আইনকানুন একাডেমি

Course Content
The Code of Civil Procedure
দেওয়ানি কার্যবিধির প্রতিটি ধারা একেবারে ধরে ধরে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দিকগুলো বুঝবো আমরা ভিডিও লেকচারের মাধ্যমে এবং পর্যাপ্ত এমসিকিউ অনুশীলন করবো পরীক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে।
0/6
The Code of Civil Procedure, 1908

ম্যাপিং : বার কাউন্সিলের সিলেবাসে আবিষ্কার ও পরিদর্শন বা Discovery and inspection [আদেশ ১১], পক্ষগণের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির পরিণাম বা Appearance and Non appearance of parties [আদেশ ৯] এবং আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ বা  Examination of parties [আদেশ ১০] – এই তিনটি বিষয় পরপর দেওয়া আছে। সাথে ১২ ও ১৩ আদেশে যথাক্রমে আছে Admissions ও  Production, impounding and return of documents  বিষয়ে। এগুলো সবই এই লেকচারেই আলোচ্য।

 

তার মানে, এর আগের লেকচারগুলোতে মোটামুটিভাবে আমরা ১— ৩২ ধারা এবং ১—৮ আদেশসমূহ দেখে এসেছি। এখন, প্রধানত এর পরের আদেশগুলো কিছুটা ধারাবাহিকভাবে পড়ে ফেলবো। বার কাউন্সিলের সিলেবাসেও বিষয়গুলো খুব সামান্য হেরফেরে আগুপিছু করে বলা আছে। তাতে আমাদের খুব বেশি আসে যায় না। কেননা, দেওয়ানি কার্যবিধির যেহেতু প্রায় কোনোকিছুই সিলেবাসে বলা বাকী নেই, ফলে আইনের বিন্যাস অনুসারেই যতোটা সম্ভব এগোনো, যেন আমাদের পারসেপশনে বিষয়গুলো ঠিকঠাক রাখতে পারি। তাইনা?

 

এর ভেতরে ৯ নং আদেশটি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। অন্যদিকে, ১০ নং আদেশ থেকে মূলত দেওয়ানি মোকদ্দমার বিভিন্ন আবশ্যকীয় পদক্ষেপ বা স্তরসমূহে কী কী করণীয় সেগুলোই বিভিন্ন শিরোনামে বর্ণিত আছে। ফলে, আমরা কোনো না কোনোভাবে দেওয়ানি মোকদ্দমার বিভিন্ন স্তরভিত্তিক পরিচয় পাবো যা খুবই আগ্রহোদ্দীপক বটে। যাইহোক, আমরা মূল আলোচনায় ঢুকে পড়ি।

 

মূল আলোচনা

 

 

পক্ষগণের উপস্থিতি—অনুপস্থিতি প্রসঙ্গ : ৯ নং আদেশ

কেউ একটি মোকদ্দমা দায়ের করার পর মোকদ্দমার আর কোনো খেঁাজ খবর নিলো না বা বিশেষ কোনো অসুবিধায় মোকদ্দমার কোনো কেঁাজ নিতে পারলো না, আদালতে উপস্থিত হতে পারলো না বা এমনও হতে পারে মোকদ্দমা দায়েরের পর পরবর্তী ধার্য্য তারিখে আদালতে উপস্থিত হতে পারলো না কোনো অসুখ বা বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত কারণে তাহলে উক্ত মোকদ্দমার পরিণতি কী হবে? অন্যদিকে, উক্ত মোকদ্দমার বিবাদী ধার্য তারিখে উপস্থিত হলো না সমন যথারীতিভাবে পাওয়ার পরেও কিংবা উপস্থিত হতে অপারগ হলো – সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটির পরিণতি কী হবে? – ইত্যাদি হরেক রকমের ইস্যু এই আদেশের আলোচ্য। অর্থাৎ, মোকদ্দমায় কোনো পক্ষের উপস্থিতি এবং অন্য পক্ষের অনুপস্থিতি বা উভয় পক্ষের অনুপস্থিতি ইত্যাদির পরিণতি বা ফলাফল সংক্রান্ত বিধান এই ৯ নং আদেশে বর্ণিত আছে। আবার, উক্ত অনুপস্থিতি যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে হয়ে থাকে তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতের কোনো সিদ্ধান্তকে বদলিয়ে ফেলাও যেতে পারে Ñ তথা অনুপস্থিত পক্ষের জন্য  প্রতিকারের ব্যবস্থা বা বিধানও রয়েছে এই ৯ নং আদেশে।

 

পক্ষসমূহের উপস্থিতি—অনুপস্থিতি বিষয়টি কোনো দেওয়ানি মোকদ্দমায় হরহামেশাই ঘটে থাকে। আরজি দাখিল হয়ে যাবার পর থেকেই এর ঘনঘটা শুরু হয়ে যেতে পারে। জবাব দাখিলের পর বিবাদীর অনুপস্থিতির খপ্পরেও পড়ে যেতে পারে একটি মোকদ্দমা। ফলে, ৮ আদেশ পর্যন্ত পড়ার পরপরই খুবই পারফেক্টলি ৯ নং আদেশে এই উত্তেজনাকর বিষয়টি আছে। ক্রিকেট মাঠে উইকেট পড়ার পর স্টেডিয়ামের দর্শকের উত্তেজনার মতো আরকি! আম্পায়ার রিভিউয়ে উল্টেও যেতে পারে। চলুন, দেখি বিষয়গুলো। যথারীতি আগে পুরো আদেশটি আছে প্রাসঙ্গিক ইংরেজিসমেত। তারপরে আলোচনা আছে শেষে। ৯ আদেশটি কিন্তু সারাজীবন কাজে দেবে। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়–ন।

 

আদেশ ৯ : পক্ষগণের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির পরিণাম [Appearance of parties and consequence of non-appearance]

 

১ : বিবাদীর হাজিরা ও জবাব দানের জন্য সমনে নির্ধারিত তারিখে পক্ষগণের হাজিরা [Parties to appear on day fixed in summons for defendant to appear and answer] : বিবাদীর উপস্থিতির এবং জবাব দানের জন্য সমনে নির্ধারিত তারিখে পক্ষগণ ব্যক্তিগতভাবে বা তাদের স্ব স্ব উকিলের মাধ্যমে বিচারালয়ে হাজিরা দিবেন, এবং তখন আদালত কর্তৃক ভবিষ্যতের কোনো দিন পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি মুলতুবি না হলে মোকদ্দমার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

 

২ : বাদী কর্তৃক খরচ প্রদানে অপারগতার জন্য সমন জারি না হলে মোকদ্দমা খারিজ করা যায় [Dismissal of suit where summons not served in consequence of plaintiff’s failure to pay costs] : যদি এরূপ নির্ধারিত তারিখে দেখা যায় যে বাদী কোর্ট ফি না দেয়ায় বা এরূপ সমন জারির জন্য ব্যয়যোগ্য ডাক মাশুল (যদি লাগে) না দেয়ার ফলে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার আদেশ দিতে পারেন।  [Where on the day so fixed it is found that the summons has not been served upon the defendant in consequence of the failure of the plaintiff to pay the court-fee or postal charges (if any) chargeable for such service, the Court may make an order that the suit be dismissed:]

 

তবে শর্ত থাকে যে, বিবাদীর উপর যদি সমন জারি না হয়ে থাকে, তবে অনুরূপ আদেশ প্রদান করা যাবে না, যদি তার হাজিরা ও জবাবদানের জন্য নির্ধারিত তারিখে সে ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি থাকলে, সে প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়।  [Provided that no such order shall be made although the summons has not been served upon the defendant, if on the day fixed for him to appear and answer he attends in person or by agent when he is allowed to appear by agent.]

 

 

৩ : কোনো পক্ষই হাজির না হলে মোকদ্দমা খারিজ হবে [Where neither party appears, suit to be dismissed] : মোকদ্দমা শুনানির জন্য ডাকা হলে যদি কোনো পক্ষই উপস্থিত না হয়, তবে আদালত মোকদ্দমা খারিজ হওয়া মর্মে আদেশ প্রদান করতে পারেন। [Where neither party appears when the suit is called on for hearing, the Court may make an order that the suit be dismissed.]

 

৪ : বাদী নতুন মোকদ্দমা করতে পারে বা আদালত মোকদ্দমাটি নথিতে পুনর্বহাল করতে পারেন [Plaintiff may bring fresh suit or Court may restore suit to file] : যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমা ২ বা ৩ বিধির অধীনে খারিজ করা হয়, সেক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে, অথবা সে খারিজের আদেশ রদ করার আবেদন করতে পারে, এবং সে যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্ট ফি বা সমন জারির জন্য ডাক মাশুল (যদি লাগে) দিতে না পারার অথবা উপস্থিত হতে না পারার জন্য ‘যথেষ্ট কারণ’ ছিলো বলে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে পারে, তবে আদালত মোকদ্দমার খারিজ আদেশ রদের আদেশ দান করবেন এবং মোকদ্দমার কার্যধারা পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন। [Where a suit is dismissed under rule 2 or rule 3, the plaintiff may (subject to the law of limitation) bring a fresh suit; or he may apply for an order to set the dismissal aside, and if he satisfies the Court that there was sufficient cause for his not paying the court-fee and postal charges (if any) required within the time fixed before the issue of the summons, or for his non-appearance, as the case may be, the Court shall make an order setting aside the dismissal and shall appoint a day for proceeding with the suit.]

 

৫ : বিনা জারিতে সমন ফেরত আসার পরে এক মাসের মধ্যে বাদী নতুন সমন দেয়ার আবেদন করতে ব্যর্থ হলে মোকদ্দমা খারিজ করা : ১) যেক্ষেত্রে বিবাদীকে বা কতিপয় বিবাদীদের কোনো একজনের প্রতি সমন দেওয়া হলে এবং তা বিনা জারিতে ফেরত আসিলে, আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারির বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি প্রত্যয়ন পূর্বক সমন ফেরত দেয়ার এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেয়ার জন্য আবেদন না করে, তবে আদালত এরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দিবেন, যদি না বাদী উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারে যে—

 

ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদী যথাসাধ্য চেষ্টা করেও সেই বিবাদীকে বাসস্থানের বাহির করতে অপারগ হয়েছে, বা

খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছে, বা

গ) সমনের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ রয়েছে, যেক্ষেত্রে আদালত নতুন সমন দেয়ার জন্য আবেদনের সময়ের মেয়াদ প্রয়োজনবোধে বৃদ্ধি করতে পারেন।

 

২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।

 

৬ : সমন যথারীতি জারি হওয়ার পরে কেবল বাদী হাজির হলে কার্য পদ্ধতি [Procedure when only plaintiff appears]  : ১) যেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে বাদী উপস্থিত হয় এবং বিবাদী উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে তখন—

 

ক) যদি প্রমাণ হয় যে, সমন যথারীতি জারি হয়েছে, তবে আদালত একতরফাভাবে অগ্রসর হতে পারেন;

খ) যখন সমন যথারীতি জারি না হয় : যদি প্রমাণ না হয়, যে সমন যথারীতি জারি হয়েছে, তবে আদালত বিবাদীর উপর দ্বিতীয়বার সমন প্রেরণেরও জারির নির্দেশ প্রদান করবেন;

গ) যেক্ষেত্রে সমন যথারীতি জারি হয়, কিন্তু উপযুক্ত সময়ের মধ্যে নয় : যদি প্রমাণ হয় যে, বিবাদীর উপর সমন জারি হয়েছে, কিন্তু বিবাদীকে সমনে নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হয়ে জবাব দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি, তবে আদালত ভবিষ্যতের কোনো নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত মোকদ্দমার শুনানি স্থগিত রাখবেন এবং বিবাদীকে সেই তারিখ জ্ঞাত করার নির্দেশ দিবেন।

 

২) যদি বাদীর ত্রুটির দরুন যথারীতি সমন জারি না হয় বা যথেষ্ট সময়ের মধ্যে জারি না হয়, তবে আদালত মোকদ্দমার মুলতবীর দরুন যে খরচ হবে, তা বাদীকে পরিশোধের আদেশ দান করবেন।

 

৭ : যেক্ষেত্রে বিবাদী তার স্থগিত শুনানির দিনে হাজির হয়ে তার পূর্ববর্তী অনুপস্থিতির জন্য উপযুক্ত কারণ দর্শায়, সেক্ষেত্রে পদ্ধতি [Procedure where defendant appears on day of adjourned hearing and assigns good cause for months to apply for fresh summons] : যেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমার একতরফা শুনানি স্থগিত রেখেছেন এবং বিবাদী উক্ত শুনানি চলাকালে বা তৎপূর্বে উপস্থিত হয়, এবং তার পূর্ববর্তী অনুপস্থিতির উপযুক্ত কারণ দর্শায়, খরচ সম্পর্কে বা অন্য কিছু সম্পর্কে আদালত যেরূপ শর্তসমূহ আরোপ করেন, তৎসাপেক্ষে মোকদ্দমার জবাবে তার বক্তব্য শ্রবণ করা যাবে, যেন তার উপস্থিতির জন্য নির্ধারিত তারিখেই সে উপস্থিত হয়েছে।

 

৮ : কেবলমাত্র বিবাদী উপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure where defendant only appears] : যেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি শুনানির জন্য ডাকা হলে বিবাদী উপস্থিত হয়, এবং বাদী উপস্থিত হয় না, সেক্ষেত্রে আদালত মোকদ্দমা খারিজ হওয়ার আদেশ দান করবেন, যদি না বিবাদী বাদীর দাবি বা উহার অংশ বিশেষ স্বীকার করে, যেক্ষেত্রে আদালত এরূপ স্বীকারোক্তির উপর বিবাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি প্রদান করবেন এবং যেক্ষেত্রে দাবির অংশ বিশেষ স্বীকার করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে অবশিষ্ট দাবি সম্পর্কে মোকদ্দমাটি খারিজ করবেন। [Where the defendant appears and the plaintiff does not appear when the suit is called on for hearing, the Court shall make an order that the suit be dismissed, unless the defendant admits the claim, or part thereof, in which case the Court shall pass a decree against the defendant upon such admission, and, where part only of the claim has been admitted, shall dismiss the suit so far as it relates to the remainder.]

 

৯ : ত্রুটির ফলে বাদীর বিরুদ্ধে ডিক্রি হলে নতুন মোকদ্দমায় বাধা [Decree against plaintiff by default bars fresh suit]  : ১) যেক্ষেত্রে ৮ বিধি অনুসারে কোনো মোকদ্দমা আংশিক বা সামগ্রিকভাবে খারিজ হয়, সেক্ষেত্রে একই কারণ সম্পর্কে বাদীকে নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে নিবারণ করা হবে। কিন্তু বাদী মোকদ্দমা খারিজের আদেশ রদ করার জন্য আবেদন করতে পারবে, এবং সে যদি আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, মোকদ্দমাটি শুনানির জন্য ডাকার সময় তার অনুপস্থিতির জন্য যথেষ্ট কারণ ছিলো, তাহলে আদালত মোকদ্দমার ব্যয় সম্পর্কে যথাবিহিত শর্ত সাপেক্ষে বা অন্য কোনোভাবে, যাই তিনি সঙ্গত মনে করেন, মোকদ্দমা খারিজের আদেশ রদ করবেন, এবং মোকদ্দমার কার্যধারা পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।

 

২) বাদীর আবেদন সম্পর্কে কোনো নোটিশ অপর পক্ষকে না দিয়ে অত্র বিধি অনুসারে কোনো আদেশ দেওয়া যাবে না।

 

৯ক : সরাসরি খারিজ রদকরণ  [Directly setting aside dismissal] : ১) বিধি ৯ কিংবা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানোর ও বিচার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর উদ্দেশ্যে বিধি ৯ এর অধীন বাদীকে আদালতকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য উপস্থাপন করার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি খারিজ নিষ্পত্তি করে দিতে পারেন, তবে উক্ত বাদীকে অনধিক এক হাজার টাকার খরচ যা যথাযথ ও নির্ধারিত বলে মনে করবেন, প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন: [Notwithstanding anything contained in rule 9 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly set aside the dismissal without requiring the plaintiff to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 9, but requiring him to pay such cost not exceeding one thousand taka as it may deem appropriate and determine:]

 

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি ৮ এর অধীন কোনো খারিজ এই বিধির অধীন রহিত করা যাবে না, যদি না খারিজের আদেশ প্রদানের তারিখ হতে তিরিশ দিনের মধ্যে খারিজের আদেশ রহিতকরণের উদ্দেশ্যে এফিডেভিট সহযোগে আবেদন দাখিল করা না হয়ে থাকে: [Provided that the dismissal under rule 8 shall not be set aside under this rule, unless an application, supported by affidavit, praying for setting aside the order of dismissal is made to the Court within thirty days of the date on which the order of dismissal is made:]

 

আরো শর্ত থাকে যে, অত্র বিধির অধীন কোনো খারিজের একাধিকবার রহিত করা যাবে না। [Provided further that no dismissal shall be set aside more than once under this rule.]

 

২) উপবিধি ১) এর অধীন কোনো একতরফা খারিজ রহিতকরণের আবেদন দর্শিত হওয়ার সাথে সাথে আদালতে বাদীর খরচায় মোকদ্দমায় উপস্থিত হয়েছেন এমন বিবাদীর বরাবরে নোটিশ জারির ব্যবস্থা করাবেন। [As soon as an order under sub-rule (1) is made setting aside ex parte dismissal, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the plaintiff upon the defendant who appeared in the suit.]

 

১০ : কতিপয় বাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several plaintiffs] : যেক্ষেত্রে একাধিক দাবি রয়েছে, এবং যদি একজন বা তাদের একাধিক জন উপস্থিত হয়, এবং অন্যান্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে আদালত বাদীদের মধ্যে উপস্থিত বিবাদী বা বাদীদের অনুরোধ ক্রমে মোকদ্দমাটি একইভাবে অগ্রসর হওয়ার অনুমতি প্রদান করবেন, যে সকল বাদীই উপস্থিত হয়েছে অথবা যেরূপ সঙ্গত মনে করেন সেরূপ আদেশ প্রদান করবেন।

 

১১ : কতিপয় বিবাদীর এক বা একাধিক অনুপস্থিত থাকলে কার্য পদ্ধতি [Procedure in case of nonattendance of one or more of several defendants] : যেক্ষেত্রে একাধিক বিবাদী রয়েছে, সেক্ষেত্রে একজন বা কয়েকজন বিবাদী উপস্থিত হয়, এবং অন্যরা উপস্থিত না হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি অগ্রসর হবে এবং রায় ঘোষণার সময় আদালত অনুপস্থিত বিবাদীদের সম্পর্কে উপযুক্ত যেকোনো আদেশ দান করবেন।

 

১২ : ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়ার পর অনুপস্থিতির যথেষ্ট কারণ না দর্শালে ফলাফল [Consequence of nonattendance, without sufficient cause shown, of party ordered to appear in person] : যেক্ষেত্রে কোনো বাদী বা বিবাদীকে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে যদি উক্ত বাদী বা বিবাদী ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হয় বা আদালতের সন্তুষ্টি অনুসারে তার অনুরূপ উপস্থিত হতে ব্যর্থতার জন্য যথেষ্ট কারণ না দর্শায়, তাহলে বাদী ও বিবাদীদের অনুপস্থিতি সম্পর্কিত পূর্ববর্তী বিধিমালায় বর্ণিত বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।

 

একতরফা ডিক্রি রদকরণ

 

১৩ : বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি রদকরণ  [Setting aside decree ex parte against defendant] : যেকোনো মোকদ্দমায় কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফা ডিক্রি দেওয়া হয়ে থাকলে, সে ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে উহা রদ করার আদেশ দানের জন্য আবেদন করতে পারে, এবং যদি সে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, সমন যথারীতি জারি হয়নি, অথবা যখন মোকদ্দমাটি শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল, তখন সে কোনো যথেষ্ট কারণে উপস্থিত হওয়া হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল, তবে আদালত, মোকদ্দমার ব্যয় আদালতে পরিশোধ বা অন্য কোনো শর্ত সাপেক্ষে, যা সঙ্গত মনে করা হয়। ডিক্রিটি রদ করে আদেশ প্রদান করবেন এবং মোকদ্দমার কার্যধারা পরিচালনার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।

 

তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রিটি যদি এরূপ প্রকৃতির হয় যে, উহা কেবল উক্ত বিবাদীর বিরুদ্ধে রদ করা যাবে না, তবে ইহা অন্যান্য সকল বা অন্য যেকোনো বিবাদীর বিরুদ্ধেও রদ করা যাবে।

 

১৩ক : একতরফা ডিক্রি সরাসরি রহিতকরণ [Directly setting aside ex parte decree] : ১) বিধি ১৩ বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব অবসান ও বিচার ত্বরান্বিত করানোর উদ্দেশ্যে, বিধি ১৩ এর অধীন কোনো আদালতকে পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করানোর উদ্দেশ্যে বাদীকে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ প্রদান করে সরাসরি ডিক্রি খারিজ করে দিতে পারেন, তবে আদালত উপযুক্ত ও নির্ধারণ করা সাপেক্ষে বাদীকে অনধিক তিন হাজার টাকা খরচা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন: [Notwithstanding anything contained in rule 13 or any other law, the Court may, in order to avoid delay and expedite disposal, directly set aside the decree without requiring the defendant to adduce evidence to satisfy it about sufficient causes as required under rule 13, but requiring him to pay such cost not exceeding three thousand taka as it may deem appropriate and determine:]

 

 

তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধির আওতাধীনে কোনো একতরফা ডিক্রি রহিত করা যাবে না, যদি না যে বিবাদী হাজির হয়েছিলো এবং লিখিত বর্ণনাপত্র দাখিল করেছিলো, সেই বিবাদী কর্তৃক একতরফা ডিক্রির তারিখ হতে তিরিশ দিনের মধ্যে উক্ত একতরফা ডিক্রি রহিতকরণের জন্য প্রার্থনা করে এফিডেভিট সহযোগে আদালতের নিকট আবেদন করা হয়: [Provided that the decree under this rule shall not be set aside unless an application, supported by affidavit, praying for setting aside the decree is made to the Court within thirty days of the date on which the decree is passed by the defendant who appeared and filed written statement:]

 

তবে শর্ত থাকে যে, একই বিবাদীর অনুরোধে কোনো ডিক্রিই একাধিকবার রহিত করা যাবে না। [Provided further that no decree shall be set aside more than once under this rule at the instance of the same defendant.]

 

২) কোনো একতরফা ডিক্রি রহিতকরণের আদেশ প্রদানের সাথে সাথেই আদালতে বিবাদীর খরচায় বাদীর ওপর নোটিশ জারি করাবেন। [As soon as an order under sub-rule (1) is made setting aside an ex parte decree, the Court shall cause notice thereof to be served at the cost of the defendant upon the plaintiff.]

 

১৪ : অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান না করে কোনো ডিক্রি রদ করা যাবে না [No decree to be set aside without notice to opposite party] : উপরে বর্ণিত মতে এরূপ কোনো আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো ডিক্রি রদ করা যাবে না। যদি না, বিরোধী পক্ষের উপর ইহার কোনো নোটিশ জারি হয়ে থাকে। [No decree shall be set aside on any such application as aforesaid unless notice thereof has been served on the opposite party.]

 

১৫ : যখন রদকৃত মোকদ্দমা পূণর্বহাল করা যায়  [Restoration of a suit where the dismissal is set]  : যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমার খারিজের আদেশ ৪ অথবা ৯ বিধির অধীনে অথবা ১৩ বিধির অধীনে কোনো ডিক্রি রদ করা হয়, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমাটি পুনর্বহাল করার প্রেক্ষিতে খারিজের আদেশ প্রদান বা ডিক্রি প্রদানের অব্যবহিত পূর্বে যে স্তরে ছিলো, ঠিক সে স্তর হতে মোকদ্দমাটি চালু করা হবে। [Where the dismissal of a suit is set aside under rule 4 or rule 9 or a decree is set aside under rule 13, the suit shall on restoration, proceed from the stage where it was immediately before the making of the order of dismissal or passing of the decree.]

 

আমরা আগের লেকচারেই শেষের দিকে মোকদ্দমা খারিজের টপিকটির কথা জেনেছি। এইবার এটি বিস্তারিত বোঝার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কারণ ৯ আদেশে প্রায়ই এই মোকদ্দমা খারিজ শব্দবন্ধটি ব্যবহার হয়েছে। পক্ষগণের উপস্থিতি—অনুপস্থিতির একটি সাধারণ ফলাফল বা পরিণতি হলো এই মোকদ্দমা খারিজ বা Dismissal of suit। মোকদ্দমা খারিজের সকল ব্যবহারিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এর প্রধানতম পরিণতি হলো- বিবাদীর পক্ষে দেওয়ানি মোকদ্দমার নিষ্পত্তি; মানে, বিবাদীর দায় নিয়ে আদালতের কোনো রায় প্রাপ্তি ঘটলো না। বিবাদীর পক্ষে মোকদ্দমার নিষ্পত্তি দুইভাবে হতে পারে। বিচারের আগেই বাদী পক্ষের অনুপস্থিতি বা ভুলের কারণে এটি হতে পারে, আবার বিচারকাজ শেষ হবার মধ্য দিয়ে বাদীর মোকদ্দমা খারিজের মধ্য দিয়ে বিবাদীর পক্ষে নিষ্পত্তি হতে পারে। বাদীর ভুল—ত্রুটি বা অনুপস্থিতির জন্য যখন মোকদ্দমা খারিজ হয়ে যায় তখন এটিকে ইংরেজিতে Dismissed for default  বলে। Dismissal of suit কে Dismissed for default  অর্থেই বুঝে রাখতে বলবো। কেননা, আইনে যেকোনো শব্দের অর্থ কোনো নির্দিষ্ট ধারা বা বিধিতে যে কনটেক্সটে আলোচনা আছে, সেই কনটেক্সটেই এর অর্থ ব্যাখ্যা করতে হয়। এটুকুই বেসিক ধারণা রাখেন। পরে দরকার পড়লে আরো বোঝাবুঝি করা যাবে। আমরা ৯ আদেশটির বিভিন্ন বিধিতে মনোযোগ দিই।

 

পক্ষগণের অনুপস্থিতি একটি কমন ঘটনা আদালতে। এটি নিয়ে ভালো করে আন্ডারস্টান্ডিংটা সেরে ফেলা দরকার।

 

পক্ষগণের উপস্থিতির—অনুপস্থিতির সাধারণ পরিণাম নিয়ে সরাসরি এর বিধি ১ এবং বিধি ১২ তে বলা আছে। ১ বিধি অনুযায়ী সমনে নির্ধারিত দিনে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে হাজির হবার বাধ্যবাধকতা আছে, সেটি বলা আছে; এই হাজির তারা ব্যক্তিগতভাবে হতে পারে অথবা স্ব স্ব উকিলের [pleaderমাধ্যমে হতে পারে। আর ১২ বিধি অনুযায়ী কোনো বাদী বা বিবাদীকে আদালত যদি ব্যক্তিগতভাবে হাজির হবার আদেশ দেয়, তখন যদি সে অনুসারে উপস্থিত না হয় এবং তার অনুপস্থিতির জন্য আদালতের সন্তুষ্টিসাপেক্ষে পর্যাপ্ত কারণ দর্শাতে না পারে, তাহলে অনুপস্থিত পক্ষ যদি বাদী হয় তাহলে মোকদ্দমা খারিজ হবে এবং অনুপস্থিত পক্ষ যদি বিবাদী হয় তাহলে মোকদ্দমাটি একতরফা শুনানির দিকে অগ্রসর হবে।

 

বিধি ২ এবং ৫ অনুযায়ী সমন সম্পর্কিত কারণে [সমনের খরচ প্রদানে বাদীর অপারগতা বা বিনা জারিতে ফেরত আসা সমনের ক্ষেত্রে ১ মাসের মধ্যে বাদীকে নতুন সমন দেওয়ার আবেদনের ব্যর্থতার কারণে] মোকদ্দমা খারিজের আবেদন করা যেতে পারে। আর সমন যথারীতি হাজির হবার পর বিবাদী উপস্থিত না হলে আদালত মোকদ্দমাটি একতরফাভাবে অগ্রসর করবেন [বিধি ৬]।

 

আবার, মোকদ্দমায় শুনানির দিনে কোনো পক্ষই হাজির না হলে সে কারণেও মোকদ্দমা খারিজ হয়ে যেতে পারে, এটি বিধি ৩ এ বলা আছে।

 

বিধি ২ এ সমনের জন্য নির্ধারিত মাশুল বা কোর্ট ফি বা বিধি মোতাবেক উভয় পক্ষের অনুপস্থিতির জন্য যদি মোকদ্দমাটি খারিজ হয়ে যায়, তাহলে সেটি রদ করে নথিটি পুনর্বহাল করার আবেদন করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে অনুপস্থিতির জন্য ‘যথেষ্ট কারণ’ দেখিয়ে আদালতকে সন্তুষ্ট করতে হবে অথবা নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়ের ভেতর কোর্ট ফি বা সমনের জন্য প্রয়োজনীয় ডাক মাশুল দিতে হবে। এটি ৪ বিধিতে বলা আছে। এই ৪ বিধি অনুযায়ী মোকদ্দমা খারিজের আদেশ রদ করা যায়Ñ এই তথ্যটি বিশেষভাবে মনে রাখবেন অন্তত।

 

এবার ‘এসো নিজে করি’! বিধি ৮, ৯ এবং ৯ক একসাথে  পড়–ন। যা বুঝলেন, বুঝে রাখেন। এমসিকিউ টেস্টে দেখা হবে! ৯ক বিধিটির যাবতীয় ইস্যু ধরে ধরে মনে রাখুন।

 

পরের বিধিগুলোতে যাই। এরই মধ্যে একতরফা ডিক্রি বা আদালত একতরফাভাবে অগ্রসর হবে ইত্যাদি শব্দ আপনাদের চোখের সামনে ঘোরাঘুরি শুরু করে দিয়েছে [বিধি ৬ ও ৭]। এই একতরফা [ex parte] বা একতরফা ডিক্রি [ex parte decree] কি? এর সহজ মানে হলো- আদালতে বিবাদী পক্ষের অনুপস্থিতিতে আদালত কর্তৃক বিচারে অগ্রসর হওয়া। বিবাদী নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হলে তখন আদালত শুধু বাদীর বক্তব্যই শ্রবণ করে আদালত সিদ্ধান্ত বা কোনো নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি জারি করেন, তখন সেটি একতরফা বলে পরিচিত হয়। তার মানে একতরফা ডিক্রি কিন্তু শুধু বাদীর পক্ষে হয়। এটি মনে রাখবেন।

 

এই একতরফা ডিক্রি রদকরণ বিষয়ে ৯ আদেশটির বিধি ১৩ থেকে ১৫ পর্যন্ত আলোচনা আছে। বাদীর ত্রুটি বা অনুপস্থিতিতে যেমন বাদীর মোকদ্দমা খারিজ হয়ে যেতে পারে এবং তা রদকরণের আবেদনও করা যায়, তেমনি বিবাদীর ত্রুটি বা অনুপস্থিতির কারণে বিবাদীর বিরুদ্ধে একতরফাসূত্রে ডিক্রি বাদীর পক্ষে যেতে পারে এবং সেটিও রদকরণের আবেদন করা যায় নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে। তার মানে, বিধি ১৩ থেকে ১৫ তে একতরফা ডিক্রি রদ করার জন্য বিবাদীর পক্ষে কিছু পদক্ষেপ নেবার সুযোগ দিয়েছে আইন।

 

৮, ৯ ও ৯ক বিধির মতো এটির ‘এসো নিজে করি’ এর আওতায় রাখলাম। পড়ে নিন, নিজের সক্ষমতার বিকাশ ঘটান। সহজ আছে। দরকার শুধু সামান্য মনোযোগ।

 

তবে, নিম্নোক্ত ৩টি উপায়ে একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে, এটি আপনাদেরকে বিশেষভাবে মনে রাখতে বলবো।

 

১. ৯ আদেশটির বিধি ১৩ মোতাবেক আবেদন করা একতরফা ডিক্রি রদ করার জন্য। এই আবেদন সেই আদালতেই করতে হবে যেই আদালত উক্ত একতরফার আদেশ দিয়েছিলেন।

২. ধারা ৯৬ এর ২ উপধারা মোতাবেক আপিল করা অথবা ১১৫ ধারার অধীনে রিভিশনের আবেদন করা, যেখানে যেটি প্রযোজ্য হয়।

৩. আদেশ ৪৭ এর বিধি ১ মোতাবেক রিভিউ আবেদন করা।

 

 

পক্ষগণের জবানবন্দি প্রসঙ্গ : ১০ নং আদেশ

এবার আমরা পরের আদেশে যাবো। আদেশ ১০, মাত্র ৪টি বিধি আছে। এর আগে সাক্ষ্য আইন আপনারা পড়ে এসেছেন। সেখানে স্বীকৃতি নামক অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান আপনারা পড়ে এসেছেন। সেখানে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছিলাম যে, আরজিতে দেওয়া সমস্ত বক্তব্যই বাদীর স্বীকৃতি। অন্যদিকে, বাদীর আরজির বক্তব্যের বিপরীতে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক যেই জবাব দেয় বিবাদী, সেটি বিবাদীর স্বীকৃতি। উপরন্তু, এখানে একটি টেকনিক্যাল বিষয় আছে। সেটি হলো যে, বাদী তার আরজিতে যা যা বলে, সেটির কোনো একটি যদি অস্বীকার করা না হয় বিবাদীর পক্ষ থেকে, তাহলে সাথে সাথেই সেটি কিন্তু স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সেই বিষয়ে খুব সতর্কভাবে বিবাদীকে জবাব দিতে হয়, যেন কোনো বিষয় যা কিনা বিরোধীয় বিষয় তার বিষয়ে বিবাদী মোকদ্দমার বিচারের সময় ক্ষতিগ্রস্ত যেন না হয়।

 

তবে এই স্বীকৃতি [admission] এই আদেশের প্রধান বিষয় নয়। মূল ফোকাস রাখুন- জবানবন্দি [examinationগ্রহণের বিষয়টিতে। এর ১ বিধিতে বলা আছে যে, পক্ষগণের প্লি­ডিংস এ রচিত বা বর্ণিত বিষয়গুলো পক্ষগণ কতৃর্ক যথাযথভাবে স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হচ্ছে কিনা তা আদালত লিপিবদ্ধ করে পক্ষগণকে পরীক্ষা করবেন। ৩ বিধি অনুযায়ী এরূপ যেকোনো জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত অবস্থায় নথির অংশে পরিণত হবে। নিচে আদেশটি পড়ে রাখুন।

 

আদেশ ১০ : আদালত কর্তৃক পক্ষগণের জবানবন্দি গ্রহণ [Examination of parties by the court]

 

১ : আরজি জবাবের অভিযোগসমূহ স্বীকৃত কি অস্বীকৃত হয়েছে, তা নিশ্চিতকরণ [Ascertainment whether allegations in pleadings are admitted or denied] : মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে আদালত প্রত্যেক পক্ষ বা পক্ষের উকিলের নিকট হতে নিশ্চিত করবেন যে, সেই পক্ষ অপর পক্ষের আরজিতে বা লিখিত বিবৃতিতে (যদি থাকে) রচিত তথ্যগত উক্তিগুলি স্বীকার করে কি অস্বীকার করে, এবং যেগুলি সংশ্লিষ্ট পক্ষ কর্তৃক ¯পষ্টত বা প্রয়োজনীয় অনুমান দ্বারা স্বীকৃত বা অস্বীকৃত হয়নি। আদালত এরূপ স্বীকার বা অস্বীকার লিপিবদ্ধ করবেন [At the first hearing of the suit the Court shall ascertain from each party or his pleader whether he admits or denies such allegations of fact as are made in the plaint or written statement (if any) of the opposite party, and as are not expressly or by necessary implication admitted or denied by the party against whom they are made. The Court shall record such admissions and denials.]|

 

২ : পক্ষ বা পক্ষের সঙ্গীর মৌখিক জবানবন্দি [Oral examination of party or companion of party] : মোকদ্দমার প্রথম শুনানিতে বা পরবর্তী কোনো শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত কোনো পক্ষ বা আদালতে উপস্থিত কেউ অথবা পক্ষ বা পক্ষের উকিলের সাথে উপস্থিত অপর কোনো ব্যক্তি মোকদ্দমা সম্পর্কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরদানে সমর্থ হলে, আদালত কর্তৃক মৌখিকভাবে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা যাবে, এবং এরূপ জবানবন্দি গ্রহণকালে, আদালত যদি সঙ্গত মনে করেন, তবে যেকোনো পক্ষের সুপারিশ মোতাবেক কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

 

৩ : জবানবন্দির মর্ম লিখিত হবে [Substance of examination to be written] : বিচারক কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত অবস্থায় আনতে হবে এবং তা নথির অংশে পরিণত হবে।

 

৪ : উকিল কর্তৃক উত্তর দিতে অস্বীকার করা হলে বা অসমর্থ হলে ফলাফল [Consequence of refusal or inability of pleader to answer]  : ১) যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষ উকিলের সঙ্গে উপস্থিত কোনো ব্যক্তি যদি মোকদ্দমা সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, বা অসমর্থ হয়, আদালতের মতে যে পক্ষের সে প্রতিনিধিত্ব করে সেই পক্ষে জবাব দেওয়া উচিত এবং সেই পক্ষকে যদি ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে সমর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে আদালত মোকদ্দমার শুনানি ভবিষ্যতের কোনো তারিখ পর্যন্ত স্থগিত রাখবেন এবং সে তারিখে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হবার নির্দেশ দিবেন।

 

২) যদি সেই পক্ষ নির্ধারিত তারিখে কোনো আইন সঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত সেই পক্ষের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে পারেন বা মোকদ্দমাটি সম্পর্কে অন্য কোনো আদেশ যা তিনি সঙ্গত মনে করেন, প্রদান করতে পারেন।

 

আবিষ্কার ও পরিদর্শন প্রসঙ্গ : ১১ নং আদেশ

 

আদেশ ১১ : আবিষ্কার ও পরিদর্শন [Discovery and inspection]

 

১ : প্রশ্নমালা দ্বারা আবিষ্কার [Discovery by interrogatories] : কোনো মোকদ্দমার বাদী বা বিবাদী পক্ষ অপর পক্ষগণকে বা তাদের মধ্যে একজন বা একাধিক জনকে জেরা করার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তারিখ হতে দশ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারবে এবং এরূপ প্রশ্নমালা প্রদান করা হলে উহার মধ্যে কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর এরূপ ব্যক্তিদের কাকে প্রদান করতে হবে তা প্রশ্নমালার পাদটীকায় লিখিত থাকবে। [In any suit the plaintiff or defendant by leave of the Court may, within ten days from the date of framing of issues, deliver interrogatories in writing for the examination of the opposite parties or any one or more of such parties, and such interrogatories when delivered shall have a note at the foot thereof stating which of such interrogatories each of such persons in required to answer:]

 

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে আদালতের আদেশ ব্যতিরেকে একটির বেশি প্রশ্নমালা প্রদান করতে পারবে না। [Provided that no party shall deliver more than one set of interrogatories to the same party without an order for that purpose:]

 

তবে আরও শর্ত থাকে যে, মোকদ্দমার সাথে কোনোরূপেই সংশ্লিষ্ট নয়, এরূপ কোনো প্রশ্ন সাক্ষীর মৌখিকভাবে জেরা করার সময়ে জিজ্ঞাসা করা চললেও এক্ষেত্রে তা অপ্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে। [Provided also that interrogatories which do not relate to any matters in question in the suit shall be deemed irrelevant, notwithstanding that they might be admissible on the oral crossexamination of a witness.]

 

২ : বিশেষ প্রশ্নমালা দাখিল করতে হবে [Particular interrogatories to be submitted] : প্রশ্নমালা প্রদান করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করার সময় প্রস্তাবিত উক্ত প্রশ্নমালা আদালতে দাখিল করতে হবে এবং আদালত উক্ত দাখিলের ১৪ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। এরূপ আবেদন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে যে পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, সেই পক্ষ যদি কোনো বিবরণ প্রদানের বা স্বীকারোক্তি করার বা মোকদ্দমার প্রশ্ন বা তাদের কোনো প্রশ্ন সংক্রান্ত কোনো দলিল উপস্থিত করার প্রস্তাব করে, তবে আদালত তা বিবেচনা করে দেখবেন এবং মোকদ্দমার সুষ্ঠুু বিচারের জন্য বা মোকদ্দমার ব্যয় বাঁচাবার জন্য যে প্রশ্নগুলি দরকারি বলে আদালত মনে করেন, কেবল সেই প্রশ্নগুলি দাখিল করার জন্যই আদালত অনুমতি প্রদান করবেন। [On an application for leave to deliver interrogatories, the particular interrogatories proposed to be delivered shall be submitted to the Court and that Court shall decide within fourteen days from the date of filing of the said application. In deciding upon such application, the Court shall take into account any offer, which may be made by the party sought to be interrogated to deliver particulars, or to make admissions, or to produce documents relating to the matters in question, or any of them, and leave shall be given as to such only of the interrogatories submitted as the Court shall consider necessary either for disposing fairly of the suit or for saving costs.]

 

৩ : প্রশ্নমালার খরচ [Costs of interrogatories] : মোকদ্দমার খরচের সমন্বয় করার সময় কোনো পক্ষের অনুরোধ ক্রমে এরূপ প্রদর্শিত প্রশ্নমালার যথার্থতা অনুসন্ধান করে দেখা হবে এবং অনুরূপ অনুসন্ধানের জন্য আবেদন করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক শুল্ক ধার্যকারী কর্মকর্তা বা আদালত যদি মনে করেন যে, এরূপ প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে বা অযথা দীর্ঘ হয়েছে, তবে উক্ত প্রশ্নমালা ও তাদের উত্তর সংক্রান্ত খরচ যেকোনো ব্যাপারে দোষী পক্ষ পরিশোধ করবে। [In adjusting the costs of the suit inquiry shall at the instance of any party be made into the propriety of exhibiting such interrogatories, and if it is the opinion of the taxing officer or of the Court, either with or without an application for inquiry, that such interrogatories have been exhibited unreasonably, vexatiously, or at improper length, the costs occasioned by the said interrogatories and the answers thereto shall be paid in any event by the party in fault.]

 

৪ : প্রশ্নমালার ছাঁচ [Form of interrogatories] : পরিস্থিতি অনুযায়ী যে রকম প্রয়োজন হয়, সে রকম পরিবর্তনের সাথে প্রশ্নমালা গ—পরিশিষ্টের ২ নং ছাঁচে হতে হবে। [Interrogatories shall be in Form No. 2 in Appendix C, with such variations as circumstances may require.]

 

৫ : আইন দ্বারা গঠিত সংস্থা [Corporations] : যেক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোনো পক্ষ একটি আইন দ্বারা গঠিত সংস্থা বা বহু ব্যক্তির দল তা নিগমবদ্ধ করা হোক বা না হোক, ইহার নিজের নামে বা অন্য কোনো কর্মকর্তার নামে বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে মোকদ্দমা করতে বা ইহার বিরুদ্ধে এরূপে মোকদ্দমা করতে অপর কোনো ব্যক্তি আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে, সেক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো সদস্য বা কর্মকর্তাকে প্রশ্নমালা প্রদান করার জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে পারবে এবং তদানুসারে আদেশ প্রদান করা যেতে পারে। [Where any party to a suit is a corporation or a body of persons, whether incorporated or not, empowered by law to sue or be sued, whether in its own name or in the name of any officer or other person, any opposite party may apply for an order allowing him to deliver interrogatories to any member or officer of such corporation or body, and an order may be made accordingly.]

 

৬ : প্রশ্নমালায় উত্তরদানের দ্বারা আপত্তি প্রদান  [Objections to interrogatories by answer] : কোনো প্রশ্নমালা কুৎসামূলক বা অপ্রাসঙ্গিক বা মোকদ্দমার উদ্দেশ্যে সরল বিশ্বাসে প্রদর্শিত হয়নি বা জিজ্ঞাসিত বিষয়টি মোকদ্দমার এই পর্যায়ে যথেষ্টভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়; এরূপ অজুহাতে প্রশ্নমালার উত্তরদানে কোনো আপত্তি দিতে চাইলে উত্তরদানের মধ্যে শপথনামা প্রদান করা যাবে।

 

৭ : প্রশ্নমালা বাতিল এবং কেটে দেওয়া [Setting aside and striking out interrogatories] : কোনো প্রশ্নমালা অযৌক্তিকভাবে বা বিরক্তিকরভাবে প্রদর্শিত হয়েছে; এই অজুহাতে তা বাতিল করা যেতে পারে অথবা এগুলি দীর্ঘ ও শব্দবহুল, উৎপীড়ক, অপ্রয়োজনীয় বা কুৎসামূলক, এই অজুহাতে তা কেটে দেওয়া যেতে পারে, এবং এতদুদ্দেশ্যে কোনো আবেদন করতে হলে প্রশ্নমালা জারির সাত দিনের ভিতর করতে হবে।

 

৮ : উত্তর দাখিলের শপথনামা [Affidavit in answer, filing] : শপথনামার দ্বারা ১০ দিনের ভিতর প্রশ্নমালার উত্তর দাখিল করতে হবে।

 

৯ : উত্তরদানের শপথনামার ছাঁচ [Form of affidavit in answer] : পরিস্থিতির আলোকে যে রকম প্রয়োজন হয়, সেরকম রদবদলসহ প্রশ্নমালার উত্তরদানে গ—পরিশিষ্টে বর্ণিত ৩নং ছাঁচে শপথনামা হতে হবে ।

 

১০ : কোনো আপত্তি চলবে না [No exception to be taken]  : উত্তরদানের শপথনামার প্রতি কোনো আপত্তি প্রদান চলবে না, কিন্তু এরূপ শপথনামার পর্যাপ্ততা বা অন্য কিছু সম্পর্কে আপত্তি করা হলে উহার অপর্যাপ্ততা আদালত কর্তৃক নির্ধারণ করা হবে।

 

১১ : উত্তর বা অতিরিক্ত উত্তরদানের আদেশ [Order to answer or answer further] : কোনো ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হলে সে যদি উত্তর না দেয় বা অপর্যাপ্ত উত্তর দেয় তবে সেই ব্যক্তিকে উত্তর দেয়ার বা যথেষ্ট উত্তর দেয়ার আদেশ দানের জন্য প্রশ্নকারী পক্ষ আদালতে আবেদন করতে পারেন এবং তাকে শপথনামার মাধ্যমে মৌখিক জবানবন্দির দ্বারা উত্তর প্রদানের বা অতিরিক্ত উত্তরদানের জন্য আদালত নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

 

১২ : দলিল আবিষ্কারের আবেদনপত্র [Application for discovery of documents] : কোনো মোকদ্দমায় উদ্ভূত কোনো প্রশ্ন সংক্রান্ত কোনো দলিল যদি কোনো পক্ষের হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন থাকে, তবে অপর পক্ষ শপথনামা ব্যতীতই আদালতে এই মর্মে আবেদন করতে পারেন যে, অপর পক্ষকে শপথের মাধ্যমে উক্ত দলিল আবিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হোক। আদালত এরূপ আবেদন সম্পর্কে শুনানির পর যদি সম্ভষ্ট হন যে, অনুরূপ আবিষ্কারের প্রয়োজন নিন বা মোকদ্দমার এই পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নয়, তবে আদালত সেই আদেশ দানে অস্বীকার করতে পারেন অথবা ইহা স্থগিত রাখতে পারেন, অথবা সাধারণভাবে বা সীমিত কোনো শ্রেণির দলিল সম্পর্কে যেরূপ সঙ্গত মনে করেন সেরূপ আদেশদান করতে পারেন।

 

তবে শর্ত থাকে যে, আদালতের কাছে যখন মোকদ্দমার সুষ্ঠু বিচারের জন্য বা মোকদ্দমার খরচ বাঁচানোর জন্য ইহা প্রয়োজনীয় নয় বলে মনে হয়, তখন আদালত আবিষ্কারের আদেশ প্রদান করবেন না।

 

১৩ : দলিলের শপথনামা [Affidavit of documents] : যে পক্ষের বিরুদ্ধে উপরে বর্ণিত সর্বশেষ বিধির বিধান অনুযায়ী আদেশ দেওয়া হয়েছে, সে পক্ষ যদি উক্ত আদেশে উল্লি­খিত দলিলসমূহের মধ্যে কোনোটি (যদি থাকে) হাজির করতে সে আপত্তি করে, তা শপথনামায় ¯পষ্টভাবে উল্লে­খ করতে হবে এবং ইহা গ—পরিশিষ্টের ৫ নং ছাঁচে, পরিস্থিতির প্রয়োজনে অনুরূপ রদবদলসহ হতে হবে।

 

১৪ : দলিল দাখিল [Production of documents] : কোনো মোকদ্দমা বিচারাধীন থাকাকালে মোকদ্দমার কোনো বিষয়ের প্রশ্ন সম্পর্কিত দলিল কোনো পক্ষের হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন থাকলে, যেকোনো সময় আদালত সঠিক মনে করলে, সেই পক্ষকে শপথের মাধ্যমে সেই দলিল উপস্থিত করার আদেশ দান করলে তা আইনসঙ্গত হবে; এবং উক্ত দলিল উপস্থিত করা হলে আদালতের কাছে যেরূপ সঙ্গত মনে হয়, সেরূপভাবে তা ব্যবহার করতে পারবেন।

 

১৫ : আরজি জবাব বা শপথনামায় উল্লি­খিত দলিলপত্র পরিদর্শন [Inspection of documents referred to in pleadings or affidavits]  : মোকদ্দমার প্রত্যেক পক্ষ অপর পক্ষকে তার আরজি জবাব বা শপথনামায় যেকোনো দলিলের বিষয় উল্লে­খ করেছেন, তার পরিদর্শনের জন্য বা তার উকিল কর্তৃক পরিদর্শনের জন্য এবং উক্ত দলিলের নকল নেয়ার জন্য তাকে বা তাদেরকে অনুমতি দেয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করতে পারেন এবং কোনো পক্ষ উক্ত নোটিশ তামিল না করলে, সেই পক্ষ পরে উক্ত দলিল তার স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না, যদি না সে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারে যে, উক্ত দলিল সে মোকদ্দমায় বিবাদী হওয়ায় কেবল তার নিজস্ব স্বত্বের সাথে সম্পর্কিত, অথবা তার অন্য কোনো কারণ বা অজুহাত থাকে যা আদালত নোটিশ মান্য না করার জন্য যথেষ্ট মনে করেন, যেক্ষেত্রে আদালত খরচ ও অন্যান্য উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে উক্ত দলিল প্রমাণ হিসেবে দাখিল করার অনুমতি দিতে পারেন।

 

১৬ : হাজির করার নোটিশ [Notice to produce] : কোনো পক্ষের আরজি জবাব বা শপথনামায় উল্লি­খিত ৭ নং ছাঁচে হতে হবে।

 

১৭ : যখন নোটিশ দেওয়া হয়, তখন পরিদর্শনের সময় [Time for inspection when notice given] : যে পক্ষকে উক্ত নোটিশ দেওয়া হবে, সেই পক্ষ উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে নোটিশ প্রদানকারী পক্ষকে একটি নোটিশ দিয়ে জানাবে যে, সংশ্লিষ্ট দলিলগুলি বা তন্মধ্যে যেগুলি উপস্থিত করতে সে আপত্তি করবে না, সেগুলি এই নোটিশ প্রদানের ৩ দিনের মধ্যে কোনো এক সময়ে তার উকিলের কার্যালয়ে অথবা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হিসাব বহির ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো হিসাব বহি বা ব্যবসা—বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে সর্বক্ষণ ব্যবহৃত কোনো বহির ক্ষেত্রে বা ইহাদের স্বাভাবিক সংরক্ষিত স্থানে পদির্শন করা যাবে, এবং যে দলিলগুলি উপস্থিত করতে সে আপত্তি করে, (যদি থাকে) সেগুলি এবং আপত্তির কারণ উল্লে­খ করবেন। পরিস্থিতির প্রয়োজনে রদবদলসহ এরূপ নোটিশ গ—পরিশিষ্টের ৮নং ছাঁচে হতে হবে।

 

১৮ : পরিদর্শনের আদেশ [Order for inspection] : ১) যেক্ষেত্রে ১৫ বিধি অনুসারে নোটিশ প্রাপ্ত পক্ষ পরিদর্শনের জন্য সময় নির্দেশ করে নোটিশ না দেয়, বা পরিদর্শনের সুযোগ প্রদানে আপত্তি করে, অথবা উকিলের কার্যালয় ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে পরিদর্শনের প্রস্তাব করে, সেক্ষেত্রে ইহা প্রত্যাশী পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত সেরূপ স্থানে এবং পন্থায় পরিদর্শনের আদেশ দিতে পারেন, যেরূপ তিনি সঙ্গত মনে করেন।

 

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত যদি মনে করেন যে, মোকদ্দমার সুষ্ঠুু বিচারের জন্য বা মোকদ্দমার খরচ বাঁচানোর জন্য ইহা প্রয়োজনীয় নয়, তবে আদালত সেরূপ আদেশ প্রদান করবেন না।

 

২) যে পক্ষের দলিল পরিদর্শনের জন্য আবেদন করা হয়, সেই পক্ষের আরজি জবাবের বিবরণী বা শপথনামায় উল্লি­খিত দলিলসমূহ বা তার শপথনামার প্রকাশিত দলিলপত্রসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো দলিল পরিদর্শনের জন্য যদি আবেদন করা হয়, তবে তা কোনো শপথনামার উপর ভিত্তি করে দেখাতে হবে যে, কোনো দলিলগুলি পরিদর্শনের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং সেগুলি পরিদর্শনের জন্য আবেদনকারী পক্ষের অধিকার আছে এবং এগুলি অপর পক্ষের হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন আছে । আদালত যদি মনে করেন যে, মোকদ্দমাটির সুষ্ঠুু বিচারের জন্য বা খরচ বাঁচাবার জন্য উক্ত দলিলগুলি পরিদর্শনের প্রয়োজন নিন, তবে আদালত অনুরূপ আদেশ দান করবেন না।

 

১৯ : সত্যতা প্রতিপাদনকৃত নকল : ১) যেক্ষেত্রে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব বহি পরিদর্শনের পরিবর্তে উহার সংশ্লিষ্ট অঙ্কের লিখিত বিষয়ের নকল উপস্থিত করার এবং যে ব্যক্তি মূল বহির সাথে উক্ত নকল পরীক্ষা করে দেখেছে, তার শপথনামা দ্বারা যথার্থতা প্রতিপন্ন করতে আদেশ দিতে পারেন, এবং উক্ত মূল বহিতে কোনো লেখা ঘষে তোলা হয়েছে কিনা, পংক্তির মধ্যে কিছু লেখা বা কোনো পরিবর্তন আছে কিনা অনুরূপ শপথনামায় তা বর্ণনা করতে হবে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপভাবে নকল সরবরাহ করা সত্ত্বেও আদালত মূল বহি পরিদর্শনের আদেশ দিতে পারেন।

 

২) যেক্ষেত্রে পরিদর্শনের আদেশ দানের জন্য আবেদন করা হলে কোনো দলিল সম্পর্কে অব্যাহতি দাবি করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্তরূপ অব্যাহতি দাবির বৈধতা নিরূপনের উদ্দেশ্যে আদালত যদি সেই দলিল পরিদর্শন করেন, তবে তা আইন সঙ্গত হবে।

 

৩) যেকোনো সময় মোকদ্দমার কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে এবং দলিলের কোনো শপথনামা করার আদেশ প্রদান করা হয়ে থাকুক বা না থাকুক, আদালত অপর পক্ষকে শপথনামার দ্বারা উক্ত আবেদনে সুনির্দিষ্ট কোনো একটি বা একাধিক দলিল তার হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন আছে বা রয়েছে কিনা এবং সেই সময় যদি তার হস্তগত না থাকে, তবে কখন সে হস্তান্তরিত করেছে এবং উহার কি হয়েছে তা বর্ণনা করতে নির্দেশ দিতে পারেন। এরূপ আবেদনপত্রে শপথনামার দ্বারা বর্ণনা করতে হবে যে, যার বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে, আবেদনপত্রে বর্ণনা করতে নির্দেশ দিতে পারেন। এরূপ আবেদন পত্রে শপথনামার দ্বারা বর্ণনা করতে হবে যে, যার বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছে, আবেদন পত্রে উল্লি­খিত দলিল বা দলিলসমূহ সাক্ষীর বিশ্বাস অনুযায়ী, সেই পক্ষের হস্তগত বা আয়ত্ত্বাধীন আছে বা ছিলো, মোকদ্দমার বিষয়সমূহের প্রশ্নগুলির সাথে এগুলি বা ইহাদের কোনোটি সম্পর্কিত ।

 

২০ : অকালীন আবিষ্কার [Premature discovery] : যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের নিকট হতে কোনো দলিলের আবিষ্কার বা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হলে সেই পক্ষ যদি উক্ত নির্দেশ সম্পর্কে বা উহাতে আংশিকভাবে আপত্তি করে, সেক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করেন যে, উহা আবিষ্কার বা পরিদর্শন করার অধিকার মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় বা বিরোধীয় কোনো প্রশ্নে নিষ্পত্তির উপর নির্ভর করে, অথবা যদি অন্য কোনো কারণে আবিষ্কার বা পরিদর্শনের অধিকার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে মোকদ্দমার কোনো বিচার্য বিষয় বা বিরোধীয় প্রশ্নে নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয় মনে করা হয়, তবে আদালত আবিষ্কার বা পরিদর্শনের প্রশ্নটি সংরক্ষিত রেখে প্রথমে উক্ত বিচার্য বিষয় বা বিরোধীয় বিষয়টি নির্ধারণ করার নির্দেশ দিতে পারেন।

 

২১ : আদেশ পালন না করা [Noncompliance with order for discovery] : কোনো পক্ষ প্রশ্নমালার জবাবদানের বা কোনো দলিল আবিষ্কারের বা পরিদর্শনের জন্য প্রদত্ত আদেশ পালনে ব্যর্থ হলে সে যদি বাদী হয়, তবে তার মোকদ্দমা চালানোর অভাবে খারিজের যোগ্য হবে এবং সে যদি বিবাদী হয়, তবে তার জবাব (যদি থাকে) কেটে দেওয়া হবে এবং সে কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন না করলে যে অবস্থা থাকত সেরূপ অবস্থায় স্থাপন করা হবে, এবং প্রশ্নকারী বা আবিষ্কার বা পরিদর্শন অন্বেষণকারী পক্ষ আদালতে এই মর্মে আদেশ দানের জন্য আবেদন করতে পারে এবং তদানুযায়ী আদালত আদেশ প্রদান করতে পারবেন।

 

২২ : বিচারে প্রশ্নমালার উত্তরের ব্যবহার [Using answers to interrogatories at trial]  : কোনো মোকদ্দমার বিচারের সময় কোনো পক্ষ প্রশ্নমালার জবাবে অপর পক্ষের প্রদত্ত উত্তরসমূহের একটি বা একাধিক কিংবা কোনো উত্তরের অংশ বিশেষ অন্যান্য উত্তর বা উত্তরের অংশ সংযুক্ত না করেও প্রমাণ স্বরূপ ব্যবহার করতে পারবে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ ক্ষেত্রে আদালত সর্বদা উক্ত উত্তরের সমগ্রতায় দৃষ্টিপাত করতে পারেন এবং আদালত যদি মনে করেন যে, এগুলির অন্য অংশটিও যা সংযুক্ত করা হয়েছে, তার সাথে এমন সম্পর্কিত যে, পূর্বে উল্লি­খিত উত্তরটিও এগুলি ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়, তবে তা সংযুক্ত করার আদেশ দিতে পারেন।

 

২৩ : আদেশটি নাবালকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য [Order to apply to minors] : অত্র আদেশ নাবালক বাদী এবং বিবাদীগণের ক্ষেত্রে এবং মোকদ্দমার অক্ষম ব্যক্তিগণের নেক্সট ফ্রেন্ড ও অভিভাবকগণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয় ।

 

 

স্বীকৃতি প্রসঙ্গ : ১২ নং আদেশ

আদেশ ১২ : স্বীকৃতি  [Admissions]

 

১ : মোকদ্দমা স্বীকারের নোটিশ  [Notice of admission of case] : মোকদ্দমার যেকোনো পক্ষ তার আরজি জবাব দ্বারা বা অন্য কোনোরূপে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে পারবে যে, সে অপর পক্ষের মোকদ্দমার সত্যতা সামগ্রিক বা আংশিকভাবে স্বীকার করে।  [Any party to a suit may give notice, by his pleading, or otherwise in writing, that he admits the truth of the whole or any part of the case of any other party.]

 

 

২ : দলিল স্বীকারের নোটিশ  [Notice to admit documents] : সঙ্গত ব্যতিক্রম রক্ষা করে, কোনো দলিল স্বীকার করে নেয়ার জন্য নোটিশ জারির তারিখ হতে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মোকদ্দমায় যেকোনো পক্ষ অপর পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাতে পারে, এবং উক্ত নোটিশের পরে যদি সেই পক্ষ স্বীকার করতে অস্বীকার বা অবহেলা করে, তবে মোকদ্দমার ফলাফল যাই হোক, এরূপ কোনো দলিল প্রমাণের খরচ উক্ত অস্বীকারকারী বা আবেদনকারী পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত অন্য কোনো রকম নির্দেশ দেন এবং আদালতের ইচ্ছায় ব্যয় লাঘবের জন্য নোটিশ প্রদান বাদ দেওয়া হলে তা ব্যতীত দলিল প্রমাণের কোনো খরচ মঞ্জুর করা যাবে না, যদি না অনুরূপ নোটিশ দেওয়া হয়ে থাকে। [Either party may call upon the other party to admit, within fifteen days from the date of service of notice, any document, saving all just exceptions; and in case of refusal or neglect to admit, after such notice, the costs of proving any such document shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs; and no costs of proving any document shall be allowed unless such notice is given, except where the omission to give the notice is, in the opinion of the Court, a saving of expense.]

 

৩ : নোটিশের ছাঁচ [Form of notice] : পরিস্থিতির প্রয়োজনে রদবদলসহ দলিল স্বীকারের ছাঁচ গ—পরিশিষ্টে বর্ণিত ৯নং ছাঁচে হতে হবে।

 

৪ : তথ্যসমূহ স্বীকারের জন্য নোটিশ [Notice to admit facts] : কোনো পক্ষ শুনানির জন্য ধার্য তারিখের তথ্য বা তথ্যসমূহের স্বীকারোক্তি করার জন্য অপর পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে পারবে এবং এক্ষেত্রে উক্ত অপর পক্ষ যদি নোটিশ জারির পর ছয় দিনের মধ্যে অথবা আদালতের মঞ্জুরীকৃত সময়ের মধ্যে উক্তরূপ স্বীকারোক্তি করতে অস্বীকার করে বা অবহেলা করে, তবে মোকদ্দমার ফলাফল যাই হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি প্রমাণ করার খরচ উক্ত অস্বীকারকারী বা অবহেলাকারী পক্ষকে পরিশোধ করতে হবে, যদি না আদালত কোনো বিপরীত নির্দেশ দেন। [Any party may, by notice in writing, at any time not later than nine days before the day fixed for the hearing, call on any other party to admit, for the purposes of the suit only, any specific fact or facts mentioned in such notice. And in case of refusal or neglect to admit the same within six days after service of such notice, or within such further time as may be allowed by the Court, the costs of proving such fact or facts shall be paid by the party so neglecting or refusing, whatever the result of the suit may be, unless the Court otherwise directs:]

 

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত নোটিশ অনুসারে যদি সেই পক্ষ স্বীকারোক্তি করে, তবে তা কেবল সেই মোকদ্দমার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে এবং উহা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই পক্ষের বিরুদ্ধে অথবা নোটিশদানকারী পক্ষ ভিন্ন অন্য কোনো ব্যক্তির অনুকূলে ব্যবহার করা চলবে না। [Provided that any admission made in pursuance of such notice is to be deemed to be made only for the purposes of the particular suit, and not as an admission to be used against the party on any other occasion or in favour of any person other than the party giving the notice:]

 

তবে আরও শর্ত থাকে যে, আদালত যেকোনো সময় যেকোনো পক্ষকে যেরূপ সঙ্গত মনে করেন সেরূপ শর্ত সাপেক্ষে অনুরূপ স্বীকারোক্তি সংশোধন বা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারেন। [Provided also that the Court may at any time allow any party to amend or withdraw any admission so made on such terms as may be just.]

 

৫ : স্বীকারোক্তির ছাঁচ [Form of admission] : পরিস্থিতির প্রয়োজনে রদবদলসহ কোনো ঘটনা স্বীকারের নোটিশ গ—পরিশিষ্টের ১০ নং ছাঁচে এবং ঘটনার স্বীকারোক্তি গ—পরিশিষ্টের ১১ নং ছাঁচে হতে হবে।

 

৬ : স্বীকারোক্তির উপর রায় [Judgment on admissions] : যেক্ষেত্রে আরজি জবাবে বা অন্যভাবে কোনো ঘটনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে যেকোনো পক্ষ আদালতে এই মর্মে আবেদন করতে পারে যে, পক্ষগণের মধ্যে বিরোধভুক্ত অন্য যেকোনো প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা না করে, উপরোক্ত স্বীকারোক্তি যতদূর তার অনুকূলে হয়েছে, সেই পর্যন্ত রায় বা আদেশ দান করা হোক এবং আদালত অনুরূপ আবেদনক্রমে যেরূপ সঙ্গত মনে করেন, সেরূপ রায় বা আদেশ দান করতে পারবেন। [Any party may, at any stage of a suit, where admissions of fact have been made, either on the pleadings, or otherwise, apply to the Court for such judgment or order as upon such admissions he may be entitled to, without waiting for the determination of any other question between the parties: and the Court may upon such application make such order, or give such judgment, as the Court may think just.]

 

৭ : স্বাক্ষরের শপথনামা [Affidavit of signature] : কোনো ঘটনা বা দলিল সম্পর্কে স্বীকারোক্তির জন্য নোটিশ দেওয়া হলে, তদানুসারে কোনো স্বীকারোক্তি করা হলে, যদি উহার প্রমাণ আবশ্যক হয়, তবে উকিল বা তার মহুরী উক্ত স্বীকারোক্তিতে প্রদত্ত স্বাক্ষরের শপথনামা প্রদান করলে, তা যথেষ্ট প্রমাণ বলে গণ্য হবে। [An affidavit of the pleader or his clerk, of the due signature of any admissions made in pursuance of any notice to admit documents or facts, shall be sufficient evidence of such admissions, if evidence thereof is required.]

 

৮ : দলিল দাখিলের নোটিশ [Notice to produce documents] : পরিস্থিতির প্রয়োজনে রদবদলসহ দলিল দাখিলের নোটিশ গ—পরিশিষ্টের ১২ নং ছাঁচে হতে হবে। দাখিলের নোটিশ জারির এবং ইহা জারির সময় সম্পর্কে দাখিলের উক্ত নোটিশের নকলসহ কোনো উকিল বা তার মহুরীর শপথনামা সকল ক্ষেত্রে নোটিশ জারির এবং ইহা জারির সময় সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ বলে গণ্য হবে ।

 

৯ : খরচসমূহ [Costs] : যদি দলিল বা স্বীকারোক্তির জন্য প্রদত্ত নোটিশে কোনো অপ্রয়োজনীয় দলিলের উল্লে­খ থাকে, তবে উহার ফলে যে ব্যয় হবে তা নোটিশ প্রদানকারীর পক্ষ বহন করবে। [If a notice to admit or produce specifies documents which are not necessary, the costs occasioned thereby shall be borne by the party giving such notice.]

 

 

দলিল আটক, ফেরত ইত্যাদি প্রসঙ্গ : ১৩ আদেশ

আদেশ ১৩ : দলিলপত্র দাখিল করা, আটক করা ও ফেরত দেওয়া [Production, impounding and return of documents]

 

(১ ও ২ নং বিধিগুলি ১৯৮৩ সালের ৪৮নং অধ্যাদেশ জারি ক্রমে বাদ দেওয়া হয়েছে)

 

৩ : অপ্রাসঙ্গিক বা অগ্রহণযোগ্য দলিল প্রত্যাখ্যান [Rejection of irrelevant or in -admissible documents] : মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে আদালত যদি মনে করেন যেকোনো একটি দলিল অপ্রাসঙ্গিক বা অন্য কোনোভাবে অগ্রহণযোগ্য, তবে কারণ লিপিবদ্ধ করে আদালত সেই দলিল প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন।

 

৪ : প্রমাণ হিসেবে গৃহীত দলিলের উল্টো পৃষ্ঠে লিখন [Endorsements on documents admitted in evidence] : ১) পরবর্তী বিধির বিধান সাপেক্ষে, মোকদ্দমার প্রমাণ হিসেবে গৃহীত প্রত্যেক দলিলের উল্টো পৃষ্ঠে নিম্নলিখিত বিবরণগুলি লিখতে হবেÑ

 

ক) মোকদ্দমার নম্বর ও শিরোনাম;

খ) দলিল দাখিলকারীর নাম;

গ) ইহা দাখিলের তারিখ; এবং

ঘ) ইহা গৃহীত হওয়া মর্মে একটি বিবৃতি; এবং উক্ত উল্টো পৃষ্ঠের লিখন [endorsement] বিচারক কর্তৃক সহিকৃত [signed] বা আদ্যক্ষর দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে।

 

২) যেক্ষেত্রে কোনো হিসাব বহি, হিসাব বা নথির লিখন উক্তরূপে গৃহীত হয়, এবং যদি পরবর্তী বিধি অনুসারে মূল দলিলের পরিবর্তে নকল দাখিল করা হয়ে থাকে, তবে উপরোক্ত বিবরণগুলি সেই নকলের উল্টো পৃষ্ঠে লিখতে হবে এবং সেই উল্টো পৃষ্ঠের লিখন বিচারক কর্তৃক সহিযুক্ত বা আদ্যক্ষর যুক্তভাবে স্বাক্ষরিত হতে হবে।

 

৫ : বহি, হিসাব ও নথির লিপিভুক্ত বিষয় গৃহীত হলে, ইহার নকলের উপর পৃষ্ঠাঙ্কন : ১) ১৮৯১ সালের ব্যাংক মালিকের হিসাব খাত প্রমাণ আইনে (Banker’s Books Evidence Act, 1819)  অন্য রকম যে বিধান আছে, তৎসাপেক্ষে, প্রমাণ হিসেবে গৃহীত কোনো দলিল যদি কোনো পত্র—বহি, দোকানের হিসাব বহি, বা বর্তমানের ব্যবহার্য অন্য কোনো হিসাব হয়, তবে যে পক্ষের তরফ হতে বহি বা হিসাবটি দাখিল করা হয়, সেই পক্ষ লেখাটির একটি নকল সরবরাহ করতে পারবে ।

 

২) যেক্ষেত্রে অনুরূপ দলিল কোনো সরকারি কার্যালয় হতে বা সরকারি কর্মকর্তার দাখিলকৃত সরকারি নথির লিপিভুক্ত বিষয় হয়, বা যে পক্ষের তরফ হতে দাখিল করা হয়েছে, সেই পক্ষ ভিন্ন অন্য কোনো ব্যক্তির বহি বা হিসাবের লিপিভুক্ত বিষয় হয়, তবে আদালত—

 

ক) যখন নথি, বই বা হিসাবটি কোনো পক্ষের তরফ হতে দাখিল করা হয়ে থাকে, তখন সেই পক্ষ কর্তৃক, বা

 

খ) যদি সেই নথি, বহি বা হিসাবটি আদালতে স্বতঃপ্রবৃত্ত নির্দেশ অনুযায়ী দাখিল করা হয়ে থাকে, তবে যেকোনো পক্ষ কর্তৃক, লিপিভুক্ত বিষয়টির একটি নকল সরবরাহের নির্দেশ দিতে পারবেন।

 

৩) অত্র বিধির উপরে বর্ণিত বিধান অনুসারে যখন কোনো লিপিভুক্ত বিষয়ের নকল সরবরাহ করা হয়, তখন আদালত ৭ম আদেশের ১৭ বিধি অনুসারে নকলটি পরীক্ষা, তুলনা ও প্রত্যয়ন করে লিপিভুক্ত বিষয়টি চিহ্নিত করাবেন এবং বহি, হিসাব বা নথিটি দাখিল কারক ব্যক্তির নিকট ফেরত দেওয়া হবে না।

 

৬ : প্রমাণ হিসেবে অগ্রহণযোগ্য প্রত্যাখ্যাত দলিলের উপর পৃষ্ঠাঙ্কন [Endorsements on documents rejected as inadmissible in evidence] : যেক্ষেত্রে কোনো দলিলকে প্রমাণ হিসেবে কোনো পক্ষ নির্ভর করেন, সেক্ষেত্রে আদালত যদি মনে করেন যে, উক্ত দলিল প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় তবে ৪ বিধি অন্তর্গত (১) উপবিধির ক, খ এবং গ—দফাসমূহে উল্লি­খিত বিবরণগুলির সাথে উহা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে মর্মে একটি বিবৃতি পৃষ্ঠাঙ্কন করতে হবে এবং এরূপ পৃষ্ঠাঙ্কন বিচারক কর্তৃক সহিকৃত বা আদ্যক্ষর যুক্তভাবে স্বাক্ষরিত হতে হবে।

 

৭ : গৃহীত দলিলের নথিভুক্তকরণ ও প্রত্যাখ্যাত দলিল ফেরত দান [Recording of admitted and return of rejected documents]  : ১) প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে এরূপ প্রত্যেকটি দলিল অথবা ৫ বিধি অনুসারে মূল দলিলের পরিবর্তে উহার নকল দাখিল করা হয়ে থাকলে, তা মোকদ্দমার নথির অংশ বলে গণ্য হবে।

 

২) যেসকল দলিল প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়নি, সেগুলি নথিপত্রের অংশ রূপে গণ্য হবে না, এবং সেগুলি যথাক্রমে দাখিলকারী ব্যক্তিগণের নিকট ফেরত দিতে হবে।

 

৮ : আদালত কোনো দলিল আটক করার আদেশ দিতে পারেন [Court may order any document to be impounded]  : অত্র আদেশের ৫ ও ৭ বিধি অথবা ৭ম আদেশের ১৭ বিধিতে বর্ণিত যেকোনো কিছু সত্ত্বেও, আদালত যদি যথেষ্ট কারণ দেখতে পান, তবে ইহার সম্মুখে কোনো মোকদ্দমায় দাখিলকৃত কোনো দলিল বা বহি আটক করার এবং উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আদালতের কোনো কর্মচারীর হেফাজতে রাখার নির্দেশ দান করতে পারেন।

 

৯ : স্বীকৃত দলিলপত্র ফেরতদান [Return of admitted documents] : ১) কোনো ব্যক্তি সে মোকদ্দমার পক্ষ হোক বা না হোক, যদি সে মোকদ্দমায় কোনো দলিল দাখিল করে থাকে এবং উহা নথিতে স্থাপিত হয়ে থাকে, তবে ৮ বিধি অনুসারে দলিল আটক না হয়ে থাকলে, উক্ত ব্যক্তি উক্ত দলিল ফেরত নিতে চাইলে—

 

ক) যদি মোকদ্দমাটির আপিলের অনুমতি না থাকে, তবে মোকদ্দমাটির নিষ্পত্তি শেষ হলে, এবং

 

খ) যদি মোকদ্দমাটি আপিল যোগ্য হয়, তবে আপিল দায়ের করার সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও যদি আদালত দেখতে পান যেকোনো আপিল দায়ের হয়ে থাকে, তবে আপিল নিষ্পত্তি হলে, তা ফেরত পাবে।

 

তবে শর্ত থাকে যে, দলিল ফেরত নেবার জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি যদি মূল দলিলের পরিবর্তে উহার একটি সহি মোহরকৃত নকল আদালতে জমা রাখার জন্য যথার্থ কর্মচারীর নিকট প্রদান করেন, এবং প্রয়োজন হলে মূল দলিলটি হাজির করার অঙ্গীকার করেন, তবে এই বিধির নির্ধারিত সময়ের পূর্বেও দলিল ফেরত দেওয়া যাবে।

 

আরও শর্ত থাকে যে, ডিক্রির বলে কোনো দলিল সম্পূর্ণ বাতিল বা অকার্যকর হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়া যাবে না।

 

২) প্রমাণ হিসেবে গৃহীত কোনো দলিল ফেরত দেওয়া হলে, যে ব্যক্তি উহা ফেরত নিবে, তার একটি রশিদ দিতে হবে।

 

১০ : আদালত ইহার নিজ নথি বা অন্য আদালতের নথি হতে কাগজপত্র তলব দিতে পারেন : ১) আদালত স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বা মোকদ্দমার কোনো পক্ষের আবেদনক্রমে ইচ্ছা করলে স্বীয় আদালতের বা অন্য কোনো আদালতের কোনো মোকদ্দমার বা কার্যক্রমের তলব করতে ও তা পরিদর্শন করতে পারবেন।

 

২) অত্র বিধি অনুসারে প্রত্যেক আবেদনপত্র (যদি না আদালত অন্যরূপ নির্দেশ দিয়ে থাকেন) সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমার সাথে নথিটি কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ অথবা উক্ত নথির বা উহার কোনো অঙ্কের যা আবেদনকারীর প্রয়োজন, তার যথাবিহীতরূপে প্রামাণিক নকল নিতে অযৌক্তিক বিলম্ব বা অর্থ ব্যয় হবে, অথবা ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্যে মূল দলিলটি হাজির করা প্রয়োজন, এই মর্মে একটি শপথনামা (affidavit) সমর্থিত হতে হবে।

 

৩) সাক্ষ্য আইন অনুসারে যে দলিল সংশ্লিষ্ট মোকদ্দমায় প্রমাণ হিসেবে অগ্রহণযোগ্য, তদ্রুপ কোনো দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য আদালতকে ক্ষমতা প্রদান করে বলে অত্র বিধির অন্তর্ভুক্ত কোনো কিছুকেই গণ্য করা যাবে না।

 

১১ : গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত দলিলপত্র সম্পর্কে বিধানসমূহ : দলিলপত্র সম্পর্কে এখানে অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহ প্রমাণ হিসেবে আদালতে হাজির করার যোগ্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর ক্ষেত্রেও যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।