের বিধি ৬ মোতাবেক কোনো একটি বিরোধ তামাদি দ্বারা বারিত হয়েছে কিনা সেটিও উল্লে­খ করতে হয় আরজিতে।]

 

৬. প্রার্থিত প্রতিকার [৭ আদেশের ৭ ও ৮ বিধিতে এ বিষয়ে পরিষ্কার করে বলাই আছে যে, প্রার্থিত প্রতিকার স্পষ্টভাবে উল্লে­খ করতে হবে]

 

উপরোক্ত বিষয়গুলো একটি আরজির অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তবে প্লি­ডিংস পড়ার সময় আমরা দেখেছিলাম যে, যেকোনো প্লি­ডিংসে [বাদীর জন্য প্লি­ডিং মানে আরজি এবং বিবাদীর জন্য প্লি­ডিং মানে জবাব] অবশ্যই পক্ষ এবং উকিলের স্বাক্ষর লাগবে। আরো লাগবে সত্যপাঠ। এগুলোও আরজির জন্য আবশ্যকীয়। এগুলোর উল্লে­খ প্লি­ডিং সম্পর্কিত ৬ নং আদেশে উল্লে­খ করা আছে বিস্তারিত। জাস্ট স্মরণ করিয়ে দিলাম আরেকবার। রিলেট করে করে মনে রাখবেন, সারাজীবনেও ভুলে যাবার কথা না।

 

আরজি ফেরত : বিধি ১০

এবার আরো জরুরি একটি বিষয়। বিধি ১০ থেকে ১৩ এই চারটিতে আরজি ফেরত ও আরজি নাকচ সম্পর্কে বর্ণিত আছে। এটি নিয়ে খানিকটা বিস্তারিত পাঠ আমাদেরকে নিতে হবে।

 

আরজি ফেরত সংক্রান্ত ১০ বিধিটি পাঠ করলে এ রকম দাঁড়ায়- মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়েই আদালত আরজি ফেরত দিতে পারে। ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্য একটাই- যে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা দরকার ছিলো সেই আদালতে মোকদ্দমাটি দায়ের বা দাখিল করার জন্য! ১০ বিধিটির ১ উপবিধিতে এটুকুই বলা আছে। আর এর ২ উপবিধিতে একটি আরজি ফেরত দেওয়ার সময় আদালতের করণিক কর্তব্য উল্লে­খ করা আছে। খুব সিম্পল।

 

আরজি ফেরত নিয়ে এই ১০ বিধিটির বাইরে দেওয়ানি কার্যবিধির আর কোথাও কোনো উল্লে­খ নেই। বিধিটির বিশ্লে­ষণে ও ব্যবহারিক পর্যায়ে বোঝা যায় যে, একটি মামলা কোনো ভুল আদালতে দাখিল হয়ে থাকলে [যেমন, হয়তো উক্ত আদালতের আর্থিক এখতিয়ার নেই বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, বা এমনও হতে পারে যে, উক্ত বিষয়বস্তুর মোকদ্দমাটি বিচার করার অথবা আপিল শোনার এখতিয়ার নেই ইত্যাদি] আরজিটি ফেরত দেওয়া যেতে পারে। এবং মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে এটি ফেরত দেওয়া যায়।

 

কিন্তু এই ফেরতের পরবর্তী ফলাফলটি কি? উক্ত মোকদ্দমার প্রার্থিত প্রতিকার কি পাবে না প্রতিকারপ্রার্থী? পাবে! আরজিটি ফেরত দেয়াই হয় এজন্য যেন সঠিক বা যথাযথ আদালতে [proper courtমোকদ্দমাটি দায়ের করা যায়। আরজি ফেরত এর ইংরেজি শব্দবন্ধটি খেয়াল করুন- Return of plaint। তার মানে, আরজিটি জাস্ট ফেরত দেওয়া। এর মানে আরজি নাকচ  [Rejection of plaint] করা নয় কিন্তু! আরজি নাকচ কি সেটি নিয়ে ১১ থেকে ১৩ পর্যন্ত বিধান আছে। আরজি ফেরত হলে সেই একই আরজিটি অন্য যথাযথ আদালতে পেশ করা যাবে। নতুন যথাযথ আদালতটি পূর্বের ভুল আদালতের এ বিষয়ক নোট দেখে বুঝবেন যে, মোকদ্দমাটি ভুল আদালতে দায়ের হয়েছিলো। এ রকম আরজি ফেরতের ক্ষেত্রে ফেরতদানকারী আদালতটি আরজির ওপরে-

১. আরজিটি দাখিলের তারিখ

২. আরজিটি ফেরতের তারিখ

৩. দাখিলকারী পক্ষ তথা বাদীর নাম

৪. আরজিটি ফেরতের কারণ

 

– এই চারটি বিষয় উল্লে­খ করবেন অবশ্যই। নতুন আদালত এসব দেখেই মোকদ্দমাটি গ্রহণ করবেন। এর ভেতরে তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধানমতে বাদীপক্ষকে দরখাস্ত দিতে হবে এই মর্মে যে, ভুল আদালতে সদবিশ^াসে দাখিলের কারণে সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। সুতরাং, ভুল আদালতে দাখিলের দিনের তারিখেই মামলাটির দায়েরের সময় ধরে নিতে হবে। এই আবেদন আইনসম্মত, বৈধ। আদালত তামাদি আইনের ১৪ ধারার বিধান মোতাবেক শর্ত পূরণ হলে সেটি মঞ্জুর করবেন এবং মামলাটি গ্রহণ করে অগ্রসর হবেন। আরজি ফেরতের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ আপিল আদালতে আপিল করতে পারবেন। কারণ এটি একটি আপিলযোগ্য আদেশ যা কিনা ৪৩ আদেশে বর্ণিত আছে। এই তথ্যটি বিশেষভাবে মনে রাখবেন।

 

আরজি নাকচ : বিধি ১১—১৩

এবার আসুন, আরজি নাকচ [Rejection of plaint]  বুঝবো। ৭ আদেশের ১১ বিধিতে পরিষ্কার করে বলাই আছে কোন ৪টি কারণে আরজি নাকচ হবে। তবে, এই মাত্র ৪টি কারণের বাইরেও আরো আরো কারণেও আরজি নাকচ হতে পারে। এই ৪টি কারণই শেষ নয়। আরজি নাকচ হতে পারে নিম্নোক্ত কারণেÑ

১. আরজিতে মোকদ্দমার কারণ উল্লে­খ না থাকলে [মোকদ্দমার কারণ উল্লে­খতো আরজির আবশ্যকীয় উপাদান। এটি না থাকলে ক্যামনে কি?! আরজিতো নাকচ হবেই!]

২. আরজিতে দাবিকৃত প্রতিকার যদি অবমূল্যায়ন করে দেখানো হয় বা মূল্য সঠিকভাবে না লেখা হয়

৩. আরজিতে মোকদ্দমার জন্য প্রয়োজনীয় বা যথাযথ মূল্যের স্ট্যাম্প বা কোর্ট ফি লাগানো না হলে

৪. আরজিতে বর্ণিত প্রতিকার প্রার্থনা যদি আইন দ্বারা বারিত বা নিষিদ্ধ হয়ে থাকে

৫. আরজিতে আরজির অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন, বাদীর স্বাক্ষর বা সত্যপাঠ ইত্যাদি না থাকলে

 

১১ বিধিতেই উপরোক্ত প্রথম ৪টি কারণ উল্লে­খপূর্বক পরের প্যারায় স্ট্যাম্প বিষয়ে বলা হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প সরবরাহের জন্য ২১ দিনের বেশি সময় দেওয়া যাবে না। তার মানে, অপর্যাপ্ত স্ট্যাম্প থাকলে আদালত আরজি নাকচ করার আগে পর্যাপ্ত স্ট্যাম্প যুক্ত করার জন্য ২১ দিনের সময় দেবেন। ২১ দিনের ভেতর স্ট্যাম্প যুক্ত করে দিলে আরজিটি গ্রহণ করা হবে। না দিলে উক্ত আরজিটি নাকচ হয়ে যাবে।

আরজি নাকচের ক্ষেত্রে আদালত এর কারণ উল্লে­খপূর্বক নথিতে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন আরজিটি সম্পর্কে। এই পদ্ধতিটি ১২ বিধিতে বলা আছে।

 

আরজি ফেরতের ক্ষেত্রে যথাযথ আদালতে আরজিটি নিয়ে গেলেই মোকদ্দমাটি দায়ের করা যায়। আরজি নাকচের ক্ষেত্রে কি হবে? আরজি নাকচের ক্ষেত্রে আরজি নাকচকারী আদালতটি উক্ত বাদীকে নতুন আরজি দাখিল করা থেকে বিরত করতে পারবেন না। ১৩ বিধিতে এটি বলা আছে। তার মানে, আরজি নাকচ হয় আরজিতে মূলত কোনো না কোনো ভুলের কারণে। উক্ত ভুলটি ঠিক করে নিয়ে একজন প্রতিকারপ্রার্থী আবারো প্রতিকার প্রার্থনা করতে পারে।

 

আরজি ফেরত এবং আরজি নাকচ বুঝলেন আশা করি। আরেকটি ধারণার সাথে এই দুইটিকে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই গুলিয়ে ফেলেন। সেটি হলো- মামলা বা মোকদ্দমা খারিজ! এটি নিয়ে এখন আর আলোচনা নয়। শুধু খেয়াল রাখেন এই তিনটির ইংরেজিগুলো- আরজি ফেরত [Return of plaint], আরজি নাকচ [Rejection of plaint] এবং মোকদ্দমা খারিজ [Dismissal of suit]। প্রথম দুইটিই আলোচনা করে এলাম ওপরে। দুটোই আরজি বা plaint সম্পর্কিত। আর শেষেরটা মোকদ্দমা বা suit নিয়ে। এ নিয়ে পরে প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা আসবে।

 

 

আরজিতে দলিলের উপস্থাপন প্রসঙ্গ : বিধি ১৪—১৮

বিধি ১৪ থেকে ১৮ পর্যন্ত কোনো আলোচনা করবো না। আপনারা নিজে ভালোভাবে পড়–ন। জরুরি কিন্তু খুব। উপরন্তু, ১৪ থেকে ১৮ বিধির ভালো উপলব্ধি তৈরি হলে পরবর্তীতে ৮ নং আদেশের ১ নং বিধির বেশিরভাগ উপবিধি সহজ হয়ে যাবে। কেননা, ৭ আদেশের ১৪—১৮ বিধি আরজির সাথে সংশ্লিষ্ট দলিল দাখিল বা উপস্থাপন সংক্রান্ত। কিন্তু, শুধু একজন বাদীই দলিল দাখিল বা উপস্থাপন করবেন এমনতো কোনো কথা নেই; বরং, বিবাদীও বাদীকে খণ্ডনের জন্য তারও কথা থাকতে পারে এবং তার পক্ষ থেকেও দলিল উপস্থাপনের ইস্যু থাকতে পারে। বস্তুত, উভয় পক্ষের জন্য বিধানসমূহ একই। ফলে, ৭ আদেশের ১৪—১৮ নং বিধি ভালোভাবে পড়লে ৮ আদেশের সংশ্লিষ্ট বিধি—উপবিধিও পড়া হয়ে থাকবে। কিপ হ্যাপি রিডিং! 🙂

 

 

বিবাদীর প্লিডিং তথা লিখিত জবাব :: ৮ নং আদেশ

এবার আদেশ ৮। এখানে লিখিত জবাবের পাশাপাশি সেট অফ বা দাবি সমন্বয় নিয়েও আলোচনা আছে। খোদ শিরোনামেই সেটির উল্লে­খ আছে। যাইহোক, আদেশটি বিস্তারিত পাঠ করুন। শেষে আলোচনা আছে যথারীতি।

 

আদেশ ৮ : লিখিত বিবৃতি এবং পাল্টা দাবি [Written statement and set-off]

 

১ : লিখিত জবাব  [Written statement] : ১) ৮০ ধারার (২) উপধারাস্থ শর্তাংশে যেরূপ বিধান আছে, তা ব্যতিরেকে বিবাদী তার ওপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ৩০ (তিরিশ) কার্যদিবসের ভেতরে আত্মপক্ষ সমর্থন করে একটি লিখিত জবাব দাখিল করবেন।

 

তবে শর্ত থাকে যে, যখন বিবাদী উক্ত ৩০ (তিরিশ) দিবসের মধ্যে যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত লিখিত বিবৃতি দিতে ব্যর্থ হবে, তখন আদালত কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো দিনে তা দাখিল করার অনুমতি প্রাপ্ত হবে এবং তার কারণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ থাকতে হবে, কিন্তু তা কোনোক্রমেই সমন জারি হবার ৬০ (ষাট) কর্মদিবস অতিক্রম করবে না;

 

আরো শর্ত থাকে যে, যদি বিবাদী উক্ত ৬০ (ষাট) কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত বিবৃতি দাখিলে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত একতরফা মামলার নিষ্পত্তি করবে।

 

২) যেক্ষেত্রে বিবাদী তার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন দলিলপত্রসমূহের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থনের বা দাবি—সমন্বয় করার দাবির সমর্থনে সাক্ষ্য হিসেবে নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি লিখিত জবাব দাখিল করার সময় এইগুলি আদালতে উপস্থাপন করবেন এবং একই সময়ে দলিলগুলি লিখিত জবাবের সঙ্গে নথিভুক্ত করার জন্য প্রদান করবেন।

 

৩) শুনানির সময় বা আদালত যখন চাইবেন, তখনই আদালতে উপস্থাপন করার অঙ্গীকার প্রদান করে ঐ সকল দলিলের ফটোস্ট্যাট বা অবিকল নকল বিবাদীর উকিল কর্তৃক সত্যায়িত করে আদালতে দাখিল করলে, আদালত অনুরূপ দলিলপত্র ফেরত দিতে পারেন।

 

৪) যেক্ষেত্রে বিবাদী তার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন নয় এমন অন্য প্রকার দলিলপত্রের উপর তার আত্মপক্ষ সমর্থন বা পাল্টাদাবির অধিকার সমর্থনের জন্য নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে তিনি এরূপ দলিলপত্রের একটি তালিকা লিপিবদ্ধ করে লিখিত জবাবের সঙ্গে যোগ করবেন বা সংলগ্ন করবেন এবং যার হস্তগত করে লিখিত জবাবের সঙ্গে যোগ করবেন বা সংলগ্ন করবেন এবং যার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীনে এই সকল দলিলপত্র আছে, তা বর্ণনা করবেন।

 

৫) যে দলিলপত্রটি বিবাদী কর্তৃক লিখিত জবাব দাখিল করার সময় উপস্থাপন করা কোনো তালিকায় লিপিবদ্ধ করে লিখিত জবাবের সঙ্গে যোগ বা সংলগ্ন করা উচিত ছিলো এবং যা তদানুসারে উপস্থাপন বা তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়নি, তা আদালতের অনুমতি ব্যতীত মোকদ্দমার শুনানির সময় তার পক্ষে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না।

 

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থা ব্যতিরেকে এরূপ মঞ্জুর করবেন না।

 

৬) বাদীর সাক্ষীদের জেরা করার জন্য বা বাদী কর্তৃক উত্থাপিত কোনো বিষয়ের জবাবে বা কোনো সাক্ষীর স্মৃতি শক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে সকল দলিলপত্র তার হাতে প্রদান করা হয়, (৫) উপবিধির কোনো কিছুই সে সকল দলিলপত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না।

 

২ : নতুন তথ্যের অবশ্যই ¯পষ্টভাবে জবাব দিতে হবে [New facts must be specially pleaded] : বিবাদী তার আরজি জবাবে সেই সকল বিষয় উত্থাপন করবে, যা হতে দেখা যাবে যে মোকদ্দমাটি চলার যোগ্য নয় অথবা যে লেনদেনটি আইনের প্রশ্নে বাতিল বা বাতিলযোগ্য এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের এমন সকল অজুহাত, যেগুলি উত্থাপন না করলে সম্ভবত বিরোধী পক্ষকে অতর্কিতে পাকড়াও করতে, অথবা আরজি হতে উত্থিত নয় এমন সকল তথ্য উত্থাপন করবে, যেমন উদাহরণস্বরূপ: প্রতারণা, তামাদি, অব্যাহতি, পরিশোধ, কার্য সম্পাদন বা আইন বিরুদ্ধতা প্রমাণকারী তথ্যসমূহ। [The defendant must raise by his pleading all matters which show the suit not to be maintainable, or that the transaction is either void or voidable in point of law, and all such grounds of defence as, if not raised, would be likely to take the opposite party by surprise, or would raise issues of fact not arising out of the plaint, as, for instance, fraud, limitation, release, payment, performance, or facts showing illegality.]

 

৩ : অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে [Denial to be specific] : বিবাদীকে তার লিখিত জবাবে বাদী কর্তৃক অভিযোগে বর্ণিত কারণসমূহ সাধারণভাবে অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না বরং যে সকল তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগ বিবাদী স্বীকার করে না, সেগুলির প্রত্যেকটি বিবাদীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে আলোকপাত করতে হবে, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয় ছাড়া। [It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plaintiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.]

 

৪ : চাতুরীপূর্ণ অস্বীকার [Evasive denial] : যেক্ষেত্রে বিবাদী আরজিতে উল্লি­খিত কোনো তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন, সেক্ষেত্রে তিনি অবশ্যই চাতুরীপূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার মতো তা করবেন না, বরং বিষয়বস্তুর আসল বিষয়ের উপর উত্তর করবেন। সুতরাং যদি অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে, তিনি একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেছিলেন, তবে সেই টাকা গ্রহণের কথা অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না, বরং তাকে সে পরিমাণ টাকা বা উহার কোনো অংশ বা কিভাবে উহা গ্রহণ করেছেন, তা দেখাবে। ইহার সকলই অস্বীকার করতে হবে এবং যদি বিচিত্র অবস্থার সাথে জড়িত কোনো অভিযোগ করা হয়, তবে অনুরূপ অবস্থার সাথে উহা অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না। [Where a defendant denies an allegation of fact in the plaint, he must not do so evasively, but answer the point of substance. Thus, if it is alleged that he received a certain sum of money, it shall not be sufficient to deny that he received that particular amount, but he must deny that he received that sum or any part thereof, or else set out how much he received. And if an allegation is made with diverse circumstances, it shall not be sufficient to deny it along with those circumstances.]

 

 

৫ : সুনির্দিষ্ট অস্বীকার [Specific denial] : আরজিতে উল্লিখিত তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের প্রত্যেকটি যদি সুনির্দিষ্ট বা প্রয়োজনীয় নিহিতার্থে বা বিবাদীর আরজি জবাবে তা স্বীকৃত হয়নি বলে যদি উল্লে­খ করা না হয়, তবে অক্ষম ব্যক্তি ব্যতীত অপর সকলের বিরুদ্ধে তা স্বীকার হয়েছে বলে গণ্য হবে। [Every allegation of fact in the plaint, if not denied specifically or by necessary implication, or stated to be not admitted in the pleading of the defendant, shall be taken to be admitted except as against a person under disability]

 

 

তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ স্বীকৃত কোনো তথ্য আদালত ইচ্ছা করলে এরূপ স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনোভাবে প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। [Provided that the Court may in its discretion requre any fact so admitted to be proved otherwise than by such admission.]

 

৬ : দাবি—সমন্বয়ের বিস্তৃত বিবরণ লিখিত জবাবে প্রদান করতে হবে  [Particulars of set-off to be given in written statement] : ১) যেক্ষেত্রে কোনো টাকা আদায়ের মোকদ্দমায় বিবাদী বাদীর বিরুদ্ধে দাবি—সমন্বয়ের অনধিক পরিমাণ আদায়যোগ্য কোনো স্থিরকৃত অঙ্কের টাকা তলব করেন, এবং বাদীর মোকদ্দমার ন্যায় তাদের উভয়পক্ষ একই বৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণ করেন, তাহলে মোকদ্দমার ন্যায় তাদের উভয়পক্ষ একই বৈশিষ্ট্য পরিপূর্ণ করেন, তাহলে মোকদ্দমার প্রথম শুনানির সময়ই, কিন্তু পরে নয়, যদি না আদালত কর্তৃক অনুমতি প্রদান করা হয়, বিবাদী দাবি—সমন্বয়ের দাবিতে জিজ্ঞাসিত দেনার বিস্তৃত বিবরণ সম্বলিত লিখিত জবাব দাখিল করতে পারেন।  [Where in a suit for the recovery of money the defendant claims to set-off against the plaintiff, demand any ascertained sum of money legally recoverable by him from the plaintiff, not exceeding the pecuniary limits of the jurisdiction of the Court, and both parties fill the same character as they fill in the plaintiff’s suit, the defendant may, at the first hearing of the suit, but not afterwards unless permitted by the Court, present a written statement containing the particulars of the debt sought to be set-off.]

 

দাবি—সমন্বয়ের ফলাফল :

 

২) দাবি—সমন্বয়ের ফলাফল : পাল্টা মোকদ্দমার আরজির মতোই লিখিত জবাবটি একইরূপ কার্যকারিতা থাকবে যাতে আদালত উভয় মূল দাবি সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে সমর্থ হন, কিন্তু ডিক্রির টাকার উপর কোনো উকিলের ডিক্রির সূত্রে তাকে প্রদেয় খরচের টাকা সম্পর্কে কোনো সম্পত্তি দখলে রাখার অধিকারকে ইহা প্রভাবান্বিত করবে না।  [The written statement shall have the same effect as a plaint in a cross-suit so as to enable the Court to pronounce a final judgment in respect both of the original claim and of the set-off: but this shall not affect the lien, upon the amount decreed, of any pleader in respect of the costs payable to him under the decree.]

 

৩) বিবাদী কর্তৃক লিখিত জবাব সম্পর্কিত বিধিগুলি দাবি—সমন্বয়ের দাবির উত্তর দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।  [The rules relating to a written statement by a defendant apply to a written statement in answer to a claim of set-off.]

 

উদাহরণসমূহ :

ক) ‘ক’, ‘খ’ কে ২০০০ টাকা উইল দ্বারা প্রদান করল এবং ‘গ’ কে তার নির্বাহক এবং অবশিষ্ট সম্পত্তির উত্তর দায় গ্রাহক নিয়োগ করল। ‘খ’ মারা গেল এবং ‘ঘ’, ‘খ’ এর সম্পত্তির পরিচালনা ভার গ্রহণ করল। ‘গ’, ‘ঘ’ এর জামিনদার হিসেবে ১০০০ টাকা পরিশোধ করে, তখন ‘ঘ’, ‘গ’ এর বিরুদ্ধে উইল বলে প্রাপ্ত সম্পত্তির জন্য মোকদ্দমা করে। ‘গ’ তার ১০০০ টাকা দেন উইলমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তির সঙ্গে দাবি—সমন্বয় করতে পারবে না, কারণ ‘গ’, কিংবা ‘খ’, উইলমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তি সম্পর্কে একই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করে না, যেরূপ তারা ১০০০ টাকা দেনা পরিশোধের ব্যাপারে পূর্ণ করে।

 

খ) ‘ক’ কোনো উইল না করে এবং ‘খ’ এর নিকট ঋণী হয়ে মারা যায়। ‘গ’, ‘ক’ এর সম্পত্তির পরিচালনার ভার গ্রহণ করে এবং ‘খ’, ‘গ’ এর নিকট হতে সম্পত্তির অংশ খরিদ করে। ‘গ’ কর্তৃক ‘খ’ এর বিরুদ্ধে খরিদের টাকার মোকদ্দমায় শেষোক্ত ব্যক্তি দেনার টাকামূলের টাকার বিরুদ্ধে দাবি—সমন্বয় করতে পারে না, কারণ ‘গ’ দুইটি ভিন্ন বৈশিষ্ট পূর্ণ করে, একটিতে বিক্রেতা হিসেবে, যে ক্ষমতায় সে ‘খ’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করে এবং অন্য ‘ক’ এর প্রতিনিধি হিসেবে।

 

গ) ‘ক’, ‘খ’ এর বিরুদ্ধে একটি ভুক্তি বিনিময়পত্রের উপর মোকদ্দমা করে। ‘খ’ অভিযোগ করে যে, ‘ক’, অন্যায়ভাবে ‘খ’ এর মালপত্র বীমা করতে অবহেলা করেছে এবং এইজন্য সে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বাধ্য যাতে সে দাবি—সমন্বয়ের দাবি করে। টাকার অঙ্ক অনির্দিষ্ট হওয়ায় এই ক্ষেত্রে দাবি—সমন্বয় করা যাবে না।

 

ঘ) ‘ক’, ‘খ’ এর বিরুদ্ধে একটি হুন্ডি বিনিময়পত্রের উপর ৫০০ টাকার জন্য মোকদ্দমা করে। ‘খ’, ‘ক’ এর বিরুদ্ধে ১০০০ টাকার জন্য একটি রায় পায়। এই দুইটি দাবির উভয়টি নির্দিষ্ট আর্থিক চাহিদা বলে দাবি—সমন্বয় করা যাবে।

 

ঙ) অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণের জন্য ‘ক’, ‘খ’ এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করে। ‘খ’, ‘ক’ এর নিকট হতে ১০০০ টাকার একটি অঙ্গীকারপত্র অধিকারে রাখে এবং সে ক্ষতিপূরণের যে টাকা ‘ক’, এই মোকদ্দমায় আদায় করতে পারে, সেই পরিমাণ টাকার সে দাবি—সমন্বয় করতে চায়। ‘খ’, তা করতে পারে, কারণ ‘ক’ আদায় করার সঙ্গে সঙ্গে উভয় অঙ্কের টাকা নির্দিষ্ট আর্থিক চাহিদা হবে।

 

চ) ‘ক’ এবং ‘খ’, ‘গ’ এর বিরুদ্ধে ১০০০ টাকার জন্য মোকদ্দমা করে। ‘গ’ এই ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ‘ক’ এর বিরুদ্ধে তার পাওনা টাকা দাবি—সমন্বয় করতে পারবে না।

 

ছ) ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ এর বিরুদ্ধে ১০০০ টাকার জন্য মোকদ্দমা করে। ‘খ’ কেবলমাত্র ‘ক’ এর বিরুদ্ধে প্রাপ্য তার টাকার জন্য দাবি—সমন্বয় করতে পারবে না।

 

জ) ‘খ’ এবং ‘গ’ এর অংশীদারী ফার্মের নিকট ‘ক’ এর ১০০০ টাকা দেনা আছে। ‘খ’ মারা যায় এবং ‘গ’ জীবিত থাকে। ‘ক’, ‘গ’ এর নিকট অন্য পর্যায়ে পাওনা ১৫০০ টাকার জন্য মোকদ্দমা করে। ‘গ’ ১০০০ টাকার ঋণ দাবি—সমন্বয় করতে পারবে ।

 

৭ : আলাদা অজুহাতের উপর আত্মপক্ষ সমর্থন বা দাবি—সমন্বয় [Defence or set-off founded on separate grounds] : যেক্ষেত্রে বিবাদী তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য কতিপয় সু¯পষ্ট অজুহাতের উপর অথবা আলাদা এবং সু¯পষ্ট তথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত দাবি—সমন্বয়ের জন্য নির্ভর করে, সেক্ষেত্রে এই সকলগুলি যতদূর সম্ভব আলাদা এবং সু¯পষ্টভাবে বর্ণনা করতে হবে।

 

৮ : আত্মপক্ষ সমর্থনের নতুন অজুহাত [New ground of defence] : মোকদ্দমা দায়ের করার পর বা দাবি—সমন্বয়ের দাবি করে লিখিত জবাব দাখিলের পর আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো অজুহাতের উদ্ভব হলে বাদী কিংবা বিবাদী যেই হোক, তার লিখিত জবাবে তা উত্থাপন করতে পারবে ।

 

৯ : পরবর্তী আরজি জবাব [Subsequent pleadings] : বিবাদীর লিখিত দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি—সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোনো আরজি জবাব আদালতের অনুমতি এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত উপযুক্ত শর্ত ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন। [No pleading subsequent to the written statement of a defendant other than by way of defence to a set-off shall be presented except by the leave of the Court and upon such terms as the Court thinks fit, but the Court may at any time require a written statement or additional written statement from any of the parties and fix a time for presenting the same.]

 

১০ : লিখিত জবাব আদালত কর্তৃক তলব দেওয়া হলে তা হাজির করতে ব্যর্থ হলে পদ্ধতি [Procedure when party fails to present written statement called for by Court] : যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের নিকট হতে লিখিত জবাব এরূপে তলব করার পরে আদালত উক্ত পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারেন অথবা সেই মোকদ্দমা সম্পর্কে অন্য কোনো উপযুক্ত আদেশ দিতে পারেন।

 

অন্য আরো অনেক বিষয়বস্তুর মতোই ‘লিখিত জবাব’ এর কোনো সংজ্ঞা দেওয়ানি কার্যবিধিতে দেওয়া নেই। তবে লিখিত জবাব বা জবাব হলো বিবাদীর প্লি­ডিং, যা কিনা বাদীর আরজির বিপরীতে একজন বিবাদী আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য আদালতকে জানায়। আরজির মতো এটিও লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে হয়। ৮ আদেশের ১ বিধির ১ উপবিধিতে মূলত লিখিত জবাব কতদিনের ভেতর আদালতে দিতে হবে সে বিষয়ে বলা আছে। বিধিটি মতে, বিবাদীর ওপর সমন জারি হবার পর থেকে ৩০ দিনের ভেতর আত্মপক্ষ সমর্থনপূর্বক জবাব দানের বাধ্যবাধকতা আছে; তবে আদালত কর্তৃক তা অন্য দিনেও বা বর্ধিত সময়েও দিতে পারে। কিন্তু, এই বর্ধিত সময় কোনোক্রমেই ৬০ দিনের বেশি হবে না সমন জারির দিন থেকে। আর উক্ত ৬০ কর্মদিবসের ভেতরে জবাব দাখিল করতে না পারলে আদালত মামলাটি একতরফা নিষ্পত্তি করতে পারবে।

 

১ বিধিটির ২ উপধারাতেই সেট অফ নামক শব্দ আছে। জরুরি বিষয়। সেট অফের ভালো বাংলা হলো দাবি সমন্বয়। এর মানে হলোÑ বাদী কর্তৃক দাবিকৃত বিষয়ের বিরুদ্ধে বিবাদীরও কোনো দাবির অস্তিত্ব থাকা। বাদী যদি কোনো টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা করে থাকে এবং সেক্ষেত্রে যদি বিবাদীরও কোনো দাবি থাকে বাদীর কাছ থেকে, তখন বিবাদী বাদীর বিরুদ্ধে সেট অফ বা দাবি সমন্বয়ের আবেদন করতে পারে। ৮ আদেশটির ৬ বিধিতে এর বিস্তারিত সংজ্ঞা ও ফলাফল—পরিণতি সম্পর্কে বলা আছে। অনেকগুলো উদাহরণও দেওয়া আছে। একটি উদাহরণে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে নিতে পারেন। ধরা যাক, আপনি করিমের বিরুদ্ধে ২০,০০০/— টাকা ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমা করলেন। করিম এখানে বিবাদী। করিমও আপনার কাছে ৫,০০০/— পাবে। কিন্তু, আপনি সেটি আরজিতে উল্লে­খ করেননি। উল্লে­খ না করাটাই স্বাভাবিক, এটি দোষেরও কিছু নয় বটে; তবে, পরিষ্কার হাতে আসা সবসময়ই ভালো। কিন্তু করিম ভাববে যে, এই মোকদ্দমায় আদালতের রায় আপনার পক্ষে গেলে তাকে ২০,০০০/— পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু আপনার কাছ থেকে পাওনা ৫,০০০/— টাকার কী হবে? উক্ত ৫,০০০/— টাকার নায্য দাবি যেন করিমও করতে পারে সেজন্যই এই সেট অফ বা দাবি সমন্বয় এর বিধান আছে দেওয়ানি কার্যবিধিতে। ক্লিয়ার?

 

কিন্তু এই দাবিটি সে কীভাবে করবে? বিবাদীকে এই দাবিটি লিখিত জবাব দেওয়ার সময় পরিষ্কার করে উল্লে­খ করতে হবে বা দাবি করতে হবে। আদালত তখন শুনানির মাধ্যমে এটি নিরূপণ করবেন। আবার লিখিত জবাবে এমন সেট অফ বা দাবি সমন্বয়ের দাবি করা হলে উক্ত লিখিত জবাবটিই এক্ষেত্রে আরজির মর্যাদায় গ্রহণযোগ্য হবে, যেটির জন্য কিনা আবার বাদী জবাব দিতে পারবেন, যদি বাদী তা অস্বীকার করে থাকেন। আদালত উভয় পক্ষেরই দাবি বিষয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে পারবেন বিচারকাজের প্রক্রিয়ায়।

 

এই দাবি সমন্বয়ের মাধ্যমে বাড়তি বা অতিরিক্ত মোকদ্দমার উদ্ভব হতে বাঁধা সৃষ্টি করে। দাবি সমন্বয়ের বিধান না থাকলে উদাহরণের উক্ত মি. করিম কিন্তু আপনার বিরুদ্ধেও একটি মোকদ্দমা দায়ের করে ফেলতো।

 

তাহলে, সেট অফ বা দাবি সমন্বয়ের বেসিক ব্যাপারটা আমাদের বোঝা হয়ে গেলো। এটি মূলত ৮ আদেশের ৬ নং বিধির বিষয়বস্তু। কিন্তু আমরা মূলত আলোচনায় ছিলাম ৮ আদেশের ১ বিধির ২ উপবিধি নিয়ে। সেখানে সেট অফ নিয়ে যা বলছে তার মূল কথা হলোÑ কোনো এরূপ দাবি সমন্বয় থাকলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ লিখিত জবাবের সময় আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং সেগুলো লিখিত জবাবের সাথে সংযুক্ত করে নথিভুক্ত করার আবেদন করতে হবে। ১ বিধিটির অবশিষ্ট অন্যান্য উপবিধিতে দলিল উপস্থাপন সংক্রান্ত যা আছে, তা কিন্তু আরজির ক্ষেত্রে বাদীর দলিল দাখিল বা উপস্থাপনেরই অনুরূপ Ñ আগেই বলেছিলাম। গুরুত্ব দিয়ে পড়তে আবারো বলে রাখলাম।

 

একটি মোকদ্দমার আরজি ও জবাবের নমুনা

এবার নিচে একটি আরজি এবং জবাব দেখুন একই মোকদ্দমার। জাস্ট একটি অভিজ্ঞতা অর্জন। আরজি ও জবাবের উপাদানগুলো চিনে নিন সাথে সাথে। এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য এটিকে বইয়ে হুবহু আরজির মেকআপে দেয়া হলো না, কেননা তা জরুরি নয়। তবে, এই বইয়ে অন্যত্র থাকা ড্রাফটিং নিয়ে প্রবন্ধে আরজির প্রকৃতই একটি ছবি দেওয়া হয়েছে। সেটি দেখে নেবেন।

 

জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ তানোর থানা পারিবারিক জজ আদালত

মোকদ্দমা নং : ৬৪ / ২০১৫

বাদী

বাদী

নাবালিকা মোসা: তাসলিমা খাতুন

…. [বিস্তারিত ঠিকানা]

পক্ষে মাতা ও বর্তমান অভিভাবকÑ

মোসা: হোসনেয়ারা বিবি

…. [বিস্তারিত ঠিকানা]

 

বিবাদী

মো: তোফাজ্জুল হক কারিকর

…. [বিস্তারিত ঠিকানা]

 

নাবালিকার খোরপোষ বাবদ তায়দাদ = ২৪,০০০/— টাকা।

বাদী পক্ষে নিবেদন এই যে, এই মামলার বাদী নাবালিকা মোসা: তাসলিমা খাতুন, জন্ম তারিখ : ০৮/১০/২০১৩ ইং বিবাদীর ঔরষজাত কন্যা। বিবাদীর সঙ্গে বাদী  নাবালিকার মাতা মোসা: হাসনেয়ারা খাতুন এর সঙ্গে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক গত ৩০/০৬/২০১২ ইং তারিখে বিবাহ হয়। উক্তরূপে বিবাহ অন্তে তাহাদের দাম্পত্য সম্পর্ক থাকাকালে বিবাদীর ঔরষে গত ০৮/১০/২০১৩ ইং তারিখে অত্র মামলার বাদী নাবালিকার জন্ম হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে ইতিপূর্বেই বাদীর পিতামাতার মধ্যে সাংসারিক ও ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে গত ১৯/১০/২০১৪ ইং তারিখে আপোষে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদকালীন সময়ে স্থানীয় সামাজিক প্রধানদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, নাবালিকা বাদী বাস্তব এবং আইনসঙ্গত কারণে বাদীর মাতার তত্ত্ববধানে থাকিবে এবং বিবাদী   যথারীতি প্রতি মাসে বাদীর খোরপোষ বাবদ ৫ বছর বয়স অবধি ২,০০০/— টাকা, ৬ থেকে ১০ বছর অবধি ২,৫০০/— টাকা হারে এবং ১০ বছর অন্তে তার বিবাহ না হওয়া কালতক মাসিক ৩,০০০/— টাকা বাই পোস্ট বা নগদে বাদীর মায়ের নিকট খোরপোষ বাবদ প্রদান করিয়া তাহার প্রাপ্তি স্বীকার লইবে। কিন্তু,   দুঃখজনক বিষয় হইতেছে যে, বিবাদী সামাজিক প্রধানদের সিদ্ধান্ত এবং তাহার দায়িত্ব অস্বীকার করিয়ে অদ্যবধি কোনো মাসের কোনো খোরপোষ বাদীকে প্রদান করেনি। বাদীর মাতা একজন দরিদ্র পরিবারের মহিলা, তাহার পক্ষে বাদী  নাবালিকা কন্যার ভরণপোষণ চালানো বা প্রতিপালন করা অসম্ভব হইয়া পড়িয়াছে এবং অনেক ধার কর্জ হইয়া যাইতেছে। উক্তরূপ কারণে বাদীর মাতা বাধ্য হইয়া তাহার নাবালিকা কন্যা সন্তানের পক্ষে নাবালিকার মাসিক খোরপোষ বিবাদীর নিকট হইতে আদায় করিবার নিমিত্তে বাদীর মাতা অত্র মামলা করিলেন। তিনি উক্তরূপে মামলা পরিচালনা করিবার অধিকারীও বটে। বিবাদী একজন শক্ত সামর্থ্য গৃহস্থ মানুষ। তাহার জায়গা—জমি রহিয়াছে। অত্র বাদী নাবালিকা তাহার ঔরষজাত কন্যাসন্তান হেতু তাহার প্রতিপালনের জন্য নিয়মিতভাবে খোরপোষ প্রদানে আইনত বাধ্য।

২. বাদী নাবালিকা প্রতিপালনের জন্য গত নভেম্বর, ২০১৪ ইং থেকে বর্তমান নভেম্বর ২০১৫ ইং অবধি নাবালিকার খোরপোষ বাবদে ২,০০০ * ১২ = ২৪,০০০/— টাকা বকেয়া রহিয়াছে এবং উক্তরূপ হারে প্রতিমাসে ১ নং প্যারা বর্ণিত প্রকারে বর্তমানে ২,০০০/— টাকা খোরপোষ হিসেবে প্রদান করা প্রয়োজন। তাহার নাবালিকার বয়স ৫ বছর   অতিক্রান্ত হবার পরে খোরপোষ হিসেবে ২,৫০০/— টাকা এবং ১০ বছর অন্তে ৩,০০০/— টাকা খোরপোষ প্রদানে বিবাদীর প্রতি যথারীতি আদেশ ও ডিক্রি দাবিতে বাদী অত্র মামলা করিলেন।

৩. অত্র বাদীর পক্ষে তাহার মাতা নিজে এবং সাক্ষীগণের মাধ্যমে গত ০১/১১/২০১৫ ইং তারিখে বিবাদীর নিকট সাক্ষীগণের মাধ্যমে তাহার নাবালিকা কন্যার খোরপোষ বাবদ বকেয়া ২৪,০০০/— টাকা এবং নিয়মিত খোরপোষ প্রদানের দাবি করিলে বিবাদী বাদীর উক্তরূপ খোরপোষ প্রদানে অস্বীকার করিয়াছে। সাক্ষীগণ তাহা জানে। 

৪. অত্র মামলার কারণ অত্র আদালতের এলাকাধীন গত ১৯/১০/২০১৪ ইং তারিখে বাদীর মাতার সহিত বিবাদীর বিবাহ বিচ্ছেদ অন্তে নাবালিকা বাদী বাদীর মাতার নিকট থাকার সময় হইতে বিবাদী বাদী নাবালিকার কোনো খোরপোষ প্রদান করার সময় হইতে এবং গত ০১/১১/২০১৫ ইং তারিখে বাদীনির খোরপোষ প্রদানের দাবি অস্বীকার করার তারিখে উদ্ভব হইয়া অদ্যতক বিদ্যমান আছে।

৫. অত্র আদালতের এলাকা ও কোর্ট ফি নির্ধারণার্থে নাবালিকা বাদীনির বকেয়া খোরপোষের ২৪,০০০/— টাকা অত্র মামলার তায়দাদ অবধারণে খোরপোষের ডিক্রি             প্রার্থনায় আনীত অত্র মামলা পারিবারিক আদালত ও অধ্যাদেশ আইনের নির্ধারিত ২৫/— টাকা কোর্ট ফি প্রদানে অত্র মামলা রুজু করা হইলো।

৬. এক্ষণে বাদীর প্রার্থনা এই যে,

ক. আরজি বর্ণিত কারণ ও অবস্থাধীনে নাবালিকা বাদীর ২,০০০/— টাকা হারে মাসিক খোরপোষ বাবদ গত ২০১৪ সালের নভেম্বর হতে বর্তমান ২০১৫ সালের নভেম্বর অবধি ১২ মাসের ১২*২৫০০ = ২৪,০০০/— বকেয়া খোরপোষ বাদীকে প্রদানে বাদীর স্বপক্ষে বিবাদীর বিপক্ষে ডিক্রি দিতে;

খ. আরজি বর্ণিতরূপে বাদী নাবালিকার খোরপোষ বাবদে পরবর্তী প্রতিমাসের জন্য নাবালিকার বয়স ৫ বছর অবধি ২,০০০/— টাকা হারে, ৬ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ২,৫০০/— টাকা হারে এবং ১০ বছর পরে বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত ৩,০০০/— টাকা হারে বাদীর খোরপোষ প্রদানে বাদীর স্বপক্ষে বিবাদীর বিপক্ষে ডিক্রি দিতে।

গ. আইন ও ইক্যুইটি মূলে বাদী আর যে যে প্রতিকার পেতে হকদার তাহার যথাবিহিত আদেশ ও ডিক্রি দিতে মর্জি হোন।

সাক্ষীর তফসিল

নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিগণ বাদীর মামলার বিষয়বস্তু জানেন, তাহারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে রাজী আছেন।

১. মো: আব্দুল রহিম [সাথে বিস্তারিত ঠিকানা]

২. মিঠু সরকার [সাথে বিস্তারিত ঠিকানা]

 

সত্যপাঠ

উপরোক্ত যাবতীয় বিবরণ আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও অবগতি মতে সত্য ও সঠিক জানিয়া অত্র সত্যপাঠে আমি আমার নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।

 

উপরোক্ত আরজির জবাব

জেলা রাজশাহীর বিজ্ঞ তানোর থানা পারিবারিক জজ আদালত

মোকদ্দমা নং : ৬৪/২০১৫

বাদী

নাবালিকা মোসা: তাসলিমা খাতুন

…. [বিস্তারিত ঠিকানা]

পক্ষে মাতা ও বর্তমান অভিভাবকÑ

মোসা: হোসনেয়ারা বিবি

…. [বিস্তারিত ঠিকানা]

 

বিবাদী

মো: তোফাজ্জুল হক কারিকর

…. [বিস্তারিত ঠিকানা]

 

জবাব দাখিল পক্ষেÑ বিবাদী বাদীগণের অত্র মোকদ্দমা দায়ের করিবার কোনো কারণ বা হেতু নাই।

 

বাদীগণের অত্র মোকদ্দমা কারণ অভাবে অচল বটে।

 

বাদীগণের অত্র মোকদ্দমা মিথ্যা ভিত্তিহীন, যোগসাজশী এবং অত্র বিবাদীকে হয়রানি করিবার কু—অভিপ্রায়ে অত্র মোকদ্দমা আনয়ন করা হইয়াছে।

 

বাদীগণের অত্র মোকদ্দমায় আরজির ১ নং ধারার বর্ণনামতে- বাদীপক্ষের নিবেদন এই যে, এই মামলায় বাদী নাবালিকা মোসা: তাসলিমা খাতুন, জন্মতারিখ : ৮/১০/১৩ ইং বিবাদীর ঔরষজাত কন্যা বা বিবাদীর সঙ্গে বাদী নাবালিকার মাতা মোসা: হাসনেয়ারা খাতুন এর সঙ্গে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক গত ৩০/০৬/১২ ইং তারিখে বিবাহ হওয়া বা উক্তরূপে বিবাহ অন্তে তাহাদের দাম্পত্য সম্পর্ক থাকাকালে বিবাদীর ঔরসে গত ৮/১০/১৩ ইং তারিখ অত্র মামলার বাদী নাবালিকার জন্ম হয় এবং দূর্ভাগ্যজনকভাবে ইতিপূর্বেই বাদীর পিতামাতার মধ্যে সাংসারিক ও ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে গত ১৯/১০/১৪ ইং তারিখে আপোষে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। উক্ত বিবাহ বিচ্ছেদকালীন সময়ে স্থানীয় সামাজিক প্রধানদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় যে, নাবালিকা বাদী বাস্তব এবং আইনসম্মত কারণে বাদীর মাতার তত্ত্বাবধানে থাকিবে, কথাগুলি সত্য বটে। বিবাদী যথারীতি বাদীর খোরপোষ বাবদ ৫ বছর বয়স অবধি ২,০০০/— টাকা, ৬ বছর থেকে ১০ বছর অবধি ২,৫০০/— টাকা হারে এবং ১০ বছর অন্তে তার বিবাহ না হওয়া কালতক মাসিক ৩,০০০/— বাই পোস্ট বা নগদে বাদীর মায়ের নিকট খোরপোষ বাবদ প্রদান করিয়া তাহার প্রাপ্তিস্বীকার লওয়া বা দুঃখজনক বিষয় হইতেছে যে, বিবাদী সামাজিক প্রধানদের সিদ্ধান্ত এবং তাহার দায়িত্ব অস্বীকার করিয়া অদ্যবধি কোনো মাসের কোনো খোরপোষ বাদীকে প্রদান না করা বা বাদীর মাতা একজন দরিদ্র পারিবারের মহিলা, তাহার পক্ষে বাদী নাবালিকা কন্যার ভরণপোষণ চালানো বা প্রতিপালন করা অসম্ভব হওয়া বা অনেক ধারকর্জ হওয়া বা উক্তরূপ কারণে বাদীর মাতা বাধ্য হইয়া তাহার নাবালিকা কন্যা সন্তানের পক্ষে নাবালিকার মাসিক খোরপোষ বিবাদীর নিকট হইতে আদায় করিবার নিমিত্তে বাদীর মাতা অত্র মামলা করা বা তিনি উক্তরূপে মামলা পরিচালনা করিবার অধিকারী হওয়া বা বিবাদী একজন শক্ত—সামর্থ্য গৃহস্থ মানুষ হওয়া বা তাহার জায়গা জমি থাকা বা অত্র বাদী নাবালিকা তাহার ঔরষজাত কন্যা সন্তানহেতু তাহার প্রতিপালনের জন্য নিয়মিতভাবে খোরপোষ প্রদানে আইনত বাধ্য ইত্যাদি যাবতীয় উক্তি মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং মোকদ্দমার কারণে সৃজিত বটে।

 

প্রকৃত বিবরণ এই যে, অত্র বিবাদী একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে এবং নির্দিষ্ট কোনো আয়রোজগার না থাকার কারণে বাদীনির মাতা হোসনেয়ারা খাতুন এর সাথে গত ১৯/১০২০১৪ ইং তারিখে উভয়ের মধ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য এবং নিজ নিজ হিতৈষী ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় উভয়ের মধ্যে খোলাতালাক হয় এবং বাদীনির মাতা তার মোহরানা ও ইদ্দতকালীন খোরপোষ প্রদান করে এবং উক্ত খোলাতালাকের সময় বিবাদীর দৈনতার বিষয় বিবেচনা করিয়া বাৎসরিক ৩,০০০/— টাকা করে বাদীনির খোরপোষ ধার্য্য করে উভয়ের সম্মতিতে খোলা তালাক হয়। উক্ত তালাকের পর হইতে বিবাদী মাঝে মধ্যে বাদীনির পোশাক আশাক সাধ্যমতো প্রদান করিতেছে এবং উক্ত সময়ই বাদীনির পরবর্তী ১ বছরের খোরপোষ ৩,০০০/— টাকা প্রদান করা হয়। বর্তমানে বিবাদীকে বাদীনির সহিত দেখাসাক্ষাৎ করিতে দিচ্ছে না। বিবাদীর কোনো আয় রোজগার নাই। কোনো জায়গাজমি নাই এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং খোলা তালাকের সময় প্রতিবছর ৩,০০০/— টাকা করে ধার্য্যকৃত খোরপোষ নির্ধারণে বিবাদীর আপত্তি নাই। উক্ত বিষয়গুলি বিবেচনায় লইয়া অত্র মামলাটি ডিসমিস হইবে।

 

বাদীনির আরজির স্পষ্টত যা স্বীকার করা হইলো না, তাহা অস্বীকার বলে গণ্য হইবে।

 

বাদীনির মোকদ্দমা খরচাসহ ডিসমিস হইবে।

 

সাক্ষীর নাম ঠিকানা

১. মো: আব্দুল লতিফ [সাথে বিস্তারিত ঠিকানা]

২. মো: এমদাদুল হক [সাথে বিস্তারিত ঠিকানা]

৩. কাজী মো: সালাউদ্দিন, [সাথে বিস্তারিত ঠিকানা]

 

সত্যপাঠ

অত্র জবাবের লিখিত যাবতীয় বিবরণ আমার জ্ঞান, বিশ্বাস ও অবগতি মতে সত্য ও সঠিক জানিয়া অত্র সত্যপাঠে আমি আমার নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।

 

প্রথম ভাগের অবশিষ্ট বিষয়সমূহ : ধারা ৩৩—৩৫খ

আরো কিছু আলোচনা অবশিষ্ট থেকে গেলো। দেওয়ানি কার্যবিধির প্রথম ভাগের বিস্তৃতি ৩৫খ ধারা পর্যন্ত। ধারাগুলো এখানে অন্তত দেখে রাখলে সুবিধা এই যে, দেওয়ানি কার্যবিধির প্রথম ভাগটির ধারাসমূহের পাঠটি সমাপ্ত হয়। যদিও এতোক্ষণ যা যা আমরা পড়ে আসলাম, তার সাথে এই ধারাগুলোকে খানিকটা বিচ্ছিন্ন মনে হবে। কিন্তু, সংজ্ঞামূলক আকারে এই বিষয়গুলো কার্যবিধির প্রথম ভাগের অন্তর্গত অংশ বিবেচনায় নিয়ে শেষ করে ফেলি। ৩৩ ধারা সংক্রান্তে ২০ নং আদেশটি আমাদেরকে পরে দেখতে হবে। আমরা এগোই।

 

রায় ও ডিক্রি : ধারা ৩৩

রায় এর সংজ্ঞা কি? ২ ধারার ৯ উপধারায় আমরা পড়ে এসেছিলাম- ‘রায়’ বলতে ডিক্রি বা আদেশের ভিত্তি হিসেবে বিচারক যে বিবৃতি দেন, তা বোঝায়’। এই লাইনের বাইরে প্রকৃতপক্ষে রায় নিয়ে কোনো বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেওয়ানি কার্যবিধিতে নেই।

 

তার মানে, কোনো বিরোধীয় বিষয় নিয়ে আদালত যে যে ডিক্রি বা আদেশ দেন সেসবের ভিত্তিসমূহ বর্ণনা করে যে বিবৃতি দেন তাই—ই রায়। এটিই পক্ষগণের চূড়ান্ত অধিকারের সারসংক্ষেপ। এটিই একটি দেওয়ানি মোকদ্দমার শেষ স্তর। যদিও ৩৩ ধারামতে শেষ কয়েকটি শব্দ এ রকম যে, ‘রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রণীত হবে’ এবং এ বিষয়ে ২০ আদেশের ৫ক বিধিটি পড়লে আরো পরিষ্কার হয়। সেখানে ‘ডিক্রি প্রণয়নের সময়’ শিরোনামে বলা হয়েছেÑ ‘রায় ঘোষণার তারিখ হতে সাত দিনের মধ্যে ডিক্রি প্রণয়ন করতে হবে।’ ২০ আদেশটি আমরা ২১ আদেশের সংশ্লিষ্ট লেকচারে বুঝে নেবো। আপাতত রায় বিষয়ে ৩৩ ধারাটি দেখে নিই একবার।

 

রায় ও ডিক্রি

 

ধারা ৩৩ : রায় এবং ডিক্রি : মোকদ্দমার শুনানি হওয়ার পর আদালত রায় ঘোষণা করবে এবং এরূপ রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রণীত হবে [The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment, and on such judgment a decree shall follow]|

 

ডিক্রি সম্পর্কে ধারণা নিতে আবারো সংজ্ঞা সংক্রান্ত ধারা ২ দেখতে হবে আমাদেরকে। সেখানে ২ উপধারায় ডিক্রির সংজ্ঞা দেওয়া ছিলো। সেটি নিম্নরূপ-

‘ডিক্রি’ বলতে কোনো আদালত কর্তৃক রীতিসিদ্ধভাবে প্রকাশিত এমন বক্তব্য বোঝায়, যা মোকদ্দমার বিতর্কিত সমগ্র বা যেকোনো বিষয় সম্পর্কে পক্ষগণের অধিকার চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে এবং এই ডিক্রি প্রাথমিক বা চূড়ান্তও হতে পারে। আরজি প্রত্যাখ্যান [rejection of a plaint] এবং ১৪৪ ধারায় বর্ণিত কোনো প্রশ্ন নির্ধারণও ইহার অন্তর্ভুক্ত হবে, তবে নিম্নলিখিত বিষয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হবে না [‘decree’ means the formal expression of an adjudication which, so far as regards the Court expressing it, conclusively determines the rights of the parties with regard to all or any of the matters in controversy in the suit and may be either preliminary or final. It shall be deemed to include the rejection of a plaint and the determination of any question within section 144, but shall not include-]Ñ

 

 

ক) যে বিচারকৃত রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের মতো আপিল করা যায় [any adjudication from which an appeal lies as an appeal from an order]; অথবা

 

খ) কোনো ত্রুটির জন্য খারিজের আদেশ any order of dismissal for default]|

 

ব্যাখ্যা : ডিক্রি তখনই প্রাথমিক হয়, যখন মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য আরও ব্যবস্থা গ্রহণের দরকার থাকে, মোকদ্দমা যখন চূড়ান্তরূপে নিষ্পত্তি হয়, তখনই ডিক্রি চূড়ান্ত হয়ে থাকে। কোনো ডিক্রি আংশিকভাবে প্রাথমিক এবং আংশিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে [A decree is preliminary when further proceedings have to be taken before the suit can be completely disposed of. It is final when such adjudication completely disposes of the suit. It may be partly preliminary and partly final]|Õ

 

উপরোক্ত মাত্র কয়েকটি লাইনে প্রকৃতপক্ষে অনেক ব্যাখ্যামূলক কথাকে সংক্ষেপে লেখা আছে। অনেকগুলো বিষয় না বুঝে এসে এই সংজ্ঞাটি পুরো উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এগুলোর সাথে সম্পর্কিত ধারণাগুলো বারবার করে পড়ার অনুরোধ থাকবে।

 

আমরা ‘আদেশ’ এর সংজ্ঞাটিও দেখে আসবো। ২ ধারার ১৪ উপধারা।

‘আদেশ’ বলতে কোনো দেওয়ানি আদালতের এমন কোনো সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ বোঝায়, যা ডিক্রি নয়’ [‘order’ means the formal expression of any decision of a Civil Court which is not a decree]|

 

দেওয়ানি মোকদ্দমায় আদেশ এবং ডিক্রির মাধ্যমে একটি বিরোধীয় বিষয়বস্তু নিয়ে সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে। আদেশ বিষয়ে কার্যবিধিতে শুধু এটিই বলা আছে যে- এটি আদালতের এমন একটি সিদ্ধান্ত যা কিনা ডিক্রি নয়। একটি আদেশ মোকদ্দমার আরজির ওপর অথবা কোনো দরখাস্তের ওপর দেওয়া হয় মোকদ্দমা চলাকালীন সময়ে, যেন মোকদ্দমার কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যেমন, কোনো পক্ষের অনুরোধে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করা বা না করার সিদ্ধান্ত একটি আদেশ। আবার, মোকদ্দমার কোনো একটি পক্ষের, বিশেষত বাদীর, দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। এটি একটি আদেশ। এটি মোকদ্দমার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। অন্যদিকে, আদালত যখন কোনো মোকদ্দমার সমগ্র বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় যে আদেশের মাধ্যমে তা ডিক্রি বলে পরিগণিত হয়। মানে, আদালত যখন কোনো মোকদ্দমার সমগ্র বিরোধীয় বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়, সেটি আংশিক হলে আংশিক বা প্রাথমিক ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত হলে তা চূড়ান্ত ডিক্রি বলে পরিগণিত হয়। আংশিক হলে বা প্রাথমিক ডিক্রি হলে সেগুলো মোকদ্দমা চলাকালীন হয়। আর মোকদ্দমার সব শুনানি শেষে রায়ের পরে বা সাথে চূড়ান্ত ডিক্রি দেওয়া হয়।

 

ফলে, আদেশ শব্দটির দুইটি অর্থ আছে। বাক্যে বা বিধানে ব্যবহারের ধরণের ওপর নির্ভর করে বুঝতে হয় যে, কোন আদেশটি সাধারণ একটি আদেশ, আর কোন আদেশটি ডিক্রি।

 

এই ডিক্রি কয়েক রকমের হতে পারে।

১. প্রাথমিক ডিক্রি

২. আংশিক ডিক্রি

৩. আংশিক চূড়ান্ত ডিক্রি

৪. চূড়ান্ত ডিক্রি

৫. আরজি বাতিল বা খারিজের আদেশের ফলে সৃষ্ট ডিক্রি

৬. ১৪৪ ধারার অধীনে কোনো প্রশ্নের সুরাহা সংক্রান্ত ডিক্রি

 

রায় ও ডিক্রি সংক্রান্ত পদ্ধতিগত বিধান বিস্তারিত বলা আছে ২০ নং আদেশে। সেই আদেশটি আমরা এখানে দেখবো না। পড়া এগোতে এগোতে পরের কোনো একটি লেকচারে ২০ নং আদেশের আলোচনা প্রাসঙ্গিকভাবে আসবে। ডোন্ট  ওরি। আপাতত, ৩৩ ধারায় থাকা সংজ্ঞাটি ভালোভাবে পড়ে রাখুন তো আগে!

 

সুদ সম্পর্কিত : ধারা ৩৪

এর পরবর্তী ধারা ৩৪ এ ‘সুদ’ এবং ৩৫, ৩৫ক এবং ৩৫খ তে ‘খরচ’ নিয়ে আলোচনা আছে। এই ৪টি ধারা পড়ে নিলে ডিক্রির সম্পুরক বিষয়গুলো আরো কিছু ধারণা পোক্ত হবে।

খরচ [costs] বা সুদ [interest]Ñ  এই শব্দগুলো দেওয়ানি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারায় পেতে থাকবো। দেওয়ানি মোকদ্দমায় এগুলো অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

প্রথমেই সুুদ। এর ইংরেজি শব্দ Interest দ্বারা দুইটি অর্থ প্রকাশ পায়। একটি হলো সুদ। অন্যটি স্বার্থ, অর্থাৎ মোকদ্দমায় কোনো পক্ষের স্বার্থ। ৩৪ ধারার পাঠে উল্লি­খিত সুদ সেন্সে শব্দটিই আমাদের আলোচ্য। যখন কোনো অর্থ যার অধিকারে থাকার কথা [যা কিনা মোকদ্দমার মাধ্যমেই প্রমাণ হলো], তিনি অর্থ অন্যের কাছে থাকার কারণে উক্ত টাকার লাভ অথবা সুদ ভোগ করতে পারেন নি, অর্থাৎ তা বিবাদী বা অপরপক্ষ ব্যবহার করেছে, ফলত সেটির লাভ বা সুদ ভোগ করেছে উক্ত বিবাদীপক্ষইÑ এরূপ অবস্থায় বিবাদীর বিরুদ্ধে উক্ত টাকার আসল ও তার সুদ উভয়ই দিতে হবে। এটি আদালত তার বিবেচনাধীন ক্ষমতায় দিতে পারেন যদি ন্যায়বিচারের প্রয়োজন বোধ করেন। উচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত পড়ে রাখুন।

`The right of interest arises only after the claim for any principal sum is found valid and then also award of interest is within the discretion of the Court’- [BWDB v s Contractor. 53 DLR 200].

 

সুদ মোকদ্দমার পূর্ব থেকেও হিসেব করা হতে পারে, আবার মোকদ্দমা দায়েরের তারিখ থেকে মোকদ্দমার ডিক্রি পর্যন্ত হিসেব করা যেতে পারে আবার ডিক্রির তারিখ থেকে এটি পরিশোধের তারিখ হিসেবেও নির্ধারিত হতে পারে। সুদ কত হবে, কিভাবে নির্ধারিত হবেÑ খরচের মতো এটিও আদালত তার স্বেচ্ছাধীন বিবেচনায় মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও ঘটনাবলীর ওপর নির্ধারণ করে থাকেন। মূল ধারাটির পাঠ সেরে নিন নিচে।

 

সুদ [Interest]

 

ধারা ৩৪ : সুদ [Interest: ১) কোনো বিষয়ে এবং টাকা পরিশোধ সম্পর্কিত ডিক্রি হলে স্থিরকৃত মূল অঙ্কের উপর মোকদ্দমা দায়েরের তারিখ হতে ডিক্রির তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য আদালতের বিবেচনায় সঙ্গত হারে সুদ প্রদানের জন্য ডিক্রিতে নির্দেশ দিতে পারেন, ইহা ছাড়াও মোকদ্দমা দায়েরের পূর্ববর্তী কোনো সময়ের জন্য এবং ডিক্রির তারিখ হতে টাকা পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত যা আদালত সঠিক মনে করেন, আদালত উহার বিবেচনায় সঙ্গত হারে অতিরিক্ত সুদ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন [Where and in so far as a decree is for the payment of money, the Court may, in the decree, order interest at such rate as the Court deems reasonable to be paid on the principal sum adjudged, from the date of the suit to the date of the decree, in addition to any interest adjudged on such principal sum for any period prior to the institution of the suit, with further interest at such rate as the Court deems reasonable on the aggregate sum so adjudged, from the date of the decree to the date of payment, or to such earlier date as the Court thinks fit.]|

 

২) কোনো ডিক্রিতে মোকদ্দমা দায়েরের পূর্ববর্তী কোনো তারিখ বা ডিক্রির তারিখ হতে টাকা পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত সময়ের জন্য সুদ প্রদান সম্পর্কে কোনো নির্দেশ না থাকলে আদালত ঐরূপ সুদ দিতে অস্বীকার করেছেন বলে ধরতে হবে; এইজন্য কোনো পৃথক মোকদ্দমা দায়ের করা চলবে না। [Where such a decree is silent with respect to the payment of further interest on such aggregate sum as aforesaid from the date of the decree to the date of payment or other earlier date, the Court shall be deemed to have refused such interest, and a separate suit therefor shall not lie.]

 

 

খরচ সম্পর্কিত : ধারা ৩৫—৩৫খ

এবার ‘খরচ’ সংক্রান্ত ইস্যু বুঝে নেবো। খরচ বলতে বোঝানো হয় যে, কোনো পক্ষের জন্য মোকদ্দমার খরচ পাবার অধিকার। এই খরচের দ্বারা মোকদ্দমার কোনো পক্ষের জয়—পরাজয়ের ব্যাপার নেই। সাধারণভাবে মোকদ্দমার যে পক্ষ সফল হয় বা জিতে যায় বা যার পক্ষে ডিক্রি জারি হয় তিনিই খরচ পাবার অধিকারী। এই খরচটি আদালতের মাধ্যমে পরাজিত পক্ষের কাছ থেকে সংগ্রহ করে জয়ী পক্ষকে দেওয়া হয়। এটি পরাজিত পক্ষের জন্য কোনো শাস্তিস্বরূপ নয় কিন্তু। ডিক্রি ঘোষণা বা প্রণীত হবার সময়ে এই খরচের ঘোষণা থাকে। এটিও ডিক্রিরই একটি অংশ।

 

খরচ কেউ পাবে নাকি পাবে না, এবং তা কত পাবে এসব আদালতের স্বেচ্ছাধীন বিষয়। কোনো কোনো ইস্যুতে খরচ আইনে নির্দিষ্ট করা থাকলে বা সর্বোচ্চ সীমা উল্লেখ থাকলে সেভাবে বা সেটিই প্রযোজ্য হবে, নচেৎ, আদালতই এটি নির্ধারণ করে থাকেন। এটি নির্ধারিত হয়ে থাকে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু ও ঘটনাবলীর ওপর। এটি মূলত মোকদ্দমার জন্য জয়ী পক্ষের যে অর্থ খরচ হয়, তার জন্য একধরনের ক্ষতিপূরণমূলক আকারে দেওয়া হয়ে থাকে। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার হওয়া যেতে পারে। যেমন ধরুন, কোনো নির্দিষ্ট অংকের টাকা পাওনা রয়েছে কোনো বিবাদীর কাছে। তিনি মোকদ্দমার মুখোমুখি না হয়েই সেটি বাদীকে দিতে পারতেন। যখন মোকদ্দমা হলো এবং বাদীর পাওনা বিষয়ে আদালতে যদি তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় তবে এই পাওনা টাকা আদায় করতে গিয়ে মোকদ্দমা দায়ের ও পরিচালনা করার কারণে যে খরচ হয় বাদী পক্ষের, সেই খরচ পরাজিত পক্ষকে দিতে হবে উক্ত পাওনা টাকার বাইরে। তবে এটি কোনো অধিকার হিসেবে দাবিযোগ্য নয়; বরং আদালতের স্বেচ্ছামূলক বিবেচনাধীন বিষয়। একটি নজির দেখে রাখতে পারেন।

`A plaintiff does not have any statutory right for automatically getting costs of the suit or appeal.’ [Janata Bank vs Wahid. 1995 BLD (AD) 51]

 

খরচ সম্পর্কিত ধারা তিনটি। ৩৫, ৩৫ক এবং ৩৫খ। এর ভেতরে ৩৫ক ও ৩৫খ ধারা দুইটি ২০০৩ সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়। শেষের ধারা দুইটিতে ২০ হাজার, ২ হাজার, ৩ হাজার ইত্যাদি অংকের টাকার কথা আছে প্রসঙ্গক্রমে। এগুলো পরীক্ষার জন্য মুখস্থ করে রাখতে হবে। মনোযোগ দিয়ে পড়ে রাখুন ধারাসমূহ। ধারা তিনটি মনে রাখার ক্ষেত্রে এই ধরণে মনে রাখুন যে, দেওয়ানি কার্যবিধিতে মূলত ৩ প্রকারে বা কারণে খরচ প্রদান করা হয়ে থাকে, যথা –

১. সাধারণ খরচ [General cost]

২. ক্ষতিপূরণমূলক খরচ [Compensatory cost]

৩. বিলম্বের জন্য খরচ [Cost for delay]

উপরের তিনটি বিষয় যথাক্রমে ৩৫, ৩৫ক এবং ৩৫খ ধারাসমূহে বর্ণিত আছে। ব্যস!

 

খরচ [Costs]

ধারা ৩৫ : খরচ [Costs: ১) যে সকল শর্তাদি ও সীমানা নির্ধারণ করা হয় তা এবং বর্তমানে বলবৎ কোনো আইনের বিধান সাপেক্ষে মোকদ্দমার খরচ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি আদালতের সুবিবেচনার উপর নির্ভর করবে এবং কাকে বা কোনো সম্পত্তি হতে কি পরিমাণ খরচ প্রদান করতে হবে, তা নির্ধারণ করার এবং উপরে বর্ণিত মতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করার পূর্ণ ক্ষমতা আদালতের থাকবে। কোনো আদালতের সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমা বিচার করার এখতিয়ার নিন বলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো বাধা থাকবে না। [Subject to such conditions and limitations as may be prescribed, and to the provisions of any law for the time being in force, the costs of and incident to all suits shall be in the discretion of the Court, and the Court shall have full power to determine by whom or out of what property and to what extent such costs are to be paid, and to give all necessary directions for the purposes aforesaid. The fact that the Court has no jurisdiction to try the suit shall be no bar to the exercise of such powers.]

 

২) যখন কোনো আদালত নির্দেশ দেন যে, কোনো মোকদ্দমার খরচ পরিণামকে অনুসরণ করবেন না, তখন আদালত উহার কারণ লিপিবদ্ধ করবেন। [Where the Court directs that any costs shall not follow the event, the Court shall state its reasons in writing.]

 

৩) আদালত মোকদ্দমার খরচের উপর অনধিক শতকরা বার্ষিক ছয় টাকা হারে সুদ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন এবং ইহা খরচের ন্যায় আদায়যোগ্য হবে।

 

ধারা ৩৫ক : মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি বা জবাব সম্পর্কে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ  [Compensatory costs in respect of false or vexatious claims or defences] : ১) যদি কোনো মোকদ্দমায় বা জারির কার্যক্রমসহ অন্য কার্যক্রমে, কিন্তু আপিল নহে, কোনো পক্ষ দাবিতে বা জবাবে এই কারণে আপত্তি দেন যে, দাবি বা জবাব, বা এর কোনো অংশ মিথ্য বা বিরক্তিকর, এবং অতঃপর এরূপ দাবি বা জবাব যদি সার্বিক বা আংশিক নামঞ্জুর হয়, তাহলে আদালত উক্ত দাবি বা জবাবকে মিথ্যা বা বিরক্তিকর বলে অভিমত ব্যক্ত করবার কারণ লিপিবদ্ধ করার পর ক্ষতিপূরণস্বরূপ আপত্তিকারীকে খরচা দেওয়ার আদেশ দেবে যা আদালতের আর্থিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম না করে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত হবে। [If in any suit or other proceeding, including an execution proceeding, not being an appeal, any party objects to the claim or defence on the ground that the claim or defence, or any part of it, is false or vexatious, and if, thereafter, such claim or defence is disallowed, in whole or in part, the Court shall, after recording its reasons for holding such claim or defence to be false or vexatious, make an order for the payment to the objector, such cost by way of compensation which may, without exceeding the limit of the Court’s pecuniary jurisdiction, extend upto twenty thousand taka.]

 

২) এই ধারার অধীনে উল্লে­খিত কারণে কারো বিরুদ্ধে আদেশ দেওয়া হলে উক্ত দাবি বা জবাবের ব্যাপারে তাকে ফৌজদারি দায়দায়িত্ব থেকে রেহাই দেওয়া হবে না। [No person against whom an order has been made under this section shall, by reason thereof, be exempted from any criminal liability in respect of any claim or defence made by him.]

 

৩) মিথ্যা বা বিরক্তিকর দাবি বা জবাবের জন্য এই ধারার অধীনে মঞ্জুরীকৃত খরচার পরিমাণ পরবর্তী খেসারত বা ক্ষতিপূরণের মোকদ্দমায় এরূপ দাবি বা জবাবের ব্যাপারে বিবেচনায় আনতে হবে। [The amount of any cost awarded under this section in respect of a false or vexatious claim or defence shall be taken into account in any subsequent suit for damages or compensation in respect of such claim or defence.]

 

ধারা ৩৫খ : অন্তর্বর্তী বিষয়গুলোর ব্যাপারে আনীত দরখাস্ত ইত্যাদিতে বিলম্বের জন্য খরচা  [Cost for delay in making applications, etc, in respect of interlocutory matters : ১) কোনো মোকদ্দমা বা কার্যপ্রক্রিয়ার যেকোনো পর্যায়ে আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দরখাস্ত বা লিখিত আপত্তি দাখিল করা না হলে অনুর্ধ্ব দুই হাজার টাকা উক্ত পক্ষ অপর পক্ষকে খরচা না দিলে উক্ত দরখাস্ত বা লিখিত আপত্তি শুনানির জন্য গৃহীত হবে না। [If at any stage of a suit or proceeding, an application or written objection is not filed within the time fixed by the Court, such application or written objection, as the case may be, shall not be admitted for hearing without payment by that party of such cost to the other party not exceeding two thousand taka.]

 

২) যদি লিখিত জবাব দাখিলের পরে মোকদ্দমার কোনো পক্ষ কোনো ব্যাপারে দরখাস্ত করে, যা আদালতের মতেই আগেই দাখিল করতে পারতেন বা দাখিল করা উচিত ছিলো এবং তাতে মূল মোকদ্দমার কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটার সম্ভাবনা আছে, তাহলে আদালত দরখাস্ত গ্রহণ করবে কিন্তু তা শুনানি ও নিষ্পত্তি করবে না, যদি না উক্ত পক্ষ আদালতে যেভাবে নির্ধারণ এবং নির্দেশ করবে সেভাবে অপর পক্ষকে অনুর্ধ্ব তিন হাজার টাকা খরচা প্রদান করেন, এবং খরচা প্রদানে ব্যর্থ হলে দরখাস্ত তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ হবে। [If after filing of written statement, any party to the suit makes an application in respect of any matter which, in the opinion of the Court, could and ought to have been made earlier, and is likely to delay the main proceeding of the suit, the Court may admit, but shall not hear and dispose of the application, without payment by that party of such cost to the other party not exceeding three thousand taka, as it shall determine and direct, and upon failure to pay the cost, the application shall stand rejected.]

 

এখানেই আমাদের আলোচনা শেষ এই লেকচারের। এই লেকচার পর্যন্ত আমরা প্রকৃতপক্ষে দেওয়ানি কার্যবিধির প্রথম ভাগ পর্যন্ত তথা ১—৩৫খ ধারাসমূহ শেষ করে নিলাম এবং ১ থেকে ৮ নং আদেশ পর্যন্ত পড়ে রাখলাম। এই প্রথম অংশটি দেওয়ানি কার্যবিধির খুবই গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এগুলো বোঝার সাথে ৯ নং আদেশটি যুক্ত করে [পরের লেকচারের শুরুতেই আলোচনা আছে] দেওয়ানি কার্যবিধির বেসিক অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখবেন। এমসিকিউ বা লিখিত পরীক্ষায় সবসময়ই এই অংশটি কাজে দেবে।

 

/26
41

CPC [27-35B] - Advanced Exam

এখানে দেওয়ানি কার্যবিধির ২৭-৩৫খ ধারাসমূহ নিয়ে অ্যাডভান্সড লেভেলের এমসিকিউ টেস্ট আছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পড়ে নিয়ে এটি অনুশীলন করুন।

এখানে আপনার নাম ও ফোন নাম্বার লিখুন। ইমেইলটি লেখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে, ইমেইল এড্রেস দিলে আপনার ইমেইলে বিস্তারিত ফলাফল চলে যাবে।

1 / 26

1. The Court, after the case has been heard, shall pronounce judgment, and on such judgment a .... shall follow - শূণ্যস্থানে কী বসবে?

2 / 26

2. বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত কোনো দেওয়ানি আদালতের সমন বাংলাদেশে জারি সংক্রান্তে বিধান নিচের কোনটি?

3 / 26

3. The Code of Civil Procedure, 1908 এর ৩০ ধারা অনুসারে প্রদত্ত সমন অমান্য করলে আদালত তাকে অনধিক কত টাকা জরিমানা করতে পারেন? [জুডি. : ২০২৩]

4 / 26

4. একটি আদালত খরচার ওপর সুদ প্রদান করতে পারে অনধিক - [বার : ২০১৫]

5 / 26

5. একটি মোকদ্দমার খরচার ওপর ৬% বার্ষিক হারে সুদ প্রদান করতে হবে - এটি দেওয়ানি কার্যবিধিতে কোন ধারার বিষয়বস্তু?

6 / 26

6. The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under ...... - শূণ্যস্থানে কী বসবে?

7 / 26

7. দেওয়ানি মামলায় সর্বোচ্চ কত টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেয়া যায়? [জুডি. : ২০০৮]

8 / 26

8. মিথ্যা দাবির ব্যাপারে ক্ষতিপূরণমূলক খরচা দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

9 / 26

9. বিবাদীর প্রতি সমন দেওয়ানি কার্যবিধির কত ধারার বিষয়বস্তু?

10 / 26

10. দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে বাধ্য করার প্রক্রিয়া হিসেবে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে?

11 / 26

11. সমন অমান্যের জন্য দণ্ডের বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

12 / 26

12. Power to order discovery and the like - এই বিধান দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

13 / 26

13. অন্তর্বর্তী বিষয়গুলো সম্পর্কে আনীত দরখাস্ত নির্ধারিত সময়ের বিলম্বে করা হলে আদালত সর্বোচ্চ কতা টাকা খরচার নির্দেশ দিতে পারে?

14 / 26

14. Summons to witness - এই বিধানটি দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার বিষয়বস্তু?

15 / 26

15. দলিল দাখিল, আবিষ্কার ইত্যাদি উদ্দেশ্যে সমন দেবার ক্ষমতা দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

16 / 26

16. মিথ্যা দাবির ব্যাপারে সর্বোচ্চ কত টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচার আদেশ দিতে পারে আদালত?

17 / 26

17. কোনো সাক্ষীর প্রতি সমন প্রদানের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারা অনুসরণ করার নির্দেশ আছে?

18 / 26

18. দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসারে The Court may compel the attendance of any person to whom a summons has been issued under section 30 and for that purpose may-

19 / 26

19. ‘...the Court may, at any time, either of its own motion or on the application of any party, ... order any fact to be proved by affidavit.’ - দেওয়ানি কার্যবিধিতে আদালতের এই ক্ষমতা কোন ধারায় বর্ণিত আছে?

20 / 26

20. The Court, after the case has been heard, shall pronounce .... , and on such ...... a decree shall follow - শূণ্যস্থানদ্বয়ে কী বসবে?

21 / 26

21. একটি আদালত খরচার ওপর সুদ প্রদান করতে পারে অনধিক

22 / 26

22. দেওয়ানি কার্যবিধির ৩০ ধারা অনুসারে কোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে বাধ্য করার প্রক্রিয়া হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?

23 / 26

23. দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারায় কোনো সাক্ষীর প্রতি সমন দেবার বিধান রয়েছে?

24 / 26

24. মিথ্যা অথবা বিরক্তিকর দারি বা জবাবের ব্যাপারে ক্ষতিপূরণমূলক খরচার প্রসঙ্গটি দেওয়ানি কার্যবিধিতে কত সালের সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়?

25 / 26

25. Interest - দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারার শিরোনাম ও বিষয়বস্তু?

26 / 26

26. The Code of Civil Procedure, 1908 অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রদানের জন্য কোনো ব্যক্তিকে সমন দেওয়া সত্ত্বেও তিনি হাজির না হলে আদালত তাকে সর্বোচ্চ কত টাকা জরিমানা করতে পারেন? [জুডি. : ২০২২]

Your score is

0%