আইনকানুন একাডেমি

দণ্ডবিধির প্রথম অধ্যায় তথা ধারা ১-৫ পর্যন্ত এবং সিলেবাসে উল্লেখ থাকা ‘অপরাধের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ’ সংক্রান্তে এই লেকচারে আলোচনা রয়েছে।

মূল আলোচনা

বার কাউন্সিল অর্ডার ও রুলস, আচরণবিধি ইত্যাদি নিয়ে বার কাউন্সিলের সিলেবাসে যা যা আছে সেগুলো সবই একসাথে এখানে আলোচনা করা হলো। মূলত এখানে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ ও বিধিগুলোর সারমর্ম করে দেওয়া আছে। এগুলো একদফা পড়ে নিয়ে আপনারা এই লেকচারের শেষেই সংশ্লিষ্ট অর্ডার, বিধি ইত্যাদির মূল আইনটি তুলে দেয়া আছে যেন আপনারা নিজেরাও আইনগুলো পড়ে নিতে নিতে সারসংক্ষেপ করতে পারেন। আমাদের দেওয়া সারসংক্ষেপে পুরনো সংস্করণের আলোচনাই বহাল রাখা হলো বর্তমান সংস্করণে। আলোচিত বিষয়সমূহ –

 

১। দি বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২।

২। দি বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২।

৩। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গঠন ও কার্যাবলী।

৪। বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশনের মধ্যে পার্থক্য।

৫। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের গঠন, এখতিয়ার এবং কার্য পদ্ধতি।

৬। আইনজীবীদের আচরণ সম্পর্কে নীতিমালা।

 

উল্লিখিত এই ৬টি বিষয় বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সিলেবাস  অনুযায়ী আমাদের পড়াশোনা সম্পন্ন হবে। প্রথমে এই বিষয়বস্তুসমূহের আলোচনার সারসংক্ষেপ দেওয়া আছে। পরে সংশ্লিষ্ট অর্ডার, রুলস এবং আচরণবিধিÑ এগুলোর মূল বাংলা আইনটি দেওয়া আছে।

 

যে আইনের মাধমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠা সেই আইনটি হচ্ছে The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 । ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র মোতাবেক রাষ্ট্রপতির উপরে যে ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয় সেই ক্ষমতায় তিনি বেশ কিছু আদেশ প্রদান করে। তারই একটি দি বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২। এই আদেশে তিনটি প্রতিষ্ঠানের গঠনের কথা উল্লে­খ করা আছেÑ

                ১। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল

                ২। বার এসোসিয়েশন

                ৩। বার ট্রাইব্যুনাল

 

বার কাউন্সিল

বাংলাদেশ আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ, তাদের পেশাগত সুবিধা প্রদান, নতুন আইনজীবীদের তালিকাভুক্ত করণ, পেশাগত অসদাচরণের বিচার এবং দেশের আইন শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন এর নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।    এককথায় দেশের আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কাজ করে থাকে।

 

বার কাউন্সিলের গঠন

বার কাউন্সিলের গঠন সম্পর্কে দি লিগ্যাল প্রাকটিশনার্স এণ্ড বার কাউন্সিল অর্ডার এর অনুচ্ছেদ ৩, ৪, ৫, ৫ক, ৬ এবং ৬ক তে আলোচনা করা আছে।

 

অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে এবং এই অনুচ্ছেদে বার কাউন্সিলের প্রকৃতি আলোচনা করা হয়েছে, এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে,

 

১। এটি একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান হবে।

২। চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার থাকবে।

৩। একটি সাধারণ সিলমোহর থাকবে।

৪। স্থাবর এবং অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি ধারণের অধিকারী হবে।

৫। চুক্তির পক্ষ হওয়ার অধিকারী হবে।

৬। এর বিরুদ্ধে যে কেউ মামলা করতে পারবে।

৭। বার কাউন্সিল অন্য যে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

 

অনুচ্ছেদ ৪ এ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ এবং মেয়াদ শুরু হবার দিন এর বিষয়ে বলা আছে। ৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বার কাউন্সিলের কমিটি গঠিত হবে ৩ বছরের জন্য এবং তা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরবর্তী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে উক্ত কমিটি তাদের যাত্রা শুরু করে। অর্থাৎ প্রতি তিন বছর পর পর জুলাইয়ের আগে সাধারণ নির্বাচন করে কাউন্সিল গঠন করতে হবে। উল্লে­খ্য, যেই বছর কমিটির মেয়াদ শেষ হবে সেই বছরের ৩১শে মে এর পূর্বে পরবর্তী তিন বছরের জন্য কমিটি নির্বাচন এর নির্বাচন কাজ শেষ করতে হবে [অনুচ্ছেদ—৮]।

 

অনুচ্ছেদ ৫ এ মূলত বার কাউন্সিলের কমিটির গঠন আলোচনা করা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বার কাউন্সিল গঠিত হবে ১৫ সদস্য নিয়ে। এই কমিটিতে থাকবেন-

 

১. বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে এই কমিটিতে থাকবেন।

২. বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের সাধারণ ভোটে নির্বাচিত ৭ জন আইনজীবী এই কমিটির সদস্য হবেন।

৩. সরকার তার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সমগ্র দেশকে ৭টি বার এসোসিয়েশনে ভাগ করবে। এসকল স্থানীয় এসোসিয়েশনের আইনজীবীদের সাধারণ ভোটে প্রতিটি এসোসিয়েশন থেকে ১ জন করে ৭ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন।

 

উপরোক্ত ১ + ৭ + ৭ = ১৫ জন সদস্য নিয়ে বার কাউন্সিল গঠিত হবে।

 

অনুচ্ছেদ ৫ক এ বার কাউন্সিল এর সদস্যদের পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা আছে। এখানে বলা আছে- একজন বার কাউন্সিলের সদস্য একটানা ২ বার এর বেশি বার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে থাকতে পারবে না। অর্থাৎ ৩ বছর করে দুইবারের মেয়াদে সর্বোচ্চ ৬ বছরের বেশি একটানা বার কাউন্সিলের কমিটির সদস্য থাকতে পারবে না।

 

অনুচ্ছেদ ৬ এ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর বিষয়ে আলোচনা করা আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-

 

১। দেশের এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।

২। বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হবেন।

৩। চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর কাজ ও ক্ষমতা এই বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

 

অনুচ্ছেদ ৬ক অনুযায়ী সরকার জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার একজনকে বার কাউন্সিলের সচিব বা সেক্রেটারি নিয়োগ করবেন।

 

বার কাউন্সিলের কার্যাবলী সম্পর্কে অনুচ্ছেদ ১০ এ কিছু বিষয় বর্ণিত আছে। সেগুলো প্রধানত নিম্নরূপ-

 

১. এডভোকেটদের তালিকাভুক্তি করা এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়া

২. এডভোকেটদের তালিকা তৈরী ও সংরক্ষণ

৩. এডভোকেটদের পেশাগত আচরণ, শিষ্টাচারের মান উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণে বিধি প্রণয়ন

৪. এডভোকেটদের অসদাচরণ নিরূপণ ও শাস্তি প্রদান

৫. তাদের অধিকার, সুযোগ—সুবিধা সম্পর্কিত স্বার্থ রক্ষা

৬. বার কাউন্সিল ফান্ড গঠন ও বিনিয়োগ

৭. বার কাউন্সিলের সদস্যদের নির্বাচনের ব্যবস্থা করা

৮. কমিটির মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য বিধি প্রণয়ন

৯. দেশের আইন শিক্ষার মান নির্ধারণে বিধি প্রণয়ন

১০. এই আদেশে অনুমোদিত অন্যান্য কাজ পরিচালনা করা

১১. বার কাউন্সিলের কার্যাবলী তদারিক করার জন্য যা যা করা দরকার তার ব্যবস্থা করা।

 

অনুচ্ছেদ ১০ এ উল্লি­খিত কাজসমূহ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য বার কাউন্সিল কিছু স্থায়ী কমিটি তৈরী করবে। অনুচ্ছেদ ১১ এবং ১১ খ তে বার কাউন্সিলের সেই কমিটি নিয়ে বলা আছে।

 

অনুচ্ছেদ ১১ এবং ১১খ অনুযায়ী বার কাউন্সিলের কমিটি হবে প্রধানত নিচের ৪টি। এগুলো বাদেও আরো কমিটি গঠন করতে পারবে প্রয়োজন অনুযায়ী।

 

১. নির্বাহী কমিটি

২. অর্থ কমিটি

৩. আইন শিক্ষা কমিটি

৪. তালিকাভুক্তিকরণ বা এনরোলমেন্ট কমিটি

 

নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচনের মাধ্যমে বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে থেকে ৫ জন সদস্য নিয়ে নির্বাহী কমিটি গঠিত হবে। আর অর্থ কমিটির ক্ষেত্রেও একইভাবে বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ জন সদস্য নিয়ে এ কমিটি গঠিত হবে। তবে আইন শিক্ষা কমিটির গঠন খানিকটা ভিন্ন। এটি বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন।

 

১. এ কমিটির সদস্য হবে ৯ জন।

২. এর মধ্যে ৫ জন হবে বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত।

৩. অন্য ৪ জনের মধ্যে ন্যূনতম ২ জন ব্যক্তি হবেন দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের আইন শিক্ষক।

 

তালিকাভুক্তিকরণ কমিটি বা এনরোলমেন্ট কমিটি বিষয়ে ১১ খ অনুচ্ছেদে বলা আছে। এই তালিকাভুক্তিকরণ কমিটির গঠনটিও বার কাউন্সিলের পরীক্ষার্থী হিসেবে অবশ্যই জানতে হবে।

 

১. এ কমিটির সদস্য হবে ৫ জন।

২. প্রধান বিচারপতি কতৃর্ক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক হবে এ কমিটির চেয়ারম্যান।

৩. প্রধান বিচারপতি কতৃর্ক মনোনীত ২ জন হাইকোর্ট এর বিচারপতি থাকবেন এই কমিটিতে।

৪. বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল থাকবেন এই কমিটিতে।

৫. বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচিত সদস্য হবে এ কমিটির সদস্য।

 

বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল

বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের গঠন, এখতিয়ার এবং কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে দি লিগ্যাল প্রাকটিশনারর্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৩ থেকে ৩৮ এর ভেতরে আলোচনা করা আছে।

 

অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী বার কাউন্সিল এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারে। বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের গঠনকারী প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-

 

১. বার কাউন্সিল ট্রাইবুনাল গঠন হবে ৩ সদস্যের সমন্বয়ে।

২. তিনজন সদস্যদের মধ্যে ২ জন থাকবে বার কাউন্সিলের সদস্য যারা বার কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবে।

৩. অপর একজন সদস্য হবে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে থেকে একজন যাকে মনোনয়ন দিবে বার কাউন্সিল।

৪. তিন সদস্যদের মধ্যে যিনি বয়োঃজ্যেষ্ঠ্য হবেন তিনি হবেন ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান।

৫. বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল কোনো ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারবেন না।

 

বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল বিষয়ে উক্ত অনুচ্ছেদগুলো বিস্তারিত পড়ে নেবেন।

 

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতাসমূহ:

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতাসমূহ অনুচ্ছেদ ২৭ এ আলোচনা করা আছে। অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী-

 

১. তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

২. ২১ বছর বয়স পূর্ণ হতে হবে।

৩. বাংলাদেশের কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

৪. বাংলাদেশের বাহিরে বার কাউন্সিল স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে, অথবা তাকে ব্যারিস্টার হতে হবে।

৫. তাকে বার কাউন্সিল নিধার্রিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে হবে।

৬. নিধার্রিত পন্থায় বার কাউন্সিল নিধার্রিত ফি প্রদান করতে হবে।

৭. যিনি ন্যূনতম ৭ (সাত) বছর মোক্তার হিসেবে কাজ করেন, তিনি ২৭ অনুচ্ছেদের দফা ১ এর উপ দফা (ক), (খ), (ঘ), এবং (ঙ) দফার শর্তসমূহ পালন করে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

 

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির অযোগ্যতা সমূহ

১. যদি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কোনো সরকারি চাকুরি থেকে অপসারিত হয়, তবে অপসারণের মেয়াদ ২ বছর পূর্ণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার আবেদন করা যাবে না।

২. নৈতিক স্খলনজনিত কারণে যদি শাস্তিপ্রাপ্ত হয়, তবে শাস্তি প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৫ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার আবেদন করা যাবে না।

 

বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশন

বার কাউন্সিল কি সেটি আমরা আগেই জেনে আসলাম। অনেকেই বার কাউন্সিল ও বার এসোসিয়েশনের ভেতর পার্থক্য করতে পারেন না। বার কাউন্সিল হলোÑ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। এটি বার এসোসিয়েশনগুলোকে এবং আইনজীবীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

 

বার এসোসিয়েশন হলো বিভিন্ন জেলার আইনজীবীদের সমিতি বা সংগঠন। এটি প্রতিটি জেলায় একটি করে থাকে এবং সেই জেলার সমস্ত আইনজীবীদেরকে নিয়ে গঠিত হয়। যেমন, ঢাকা বার এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশন, জয়পুরহাট বার এসোসিয়েশন ইত্যাদি। এই বার এসোসিয়েশন তার সংশ্লিষ্ট জেলার আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষা, কল্যান ফান্ড ইত্যাদি কাজে কাজ করে থাকে। এ রকম কোনো জেলার কোনো বার এসোসিয়েশনকে স্থানীয় বার এসোসিয়েশন বলা হয়।

 

আবার, সমস্ত জেলার আলাদা আলাদা বার এসোসিয়েশন বাদে শুধু হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেন এমন আইনজীবীদেরকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এর অস্তিত্বও আছে।

তার মানে দেশে দুই ধরনের বার এসোসিয়েশন আছে। একটি হলোÑ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন এবং অন্যটি হলোÑ স্থানীয় বার এসোসিয়েশন বা জেলার বার এসোসিয়েশন।

 

আইনজীবীদের পালনীয় আচরণ বিধি

বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন পেশার গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য বেশ কিছু নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে। এই নীতিমালা Bangladesh Bar Council Canons of Professional Conduct and Etiquette নামে পরিচিত। আইনগত সহায়তা গ্রহণের জন্য বা কোনো মোকদ্দমা করতে এসে কোনো ব্যক্তি যেনো প্রতারিত বা হয়রানির শিকার না হয়, তার জন্য আইনজীবীদের সাথে মক্কেলের সম্পর্কের ব্যাপারেও এই নীতিমালায় বলা আছে। এর ৪টি চ্যাপটারে যথাক্রমে

১. অন্যান্য আইনজীবীদের প্রতি আচরণ

২. মক্কেলদের প্রতি আচরণ

৩. আদালতের প্রতি কর্তব্য

৪. জনসাধারণের প্রতি আচরণ

 

– এই বিষয়সমূহ বর্ণিত আছে। নিচে এর প্রতিটির সারসংক্ষেপ তুলে দেওয়া হলো। আপনারা মূল নীতিমালাটিও পড়ে নেবেন।

 

অন্যান্য আইনজীবীদের প্রতি আচরণ

বার কাউন্সিলের একজন তালিকাভুক্ত আইনজীবী অন্যান্য আইনজীবীদের সাথে কিরকম ব্যবহার করবে তার নীতিমালা তৈরী করা হয়েছে। এর প্রধান দিকগুলো নিম্নরূপ-

 

১. আইনজীবী হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখা আইনজীবীর কর্তব্য।

২. নিজের পেশাগত কোনো বিজ্ঞাপণ প্রচার করতে পারবে না; তবে, পেশাগত কার্ড, নামফলক বা ডাইরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্তিতে বাধা নিন।

৩. পেশাগত কাজের যোগান দেয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ বা বেতন দিতে পারবে না।

৪. আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সাথে মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে না।

৫. প্রতিপক্ষের আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে বা মামলার বিচারাধীন বিষয়ের কপি বা নথি প্রদান করে তা আদালতের সামনে উপস্থাপন করবে না।

৬. মক্কেল একটি মামলার ক্ষেত্রে একাধিক আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে, আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে মক্কেলকে বাধা দেওয়া যাবে না।

৭. আইনজীবীগণ নিজেদের মধ্যে বিবাদ পরিহার করে চলবে।

৮. আইনজীবীগণ কাজের বিষয়ে সম্পাদিত সুস্পষ্ট চুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে ফিস বণ্টন করবেন।

৯. এটর্নি জেনারেলের কার্যাবলী সমুন্নত রাখা প্রত্যেক আইনজীবীর কর্তব্য।

১০. জুনিয়র আইনজীবীগণ সিনিয়র আইনজীবীদের সম্মান করবে এবং সিনিয়র আইনজীবীগণ জুনিয়র আইনজীবীদের কাজের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

১১. একটি মামলায় একাধিক আইনজীবী থাকলে জৈষ্ঠ্য আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবে।

 

মক্কেলগণের প্রতি আচরণ

১. আইনজীবী কখনো মক্কেলের সম্পত্তির প্রতি আসক্ত হবে না।

২. কোনো মক্কেল দ্বারা পূর্বে বা বর্তমানে নিযুক্ত কোনো আইনজীবী যিনি মামলা সম্পর্কিত বিষয়ে মক্কেলের কোনো গোপন তথ্য জানে তিনি তার বিপক্ষে আদালতে মামলা লড়তে পারবে না।

৩. একজন আইনজীবী যদি তার বিরুদ্ধ পক্ষের সঙ্গে কোনো স্বার্থ থাকে তবে তা প্রকাশ না করে পেশাগত নিয়োগ গ্রহণ করতে পারবে না।

৪. একজন আইনজীবী কখনোই উভয় পক্ষের মামলা পরিচালনা করবেন না।

৫. কোনো আইনজীবী নিজের নামে বা বেনামে মামলার বিষয়বস্তু যেমন, বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম সম্পত্তি ক্রয় করবে না বা কাজের পারিশ্রমিক বা দান হিসেবে বিবাদমান সম্পত্তির সম্পূর্ণ বা আংশিক গ্রহণ করবে না।

৬. কোনো আইনজীবী তার নিজের সম্পত্তির সাথে মক্কেলের সম্পত্তি একত্রিত বা মিশিয়ে ফেলবে না।

৭. কোনো আইনজীবী নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়ে কোনো মামলার বাদী বা বিবাদীকে কোনো পরার্শ দিবে না।

৮. কোনো আইনজীবী কাউকে আইনভঙ্গের পরামর্শ দিবে না।

৯. আইনজীবী পরামর্শ বা সেবা প্রদানের জন্য যথাযথ পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে। এছাড়াও কোনো আইনজীবীর অনুরোধ বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। একজন আইনজীবীর বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তানদের অন্যান্য সকল আইনজীবী বিনা ফিসে আইনগত সহায়তা প্রদান করবে।

১০. একজন আইনজীবী নিজের সম্মানের জন্য তার মক্কেলের সাথে ফি বা পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ পরিহার করবেন।

১১. মামলা পরিচালনার সময় ব্যক্তিগত বিশ্বাস বর্ণনা পরিহার করা উচিত।

১২. আইনজীবী নিজেই কোনো মামলার সাক্ষী হলে সেই মামলা তিনি নিজে না করে অন্য কোনো আইনজীবীর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

১৩. বিশেষ কারণ ব্যতীত অন্য কোনো আইনজীবীকে বিশেষ কোনো দিনে মামলা করার জন্য বাধ্য করা যাবে না।

 

আদালতের প্রতি কর্তব্য

১. আদালতে ভদ্রতার সাথে উপস্থিত হতে হবে।

২. মামলার বিরুদ্ধে উপদেশ দিবেন না।

৩. কখনো কোনো ভুল তথ্য বা অপব্যাখ্যা দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করবেন না।

৪. বিচারকের খাস কামরায় মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন না।

৫. সরকারি আইনজীবীর দায়িত্ব ন্যায় বিচারের সহায়তা করা, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়। তাই সরকারি আইনজীবী সাক্ষ্য গোপন বা চাপিয়ে রাখবেন না।

৬. বিচারাধীন কোনো বিষয় সম্পর্কে খবরের কাগজে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা।

৭. বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা না হয় সেই দিকে আইনজীবীদের চেষ্টা বা তা প্রতিহত করা উচিত।

৮. আইনজীবীর সময়মতো আদালতে উপস্থিত হওয়া উচিত।

৯. আদালত আহ্বান করলে নিরপেক্ষ আইনগত মতামত উপস্থাপন করা।

 

জনগণের প্রতি দায়িত্ব

১. কোনো মামলা বিলম্বিত করা বা কাউকে বিরক্ত করা ও হয়রানি করার জন্য কোনো আইনজীবী কোনো মামলা গ্রহণ করবে না।

২. বিরুদ্ধ পক্ষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবেন।

৩. কাউকে হয়রানি বা ক্ষতি করার জন্য কোনো দেওয়ানি মামলা দায়ের বা প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে না।

৪. কোনো আইনজীবী কোনো মামলার জন্য নিযুক্তি হতে বাধ্য নয়। তবে নিযুক্তি গ্রহণ করলে দায়িত্বের সঙ্গে তা গ্রহণ করতে হবে।

৫. কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা রাজনৈতিক মামলা যতোই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

৬. কোনো পাবলিক অফিসার বোর্ড, কমিটি বা সংস্থার সামনে উপস্থিত হলে তিনি তার পরিচয় এবং যার পক্ষে উপস্থিত হয়েছে তার পরিচয় প্রকাশ করবে।

৭. কোনো বিষয়ে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে সে বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্তি গ্রহণ করবে না।

৮. একজন আইনজীবী অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা বেতনভুক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে কোনো ব্যবসা বা পেশার সাথে যুক্ত হবেন না।

 

হাইকোর্টে আইন পেশা

আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ২৭ এ বলা আছে। সেটি আমরা দেখে আসলাম আগেই। তবে এর ডিটেইল কার্যপ্রক্রিয়া তথা আবেদনের বিস্তারিত নিয়মাবলী এর রুলস এ বলা আছে।

 

তালিকাভুক্তির নিয়মাবলী

১. তালিকাভুক্তির জন্য ‘A’ ফরমে আবেদন করতে হবে [বিধি : ৫৮]

২. আবেদন পত্রের সাথে সংযুক্তিসমূূহ যা যা থাকবে [বিধি : ৫৯]

ক. জন্ম তারিখের সন্তোষজনক প্রমাণ

খ. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র

গ. চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে প্রমাণপত্র

ঘ. ‘A’  ফরমের দরখাস্তের এফিডেভিট

ঙ. ফি জমা দানের রশিদ

 

৩. বার কাউন্সিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। বিলম্বিত জমাদান এর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি ২০০ টাকা। [বিধি—৫৩এ]

 

৪. কমপক্ষে ১০ বছর আইন পেশায় নিয়োজিত এমন কোনো এডভোকেট এর নিকট ৬ মাসের শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে থাকতে হবে। [বিধি: ৬০]

 

৫. শিক্ষানবিশ থাকা অবস্থায় কমপক্ষে ১০টি মামলায় তার সিনিয়রের সাথে আদালতে উপস্থিত থেকে সিনিয়রকে সহায়তা করতে হবে। এক্ষেত্রে ৫টি ফৌজদারি এবং ৫টি দেওয়ানি মামলা হতে হবে। [বিধি : ৬০]

বার কাউন্সিল অর্ডার : মূল আইন

The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972

[President Order No. 46 of 1972]

যেহেতু লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স সম্পর্কিত আইনের সংশোধন এবং একীভূতকরণ এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর সহিত সম্বন্ধীয় বা সহায়ক বিষয়াদির জন্য এবং উহার গঠনের বিধান তৈরী করা জরুরি:

সহেতু এখন স্বাধীন বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র মোতাবেক, দি প্রভিশনাল কন্সটিটিউশন অব বাংলাদেশ অর্ডার, ১৯৭২ সহকারে পঠিত এবং উক্ত উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত সমূদয় ক্ষমতা চর্চার অংশের ন্যায়, তিনি নীচের বর্ণিত আদেশ প্রদান করতে সন্তুষ্ট হন;

 

অনুচ্ছেদ ১ : এই আদেশ বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ নামে আখ্যায়িত হইবে।

 

(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

 

(৩) ইহা অনতিবিলম্বে বলবৎ হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ২ :  এই আদেশে বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি যদি কিছু না থাকে, তাহা হইলে সেক্ষেত্রে,Ñ

 

(a)  “এডভোকেট” অর্থ একজন এডভোকেট যিনি অত্র আদেশের বিধানের অধীনে প্রণীত তালিকাভুক্ত;

(b“বার কাউন্সিল” অর্থ অত্র আদেশের অধীনে গঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিল;

(bb) “বার এসোসিয়েশন” অর্থ সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশন বা যেকোনো স্থানীয় বার এসোসিয়েশন;

(c)  “পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিল” অর্থ সেই বার কাউন্সিল যেই বার কাউন্সিল ২৬ শে মার্চ, ১৯৭১ এর আগে পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিল নামে অভিহিত ছিলো;

(d) “সরকার” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার;

(e) “হাইকোর্ট” অর্থ সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ এর হাইকোর্ট বিভাগ;

(f)  “স্থানীয় বার এসোসিয়েশন” অর্থ জেলা লেভেলের যেকোনো বার এসোসিয়েশন বা যেকোনো বার এসোসিয়েশন যা অনুচ্ছেদ ৩৯ এর অধীনে স্বীকৃত কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন—কে অন্তর্ভুক্ত করে না;

(g) “নির্দেশিত” অর্থ অত্র আদেশের অধীনে বিধি দ্বারা নির্দেশিত;

(h)  “তালিকা” অর্থ এডভোকেটগণের তালিকা যা বার কাউন্সিল কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত;

(i) “ট্রাইব্যুনাল” অর্থ অত্র আদেশের অধীনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।

 

অনুচ্ছেদ ৩ :  (১) অত্র আদেশে বর্ণিত বিধানাদি অনুসারে একটি বার কাউন্সিল গঠিত হইবে যাহা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নামে আখ্যায়িত হইবে।

 

(২) বার কাউন্সিল এরূপ একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান হবে যাহার চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার বিদ্যমান থাকবে এবং একটি সাধারণ সিলমোহর থাকবে, স্থাবর এবং অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন এবং ধারণ ক্ষমতা ও চুক্তির পক্ষ হওয়ার ক্ষমতা থাকবে এবং অত্র নামে যাহা মোকদ্দমা করিতে পারিবে এবং এর বিরুদ্ধে মোকদ্দমা করা যাইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৪ :  অনুচ্ছেদ ৭ এ উল্লি­খিত ক্ষেত্র বাদে, সর্বপ্রথম বার কাউন্সিলের ক্ষেত্রে বার কাউন্সিল গঠনের নিমিত্তে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরবর্তী পহেলা জুলাই থেকে ৩ (তিন) বৎসরের জন্য বার কাউন্সিল গঠিত হইবে; এবং প্রতিটি মেয়াদের শেষে বার কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ অফিস ধারণের যোগ্যতা হারাইবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৫ :  (১) বার কাউন্সিল ১৫ (পনের) সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যাঁদের মধ্য থেকে-

 

(a)  ১ (এক) জন হইবেন পদাধিকারবলে বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল;

(b) বর্ণিত পদ্ধতিতে বার কাউন্সিল কতৃর্ক তালিকাভুক্ত এডভোকেটগণ কতৃর্ক সাধারণ ভোটে নির্বাচিত হবেন ৭ (সাত) জন সদস্য;

(c) স্থানীয় বার এসোসিয়েশন এর সদস্যগণের সাধারণ ভোটের মাধ্যমে দফা-২ এ নির্দেশিত পন্থায় গ্রুপভিত্তিক ৭ (সাত) জন সদস্য নির্বাচিত হইবেন।

 

(২) দফা (১) এর উপ—দফা (গ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার দাপ্তরিক গেজেটে প্রকাশ দ্বারা বার কাউন্সিলকে সাতটি গ্রুপে বিভক্ত করিবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৫এ : (১) কোনো এডভোকেটই বার কাউন্সিলের সদস্য রূপে একাধারে ২ (দুই) মেয়াদের অধিক বার কাউন্সিলের সদস্য থাকিতে পারিবেন না।

 

(২) অত্র অনুচ্ছেদ কার্যকর হবার পূর্বে একজন এডভোকেট যিনি বার কাউন্সিলের সদস্য রূপে দুই মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হইয়াছিলেন, তিনি অত্র অনুচ্ছেদ কার্যকরের অব্যবহিত পরে বার কাউন্সিলের পরবর্তী মেয়াদের জন্য সদস্যরূপে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা হারাইবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৬ : (১) বার কাউন্সিলের একজন চেয়ারম্যান/সভাপতি এবং একজন ভাইস—চেয়ারম্যান/সহ—সভাপতি থাকিবেন।

 

(২) বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের সভাপতি/ চেয়ারম্যান হইবেন।

 

(৩) বার কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ তাঁহাদের মধ্য হইতে বর্ণিত পদ্ধতিতে বার কাউন্সিলের সহ—সভাপতি/ভাইস—চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিবেন।

(৪) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান/সভাপতি এবং ভাইস—চেয়ারম্যান/সহ—সভাপতি এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী বিধি মোতাবেক নির্ধারিত হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৬এ :  সরকার যেরূপ শর্ত নির্ধারণ করিবেন সেরূপ শর্তে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজগণের মধ্য হইতে বার কাউন্সিলের একজন সেক্রেটারি নিযুক্ত করিবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৭ :  বাতিল।

 

অনুচ্ছেদ ৮ :  বার কাউন্সিলের মেয়াদ যে বছরে উত্তীর্ণ হইবে সেই বছরের ৩১ শে মে বা ইহার অব্যবহিত পূর্বে যেকোনো সময় বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৯ :  বার কাউন্সিলের কোনো সদস্যের নির্বাচিত হওয়াকে এইমর্মে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাইবে না যে, কোনো ভোটাধিকারপ্রাপ্ত এডভোকেটকে যথোপযুক্তভাবে নোটিশ প্রদান করা হয় নাই, যদি নির্বাচন অনুষ্ঠানে ন্যূনতম ৩০ (ত্রিশ) দিন আগে উক্ত নোটিশ সরকার সরকারি গেজেটে প্রকাশ করে।

 

অনুচ্ছেদ ১০ : এই আদেশ এবং এই আদেশের অধীন গঠিত বিধি অনুযায়ী বার কাউন্সিল নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে তার সার্বিক কার্যসমূহ সম্পাদন ও পরিচালনা করিবেÑ

 

(a) এডভোকেট তালিকায় তালিকাভুক্ত এডভোকেট রূপে কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত, এই উদ্দেশ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করা এবং উক্ত তালিকা হইতে অ্যাডভোকেটগণকে বাতিল করা;

(b) এইরূপ তালিকা তৈরীকরণ এবং সংরক্ষণ বিষয়ক কার্যাদি সম্পাদন;

(c)  এডভোকেটগণের পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের মান উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিধি প্রণয়ন;

(d) তালিকাভুক্ত এডভোকেটগণের অসদাচরণসমূহ নিরূপণ করা এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা;

(e) তালিকাভুক্ত এডভোকেটগণের অধিকার, সুযোগ—সুবিধা সম্পর্কিত স্বার্থ রক্ষা করা;

(f) বার কাউন্সিল ফান্ডের সু—বন্দোবস্ত করা এবং বিনিয়োগ করার পথ সুগম করা ;

(g) ইহার সদস্যবৃন্দের নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

(h) ইহার কমিটির মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য বিধি প্রণয়ন করা;

(i) আইনগত শিক্ষার উন্নয়ন এবং আইন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সহিত আলোচনাক্রমে শিক্ষার মান নির্ধারণ সম্পর্কিত বিধি প্রণয়ন করা;

(j) অত্র আদেশ বা অত্র আদেশের অধীনে অনুমোদিত অপরাপর কার্যাদি পরিচালনা করা;

(k) উপরে উল্লি­খিত কার্যাদি তদারকি করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদন করা।

 

অনুচ্ছেদ ১১ :  (১) বার কাউন্সিল নিম্নে বর্ণিত স্থায়ী কমিটিসমূহ গঠন করিবে, যেমন:-

 

(a) ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের সমন্বয়ে একটি নির্বাহী কমিটি, যা বার কাউন্সিলের সদস্যগণ নিজেদের মধ্য হইতে গঠন করিবে ;

(b)  বাতিল।

(c) ৫ (পাঁচ) সদস্যবিশিষ্ট একটি অর্থ কমিটি যাহা কাউন্সিলের সদস্যগণ তাহাদের মধ্য হইতে গঠন করিবে ;

(d) ৯ (নয়) সদস্যের একটি আইনগত শিক্ষা কমিটি, যার ৫ (পাঁচ) জন সদস্য কাউন্সিল কতৃর্ক তালিকাভুক্ত সদস্যবৃন্দের মধ্য হইতে নির্বাচিত হবে এবং বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ন্যূনতম ২ (দুই) জন আইন শিক্ষকসহ বাকি ৪ (চার) জন হইতে হইবে কাউন্সিলের সদস্য নয় এরূপ ব্যক্তি।

 

(২) উপরে উল্লি­খিত কমিটিগুলোর ক্ষমতা ও কার্যাদি বিধি মোতাবেক সম্পাদন করিবে।

 

(৩) অত্র আদেশের অধীনে কার্যাদি সম্পাদন করিবার লক্ষ্যে বার কাউন্সিল যেইরূপ প্রয়োজন মনে করেন সেইরূপ সদস্যের সমন্বয়ে অনুরূপ অন্যান্য কমিটি গঠন করিতে পারিবে।

 

অনুচ্ছেদ ১১বি :  সংশ্লিষ্ট সময়ে কার্যকর অপর যেকোনো আইনে বা অত্র আদেশে বা ইহার অধীনে গঠিত বিধিসমূহে যাহাই     উল্লি­খিত থাকুক না কেন, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বা ইহার অধঃস্তন অপর যেকোনো আদালতে আইন চর্চা করিতে চান এরূপ আইনজীবীগণের তালিকাভুক্তির উদ্দেশ্যে নিম্নে বর্ণিত সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে একটি এনরোলমেন্ট কমিটি থাকিবে, যথা –

 

(এ) প্রধান বিচারপতি কতৃর্ক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি চেয়াম্যান হইবেন;

(বি) প্রধান বিচারপতি কতৃর্ক মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের দুইজন বিচারপতি সদস্য হইবেন;

(সি) বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল সদস্য হইবেন;

(ডি) বার কাউন্সিলের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত একজন সদস্য হইবেন।

 

(২) আইনজীবী তালিকাভুক্তি প্রণালী এবং উক্ত এনরোলমেন্ট কমিটির কার্যসমূহ উক্ত কমিটি নির্ধারিত আকারে নিয়ন্ত্রণ করিবে।

 

অনুচ্ছেদ ১২ :  বার কাউন্সিলের সাময়িক শূন্যতা নিম্নে বর্ণিত নির্দেশ মোতাবেক পূরণ করা হইবেÑ

 

  • যেক্ষেত্রে সদস্য পদ শূন্য হয় সেক্ষেত্রে একই নির্বাচনে ঐ ব্যক্তির পরবর্তী যে ব্যক্তি সর্বাধিক ভোট পাইয়াছিল সে ব্যক্তি দ্বারা ঐ শূন্য পদ পূরণ করা হইবে এবং যদি সেইরূপ কোন ব্যক্তি না পাওয়া যায় তাহা হইলে অত্র আদেশের অধীনে বার কাউন্সিলের নির্বাচন করার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বার কাউন্সিল সমন্বয়ের মাধ্যমে উক্ত শূন্যতা পূরণ করিতে পারিবে; এবং

 

  • যেক্ষেত্রে ভাইস—চেয়ারম্যান/সহ—সভাপতির পদ শূন্য হয়, সেক্ষেত্রে সদস্যবৃন্দের মধ্য হইতে তাদের দ্বারা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্বাচিত ব্যক্তির মাধ্যমে উক্ত শূন্য পদ পূরণ করা হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ১৩ :  বার কাউন্সিল কতৃর্ক তালিকাভুক্তি ফি বা অনুদান বা চাঁদা অথবা মূল্যরূপে উসুল করা হইয়াছে এমন সব অর্থ বার কাউন্সিল ফান্ডের অংশ হইবে এবং উক্ত ফান্ড নির্দিষ্ট বিধি মোতাবেক নির্দেশিত পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপিত, পরিচালিত এবং ব্যবহার করা হইবে।

 

ব্যাখ্যা :  এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত তালিকাভুক্তি ফি, তাঁহাদের পরিবার, তাদের পোষ্য, গ্রুপবীমা ও কল্যাণ ফান্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করিবে।

 

অনুচ্ছেদ ১৪ :  (১) বার কাউন্সিল এডভোকেটগণ ও তাহাদের পরিবারবর্গ এবং পোষ্যদের সুবিধার লক্ষ্যে বার কাউন্সিল যৌথ বীমা প্রকল্প এবং কল্যাণ ফান্ড গঠন করিতে পারিবে।

 

(২) যেক্ষেত্রে এই রকমের ফান্ড গঠিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রত্যেক তালিকাভুক্ত এডভোকেট উক্ত ফান্ডে বিধি মোতাবেক উল্লি­খিত পদ্ধতিতে চাঁদা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম রূপে নির্ধারিত অংকের চাঁদা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।

 

(৩) দফা—(১) এর অধীনে গঠিত ফান্ড বিধি মোতাবেক উল্লি­খিত পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপিত, পরিচালিত ও ব্যবহার করা হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ১৫ : (১) বার কাউন্সিল, যেক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে করে, অসহায় এডভোকেট বা তার পরিবারবর্গ এবং পোষ্যদের সুবিধার লক্ষ্যে বা যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো বিশেষ কারণে বা ক্ষতিগ্রস্ত বার এসোসিয়েশনকে সহায়তা দানের নিমিত্ত ত্রাণ ফান্ড (Relief fund) গঠন করিতে পারিবে।

 

(২) দফা—(১) এর অধীনে নিম্নোক্তভাবে ত্রাণ ফান্ড গঠিত হবে-

 

  • বার কাউন্সিলের অন্য যেকোনো ফান্ড হইতে স্থানান্তরিত অংকের মাধ্যমে;

 

(b)  সরকারি অনুদানের সহায়তার মাধ্যমে ;

 

  • এডভোকেটগণের নিকট হইতে আদায় করা হইয়াছে এমন চাঁদার মাধ্যমে; এবং

 

  • জনগণ, স্থানীয় কতৃর্পক্ষ বা অন্যান্য উৎস হইতে গৃহীত অনুদানের মাধ্যমে।

 

(৩) কোনো ঋণ পরিশোধে বা নগদ গ্রহণে বা কোনো পণ্যের ক্রয় বিতরণের জন্য ত্রাণ ফান্ড হইতে ঋণ বা জামানত হিসেবে সহায়তা করা যাইবে। ফান্ড হইতে ঋণ বা জামানত হিসেবে সহায়তা করা যাইবে।

 

(৪) কী কী শর্তে এবং কোন পদ্ধতিতে অত্র অনুচ্ছেদের অধীনে সহায়তা দেওয়া হইবে তা বার কাউন্সিল নির্ধারণ করিবে।

 

অনুচ্ছেদ ১৬ : বার কাউন্সিল রক্ষণাবেক্ষণের হিসাবের বইসমূহ নির্দেশিত পন্থার মাধ্যমে ফর্ম এবং অন্যান্য আকারে সংরক্ষিত থাকিবে।

 

(২) বার কাউন্সিলের যাবতীয় হিসাবসমূহ এমন একজন নিরীক্ষক কতৃর্ক নিরীক্ষা করা হইবে, যাহাকে বার কাউন্সিল ঐসব নিরীক্ষকগণের মধ্য হইতে নিয়োগ দিবেন যারা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর আওতায় কোনো কোম্পানীর নিরীক্ষকরূপে কাজ করিবার যোগ্যতাসম্পন্ন, তিনি নির্দেশিত সময় এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করিবেন।

 

(৩) দফা—(২) এর আওতায় বার কাউন্সিলের নিরীক্ষাকৃত হিসাবসমূহ সংসদ সচিবালয় কতৃর্ক সংসদের জাতীয় হিসাব কমিটি এর কাছে পেশ করিতে হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ১৭ :  বার কাউন্সিল বা কোনো ট্রাইব্যুনাল বা ইহার কোনো কমিটির কোনো ধরনের কার্যাদি সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না শুধু এ শর্তে যে, উক্ত কাউন্সিল, ট্রাইব্যুনাল বা কমিটিতে শূন্যতা অথবা গঠনের যেকোনো ত্রুটি ছিলো।

 

অনুচ্ছেদ ১৮ :  বার কাউন্সিল বা যেকোনো ট্রাইব্যুনাল, কমিটি, অফিসার বা কর্মচারী কতৃর্ক কৃত কোনো কাজের জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো রকমের মোকদ্দমা বা অপর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যেক্ষেত্রে তারা অত্র আদেশ বা তার অধীনে গঠিত কার্যপ্রণালী বিধি মোতাবেক সৎ উদ্দেশ্যে উক্ত কার্য সম্পন্ন করিয়া থাকেন।

 

অনুচ্ছেদ ১৯ :  অত্র আদেশের ভিন্ন কোনো ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, এডভোকেট না হওয়া পর্যন্ত আইন পেশা চর্চা করিতে পারিবেন না।

 

(২) এই আদেশ, এই আদেশের আওতায় গঠিত বিধি এবং এই সময়ে কার্যকর অন্যান্য যেকোনো আইন ও তার বিধানাবলী সাপেক্ষে, একজন এডভোকেট বাংলাদেশের সর্বত্র তাঁর আইন পেশা চর্চা করার, এবং বাংলাদেশের যেকোনো কোর্টে,  ট্রাইব্যুনালে বা রাজস্ব কতৃর্পক্ষের সম্মুখে উপস্থিত, কার্য সম্পাদন এবং মামলা পরিচালনা করিতে পারিবেন।

 

অনুচ্ছেদ ২০ :  বার কাউন্সিল এডভোকেটগণের একটি তালিকা তৈরী এবং রক্ষণাবেক্ষণ করিবে, যাতে সন্নিবেশিত থাকিবে-

 

(ধ) সকল ব্যক্তির নাম, যাঁহারা এই আদেশ ঘোষিত হইবার পূর্বে এডভোকেট হিসেবে ছিলেন এবং হাইকোর্ট বা হাইকোর্টের অধঃস্তন যেকোনো কোর্টের আইন পেশা চর্চা করিবার অধিকারী ছিলেন;

(ন) সকল ব্যক্তির নাম, যাঁহারা আদেশের বিধানাদির অধীনে এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

 

অনুচ্ছেদ ২১ :  (১) এই আদেশ ঘোষণা হইবার পূর্বে হাইকোর্ট আইন পেশা চর্চার উদ্দেশ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যতিরেকে, কোনো এডভোকেটকেই হাইকোর্ট আইন পেশা চর্চার অনুমতিপ্রাপ্ত হইবেন না, যদি না তিনিÑ

(a) বাংলাদেশের যেকোনো অধঃস্তন আদালতে তিনি ২ (দুই) বছর ধরে আইন পেশা চর্চা করিয়াছেন ;

(b) তিনি আইন বিষয়ে অনার্স এবং সরকার কতৃর্ক সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন কতৃর্ক নির্ধারিত বাংলাদেশের বাইরের কোনো হাইকোর্টে এডভোকেট হিসেবে আইন পেশা চর্চা করিয়াছেন;

(c) তাকে, তার আইনগত প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার জন্য, বার কাউন্সিল উপরে বর্ণিত দফাসমূহের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা হইতে অব্যাহতি দিয়াছেন।

 

(২) হাইকোর্টে আইন পেশা চর্চার লক্ষ্যে বার কাউন্সিল অনুমতি দিয়াছেন ইহা প্রমাণ সাপেক্ষে অনুচ্ছেদ—২২ এ নির্ধারিত ফি দেওয়া হইয়াছে এবং ক্লজ—১ এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট শর্তাদি সন্তোষজনকভাবে পূরণ করা হইয়াছে।

 

অনুচ্ছেদ ২২ : বার কাউন্সিল নিম্নে বর্ণিত ফিস সমূহ বার কাউন্সিল পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে, যথা : 

 

(a) একজন এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তিকরণ ফি;

(b) হাইকোর্টে আইন পেশা চর্চা করিবার অনুমতি পাওয়ার জন্য ফি;

(c) এডভোকেটগণের প্রদেয় বার্ষিক ফি:

 

শর্ত থাকে যে-

 

(i)  অনুচ্ছেদ ২০ এর দফা (a) এর অধিভুক্ত এডভোকেটগণের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত রহিয়াছে এরূপ কোনো এডভোকেটের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তিকরণ ফি প্রদান জরুরি নয়;

(ii)  এই আদেশ ঘোষিত হইবার অব্যবহিত আগে হাইকোর্টের এডভোকেট ছিলেন এইরূপ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস এর জন্য অনুমতির জন্য ফি দেওয়ার প্রয়োজন নাই ;

(iii) ১৯৭১ সালের আগ পর্যন্ত অপরিশোধিত বার্ষিক ফি বা ১৯৭২ সালের বার্ষিক ফি কোনো এডভোকেটের পরিশোধ করিবার প্রয়োজন নাই।

 

(২) দফা—(১) এর উপ—দফা (a) ও (b) তে উল্লি­খিত ফি থাকিলে তা নির্দেশ অনুযায়ী পরিশোধ করিতে হইবে।

 

(৩) দফা—(১) এর উপ—দফা (c) তে উল্লি­খিত বার্ষিক ফি বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোধ করিতে হইবে।

 

(৪) কোনো এডভোকেট নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কোনো ফি কিস্তি বা বার্ষিক ফি বা অনুচ্ছেদ ১৪ (২) এর অধিভুক্ত চাঁদা বা প্রিমিয়াম পরিশোধ করিতে অক্ষম হইলে এবং দেরিতে প্রদান করিবার জন্য নির্দেশ মোতাবেক বিলম্ব ফি—সহ উপরে বর্ণিত ফি দিয়েছেন এবং যেভাবে শর্ত ছিলো সেভাবে শর্ত পূরণ করিয়াছেন-

 

শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে তিনি নির্ধারিত তারিখের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে তার কাছে প্রাপ্য উক্ত কিস্তি, ফি, চাঁদা বা প্রিমিয়াম প্রদান করিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তাহাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করিতে হইবে এইমর্মে যে, এডভোকেটগণের তালিকা হইতে কেন তাহাকে বহিষ্কার করিতে পারিবে না এবং যেক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হয় সেক্ষেত্রে তার নাম এডভোকেটগণের তালিকা হইতে বাদ দেওয়া হইবে এবং তার নাম উক্ত কিস্তি, ফি, চাঁদা বা প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত নয় এইরূপ পরিমাণ পরিশোধিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পুনরায় লিপিবদ্ধ করা হইবে না : 

 

আরো শর্ত থাকে যে, এনরোলমেন্ট কমিটি উক্ত ক্ষেত্রে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আনিয়া উপরে বর্ণিত জরিমানা প্রদান হইতে রেহাই দিতে পারিবেন।

 

অনুচ্ছেদ ২৩ : জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রস্তুত হইবে এবং নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হইবে, যথা : 

 

এই আদেশ ঘোষিত হইবার পূর্বে যথাক্রমে তাদের জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী অনুচ্ছেদ ২০ এর দফা (a)

এ উল্লি­খিত সকল ব্যক্তির নাম সর্বাগ্রে তালিকায় লিপিবদ্ধ হইবে; এবং

 

(b)  অত্র আদেশ ঘোষণার পর এডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত অনান্য সকলের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হইবে তাদের অন্তভুর্ক্তিকরণ তারিখের ভিত্তিতে।

 

(২) যেইক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জ্যেষ্ঠতার তারিখ একই তারিখ হয়, সেইক্ষেত্রে বয়সের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতার পদ পাইবে।

 

অনুচ্ছেদ ২৪ : বার কাউন্সিল অনুচ্ছেদ ২৩ এর অধীন তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দেশ মোতাবেক অন্তর্ভুক্তিকরণ সনদপত্র প্রদান করিবে।

 

অনুচ্ছেদ ২৫ : (১) বার কাউন্সিল অনুচ্ছেদ ২০ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত তালিকার একটি কপি হাইকোর্টে প্রেরণ করিবে এবং পরবর্তীতে উক্ত তালিকার যাবতীয় পরিবর্তন ও সংযুক্তি যত দ্রুত সম্ভব হাইকোর্টকে জানাবে।

 

(২) হাইকোর্ট উক্ত পরিবর্তন বা সংযুক্তি অথবা তাঁকে যাহা জানিয়েছে, তা উক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিবে।

 

অনুচ্ছেদ ২৬ : (১) অন্যান্য সকল এডভোকেটগণের পূর্বে এটর্নি জেনারেল এর শুনানি করার অধিকার থাকিবে।

 

(২) অপরাপর এডভোকেটগণের মধ্যে নিরীক্ষণ করিবার অধিকার তাদের পরস্পরের জ্যেষ্ঠতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ২৭ :  (১) এই আদেশ এবং এই আদেশের অধীনে গঠিত বিধানাবলী সাপেক্ষে, একজন ব্যক্তি যেক্ষেত্রে নিম্নে উল্লি­খিত শর্তাবলী সঠিকভাবে পূরণ করেন সেক্ষেত্রেই তিনি এডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা সম্পন্ন হইবেন, যথা :-

 

(a) তিনি একজন বাংলাদেশের নাগরিক;

(b) তাঁর বয়স ২১ (একুশ) বছর পূর্ণ হইয়াছে;

(c) তিনি-

(i) বাংলাদেশের যেকোনো জায়গায় অবস্থিত যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় কতৃর্ক আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, বা

 

(ii) ২৬শে মার্চ ১৯৭১ ইং তারিখের আগে পাকিস্তানের যেকোনো বিশ্ববিদালয় হইতে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করিয়াছেন :

 

শর্ত থাকে যে, বার কাউন্সিল উপরে বর্ণিত ব্যক্তি কর্তৃক অর্জিত ডিগ্রি ২৫ শে মার্চ, ১৯৭১ এর পর অর্জিত হইয়াছে তা অনুমোদন করিতে পারে, যদি তা সন্তোষজনক হয় যে, তার নিয়ন্ত্রণ বহিভূর্ত পরিস্থিতি কতৃর্ক, উক্ত তারিখের পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে অক্ষম ছিলেন; বা

 

(iii) ১৪ই আগস্ট, ১৯৪৭ এর পূর্বে, ভারত শাসন আইন, ১৯৩৫ এর অধীন যেকোনো স্থানের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করিয়াছেন; বা

 

(iv) বাংলাদেশের বাইরে বার কাউন্সিল কতৃর্ক স্বীকৃত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করিয়াছেন; বা তিনি ব্যরিস্টার ডিগ্রি অর্জন করিয়াছেন;

 

(d) তিনি বার কাউন্সিল কতৃর্ক পরিচালিত নির্ধারিত যেকোনো পরীক্ষায় কৃতকার্য হইয়াছেন; এবং

(e) বার কাউন্সিল কতৃর্ক প্রস্তুতকৃত বিধিমালায় যেভাবে নির্দেশিত হইয়াছে সেইভাবে উক্ত ব্যক্তি ফি দিয়াছেন এবং যেইভাবে শর্ত আরোপ করিয়াছেন সেইভাবে শর্তাদি পূরণ করিয়াছেন।

 

(১এ) দফা—(১) এ যাহাই বিধৃত হউক না কেন, একজন ব্যক্তি ন্যুনতম ৭ (সাত) বছরব্যাপি মোক্তার হিসেবে কাজ করিলে ঐ ব্যক্তি এই আদেশ এবং এই আদেশের অধীনে প্রণীত বিধিসমূহের বিধান সাপেক্ষে এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হইবেন যদি তিনি দফা (১) এর উপ—দফা (a), (b), (d) এবং (e) এ বর্ণিত সকল শর্তাবলী সঠিকভাবে পালন করেন।

 

(২) এডভোকেট হিসেবে একজন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্তির পূর্বে, বার কাউন্সিল উক্ত ব্যক্তিকে উক্তভাবে প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে যেইভাবে বার কাউন্সিল নির্দেশনা দিতে পারে।

 

(৩) সেইক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি এডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য অযোগ্য ঘোষিত হইতে পারেন, যদি-

 

  • তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কোনো সরকারি চাকুরি বা সরকারি বিধিবদ্ধ সংস্থার চাকুরি হইতে অপসারিত হন- সেই পর্যন্ত তাহার অপসারিত হইবার পর ২ (দুই) বছর পার না হইলে; বা

 

  • তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হইলে, যে পর্যন্ত তার শাস্তি প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৫ (পাঁচ) বছর বা সরকারি গেজেটে নোটিফেশন কতৃর্ক তদবিষয়ে যেইরূপ সময়সীমা নির্দিষ্ট হইবে সেইরূপ সময়সীমা পার না হইলে।

 

অনুচ্ছেদ ২৭ :  বাতিল।

 

অনুচ্ছেদ ২৮ :  কোনো একজন মহিলা শুধু তার লিঙ্গের কারণে একজন এডভোকেট হিসেবে অযোগ্য হইবেন না।

 

অনুচ্ছেদ ২৯ :  বার কাউন্সিল এডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দরখাস্ত বার কাউন্সিলের নির্দেশনা মোতাবেক নির্ধারিত ফর্মে হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৩০ : বার কাউন্সিল কতৃর্ক গৃহীত এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির সকল দরখাস্ত উহার এনরোলমেন্ট কমিটি বরাবর প্রেরণ করা হইবে।

 

(২) এনরোলমেন্ট কমিটি উপরে বর্ণিত দরখাস্ত মঞ্জুর করিবেন অন্যথা না—মঞ্জুর করার কারণসহ তাহা বার কাউন্সিল ফেরত প্রদান করিতে পারেন।

 

(৩) যদি কোনো দরখাস্ত ফেরত আসে, তাহা হইলে বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট কমিটি কতৃর্ক উল্লি­খিত কারণসমূহ বিবেচনা করিয়া দরখাস্ত মঞ্জুর করিতে পারে বা প্রত্যাখ্যান করিতে পারে।

 

অনুচ্ছেদ ৩১ :  একজন এডভোকেট তার আইন পেশা চর্চার অধিকার বিধি মোতাবেক স্থগিত করিতে পারে।

 

অনুচ্ছেদ ৩২ : (১) যেক্ষেত্রে কোনো একজন তালিকাভুক্ত এডভোকেট পেশাগত বা অন্য যেকোনো ধরণের অসদাচরণের অভিযোগে অপরাধী মর্মে সাব্যস্ত হন, সেক্ষেত্রে তার আইন পেশা চর্চার অধিকার স্থগিত, বাতিল বা প্রত্যাহার করা যাইতে পারে।

 

(২) যেক্ষেত্রে কোনো কোর্ট বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো এডভোকেট এর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ করে, বার কাউন্সিল তাহা সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে, সেক্ষেত্রে অভিযোগ অনুচ্ছেদ ৩৩ এর আওতায় গঠিত ট্রাইব্যুনাল প্রেরণ করিতে পারে এবং বার কাউন্সিল স্ব—উদ্যোগে কোনো এডভেকোটের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দোষী বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ থাকিলে তাহাও ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করিতে পারে।

 

অনুচ্ছেদ ৩৩ :  বার কাউন্সিল এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করিতে পারে এবং তিন ব্যক্তির সমন্বয়ে উক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠিত হইবে, যাহাদের মধ্যে দুইজন ব্যক্তি উক্ত কাউন্সিলের সদস্যগণের মধ্য হইতে সদস্যগণ কতৃর্ক নির্বাচিত হইবেন এবং বার কাউন্সিল কতৃর্ক মনোনীত তালিকাভুক্ত এডভোকেটগণের মধ্য হইতে অন্যজন এবং ট্রাইব্যুনালের সদস্যগণের মধ্যে বয়োঃজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই হবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান; 

 

শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল কোনো একটি ট্রাইব্যুনালের সদস্য হইতে পারিবেন না।

 

(২) এই আদেশে যাহা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন,-

 

(এ) যেইক্ষেত্রে আইন চর্চাকারী এবং বার কাউন্সিল এ্যাক্ট, ১৯৬৫ (১৯৬৫ সনের ৩ নং আইন) এর অধীনে গঠিত কোনো ট্রাইব্যুনালে কোনো তদন্ত বিচারাধীন রহিয়াছে, উক্ত তদন্ত ক্লজ—(১) এর অধীনে গঠিত বার কাউন্সিলের যেকোনো ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা যাইবে এবং অতঃপর উক্ত ট্রাইব্যুনাল তদন্ত কমিটি সেই স্থান হইতে শুরু করিবে যে স্থানে উহার সাবেক ট্রাইব্যুনাল ত্যাগ করিয়াছিল।

 

(বি) যেইক্ষেত্রে এই আদেশের অধীন গঠিত কোনো ট্রাইব্যুনালের সম্মুখে কোনো তদন্ত বার কাউন্সিলের নির্ধারিত মেয়াদ পার হওয়ার সময় অনুষ্ঠানাধীন আছে, উক্ত তদন্ত কমিটি সেই তদন্ত উক্ত ট্রাইব্যুনাল কতৃর্কই শেষ ও সমাধান করিতে হইবে :

 

শর্ত থাকে যে, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান লিখিত আদেশের মাধ্যমে সেরূপ নির্দেশনা দিতে পারিবে যেরূপ তদন্ত ক্লজ (বি) এর আওতায় বার কাউন্সিল কতৃর্ক গঠিত অন্য কোনো ট্রাইব্যুনালের শেষ ও সমাধান করতে হবে এবং সে মুহূর্তে তদন্ত কার্যটি সেরূপ ট্রাইব্যুনালে অতি তাড়াতাড়ি স্থানান্তরিত হইবে, উক্ত ট্রাইব্যুনাল সে মুহূর্তে সেই ধাপ থেকে তদন্ত কার্য আরম্ভ করিবে যেই মুহূর্তে তার পূর্বের ট্রাইব্যুনাল ত্যাগ করিয়াছিল।

 

অনুচ্ছেদ ৩৪ : এডভোকেটগণের আচরণ সংক্রান্ত তদন্তের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশিত পন্থা অনুসরণ করিতে হইবে।

 

(২) ট্রাইব্যুনাল অত্র মামলা শুনানির একটি নির্ধারিত তারিখ ধার্য্য করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট এডভোকেট ও বাংলাশের এটর্নি জেনারেলকে উক্ত ধার্য্যকৃত তারিখ অবহিত করিয়া নোটিশ দিবেন এবং সংশ্লিষ্ট এডভোকেট ও এটর্নি জেনারেলকে সাক্ষ্য, যদি থাকে, উপস্থাপন করিবার সুযোগ প্রদান করিবেন এবং অত্র মামলার আদেশ পাশের পূর্বে শুনানি গ্রহণ করিবেন।

 

(৩) এই আদেশ বা বর্তমান সময়ে কার্যকর অন্য যেকোনো আইনে যাহাই বর্ণিত থাকুক না কেন, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ট্রাইব্যুনালের যেকোনো সদস্যকে প্রাথমিক বিচার্য বিষয় বিবেচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার জন্য এবং সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য ক্ষমতা প্রদান করিতে পারেন।

 

(৪) তদন্ত কার্য সমাপ্তির পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি ডিসমিস করিতে পারেন, বা যেইক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের স্বউদ্যোগে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ প্রেরণ করা হইয়াছিল, সেইক্ষেত্রে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিতে পারেন; যা অনুচ্ছেদ ৩২ (১) অনুযায়ী যেকোনো শাস্তি আরোপ করিয়া আদেশ দিতে পারেন।

 

(৫) ট্রাইব্যুনাল যখন কোনো আইনজীবীর আইন পেশা পরিচালনা স্থগিত করিবেন তখন উহার মেয়াদ নির্ধারণ করিয়া দিবেন এবং এই মেয়াদে উক্ত আইনজীবী বাংলাদেশের যেকোনো আদালত বা কতৃর্পক্ষ বা ব্যক্তির সম্মুখে আইনপেশা পরিচালনা হইতে বিরত থাকিবেন।

 

(৬) ট্রাইব্যুনাল কার্যধারা গ্রহণের লক্ষ্যে যেরূপ দরকার সেইরূপ আমলে নিবে এবং যে ব্যয় হয় তাহা পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারেন; এবং সে স্থানে ট্রাইব্যুনাল এ রকমের রায় প্রদান করিবেন যে উক্ত এডভোকেটের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক, অভিযোগকারী ব্যক্তির অন্য কোনো ধরনের প্রতিকারের উপায় বন্ধ না করিয়া তার উপর পাঁচশত টাকার অধিক নয় এরূপ প্রতিরোধক ব্যয় দেওয়ার আদেশ প্রদান করিতে পারেন যাহা ক্ষতিপূরণ রূপে ক্ষতিগ্রস্ত এডভোকেটকে দেওয়া হইবে।

 

(৭) খরচ বা প্রতিরোধক খরচ সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের যেকোনো আদেশ হাইকোর্টের আদেশের ন্যায় কার্যকরযোগ্য হইবে।

 

(৮) ট্রাইব্যুনাল স্ব—উদ্যোগে বা তার বরাবরে দরখাস্ত সাপেক্ষে ক্লজ (৪) বা ক্লজ (৬) এর আওতায় প্রদানকৃত যেকোনো আদেশ রিভিউ করিতে পারেন এবং যেই পরিমাণ সঠিক সেই পরিমাণ আমলে নিন, সেইভাবে উপরে বর্ণিত আদেশ কার্যকর, পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করিতে পারেন।

 

(৯) যেইক্ষেত্রে এই আদেশের অধীনে কোনো এডভোকেটকে স্থগিত বা বহিষ্কৃত করা হইবে, এডভোকেটগণের নামের তালিকায় নামের বিপরীতে উক্ত দণ্ডের একটি কপি সংরক্ষিত হইবে এবং যেইক্ষেত্রে আইন পেশা চর্চা হইতে কোনো এডভোকেটকে প্রত্যাহার করা হইবে, অনতিবিলম্বে তার নাম তালিকা হইতে বাতিল করা হইবে, এবং উক্তরূপ বরখাস্তকৃত বা প্রত্যাহারকৃত এডভোকেটের সনদপত্র ফেরত নেওয়া হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৩৫ :  (১) উপরে বর্ণিত যেকোনো তদন্তের উদ্দেশ্যে নিম্নে উল্লি­খিত বিষয়াদির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫ নং আইন) এর আওতায় যেকোনো আদালতের উপর অর্পিত ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকিবে, যথা-

 

(a) যেকোনো ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা;

(b) দলিল পেশে বাধ্য করা, এবং

(c) সাক্ষ্যের পরীক্ষার জন্য কমিশন গঠন করা:

 

শর্ত থাকে যে, হাইকোর্টের আগাম অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো আদালতের প্রিসাইডিং অফিসারকে বা সরকারের আগাম অনুমোদন ব্যতিরেকে কোনো ফৌজদারি আদালত বা রাজস্ব আদালতের অফিসারকে ট্রাইব্যুনালের সম্মুখে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকিবে না।

 

(২) উপরে বর্ণিত প্রত্যেকটি তদন্ত দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ১৯৩ এবং ধারা ২২৮ সাপেক্ষে বিচারিক কার্যপ্রক্রিয়া রূপে গণ্য হইবে এবং একটি ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫ নং আইন) এর ধারা ৪৮০ ও ধারা ৪৮২ এর উদ্দেশ্যে একটি দেওয়ানি আদালত রূপে গণ্য হইবে।

 

(৩) কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করা বা দলিল পেশে বাধ্য করা বা কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যÑ

 

(a) বার কাউন্সিলের এখতিয়ার যতটুকু থাকিবে, ঠিক ততটুকু এখতিয়ারই হইবে একটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার; এবং

 

(b) একটি ট্রাইব্যুনাল যেই জায়গায় স্থাপিত উক্ত এলাকার এখতিয়ারসম্পন্ন যেকোনো দেওয়ানি আদালত বরাবরে উক্ত ট্রাইব্যুনাল উহার দরকারি যেকোনো সাক্ষীর উপস্থিতি বা দলিল পেশের জন্য সমন ইস্যুর বা অন্যান্য কার্যপ্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য বা ট্রাইব্যুনালের ইচ্ছাকৃত কমিশন গঠনের লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি প্রেরণ করিতে পারে, এবং উক্ত দেওয়ানি আদালত উক্ত প্রক্রিয়া সরবরাহ করিবে বা কমিশন গঠন করিবে (যেক্ষেত্রে যাহা প্রযোজ্য) এবং যেকোনো কার্যপ্রক্রিয়া প্রণয়ন করিবে তা উক্ত আদালতের সম্মুখে পেশ বা পেশ করিবার কার্যপ্রক্রিয়া হবে।

 

(৪) উক্তরূপ তদন্তের বেলায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গৃহীত যেকোনো কার্যপ্রক্রিয়া সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ ধারা ১৩২ এর মর্ম অনুযায়ী একটি দেওয়ানি কার্যপ্রক্রিয়া রূপে গণ্য হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৩৬ :  (১) কোনো ব্যক্তিকে অনুচ্ছেদ ৩৪ এর অধীনে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গৃহীত কোনো আদেশ প্রদান করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত আদেশের তারিখ হইতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করিতে পারিবেন।

 

(২) উক্তরূপ আপিল হাইকোর্টের যেকোনো ডিভিশন বেঞ্চ শুনার পর তারা যেভাবে আমলে নিবেন সেভাবে আদেশ পাশ করিতে পারেন এবং হাইকোর্টের উক্ত আদেশই চূড়ান্ত আদেশরূপে গণ্য হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৩৭ :  তামাদি আইন, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৯ নং আইন) এর ধারা—৫ ও ধারা—১২ এর বিধানাদি যেটুকু সম্ভব এই আদেশের অনুচ্ছেদ ৩৬ এর আপিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৩৮ : অনুচ্ছেদ ৩৬ এর অধীনে কোনো আপিল সংক্ষুব্ধ আদেশকে স্থগিত করবে না, কিন্তু হাইকোর্ট যথেষ্ট কারণ সম্পর্কে যেভাবে যথার্থরূপে আমলে নিবেন সেরূপ শর্তে স্থগিতের নির্দেশ দিতে পারিবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৩৯ :  বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্দেশিত পন্থা ও শর্তাবলী সাপেক্ষে যেকোনো বার এসোসিয়েশনকে অনুমোদন দিতে পারিবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৪০ : (১) বার কাউন্সিল এই আদেশের  লক্ষ  বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সরকারের পূর্ব অনুমোদন সাপেক্ষে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন কতৃর্ক, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন।

 

(২) সুনির্দিষ্টভাবে এবং উপরে বর্ণিত ক্ষমতাসমূহকে খর্ব না করিয়া নিম্নোক্ত বিধি প্রণীত হইবেÑ

 

(a) বার কাউন্সিলের সদস্যগণের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ধরন এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি ;

(b) বার কাউন্সিলের ভাইস—চেয়ারম্যান নির্বাচন পদ্ধতি ;

(c) যেক্ষেত্রে বার কাউন্সিল নির্বাচন বা বার কাউন্সিলের ভাইস—চেয়ারম্যান নির্বাচনের বৈধতা সম্পর্কে কোনো প্রকার ওজর বা আপত্তি থাকে, সেক্ষেত্রে তা নিষ্পত্তির পদ্ধতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানকারী কতৃর্পক্ষ ;

(d) বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও ভাইস—চেয়ারম্যানের ক্ষমতা ও দায়িত্ব ;

(e) বার কাউন্সিলের সভা ডাকা ও সভা অনুষ্ঠান; উক্ত সভা অনুষ্ঠানের সময়, স্থান, উহার কার্যাদি ও কোরাম গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সদস্যবৃন্দের সংখ্যা ;

(f) বার কাউন্সিলের যেকোনো কমিটি গঠন এবং কার্যাবলী এবং এই রকমের যেকোনো কমিটি সদস্যবৃন্দের কার্যালয়ের কাজ ;

(g) কোনো কমিটির সভা ডাকা ও সভা অনুষ্ঠান এবং উক্ত কমিটির কার্যাবলী ও কোরাম পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সদস্য সংখ্যা;

(h) বার কাউন্সিলে নিযুক্ত কর্মচারীর যোগ্যতা এবং নিয়োগের বিধান ও শর্তাদি ;

(i) বার কাউন্সিল তহবিলের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন, ব্যবহার প্রণালী এবং বিনিয়োগ সম্পকির্ত তথ্যসমূহ ;

(j) বার কাউন্সিল কতৃর্ক বিশেষ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার তহবিল গঠন করা এবং যেসব উদ্দেশ্যে সাধারণ তহবিল ব্যবহার করা হয়;

(k) বার কাউন্সিলের হিসাব ও অপরাপর বহি সংরক্ষণ ;

(l) নিরীক্ষক (অডিটর) নিয়োগ ও বার কাউন্সিলের হিসাব নিরীক্ষণ ;

(m) আইনজীবীরূপে তালিকাভুক্তির জন্য যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে হয়;

(n) আইনজীবীরূপে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনের প্রকৃতি এবং এরূপ আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া;

(o) কেনো ব্যক্তিকে আইনজীবীরূপে অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন শর্তাদি ;

(p) একজন এডভোকেটকে তার আইন চর্চা হইতে বরখাস্ত করিবার প্রক্রিয়া;

(q) তালিকাভুক্তির জন্য ফি; হাইকোর্টে চর্চার জন্য অনুমতির জন্য ফি; উক্ত ফিস প্রদানের কিস্তি, যদি থাকে;

(r) হাইকোর্টে আইন পেশা চর্চা করিবার অনুমতি;

(s) আইনজীবী কতৃর্ক অনুসরণীয় পেশাগত আচরণ ও শিষ্টাচারের মান ;

(t) বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় আইন শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ এবং উক্ত উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন ;

(u) কোনো বার এসোসিয়েশন মঞ্জুরের কৌশল ও শর্তাদি ;

(v) আইনজীবীবৃন্দের আচরণ বিষয়ে বার কাউন্সিলের যেকোনো ট্রাইব্যুনাল কতৃর্ক কোনো তদন্ত কার্যে অনুসরণযোগ্য প্রণালী ;

(w) এই আদেশের বর্ণিত যেকোনো বিষয়ের উদ্দেশ্যে ধার্যকৃত ফি ;

(x) বার কাউন্সিল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সাধারণ শর্তসমূহ।

 

(৩) বার কাউন্সিল কতৃর্ক বিধি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত, এই অনুচ্ছেদের অধীনে কাউন্সিলকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলী সরকার কতৃর্ক ব্যবহৃত হইবে।

 

অনুচ্ছেদ ৪১ :  এইরূপ কোনো একজন ব্যক্তি যিনি এডভোকেট নন এবং এই আদেশের অধীনে আইন পেশা চর্চার অধিকার প্রাপ্ত হন নাই এবং যিনি উচ্চ আদালতে আইনপেশা চর্চা করিবার অধিকার প্রাপ্ত হন নাই, তিনি যদি উচ্চ আদালতে আইন পেশা চর্চা করেন, তাহা হইলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

 

অনুচ্ছেদ ৪২ : (১) এই আদেশ এবং বর্তমান সময়ে কার্যকর অন্য যেকোনো আইনে যাহা কিছুই বর্ণিত থাকুক না কেন,Ñ

 

(এ) ২৬ শে মার্চ, ১৯৭১ হইতে ১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ ইং তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত সকল ব্যক্তির তালিকাভূক্তিকরণ বাতিলকৃত হইবে ; এবং

 

(বি) ১লা জানুয়ারি, ১৯৭২ হইতে ৩০শে জুন, ১৯৭২ পর্যন্ত এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি ১লা জানুয়ারি, ১৯৭২ সালে তালিকাভুক্তি মর্মে গণ্য হইবে।

 

(২) ক্লজ—১(এ) এর আওতায় তালিকাভুক্তি বাতিল হিসেবে গণ্য সকল ব্যক্তি নতুন তালিকাভুক্তির যোগ্য হইবে এবং উক্তরূপ তালিকাভুক্তির জন্য এনরোলমেন্ট কমিটি বরাবর দরখাস্ত পেশ করিতে হইবে।

 

(৩) ক্লজ—১(এ) এর আওতায় কোনো ব্যক্তির এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তিকরণ বা বাতিলকরণ বিষয়ে যাহাই উল্লি­খিত থাকুক না কেন, এই আদেশ ঘোষিত হওয়ার আগে এডভোকেট রূপে তার কতৃর্ক গৃহীত যাবতীয় কার্যাদি বৈধ মর্মে গণ্য হইবে।

 

অনুচ্ছেদ—৪৩ :  দি লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল এক্ট, ১৯৬৫ (১৯৬৫ সালের ৩নং আইন) এতদকর্তর্ৃক রহিত করা হইল।

 

অনুচ্ছেদ-৪৪ :  এই আদেশ ঘোষিত হওয়ার পর,—

 

(ক) পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিল এর ওপর যেসব সম্পত্তি এবং সম্পদ ন্যস্ত ছিলো, সেসব সম্পত্তি ও সম্পদ বার কাউন্সিলের উপর ন্যস্ত হইবে;

 

(খ) পাকিস্তান বার কাউন্সিল এর ওপরযেসব সম্পত্তি এবং সম্পদ ন্যস্ত ছিলো, সেসব সম্পত্তি ও সম্পদ বার কাউন্সিলের উপর ন্যস্ত হইবে;

 

(গ) কোনো চুক্তি বা ভিন্নভাবে সৃষ্ট পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের উপর সকল অধিকার, দায় এবং বাধ্যবাধকতাই হইবে বার কাউন্সিলের অধিকার, দায় এবং বাধ্যবাধকতা;

 

(ঘ) শৃঙ্খলাজনিত বা ভিন্ন কোনো বিষয়ে পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে অপেক্ষমান সকল কার্যাদি বার কাউন্সিলে স্থানান্তরিত হইবে;

 

(ঙ) পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের যেকোনো ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তিকৃত আদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তান বার কাউন্সিলের আপিল করা ট্রাইব্যুনালের নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে অপেক্ষমান সকল আপিল হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হইবে এবং উক্ত ব্যাপারে হাইকোর্ট এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হইবে;

 

(চ) পাকিস্তান বার কাউন্সিলের যেই সকল অফিসার ও অন্যান্য কর্মচারী যাহারা বাংলাদেশে এখনো কাজে রত আছেন এবং পূর্ব পাকিস্তান বার কাউন্সিলের সকল অফিসার, কর্মচারী বার কাউন্সিল যেভাবে নিয়ম ও শর্ত  নিধার্রিত করিবে সেভাবে শর্ত ও নিয়ম মেনে বার কাউন্সিলের অধীন কাজে রত থাকিবেন।

 

(ছ) পাকিস্তান বার কাউন্সিল দ্বারা প্রস্তুতকৃত ক্যাননস অফ প্রফেশনাল কন্ডাক্ট এন্ড এটিকুইটি বার কাউন্সিল দ্বারা প্রস্তুতকৃত মর্মে গণ্য করা হইবে এবং উক্ত নীতিতে ‘পাকিস্তান’ শব্দের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি প্রতিস্থাপিত হইবে।

 

অনুচ্ছেদ  ৪৫ :  অনুচ্ছেদ ২৭ এর ক্লজ— ১এ এ উল্লি­খিত নিয়ম ব্যতীত এই আদেশের কোনো কিছুই মোক্তার ও রেভিনিউ (রাজস্ব) এজেন্টের বেলায় প্রযোজ্য হইবে না এবং প্রত্যেক মোক্তার ও রেভিনিউ (রাজস্ব) এজেন্ট এই আদেশ ঘোষণার আগে কোনো আদালতে বা কর অফিসে বা কোনো কতৃর্পক্ষের বা ব্যক্তির সম্মুখে চর্চার ক্ষেত্রে যেভাবে সুবিধা ভোগ করিয়াছিল তাহাদের সেইরূপ ভোগের অধিকার কার্যকর থাকিবে এবং এই আদেশ ঘোষণার আগে শৃঙ্খলাজনিত এখতিয়ার কতৃর্পক্ষেরই বহাল থাকিবে, এবং লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এ্যাক্ট, ১৮৭৯ (১৮৭৯ সনের ৪৩ নং আইন) বা অপরাপর আইন যাহা উক্তরূপ ব্যক্তিবৃন্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ইহার বিধানাদি লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল এ্যাক্ট, ১৯৬৫ (১৯৬৫ সনের ৩নং আইন) কতৃর্ক প্রতিস্থাপিত না হওয়ার দরুন কার্যকর থাকিবে।   

 

অনুচ্ছেদ ৪৬ :  এই আদেশের বর্ণিত বিধানাদি কার্যকর করিতে গিয়ে যদি কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়, বিশেষত এই আদেশ কতৃর্ক এই আদেশের বিধানাদিতে পূর্বে বলবৎকৃত আইন হইতে পরিবর্তন করিতে কোনো জটিলতার ক্ষেত্রে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন কতৃর্ক উক্ত জটিলতা দূরীকরণে যেভাবে প্রয়োজনীয় বা যথাযথ, এই আদেশের উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, সেভাবে বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

 

বার কাউন্সিল রুলস : মূল আইন

THE BANGLADES LEGAL PRACTITIONERS AND BAR COUNCIL RULES, 1972

[No. 428-5, R.O.]  [22nd May, 1972]

 

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (১৯৭২ এর রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ৪৬) এর অনুচ্ছেদ—৪০ এর ক্লজ—৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নে বর্ণিত বিধিসমূহ প্রণয়নে সম্মত হন; যথা :-

 

বিধি ১ : এই বিধিসমূহ আদেশ বাংলাদেশ লিগাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ নামে আখ্যায়িত হইবে।

 

(২) ইহা অনতিবিলম্বে বলবৎ হইবে।

 

বিধি ২ :  এই বিধিতে বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি যদি কিছু না থাকে, তাহা হইলে সেক্ষেত্রেÑ

 

(a)  “আটিক্যাল” অর্থ অত্র আদেশের অনুচ্ছেদ ;

(b) “চেয়ারম্যান” অর্থ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ;

(c) “নির্বাচিত সদস্য” অর্থ বার কাউন্সিলের একজন নির্বাচিত সদস্য বা একজন সদস্য যিনি নির্বাচিত সদস্য এর শূন্যতা পূরণ করে ;

(d) “সাধারণ আসন” অর্থ অত্র অর্ডার এর অনুচ্ছেদ—৫ এর ক্লজ (১)(ন) এ উল্লি­খিত সদস্যের একটি আসন ;

(e) “গ্রুপভিত্তিক আসন” অর্থ অত্র অর্ডার এর অনুচ্ছেদ—৫ এর ক্লজ ১ (প) তে উল্লি­খিত গ্রুপভিত্তিক আসন;

(f) “অর্ডার” অর্থ বাংলাদেশ লিগাল প্র্যাকটিশনার্স এন্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (১৯৭২ এর রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ নং ৪৬) ;

(g) “সেক্রেটারি” অর্থ অত্র আদেশের অধীনে বিধি দ্বারা নির্দেশিত উপায়ে সেক্রেটারি হিসেবে বার কাউন্সিলের নিয়োগপ্রাপ্ত সেক্রেটারি বা অন্য কোনো ব্যক্তি যিনি সেক্রেটারির সব কাজ বা কোনো কাজের জন্য বার কাউন্সিল বা চেয়ারম্যান কতৃর্ক অনুমিত হয়েছেন ;

(h) “ভোটার” অর্থ একজন এডভোকেট, যিনি কার্যকর কোনো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং যিনি কোনো বার এসোসিয়েশনের সদস্য। ইহা অন্য কোনো এডভোকেটকে অন্তর্ভুক্ত করিবে যিনি অধ্যায়—৬ এর বিধি ৭৩A এর অধীন তালিকাভুক্তি সার্টিফিকেট অর্জন করিয়াছেন।

 

[বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচন]

 

বিধি ৩ :  চেয়ারম্যান বার কাউন্সিল নির্বাচনের নূন্যতম ৪৫ দিন পূর্বে বার কাউন্সিল সদস্যের নির্বাচনী প্রোগ্রাম (কর্মসূচি) অফিসিয়াল গেজেট কতৃর্ক প্রকাশ করিবেন এবং নির্দিষ্ট করিবেনÑ

 

(a) তারিখ, যাহা গেজেটে বিজ্ঞপ্তির ১০ দিনের মধ্যে হইবে না এবং যাহার মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তাব বার কাউন্সিলে পেঁৗছাইবে ;

(b) এইরূপ প্রস্তাবের সমীক্ষার জন্য তারিখ ;

(c) ভোট অনুষ্ঠিত হবার তারিখ বা তারিখসমূহ;

(d) যে সময়ের মধ্যে নির্বাচনের কোনো অভিযোগ পেশ করার তারিখ ;

(e) যে সময়ে বার কাউন্সিল কার্যালয়ে Election Petition Committee কতৃর্ক প্রথমবারের মত অভিযোগ গ্রহণ করা হইবে তার তারিখ।

 

শর্ত থাকে যে-

 

  • নির্বাচনের প্রস্তাবের তারিখ এবং ঐরূপ প্রস্তাবের সমীক্ষার মধ্যকার সময়ের ব্যবধান ন্যূনতম ৭ (সাত) দিন হইতে হইবে এবং নির্বাচনের সমীক্ষা ও নির্বাচনে ভোট গ্রহণের তারিখের মধ্যে কমপক্ষে ১৪ দিনের বিরতি থাকিবে। এবং নির্বাচনের ফলাফল ও নির্বাচনের আপত্তি—অভিযোগ গঠনের কমপক্ষে ৭ দিনের বিরতি থাকিবে। এবং নির্বাচনে অভিযোগ দান এবং তাহা প্রথমবারের মতো গ্রহণ করার মধ্যে কমপক্ষে সাত দিনের বিরতি থাকিবে ;

 

(ii)  বার কাউন্সিলের কার্যালয়ের স্থান নোটিশ কতৃর্ক নির্ধারিত     থাকিবে এবং ঠিকানা নির্বাচনের সময় পরিবর্তন করা হইবে না যদি না কোনো কারণে বাধ্য করে এবং পরিবর্তনের কারণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অর্জনের কমপক্ষে চারদিন পূর্বে ১টি বহুল প্রচারিত বাংলা ও ১টি ইংরেজী দৈনিক বাংলাদেশী পত্রিকায় প্রকাশ না করা হয় ;

 

(iii)  উক্ত অনুষ্ঠান  (প্রোগ্রাম/কর্মসূচির) একটি কপি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বরাবরে, তথ্যের জন্য, প্রেরণ করিতে হইবে এবং বিধি ৬৭ এর অধীন স্বীকৃত বার এসোসিয়েশন সমূহের সভাপতিদের বরাবরে তাঁদের নোটিশ বোর্ডে টানানোর জন্য প্রেরণ করিতে হইবে।

 

বিধি ৪ :  (১) সদস্যদের দলীয় আসনে নির্বাচনের উদ্দেশ্যে—বাংলাদেশের স্থানীয় বার এসোসিয়েশনসমূহকে তফসিল—A  অনুযায়ী ৭ (সাত) টি দলে ভাগে ভাগ করা হইবে।

(২) (i) প্রতিটি ব্যালট পেপার তফসিল—ই তে বর্ণিত ফরম মোতাবেক নির্ধারিত হইবে।

 

(ii)  প্রতিটি ব্যালট পেপার দুটি অংশে বিভক্ত হইবে। পার্ট—১ এ থাকিবে সাধারণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রার্থীদের নাম এবং পার্ট—২ এর থাকিবে গ্রুপভিত্তিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী প্রতিটি দলের প্রার্থীদের মধ্যে যেকোনো ১ (এক) জনের নাম।

 

  • পার্ট—১ এ প্রদত্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা এবং পার্ট—২ এ প্রতিটি গ্রুপ দলের নামসমূহ বাংলা বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী সাজানো হইবে।

 

(i) সাধারণ আসনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ভোটার ৭ (সাত) টি করিয়া এবং দলীয় আসনে ১ (একটি) করিয়া করে ভোট দান করিতে পারিবে :

 

শর্ত থাকে যে, যেকোনো ভোটার একজন প্রার্থীর স্বপক্ষে একাধিক ভোট প্রদান করিতে পারিবে না।

  • একজন ভোটার ইচ্ছা করিলে তিনি যাহাকে ভোট দিতে চান তাহাকে তাহার ভোটটি সংরক্ষণ করিবার জন্য প্রার্থীর নামের বিপরীতে শূন্য স্থানে কলম দ্বারা ক্রস চিহ্ন দিয়া তার ভোট প্রদান করিতে পারেন।

 

বিধি ৫ :  প্রত্যেক প্রার্থীকে সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত ফরমে ৩ (তিন) জন ভোটারের প্রস্তাবসহ এবং মনোনয়ন ফি ১০০০ টাকা সহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেক্রেটারির বরাবরে পেঁৗছাইতে হইবে। একটি প্রস্তাব কেবলমাত্র একজন প্রার্থীর পক্ষেই হইতে পারিবে এবং যদি একাধিক ব্যক্তির পক্ষে হয় তাহা হইলে তাহা অবৈধ মর্মে বিবেচিত হইবে। সেক্রেটারি সময়, স্থান, তারিখ এবং ক্রমিক নং উল্লে­খ করে প্রস্তাব গ্রহণ করার সময় স্বাক্ষর করিবেন : 

 

শর্ত থাকে যে, কোনো ভোটার সাধারণ আসনের জন্য ৭ (সাত) এর অধিক প্রস্তাব স্বাক্ষর করিতে পরিবেন না এবং দলীয় আসনের জন্য ১ (এক) এর অধিক প্রস্তাব স্বাক্ষর করিতে পারিবে না এবং যদি সে স্বাক্ষর করে, তাহা হইলে তার স্বাক্ষর প্রথম সাতটির সাধারণ আসনের ক্ষেত্রে এবং একটি দলীয় আসনের জন্য সেক্রেটারির নিকট প্রস্তাব দেওয়া হইয়াছে মর্মে বৈধ মনে করা হইবে।

 

বিধি ৬ :  প্রস্তাব জমা দেওয়ার তারিখের শেষ ২ (দুই) দিনের মধ্যে সেক্রেটারি প্রস্তাবসমূহ চেয়ারম্যান বরাবরে দাখিল করিবেন এবং একই সময়ে সেক্রেটারি প্রস্তাবসমূহের তালিকা এবং প্রার্থীদের বিস্তারিত বিবরণ বার কাউন্সিলের কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টানাবেন।

 

বিধি ৭ :  একজন প্রার্থী তার প্রার্থীতা চেয়ারম্যান কতৃর্ক প্রস্তাব সমীক্ষার ৩ (তিন) দিন হবার পূর্বে (before the expiry of the thrid day after scrutiny) প্রত্যাহার করিতে পারেন এবং এইরূপ প্রত্যাহার কেবলমাত্র চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে হবে, যদি সহজলভ্য হয়, ভাইস—চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে হইবে, এবং যদি তাঁদের দুইজনের কেউই উপস্থিত না থাকেন, সেক্ষেত্রে সেক্রেটারির উপস্থিতিতে এইরূপ প্রার্থীতা প্রত্যাহার করিতে পারেন।

 

বিধি ৮:  চেয়ারম্যান, সমীক্ষার জন্য ধার্য করা তারিখে কোনো ভোটারের দ্বারা প্রস্তাবকৃত প্রস্তাবের আপত্তি শুনানি করিয়া তাহা সংক্ষিপ্ত অনুসন্ধান করে যদি তিনি সঠিক মর্মে আমলে নিলে প্রস্তাব গ্রহণ বা বর্জন বা বাতিল করিয়া দিতে পারেন।

 

বিধি ৯ : (১) সাধারণ আসনের ক্ষেত্রে যদি বৈধ প্রস্তাবের সংখ্যা ৭ (সাত) এবং দলীয় আসনের ক্ষেত্রে ১ (এক) অতিক্রম না করে তবে চেয়ারম্যান উক্ত প্রস্তাবকৃত প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা দিতে পারেন।

 

(২) বৈধ প্রস্তাবসমূহের একটি তালিকা এবং সমীক্ষার ফলাফল যেমন, ব্যক্তিগণের নির্বাচিত ঘোষণা এবং কোনো আসনের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় তাহা যত দ্রুত সম্ভব বার কাউন্সিলের নোটিশ বোর্ডে টানাইতে হইবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ (দুই) দিনের মধ্যে টানাইতে হইবে।

 

বিধি ১০ :  বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত স্থানে এবং নির্ধারিত এলাকার জন্য ভোটকেন্দ্র স্থাপিত হইবে।

 

বিধি ১১ :  (১) বার কাউন্সিল ভোটারগণের নামের তালিকা, কোন কেন্দ্রে/স্টেশনে, কোন ভোটার তার ভোট দিবেন তা—সহ ভোটের কমপক্ষে ত্রিশ (৩০) দিন পূর্বে প্রকাশ করিবে : 

তবে শর্ত থাকে যে, ভোটের আগ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় ভোটার যোগ করার ক্ষমতা বার কাউন্সিলের আছে।

আরো শর্ত থাকে যে, যেকোনো ব্যক্তি যদি ভোটের এর আগে এডভোকেট হিসেবে স্থগিত হন, তাহা হইলে সে ভোট প্রদানের অধিকার পাইবেন না।

 

(২) প্রত্যেক ভোটার তার নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করিবেন। তবে যাঁরা পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তারা সেখানে ভোট প্রদান করিবেন। একজন প্রার্থী যেকোনো ভোট কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।

 

বিধি ১২ :  ভোট দান সাধারণত চেয়ারম্যান—এর তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট তারিখে ও সময়ে অনুষ্ঠিত হইবে। কিন্তু চেয়ারম্যান, পর্যাপ্ত কারণসমূহের জন্য, নির্ধারিত তারিখে বা তারিখ সমূহের পরও ভোটদান চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন। চেয়ারম্যান কতৃর্ক নির্দেশনা সমূহ বার কাউন্সিলের নোটিশ বোর্ড এবং প্রত্যেক বার এসোসিয়েশনের সভাপতির বরাবরে এরূপ নির্দেশনার কপি প্রেরণ করিতে হইবে যাহাতে ঐরূপ নোটিশ বিধি ৬৭ অনুযায়ী স্বীকৃত এসোসিয়েশনসমূহের নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গানো যায়।

 

বিধি ১৩ :  গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে হইবে, এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে যাহাতে ভোটারকে অনঙ্কিত ব্যালট পেপার দেখিতে হইবে, অতঃপর তাহাতে ভোটার অংকন (ছাপ) দিবেন এবং ছাপ দেওয়ার সময় অন্য কোনো ব্যক্তি দেখিতে পারিবে না এবং ছাপ (সিল) দেওয়ার পর তিনি ইহা ভাঁজ করিবে এবং সরবরাহকৃত বক্সে ফেলিবেন।

 

বিধি ১৪ :  ভোটার যে প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, সেই প্রার্থীর নামের বিপরীতে ক্রস চিহ্ন দ্বারা ব্যালট পেপারে মার্ক করিতে হইবে।

 

বিধি ১৫ :  ভোট গ্রহণ শেষ হইলে প্রিজাইডিং অফিসার বা ভোট গ্রহণে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষের ভোট গণনা করিবেন এবং ব্যালট পেপার ও গণনার ফলাফল সিলগালা করে তাহা চেয়ারম্যান বরাবরে পাঠাইবেন।

 

(২) বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র থেকে আসা ব্যালট পেপার চেয়ারম্যান গণনা করবেন। চেয়ারম্যান কোনো বালট পেপারকে বাতিল করিয়া দিতে পারিবেন, যদিÑ

 

  • ভোটার যদি ব্যালট পেপারে একাধিক প্রার্থীর নামের বিপরীতে ক্রস চিহ্ন থাকে; অথবা

 

  • ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নামের বিপরীতে ক্রস চিহ্ন বাদে অন্য কোনো চিহ্ন থাকে যাহা ভোটের প্রয়োগ হিসেবে ধরা হয় না এবং যা আকস্মিক বলিয়া ধরা হয় না।

 

বিধি ১৬ :  চেয়ারম্যান প্রত্যেক প্রার্থীর পাওয়া ভোটের এবং বাতিল করা ভোটের এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণা করিবেন। নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদের জন্য সকল ব্যালট পেপার ও ফলাফল সিল করা বাক্সে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

 

বিধি ১৭ :  চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণা করিবেন-

(a)  সাধারণ আসনের জন্য সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ৭ (সাত) জন প্রার্থীকে; এবং

 

(b)  গ্রুপভিত্তিক জন্য প্রত্যেক দল থেকে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া ১ (এক) জনকে।

 

(২) সমান সংখ্যক প্রাপ্ত ভোটের ক্ষেত্রে, লটারির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

বিধি ১৮ :  ভোট গণনার সময় প্রত্যেক প্রার্থী বা প্রত্যেক প্রার্থীর একজন করিয়া এজেন্ট উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।

 

বিধি ১৯ :  সেক্রেটারি ও চেয়ারম্যান কতৃর্ক স্বাক্ষরিত, প্রস্তুতকৃত এবং চেয়ারম্যান কতৃর্ক ঘোষিত নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা অফিসিয়াল গেজেট কতৃর্ক প্রকাশিত হইবে। নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকার কপি বিধি ৬৭ এর অধীন স্বীকৃত সকল বার এসোসিয়েশন এর সভাপতি বরাবর প্রেরণ করিতে হইবে যেন তাহা নোটিশ বোর্ডে বোঝানো হয়।

 

বিধি ২০ :  নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে ঘোষিত হবার ১ (এক) মাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সেক্রেটারি বরাবরে কোনো প্রার্থী বা যেকোনো ৫ (পাঁচ) জন ভোটার কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার বৈধতা নিয়ে আবেদন করিতে পারেন। এইরূপ আবেদন করার জন্য ১০০০ (এক হাজার) টাকা জমা রাখিয়া আবেদন পেশ করিতে হইবে।

 

বিধি ২১ : চিঠিতে অবশ্যই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের ভিত্তি পরিষ্কারভাবে উল্লে­খ করিতে হইবে।

 

বিধি ২২ :  ইলেকশন পিটিশন  (বৈধতার পিটিশন) এর আবেদনসমূহ চেয়ারম্যান এবং বার কাউন্সিলের মনোনীত তালিকাভুক্ত এডভোকেটগণের মধ্য হইতে ২ (দুই) জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের দ্বারা শুনানি হইবে। চেয়ারম্যানের নাম এবং নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের নাম বিধি ৩ এর অধীন নির্বাচনী প্রোগ্রামের নোটিশের সাথে প্রকাশিত হইবে। যেই সকল এডভোকেট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সদস্য হওয়ার জন্য সম্মত হইবেন তা নির্বাচনে প্রার্থী হইতে বিরত       থাকিবেন।

 

বিধি ২৩ : যদি ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনে কোনো অনিয়ম, অপ্রাসঙ্গিকতা বা ফলাফলে বস্তুগত কোনো প্রভাবক খঁুজিয়া পান বা অবৈধতা বা বেআইনি কোনো কিছু খঁুজিয়া পান, তাহা হইলে নির্বাচন বাতিল করিয়া দিতে পারিবেন।

 

বিধি ২৪ :  প্রোগ্রামে উল্লি­খিত তারিখের পরিবর্তন, যদি এইরূপ পরিবর্তন এড়ানো অসম্ভব হয় বরং তা যদি নির্বাচনের ফলাফলে বস্তুগত প্রভাব না ফেলিয়া থাকে, তাহা হইলে এইরূপ অনিয়মের সকল কার্যধারা মামলাও অবৈধ হইবে।

 

বিধি ২৫ :  বার কাউন্সিলের প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনে ট্রাইব্যুনাল নতুন সদস্যদের নিয়া গঠিত হইবে : 

শর্ত থাকে যে, উপ—নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট পিটিশনের জন্য সাধারণ নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল শুনানি করিবে, যাহার মধ্যে উপ—নির্বাচন উত্থাপিত হয়।

 

বিধি ২৬ :  যদি কোনো সদস্যের নির্বাচন বাতিল হয়, যদি সে প্রার্থীর নির্বাচনকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনার জন্য রাখা না হয় বা বাতিল করা হয়, তাহা হইলে বিধি ১৮ এর অধীন যাহার বিজয়ী হইবার কথা তাহাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হইবে।

 

বিধি ২৭ :  যদি বিধি ২৬ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা না যায়, তাহা হইলে সম্পূর্ণ নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে এবং এই বিধির বিধানসমূহ, যতটা পরিবর্তন প্রয়োজন ততটা পরিবর্তন করিয়া নির্বাচনী প্রোগ্রাম অফিসিয়াল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাতিলকৃত নির্বাচন ঘোষণার অনূর্দ্ধ ১০ (দশ) দিনের মধ্যে প্রকাশ করিতে হইবে।

 

[সভাসমূহ]

 

বিধি ২৮ :  বার কাউন্সিলের প্রথম সভা কাউন্সিল এ মেয়াদ শুরু হইবার ১ (এক) মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইবে এবং এইরূপ সভা সেক্রেটারি আহবান করিবেন। প্রথম সভার সভাপতিত্ব করিবেন একজন সদস্য, যিনি সভাপতিত্ব করিবার জন্য ভোটপ্রাপ্ত হইবেন।

 

বিধি ২৯ :  বার কাউন্সিল সাধারণ সভা আহ্বান করিবেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অথবা কোনো কারণে চেয়ারম্যান অপারগ হইলে আইনে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী ভাইস—চেয়ারম্যান উক্ত সভা আহ্বান করিবেন।

 

বিধি ৩০ :  চেয়ারম্যান বা সেক্রেটারি সভা আহ্বান করিতে বাধ্য থাকিবেন, যদি বার কাউন্সিলের কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) জন সদস্য সভার আদেশ দানের জন্য পত্র দেয়। সাধারণ ক্ষেত্রে ১ (এক) সপ্তাহের রিকুইজিশন (অধিযাচন) পত্রের এবং বিশেষ জরুরি অবস্থায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সভা আহবান করিতে হইবে। চেয়ারম্যান বা সেক্রেটারির সভা আহ্বান করিতে অপারগতায় যারা অধিযাচন দিয়েছে তারা সভা আহ্বান করিতে পারেন এবং এইজন্য সংগঠিত সকল খরচ বার কাউন্সিল হইতে উদ্ধারযোগ্য।

 

বিধি ৩১ :  বার কাউন্সিলের কমিটির সভা কমিটির সেক্রেটারি বা চেয়ারম্যান আহ্বান করিতে পারে এবং এইরূপ সভা ঐ কমিটির দু’জন সদস্যের অধিযাচনের ভিত্তিতে সেক্রেটারি বা চেয়ারম্যান কতৃর্ক আহ্বান করা হইবে।

 

বিধি ৩২ :  বার কাউন্সিলের সভার জন্য ৮ (আট দিন এবং কমিটির সভার জন্য ৩ (তিন) দিনের নোটিশের প্রয়োজন হইবে, তবে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত (যত দ্রুত সম্ভব) নোটিশ পর্যাপ্ত হইবে। একটি মিটিং এর আলোচ্য সূচি বার কাউন্সিলের মিটিং এর ৮ (আট) দিন পূর্বে জানাইতে হইবে এবং অন্যান্য মিটিং এর ক্ষেত্রে ৩ (তিন) দিন পূর্বে জানাইতে হইবে।

 

বিধি ৩৩:  বার কাউন্সিলের সভার জন্য প্রয়োজনীয় কোরাম হইবে ৫ (পাঁচ) জনের এবং কমিটির সভার জন্য ঐ কমিটির এক—তৃতীয়াংশের কম নয় এইরূপ সংখ্যক সদস্য নিয়ে কোরাম গঠিত হইবে। শর্ত থাকে যে, কোরামের পূর্ণ না হওয়ার জন্য সভা স্থগিত হওয়ার ক্ষেত্রে, বার কাউন্সিলের সভার জন্য ৩ (তিন) জন এবং কমিটির সভার জন্য ঐ কমিটির এক—তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়া কোরাম হইবে।

 

বিধি ৩৪ :  বার কাউন্সিলের কোনো সভার সভাপতিত্ব করিবেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, তাঁর অনুপস্থিতিতে ভাইস—চেয়ারম্যান এবং দুইজনের অনুপস্থিতিতে সভার সভাপতিত্ব করিবেন একজন সদস্য যিনি ঐ সভায় উপস্থিত সদস্যগণের ভোটে নির্বাচিত হইবেন। কমিটির কোনো সভার সভাপতিত্ব করিবেন কমিটির সভাপতি বা তাঁর অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্ব করিবেন ঐ কমিটির একজন সদস্য যিনি অন্যান্য সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হইবেন।

 

বিধি ৩৫ :  সভার কার্যক্রম সভার আলোচ্যসূচি অনুযায়ী চলিবে, তবে, চেয়ারম্যান মহোদয়ের এর অনুমতি সাপেক্ষে অন্য কোনো কার্যক্রম চলিতে পারে যদি উপস্থিত সদস্যবৃন্দ বার কাউন্সিল বা কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যগণ মতামত প্রদান করেন বা ঐ বিষয়ে একই মতে পেঁৗছেন।

 

বিধি ৩৬ : সভার সিদ্ধান্তসমূহ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে গৃহীত হইবে। ভোটদান হবে হাত দেখানোর মাধ্যমে। যেক্ষেত্রে ভোট সমান সমান হয়, সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান দ্বিতীয় ভোটের সুযোগ পাইবে।

 

বিধি ৩৭ :  নোটিশ ব্যক্তিগতভাবে বা রেজিস্ট্রি ডাকের মাধ্যমে প্রেরণ করা হইবে বা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নিরূপিত অন্য কোনো পদ্ধতিতে হইবে।

 

বিধি ৩৮ :  সভায় অনুষ্ঠিত প্রতিটি কার্যক্রম সেক্রেটারি কতৃর্ক সভার কার্যবিবরণী বইয়ে রেকর্ড (জমা) করিয়া রাখা হইবে, এবং কার্যক্রমের রেকর্ড চেয়ারম্যান কতৃর্ক নির্দেশিত ও স্বাক্ষরিত এবং সেক্রেটারি কতৃর্কও স্বাক্ষরিত হইবে। বার কাউন্সিলের সকল সম্মানিত সদস্যগণের এবং কমিটির সকল সম্মানিত সদস্যগণের, যেই হউক না কেন, যথাযোগ্য যেকোনো সময়ে সভার কার্যবিবরণী বইয়ে অনুসন্ধান করিবার অধিকার থাকিবে।

 

বিধি ৩৯ :  কোনো বিষয় যাহা প্রস্তাবের মাধ্যমে বার কাউন্সিল কতৃর্ক নিরূপণ করা হইয়াছে, তাহা ৩ (তিন) মাসের মধ্যে পুনরায় উত্থাপন করা যাইবে না যদি না তা দুই—তৃতীয়াংশ সদস্যদের অধিযাচনের মাধ্যমে না হয়।

 

বিধি ৪০: এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ ভাইস—চেয়ারম্যানের নির্বাচনেরও প্রয়োগ করা হইবে যদি না এইরূপ নির্বাচন ব্যালটের মাধ্যমে না হয়।

 

[শাস্তিমূলক পদ্ধতি]

বিধি ৪১ :  কোনো এডভোকেট এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা অভিযোগসমূহ সুনির্দিষ্ট, স্পষ্ট ও দালিলিক কাগজপত্র সমৃদ্ধ হইতে হইবে বা অভিযোগকারীর নিকট রহিয়াছে এমন কপিসহ হইতে হইবে এবং অভিযোগের ঘটনার উপর অভিযোগকারীর শপথনামাও জমা দিতে হইবে। তবে যদি অভিযোগ কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয় বা কোনো আদালতের বিরুদ্ধে হয় তবে শপথনামার দরকার নাই।

 

বিধি ৪১এ :  একজন এডভোকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী পিটিশন ১০০০ (এক হাজার) টাকা ফি জমা দিয়ে বার কাউন্সিলে দাখিল করিতে হইবে।

 

বিধি ৪২ :  বার কাউন্সিল, সিদ্ধান্তের খাতিরে একজন এডভোকেটের বিরুদ্ধে আনীত মামলা সংক্ষিপ্তভাবে বাতিল করিয়া দিতে পারে, অথবা এডভোকেটের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হইয়াছে তাহার প্রত্যুত্তরের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠিয়ে দিতে পারে এবং তদন্ত করিবার ব্যবস্থা নিতে পারে, বার কাউন্সিল যা সঠিক মর্মে মনে করেন।

 

বিধি ৪৩ :  যখন কোনো একটি মামলা ট্রাইব্যুনালের নিকট পাঠানো হয়, তখন মামলা সংক্রান্ত সকল দলিলাদি ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

 

বিধি ৪৪ :  এটর্নি—জেনারেল বা তাঁর পক্ষে কোনো একজন এডভোকেট ট্রাইব্যুনালে কোন এডভোকেটের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন মামলা পরিচালনা করিবেন। অভিযোগকারী স্বয়ং কিংবা এডভোকেটের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করিতে পারেন। তবে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ব্যতীত এটর্নি—জেনারেলের মামলা পরিচালনায় অগ্রাধিকার থাকিবে।

 

বিধি ৪৫ :  মামলা গ্রহণ করিবার পর ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মামলার প্রথম তারিখ এইরূপভাবে নির্ধারণ করিবেন যাহাতে তাহা মামলা গ্রহণের সময় হইতে ২১ (একুশ) দিনের পূর্বে না হয় এবং উক্ত নির্ধারিত তারিখের নোটিশ ও মামলার কাগজপত্রাদি ন্যূনতম ৭ (সাত) দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট এডভোকেটকে ও এটর্নি—জেনারেলকে দিতে হইবে। নোটিশের অনুলিপি অভিযোগকারীকেও প্রদান করিতে হইবে এবং যদি না অভিযোগকারী কোনো আদালত বা সরকারি কর্মকর্তা তাহাদের সরকারি দায়িত্বে পেশ করিয়া না থাকেন সেইক্ষেত্রে উহার একটি কপি বার কাউন্সিলের নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গাইয়া দিতে হইবে।

 

বিধি ৪৬ : সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত এডভোকেট অভিযোগের একটি প্রত্যুত্তর বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি বরাবর ধার্য্যকৃত তারিখের ৭ (সাত) দিন পূর্বে পেশ করিবেন এবং সেক্রেটারি ন্যূনতম ২ (দুই) দিন পূর্বে উহার কপি অভিযোগকারী ও এটর্নি—জেনারেলের নিকট পেঁৗছাইবেন।

 

বিধি ৪৭ :  ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর বিধান মোতাবেক মৌখিক সাক্ষ্য ও দালিলিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন। মামলা পরিচালনায় ট্রাইব্যুনাল যতদূর সম্ভব দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ অনুসরণ করিবেন। তবে ট্রাইব্যুনালের এফিডেভিটের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিবার ক্ষমতা থাকিবে বা এফিডেভিটের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের জেরা করিবার অধিকার থাকিবে এবং ঐ জেরার বিষয়বস্তু এফিডেভিটের তথ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হইতে হইবে।

 

বিধি ৪৮ : সংশ্লিষ্ট এডভোকেট তার নিজের পক্ষে সাক্ষী হইবার জন্য যদি তিনি সাক্ষী হন, তাহা হইলে পুনরায় বিপক্ষ জেরার জন্য দায়ী হবেন। তবে এডভোকেট নিজে সাক্ষী হইবার জন্য বাধ্য নন।

 

বিধি ৪৯ :  বার কাউন্সিল এর সেক্রেটারি পদাধিকার বলে ট্রাইব্যুনাল এর সেক্রেটারি হইবেন এবং ট্রাইব্যুনাল কতৃর্ক নোটিশ ইস্যুর জন্য এবং এই অধ্যায়ে বর্ণিত সকল কাজের জন্য তিনি বাধ্য থাকবেন।

 

বিধি ৫০ :  বার কাউন্সিল একজন এডভোকেটের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিং এর ব্যাপারে স্বপ্রনোদিত হইয়া আদেশ দিতে পারিবেন এবং এই অধ্যায়ের বিধানসমূহ যতটুকু প্রয়োজন পরিবর্তন করিতে পারিবেন।

 

বিধি ৫১ :  ট্রাইব্যুনালে মামলা প্রেরণের পর, ট্রাইব্যুনাল তাহা বাতিল, স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট এডভোকেটকে বরখাস্ত বা তার বিরুদ্ধে তদন্ত স্থগিত রাখিতে পারেন বা ঐরূপ আদেশ বাতিল করিতে পারেন।

 

[চেয়ারম্যান, ভাইস—চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি]

 

বিধি ৫২ : বার কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান এবং ভাইস—চেয়ারম্যান এর নির্বাচন বার কাউন্সিলের গঠিত হইবার পর প্রথম সভার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ব্যালটের মাধ্যমে হইবে তবে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নয়।

 

বিধি ৫৩ :  চেয়ারম্যান বার কাউন্সিলের রুলস এবং আদেশ এর বিধানসমূহ বাস্তবায়নের জন্য বাধ্য থাকিবেন এবং তিনি তাঁহাকে অত্র আদেশ এবং বিধিসমূহে দেয় সকল ক্ষমতার অনুশীলন করিবেন।

 

বিধি ৫৪ :  ভাইস—চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব হইবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব যখন তিনি কোনো কারণে এই রুলস—এ বর্ণিত নিয়ম বা বিধান পালন করিতে পারিবেন না বা দেশের বাহিরে থাকিবেন।

 

যেইক্ষেত্রে চেয়ারম্যান দেশের বাহিরে থাকেন সেইক্ষেত্রে সেক্রেটারি অতি দ্রুত ভাইস—চেয়ারম্যানকে চেয়ারম্যানের দেশ ত্যাগ করিবার তারিখ সম্পর্কে অবহিত করিবেন।

 

বিধি ৫৪ : (১) যদি ভাইস—চেয়ারম্যানও এই বিধির অধীন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও ক্ষমতা চালাইতে অক্ষম নন, তাহা হইলে ঐ সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা বার কাউন্সিলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পালন করিবেন।

 

(২) কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সময়ে সময়ে অফিসের প্রশাসনিক কাজ পর্যবেক্ষণ করিবেন এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তাঁহার কমিটির সঙ্গে যখন সঠিক মনে হয় আলোচনা করিবেন; এবং অতঃপর বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান—এর দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তুলিয়া ধরিবেন।

 

(৩) কার্যনির্বাহী কমিটি কেবলমাত্র সেক্রেটারি ব্যতীত সকল ক্যাটাগরির চাকুরি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্রার্থী বাছাই করিয়া নিয়োগ দিতে পারিবেন, এবং প্রতিটি পদের বিপরীতে ২ (দুই) জন প্রার্থীর প্যানেল করিয়া বার কাউন্সিলে নিোগের জন্য পাঠাইতে পারেন।

 

(৪) কার্যনির্বাহী কমিটি কোনো উকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের মামলা স্ক্রুটিনি (Scrutinize) করিতে পারিবেন এবং রেফারেন্সের জন্য তাঁদের অভিমত ট্রায়ালের জন্য বা সংক্ষিপ্ত বা তাৎক্ষণিক বাতিল যখন যা প্রযোজ্য, ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করিতে পারিবেন।

 

(৫) কার্যনির্বাহী কমিটি আপিল শুনতে পারে যেইসব আপিল অফিস কতৃর্ক বিধি ৬৬(৩- এবং ৬৬(৪) এর অধীনে গ্রহণ করা হইয়াছে সেইসব আপিলের শুনানি করিতে পারিবেন এবং প্রয়োজনীয় আদেশ পাস করিয়াছে যাহা তাঁরা সঠিক মনে করিয়াছে এবং ঐরূপ আদেশ চূড়ান্ত এবং পক্ষসমূহের উপর বাধ্যবাধকতা স্থাপন করে। কোনো বার এসোসিয়েশনের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা উকিল কতৃর্ক দায়েরকৃত আপিল বা মামলা সম্পর্কেও কার্যনির্বাহী কমিটি শুনানি করিতে পারিবেন।

 

বিধি ৫৫ :  সচিব বার কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন।

 

১) সচিব বার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধান কর্মকর্তা এবং উপ—সচিব বার কাউন্সিলের নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন।

২) সচিবের অনুপস্থিতি বা ছুটির ক্ষেত্রে উপ—সচিব ভারপ্রাপ্ত সচিব হইবেন এবং সচিবের সকল কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন।

 

বিধি ৫৬ :  এই আদেশ এবং রুলস্ এর বিধান সাপেক্ষে, সেক্রেটারি ও বার কাউন্সিল কতৃর্ক অর্পিত দায়িত্বসমূহ পালন করবেন এবং ক্ষমতার আদেশ দিবেন।

 

বিধি ৫৭ : বাতিল

 

[এডভোকেটগণের তালিকাভুক্তি]

 

বিধি ৫৮ :  যে ব্যক্তি অনুচ্ছেদ—২৭(১) এর অধীন যোগ্যতা সম্পন্ন তিনি এই বিধির ‘A’ ফরমে এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হইবার আবেদনপত্র বার কাউন্সিলে করিতে পারেন।

 

বিধি ৫৯ : আবেদন পত্রের সাথে যাহা কিছু সংযুক্তি থাকিবে-

(a) আবেদনকারীর জন্ম তারিখের সন্তোষজনক সাক্ষ্য প্রমাণ ;

(b) অনুচ্ছেদ—২৭ অনুযায়ী আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সন্তোষজনক সাক্ষ্য প্রমাণ ;

(c) দুইজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট হইতে প্রাপ্ত আবেদনকারীর চরিত্র এবং আচরণ সম্পর্কিত দুইটি সনদপত্র ;

(d) এফিডেভিট কতৃর্ক ‘A’ ফরমের আবেদনের সত্যতা ও সঠিকতা ;

(e) ২৪০০ টাকা ফি প্রদানের রশিদ (যেমন : অন্তর্ভুক্তি ফি ১৫০০ টাকা ; লিখিত পরীক্ষার ফি—৭০০ টাকা ; এবং বার্ষিক ফি—২০০ টাকা)।

 

ব্যাখ্যা :  জন্ম তারিখের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বা মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড এর পরীক্ষার তারিখ সঠিক বলিয়া ধরা হইবে। তবে বার কাউন্সিল অন্যভাবেও তাহা নিরূপণ করিতে পারিবে।

 

বিধি ৫৯এ: তালিকাভুক্তি কমিটি কতৃর্ক নির্ধারিত তারিখে বা তার পূর্বে আবেদনপত্র বার কাউন্সিল এ পেঁৗছাইতে হইবে। উক্ত কমিটি নির্দিষ্ট তারিখের পরও আবেদনপত্র গ্রহণ করিতে পারিবেন আরো নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত। তবে এইক্ষেত্রে অন্য সকল ফি এর সাথে অতিরিক্ত ২০০.০০ টাকা ফি প্রদান করিতে হইবে।

 

বিধি ৬০ :  (১) এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির পূর্বে কমপক্ষে ১০ (দশ) বছর নিয়মিত ওকালতি করেন এমন একজন এডভোকেটের অধীনে আবেদনকারীকে নিয়মিত কমপক্ষে ৬ (ছয়) মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে থাকিতে হইবে। বার এসোসিয়েশন শিক্ষানবিশ হিসেবে বার কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করিবেন। বার কাউন্সিল যেভাবে নির্ধারণ করিবেন সেভাবে প্রত্যেক এডভোকেট হইবার প্রত্যাশী তাদের পরীক্ষার এবং সার্টিফিকেট নিশ্চিত হইবার পূর্বে ট্রেনিং গ্রহণ করিতে হইবে : 

 

আরো শর্ত থাকে যে, বার কাউন্সিল কিছু কিছু ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত শিক্ষানবিশ কালের জন্য অব্যাহতি দিতে পারেন যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আইনের ডিগ্রি আছে এবং এটর্নি বা ব্যারিস্টার হিসেবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডার তালিকাভুক্ত বা সার্কের (SAARC) অঞ্চলের কোনো দেশে এডভোকেট হিসেবে আছেন সেইক্ষেত্রে তাঁদের শিক্ষানবিশকালের প্রশিক্ষণ থেকে বার কাউন্সিল অব্যাহতি প্রদান করিতে পারেন।

 

(১এ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ডিগ্রিধারী কতিপয় ছাত্র; যাদের একাডেমিক সেশন ১৯৭৩—৭৪, ১৯৭৪—৭৫, ১৯৭৫—৭৬, ১৯৭৬—৭৭ তাহাদের শিক্ষানবিশকাল ১৮ (আঠার) মাস হইতে হইবে।

 

(২) বিধি ৬০ এর উপ—বিধি (১) অনুযায়ী কোনো আবেদনকারী যে এডভোকেটের অধীন শিক্ষানবিশ ট্রেনিং নিয়াছেন সেই এডভোকেটের নিকট হইতে ‘G’ ফরমে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন, যাতে ঐ শিক্ষানবিশ—এর সহযোগিতার প্রমাণ বা কমপক্ষে ১০ (দশ)টি মামলায় সহায়তার কথা উল্লে­খ থাকিবে। পৃথকভাবে বার কাউন্সিলে এডভোকেট তালিকাভুক্তিকরণ কমিটির পরিদর্শনের নিমিত্তে শিক্ষানবিশ ৫ (পাঁচ)টি ফৌজদারি মামলা এবং ৫ (পাঁচ)টি দেওয়ানি মামলা লিখিত নোট বুক পেশ করিবেন। এতে তিনি যেইসব মামলা পরিচালনাকালীন সময়ে আদালতে হাজির থাকিয়া শুনিয়াছেন, ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করিয়াছেন তাহার শিক্ষানবিশকালে, সেইসব মামলার ধারাবাহিক বিবরণ লিখা থাকিবে। তালিকাভুক্তি কমিটির সম্মুখে অনুসন্ধানের জন্য পেশ করিতে প্রত্যেক শিক্ষানবিশকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কতৃর্ক সরবরাহকৃত ডায়েরি নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) (i)  কোনো এডভোকেট, বার কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত একই সাথে একই সময়ে চার জনের অধিক শিক্ষানবিশ রাখিতে পারিবেন না।

 

(ii)  এডভোকেট এবং শিক্ষানবিশ এর মধ্যে যে লিখিত চুক্তি হইবে তার সাথে একটি এফিডেভিটসহ শিক্ষানবিশ হিসেবে, কাজ আরম্ভ করিবার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বার কাউন্সিলের সেক্রেটারির নিকট জমা দিতে হইবে। শিক্ষানবিশ চুক্তি লিপিবদ্ধ করার সময় রেজিস্ট্রেশন ফি ৮০০ টাকা এবং আইন ডিগ্রির সার্টিফিকেট এবং বার কাউন্সিল—এর রেজিস্ট্রেশন ফর্ম মোতাবেক প্রয়োজনীয় দলিলাদি, যথা : বার কাউন্সিল কার্যালয় হতে প্রয়োজনীয় ফি জমাপূর্বক ছাত্রত্ব রেজিস্ট্রেশন ফরম, লিখিত পরীক্ষার ফরম (ফরম—এ), পুনঃপরীক্ষার দরখাস্তের ফরম (অধঃস্তন আদালতের জন্য পদপ্রার্থী বা হইকোর্ট ডিভিশনে প্র্যাকটিস—এর পারমিশনের পদপ্রার্থীর ক্ষেত্রে)

 

  • শিক্ষানবিশ চুক্তির মেয়াদ শুরু হইবে তখন, যখন হইতে ঐ চুক্তির স্বাক্ষরিত হইবে। কিন্তু শিক্ষানবিশী সময়কাল গণনা করিতে হইবে তখন থেকে যখন ঐ এডভোকেট বারে চর্চা করেন ,

 

তবে শর্ত থাকে যে, একজন শিক্ষানবিশ একাধারে অর্থাৎ ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে একের অধিক এডভোকেট এর কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিতে পারেন।

 

  • একজন এডভোকেট যিনি এই উপ—বিধির অধীন করা চুক্তিতে মিথ্যা বিবৃতি দিবেন বা উপ—বিধি (২) এর অধীন মিথ্যা সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন, তিনি পেশাগত অসদাচরণের দায়ে দোষী হইবেন।

 

  • যদি এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তি জন্য আবেদনপত্রে কোনো প্রার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে পত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন, তাহা হইলে ঐ প্রার্থী ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য অযোগ্য হইবেন।

 

  • এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির ন্যায় হাইকোর্ট ডিভিশনে প্রাকটিস করার কোনো প্রার্থী নিবন্ধনের পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বৎসর কার্যকর থাকিবে। যদি কোনো প্রার্থী নিবন্ধনের পরবর্তী ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে ব্যর্থ হয়, সেইক্ষেত্রে তার নিবন্ধন বাতিল হইয়া যাইবে।

 

  • বার কাউন্সিলে এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য C.Q. ও লিখিত পরীক্ষা এবং পাশাপাশি হাইকোর্ট ডিভিশনে প্র্যাকটিস করার অনুমতির জন্য যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইবে তাহা যেকোনো সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল—এর তত্ত্বাবধানে সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হইবে।

 

বিধি ৬০এ : প্রত্যেক আবেদনকারীকে উকিল হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার জন্য বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত কতিপয় কোর্স শেষ করিতে হইবে এবং বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্দেশত ও তত্ত্বাবধানে M.C.Q.  পরীক্ষায় এবং লিখিত পরীক্ষা এবং ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইতে হইবে : 

 

তবে শর্ত থাকে যে, প্রাক—যোগ্যতা (M.C.Q.) পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হইবে যার জন্য ১০০টি প্রশ্ন থাকিবে। একজন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে যদি তিনি প্রিলিমিনারী পরীক্ষা (M.C.Q.) তে ৫০ নম্বর পাইয়া থাকেন এবং পি.এস.সি/পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যান্ডার্ডে সিলেবাস অনুসরণ করাই হইবে এবং M.C.Q. পরীক্ষার সময়কাল হইবে ১ (এক) ঘণ্টা।

 

(২) বার কাউন্সিল কতৃর্ক প্রণয়নকৃত সিলেবাসের অধীনে ১ (এক) পেপারে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হইবে এবং সেই পরীক্ষা ৪ (চার) ঘণ্টা মেয়াদের হইবে।

 

(৩) লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ, স্থান, সময় বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত হইবে। পরীক্ষার বিস্তারিত তথ্য, সিলেবাস ইত্যাদি প্রার্থী বা কাউন্সিল থেকে সংগ্রহ করিবে।

 

বিধি ৬০বি :  লিখিত পরীক্ষায় যেইসব প্রার্থী উত্তীর্ণ হইবেন সেইসব প্রার্থী বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট কমিটির নির্দেশ ও তত্ত্বাধানে ভাইভা  মৌখিক) পরীক্ষায় অংশগ্রহন করিবে। ভাইভা (মৌখিক) পরীক্ষা ৫০ নম্বরের হইবে : 

 

শর্ত থাকে যে, যদি কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবার পর ভাইভা  (মৌখিক) পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়, তাহা হইলে সে পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষায় ৩০০ (তিনশত) টাকা ফি জামা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে : 

 

আরো শর্ত থাকে যে, কোনো প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় পাস করার ৩ (তিন) বছরের মধ্যে ৩ (তিন) বারে করে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হইলে তার লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও বাতিল করা হইবে।

 

বিধি ৬০সি : এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য একজন প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ এবং মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ২৫ নম্বর পাইতে হইবে।

 

বিধি ৬১ :  এনরোলমেন্ট কমিটির কোনো আবেদন গ্রহণ বা ফেরত বিষয়ক কোনো আদেশ জারির পূর্বে নিজে সংক্ষেপে অনুসন্ধান করিতে পারিবে, যা  সঠিক মর্মে মনে করেন।

 

বিধি ৬২ :  (১) যেইক্ষেত্রে এনরোলমেন্ট কমিটি অনুরূপ দরখাস্ত গ্রহণ করিবেন সেইক্ষেত্রে বার কাউন্সিল বিধিতে বর্ণিত ফরম ই অনুযায়ী তালিকাভুক্তির একটি সার্টিফিকেট বা তালিকা তৈরী করিবে এবং উত্তীর্ণ দরখাস্তকারীদের সেই নামের তালিকা সে বার এসোসিয়েশন যারা ওকালতি করিবেন সেখানে প্রেরণ করিবেন এবং যাহা বিধি ৬৭ অনুযায়ী বার কাউন্সিল স্বীকৃতি দিয়াছে।

 

(২) অতঃপর প্রত্যেক এডভোকেটের নামে বার কাউন্সিলে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি করে সার্টিফিকেট বার কাউন্সিল তৈরী করেন এবং যে বার এসোসিয়েশনের মাধ্যমে বার কাউন্সিলের নিকট আবেদন করেছিলেন অন্যান্য সকল শর্ত পূরণের সাপেক্ষে ঐ বারের সদস্য হিসেবে যোগদান এর পর শপথ গ্রহণের উপর নির্ভর করে সনদ ইস্যু করেন, শপথনামা নিম্নে বর্ণিত হইলো :

 

(৩) বার কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত, কোনো এডভোকেট তার পূর্ববর্তী বার এসোসিয়েশন পরিবর্তন করিতে পারিবে না বা অন্য কোনো বার এসোসিয়েশেনে পূর্ববর্তী বার এসোসিয়েশনে তার সদস্যপদ বহাল রাখিয়া যোগদান করিতে পারবে না এবং প্রতিটি বার এসোসিয়েশন পরিবর্তন এর আবেদনপত্র ১০০০ (এক হাজার) টাকা রশিদসহ জমা দিতে হইবে।

 

(৪) বার কাউন্সিলের পূর্বোক্ত অনুমতি ব্যতীত কোনো বার এসোসিয়েশন অন্য কোনো বার এসোসিয়েশনে সদস্যকে নিজের সদস্য হিসেবে গ্রহণ করিতে পারবে না এবং বার কাউন্সিলের অনুমতি ব্যতীত কোনো বার এসোসিয়েশনের কোনো রূপ পরিবর্তন বার কাউন্সিল অনুমোদন দিবে না।

 

(৫) যদি উপযুক্ত কতৃর্পক্ষের নিকট হইতে এইরূপ কোনো ধরনের তথ্য বা রিপোর্ট পাওয়া যায় যে, কোনো ব্যক্তি তালিকাভুক্তির সময় প্রদত্ত একাডেমিক সনদ জাল বা ভুয়া তাহা হইলে বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তি সনদ বাতিল বা স্থগিত বা ফেরত নিতে পারে অথবা ফরম—A তে প্রদত্ত এফিডেভিটের তথ্য মিথ্যা এবং এইরূপ কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারেন।

 

বিধি ৬৪ :  বার কাউন্সিল কোনো ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করিতে অস্বীকার করিতে পারেন যদি এইরূপ কোনো কারণ থাকে যে, অন্য কোনো দেশে বা বার এসোসিয়েশনে ন্যায়নীতি ও আচরণ ভঙ্গের অভিযোগ রহিয়াছে বা তাহাকে বার এসোসিয়েশন হইতে অপসারণ করা হইয়াছে বা তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বার এসোসিয়েশনে আছে বা ঝুলন্ত অবস্থায় রহিয়াছে।

 

বিধি ৬৫ :  প্রত্যেক ক্ষেত্রে যে ডিগ্রির উপর ভিত্তি করে আবেদনকারী তালিকাভুক্ত হইবার জন্য আবেদন করে তাহা অনুচ্ছেদ—২৭ (১) (c) (iv) অনুযায়ী স্বীকৃত হইতে হইবে এবং ঐ সকল ক্ষেত্রে যেখানে, কোনো আবেদনকারীর উপর ফৌজদারী মামলা অন্য কোনো দেশে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ থাকিবে তা তালিকাভুক্তি কমিটির কাছে জমা দিবার পূর্বে বার কাউন্সিল এ যথাযথ পদক্ষেপের জন্য দাখিল করিতে হইবে। বার কাউন্সিল অন্যান্য তথ্য ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইবার সাপেক্ষে প্রার্থীকে তালিকাভুক্ত করিতে পারেন।

 

বিধি ৬৫এ :  অনুচ্ছেদ—২১(১) (c) এর অধীন কোনো প্রার্থী যিনি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চর্চা করার জন্য অনুমতির আশা করেন। তাঁহার নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ (দুই) বছরের চর্চার অভিজ্ঞতার বিধি বা যোগ্যতাকে বার কাউন্সিল এর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে, নিচের মান অনুযায়ী অব্যাহতি প্রদান করিতে পারেন : 

 

  • এইরূপ একজন এডভোকেট যিনি যুক্তরাজ্যের বার এসোনিয়েশনে তালিকাভুক্ত অথবা স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হইতে তাঁহার এল.এল.এম. ডিগ্রিতে উচ্চতর দ্বিতীয় বিভাগে (কমপক্ষে ৫০% নম্বর পাইয়া) উত্তীর্ণ হইয়াছেন বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো সিনিয়র এডভোকেট এর সাথে তালিকাভুক্তির সময় থেকে কমপক্ষে ১ (এক) বছর ধরিয়া কাজ করেন (বিধি৬২(১) এর অধীন এডভোকেট তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে) ; এবং
  • হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করিবার অনুমতির জন্য দায়ের করা সকল আবেদন এই বিধিমালায় প্রদত্ত ফরম অনুযায়ী হইবে এবং সাথেÑ

 

(a) একটি সার্টিফিকেট, সেইক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়, প্রার্থী যে বার এসোসিয়েশনে প্র্যাকটিস করেন ঐ বারের সভাপতি/সেক্রেটারি কতৃর্ক প্রত্যায়িত যে, উক্ত এডভোকেট উক্ত বার এসোসিয়েশনে কমপক্ষে ২ বছর নিয়মিত সদস্য হিসেবে প্র্যাকটিস করিয়াছে এবং তার পক্ষে হাইকোর্ট প্র্যাকটিস করার আবেদনের কারণসহ সার্টিফিকেট অথবা, সে যুক্তরাজ্য বারের তালিকাভুক্ত সার্টিফিকেট দেখানো বা স্বীকৃতি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এল.এল.এম. ডিগ্রির উচ্চতর ২য় বিভাগ অর্জন বা সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিভাগের সদস্যের সাথে কমপক্ষে ১ (এক) বছর তাঁহার চেম্বারে প্র্যাকটিস করার সার্টিফিকেট নির্ধারিত পন্থায় সরাসরি বার কাউন্সিলে পাঠানো হইবে এবং বিশ্বস্ততার সহিত ঐ সিনিয়র এডভোকেট এর সাথে থাকাকালীন প্রস্তুতকৃত দলিল, সংশোধন, পিটিশন, গবেষণা ইত্যাদি পাঠাইতে হইবে বা তাঁহার সহায়তায় চালিত গবেষণা পাঠাইতে হইবে।

 

(b) কমপক্ষে ২৫টি দেওয়ানি বা ফৌজদারি বা উভয় প্রকার মামলার তালিকা, যেসব মামলায় ঐ এডভোকেট আদালতের সামনে উপস্থিত ছিলো।

 

(c) হাইকোর্ট পারমিশন ফি বাবদ ৫০০০ টাকা (এবং এইরূপ পারমিশন পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা রশিদ)।

 

(d) এডভোকেট এর ১ (এক) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

 

(২) হাইকোর্ট পারমিশনের জন্য আবেদনকারীদের অবশ্যই লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির নির্ধারিত কোর্স পড়িতে হইবে এবং বোর্ডের সামনে পরীক্ষা দিতে হইবে। বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে; ভাইস—চেয়ারম্যান; প্রত্যেকটি কমিটির চেয়ারম্যানগণ এবং এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যগণকে নিয়ে বোর্ড গঠিত হইবে। বোর্ডের সদস্যগণ প্রার্থী বোর্ডের সামনে হাজির হইতে বলিবে। বোর্ড অনুমতি দিতে একমত হইবে তখন, যখন প্রার্থী সকল শর্ত, যোগ্যতা পূরণ করিতে পারিবে। বোর্ড প্রয়োজন মনে করিলে পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা করিতে পারে। অনুত্তীর্ণ প্রার্থীগণ পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে। সভার জন্য প্রয়োজনীয় কোরাম হচ্ছে ৩ (তিন) জন চেয়ারম্যান এর অনুপস্থিতিতে ভাইস—চেয়ারম্যান এবং তাদের উভয়ের অনুপস্থিতিতে সভার সদস্যগণ ঠিক করিবেন সভার সভাপতি কে। চেয়ারম্যান বা বোর্ডের যেকোনো সদস্য বারের যেকোনো সদস্যকে বার্ডের পরীক্ষা গ্রহণে সাহায্য করার জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।

 

(৩) যেইক্ষেত্রে বোর্ড লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করিবে, সেইক্ষেতে বোর্ড ঐ পরীক্ষার সিলেবাস প্রণয়ন করিবে, যাতে নিম্নে বর্ণিত আপিল ড্রাফ্ট (দেওয়ানি এবং ফৌজদারি)

 

(a) কোনো বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ড্রাফ্ট ( দেওয়ানি এবং ফৌজদারি)

(b) হেবিয়াস কর্পাস পিটিশান এর ড্রাফ্ট।

(c) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১A  এর অধীন পিটিশন এর ড্রাফ্ট।

(d) দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা—১১৫ এর অধীন সিভিল রিভিশন এর ড্রাফট।

(e) রিট পিটিশন এর ড্রাফ্ট।

 

প্রতিটি প্রশ্ন ২৫ মার্কের হইবে বা অন্য কোনো মার্কস এবং বন্টন বোর্ড যেরূপ ঠিক করবে। মার্কস বন্টনের ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব নিম্নে বর্ণিত স্টান্ডার্ড অনুসরণ করিবে : 

 

(i)   ফরমেট এর জন্য—৫ মাকর্স।

(ii)  ঘটনার আয়োজন—৫ মাকর্স।

(iii)  দাবির গঠন—৫ মাকর্স।

(iv) ভাষা ও সৌন্দর্য—৫ মাকর্স।

(v)আইনের প্রয়োগ এবং ভিত্তি—৫ মাকর্স।

 

(৪) লিখিত পরীক্ষার পাশের নম্বর হইতেছে ২৫ এর মধ্যে ১২ এবং মৌখিক পরীক্ষার পাশের নম্বর হইতেছে ২৫ এর মধ্যে ১২। তবে এক্ষেত্রে কমপক্ষে (১২+১৩)=২৫ হইতে হবে। যদি কোনো এডভোকেট লিখিত পরীক্ষায় পাস করে এবং মৌখিক পরীক্ষায় পাস না করে তাহা হইলে পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে পারিবে, লিখিত পরীক্ষা দিতে হইবে না। তবে সে যদি পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষায়ও ফেল করে, তাহা হইলে তাহার লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও বাতিল হইয়া যাইবে। প্রথমবার লিখিত পরীক্ষার পাস করে মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করে আবার মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিতে বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত ফি জমা দিতে হইবে।

 

বিধি ৬৬ :  (১) কোনো ব্যক্তি একজন এডভোকেট হিসেবে প্র্যাকটিস করিতে পারিবেন না যদি না সে যে বার এসোসিয়েশেনর সদস্য সে বারে স্বাভাবিকভাবে প্র্যাকটিস না করে, যাহা নিচের রুলসের অধীন স্বীকৃতি দেওয়া হইয়াছে।

 

(২) তালিকাভুক্ত হইবার ৬ মাসের মধ্যে যদি কেউ কোনো বার এসোসিয়েশেনের সদস্য না হয় তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাহার সার্কিফিকেট স্থগিত হইয়া যাইবে :

 

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি ৬২ বলবৎ হইবার পূর্বে এবং কোনো বার এসোসিয়েশনের সদস্য হইবার পর যদি কোনো ব্যক্তিকে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়, তাহা হইলে সে যেখানে প্র্যাকটিস করে ঐ বার এসোসিয়েশনের (সদস্য হবার পর) মাধ্যমে বার কাউন্সিলে এইরূপ স্থগিতাদেশ হইতে অব্যাহতির জন্য আবেদন দায়ের করিতে পারে: 

 

আরো শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি তালিকাভুক্ত হইবার ৬ (ছয়) মাস পরও সার্টিফিকেট লাভ করিতে ব্যর্থ হয় এবং এইজন্য সন্তোষজনক কারণ দর্শাইতে না পারে, তাহা হইলে তাহার রোল তালিকা হইতে কাটিয়ে দেওয়া হইবে।

 

(৩) প্রত্যেক এডভোকেট যাহারা কোনো বার এসোসিয়েশনের সদস্য হইবার জন্য আবেদন করিয়াছে এবং এইরূপ আবেদন বার এসোসিয়েশন কতৃর্ক প্রত্যাখ্যান হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে তাহারা বার কাউন্সিলের নিকট আপিল করিতে পারিবে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হইলে বার কাউন্সিলের নিকট আপিল করা যাইবে। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হবার খবর জানানোর ২ (দুই) মাসের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে। আপিল কতৃর্পক্ষ উক্ত বাতিলকৃত আদেশ স্থগিত করিতে পারে বা উপযুক্ত কারণে আপিল দায়ের করার বিষয়কে মাফ করিয়া দিতে পারে।

 

বার এসোসিয়েশন হইতে কোনো সদস্যের অপসারণকে বার কাউন্সিল স্বীকৃতি দিবে না যদি না এইরূপ অপসারণ বারের বকেয়াদি পরিশোধ সম্পর্কিত বা ফান্ডের অসদ্ব্যবহারজনিত বা সম্পদের অসদ্ব্যবহারজনিত কারণে না হয়।

 

(৪) একজন এডভোকেট এর নাম/রোল যদি বার এসোসিয়েশন থেকে বাতিল/মুছিয়া ফেলা হয়, তাহা হইলে সে প্রতিকার পাইবে এমনভাবে যেন সদস্য হবার আবেদন করিবার কারণে তাহার আবেদন বাতিল করা হইয়াছে এবং এইজন্য আপিল কতৃর্পক্ষের একই ক্ষমতা থাকিবে।

 

বিধি ৬৭ :  (১) যেখানে এডভোকেট এসোসিয়েশন আইন চর্চা করে তারা বার কাউন্সিলের স্বীকৃতির জন্য রুলসের অধীনে আবেদন করিতে পারিবে। আবেদন করিতে হইবে ঐ এসোসিয়েশনের সভাপতি বা সম্পাদক মহোদয় কতৃর্ক : 

 

তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে নতুন সৃষ্ট উপজেলায় কোনো আইনজীবীদের এসোসিয়েশন গঠিত হইবে, বার কাউন্সিল তাদের এই রুলের অধীন বার এসোসিয়েশন হিসেবে স্বীকৃতি  দিবে না।

আরো শর্ত থাকে যে, উপরের শর্ত বলবৎ হইবার সাথে সাথে নতুন উপজেলার গঠিত এডভোকেটদের এসোসিয়েশন যাহা ১৯৮২ সালে LIX নং অর্ডিন্যান্স বলবৎ হবার পূর্বে গঠিত উপজেলার বারসমূহ বাদে অন্য সকল বার বাতিল এবং তাদের কার্যক্রম এই রুলস অনুযায়ী স্থগিত করিবে।

 

(২) এই রুলস বলবৎ হইবার পর বার কাউন্সিল এর স্বীকৃতির জন্য এই রুলস বলবৎ হবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হইবে এবং বার কাউন্সিল তাহা বাতিল করিবে না।

 

(৩) বার এসোসিয়েশনের স্বীকৃতির জন্য করা আবেদন জমা দেয়ার ৪ (চার) মাসের মধ্যে বার কাউন্সিলকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাইতে হইবে। যদি এইরূপ সিদ্ধান্ত জানইতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে ঐ বার এসোসিয়েশনের  সদস্যদের উক্ত বারের সদস্য হিসেবে ধরা হইবে যতক্ষণ না পর্যন্ত বার কাউন্সিল আবেদনকারী বারের স্বীকৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত না জানায়।

 

(৫) এই রুলসে যাহাই থাকুক না কেন, এডভোকেটদের যেকোনো এসোসিয়েশন যাহারা সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নির্দিষ্ট কোন বেঞ্চে আইন চর্চা করে, তাহারা বার কাউন্সিলে এই রুলসের অধীনে বার এসোসিয়েশনের স্বীকৃতির জন্য আবেদন করিতে পারিবে।

 

বিধি ৬৮ : এডভোকেট নিম্নে বর্ণিত ফি জমা দিতে বাধ্য থাকিবেন:-

(এ) তালিকাভুক্তির ফি— ১৫০০ টাকা;

 

(বি) তালিকাভুক্তির আবেদনপত্রের সাথে ২০০ টাকার বাৎসরিক ফি এবং ১ (এক) বছর বা প্রথম বছরের যেকোনো সময়ের মধ্যে সে প্র্যাকটিস করার অধিকারী হন পরবর্তী প্রত্যেক বছরের জন্য ৩ শে ডিসেম্বর এর মধ্যে বাকি ফিসমূহ পরিশোধ করিতে হইবে বা ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে বিলম্ব ফি ছাড়াই বাৎসরিক ফিসমূহ জমা দিতে হইবে যাহা বিধি ৬৯ এর উল্লে­খ করা হইতেছে : 

 

তবে শর্ত থাকে যে, পরবর্তী ক্লজে উল্লি­খিত হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করিবার জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিলে তাহার আর বাৎসরিক ফি জমা দেওয়া লাগিবে না।

 

(সি) অনুচ্ছেদ—২১ এর অধীনে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করার অনুমতির জন্য ৫০০ টাকার ফি জমা দিতে হইবে।

 

যে কোনো আদালতে, ট্রাইব্যুনালে বা রাজস্ব কতৃর্পক্ষ, যা হাইকোর্ট ডিভিশন এর অধস্তন, প্রত্যেক এডভোকেটকে একজন এডভোকেট হিসেবে প্র্যাকটিস করিবার জন্য বার কাউন্সিল ফরম—D অনুযায়ী একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করিবেন এবং যারা বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করিবার অনুমতি পাইবেন তাদের জন্য ফরম—উ অনুযায়ী একটি সার্টিফিকেট ইস্যু করিবেন। বাৎসরিক ফি জমা দিয়াছে এইরূপ সকল এডভোকেটদের ফরম—ঈ অনুযায়ী রশিদ ইস্যু করিবেন।

 

বিধি ৬৯ :  প্রত্যেক এডভোকেট যাহারা ঐ বছরের বার্ষিক ফি ৩১ শে ডিসেম্বর—এর মধ্যে জমা দিতে ব্যর্থ হইবেন, তাহারা ৩১ শে জানুয়ারির মধ্যে বার্ষিক ফি বার কাউন্সিলে জমা দিতে হইবে, নচেৎ প্রতি মাসের বিলম্বের জন্য ১০/— টাকা হারে বিলম্ব ফি জমা দিতে হইবে, যাহা পরিশোধের সময় বছরের জানুয়ারি মাস হইতে আরম্ভ হইবে।

 

বিধি ৭০ :  যেইক্ষেত্রে একজন এডভোকেট অন্য কোনো ব্যবসা বা পেশা বা অনুষদে যোগদানের উদ্দেশ্যে আইন পেশা চর্চা না করেন, সেইক্ষেত্রে তার সনদ স্থগিত করার জন্য আবেদন করিতে পারেন বা এইরূপ স্থগিতাদেশ বাতিলের জন্যও আবেদন করিতে পারেন।

 

বিধি ৭১ : জেষ্ঠ্যতা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয় এনরোলমেন্ট কমিটি কতৃর্ক নিরূপিত হইবে। যেইক্ষেত্রে প্রতিযোগীবৃন্দ সঠিক ক্রম অনুযায়ী তালিকায় না থাকে, সেইক্ষেত্রে তালিকায় সংশোধন আনার মাধ্যমে এনরোলমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্তে বাস্তবায়ন ও পূর্বের ত্রুটির সংশোধন আনা হইবে।

 

বিধি ৭২ : তালিকায় যে যে সংযোজন, পরিবর্তন এবং সংশোধন করা হইবে সে সে সংযোজন, পরিবর্তন এবং সংশোধন সংঘটিত হইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট কে অবহিত করিতে হইবে।

 

বিধি ৭৩ :  অনুচ্ছেদ—২০ এর অধীনে প্রস্তুতকৃত তালিকার সংযোজন, পরিবর্তন বা সংশোধনী অফিসিয়াল গেজেট কতৃর্ক ঘোষণা করিতে হইবে।

 

বিধি ৭৩এ:  এই বিধিমালাতে যাহাই থাকুক না কেন, বার কাউন্সিল কোনো বার এসোসিয়েশনের সদস্য নয় এমন কোনো ব্যক্তিকে প্র্যাকটিস করিবার জন্য এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবেন, যিনি Bangladesh Legal Practitoners and Bar Council (Second Amendment) Act, 1974 অনুযায়ী এডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন।

 

[কমিটিসমূহ]

 

বিধি ৭৪ :  সকল কমিটি যাদেরকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বা ব্যাপারে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হইয়াছে তাহারা নিম্ন বর্ণিত পন্থায় রিপের্ট জমা দিবেন :

 

(a) ব্যাপক এবং পরিষ্কার ভাষায় কমিটির বিবেচিত প্রশ্নসমূহকে সাজাইতে হইবে ;

 

(b) যতদূর বাস্তব সম্ভব, সুনির্দিষ্টভাবে ইস্যুগুলো আলাদা করিয়া এবং প্রত্যেক প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষের যুক্তিতর্কসমূহ সাজাইয়া তুলে ধরা উচিত ;

 

(c) একটি বিস্তারিত লিখিত বিবৃতি সাজানোর পর তার উপর কমিটি তার মতামত প্রদান করিবে এবং এর উপর ভিত্তি করিয়া সিদ্ধান্তে উপনীত হইবে ; এবং পরবর্তীতে সেইক্ষেত্রে বার এসোসিয়েশেন বা অন্য কোনো ব্যক্তি ঐ মতামতের/সিদ্ধান্তের মূল বিষয়বস্তু বিশ্লে­ষণ করিয়া উল্লে­খ করিতে হইবে।

 

(d) একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব যাহা সুপারিশ হিসেবে রাখা হইয়াছে এবং যাহা কমিটি চায় বার কাউন্সিল ঐ সুপারিশ রিপোর্টের সাথে জমা দিতে হইবে।

 

(২) যদি কমিটির কোনো সদস্য ভিন্ন মত পোষণ করে, তাহা হইলে তাহার ঐ মতামত ভিন্ন করিয়া লিখিতভাবে জমা দিতে হবে, যাহা ঐ রিপোর্টের অংশ রূপে গণ্য হইবে।

 

বিধি ৭৫ :  লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি ব্যতীত সকল কমিটির চেয়ারম্যান বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বাচিত হইবে।

 

বিধি ৭৪এ :  বার কাউন্সিল, তার চলমান কাজ ও দায়িত্বসমূহের কার্যকারিতাকে নিশ্চিত করার জন্য নিচের কমিটিগুলো গঠন করিতে পারিবে, যথাÑ

 

  • ল রিফর্ম কমিটি, যাহা সদস্য সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশি নয় এবং যাহারা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বাচিত এমন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ;

 

  • হিউম্যান রাইটস এন্ড লিগ্যাল এইড কমিটি, যাহা সদস্য সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশি নয় এবং যারা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বর্র্াচিত—এমন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ;

 

  • রিলিফ কমিটি, যাহা সদস্য সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশি নয় এবং যারা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বাচিত এমন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত;

 

(iv)  হাউস কমিটি, যাহা সদস্য সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশি নয় এবং যারা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বাচিত এমন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ;

 

(v)  রোল এন্ড পাবলিকেশন কমিটি, যাহা সদস্য সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশি নয় এবং এবং যারা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বাচিত এমন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ;

 

(vi) কমপ্লেইন্ট এন্ড ভিডিলেন্স কমিটি, যাহা সদস্য সংখ্যা ৫ (পাঁচ) জনের বেশি নয় এবং এবং যারা বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্বাচিত এমন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ;

 

বিধি ৭৫বি : বিধি ৭৫এ এর অধীন গঠিত কমিটিসমূহের ক্ষমতা ও কাজসমূহ নিচে দেওয়া হল : 

 

(i)  ল রিফর্ম কমিটি, জনস্বার্থে কার্যকর পরিবর্তন এবং পেশায় কার্যকরী পরিবর্তন আনার জন্য আইনের শাসন, ন্যয় বিচারে সমতা, মানবাধিকার সমূহের বলবৎকরণ এবং বিচার প্রদান পদ্ধতিকে উন্নত করার জন্য আইন তৈরির পদ্ধতিতে নজরদারি এবং অনুধাবন করিলে। ল রিফর্ম কমিটি দেশের বিভিন্ন আইনের উপর গবেষণা করিবে এবং যেইক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজনীয় সেইক্ষেত্রে পরিবর্তন—এর মতামত প্রদান করিবে এবং বার কাউন্সিল অর্ডার, ক্যাননস অব প্রফেসনাল কন্ডাক্ট এন্ড ইটিকুইটি, বিভিন্ন বার এসোসিয়েশনের আইন পুনর্গঠনের সুপারিশসমূহ একত্রিতকরণসহ দেশের বিদ্যমান আইনের উপর পর্যবেক্ষণ করা এবং স্থায়ী আইন কমিশনের সাথে আইন, বিচার ও সংসদীয় কমিটির সাথে, এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ রাখিবে এবং আইন তৈরীতে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সাহায্য ও যোগাযোগ রক্ষা করিবে।

 

  • হিউম্যান রাইটস এন্ড লিগ্যাল এইড কমিটি বিভিন্ন বার কাউন্সিলে নজরদারি সেল সমূহ অনুপ্রাণিত করিবে এবং সংগঠিত করিবে, সঠিক কার্যকরী প্রতিবেদন সংগ্রহ করিবে, এবং নেটওয়ার্ক বিস্তার করিবে। সঠিক সময়ে আইন সহায়তা দিবার জন্য এবং সরকার ও বিভিন্ন বার এসোসিয়েশনসমূহের সাথে সরকার কতৃর্ক গৃহীত মঞ্জুরীর সঠিক ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ রক্ষা করিবে।

 

(iii)  হাউজ কমিটি ক্যান্টিন এবং বিশ্রামাগারের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা দেখাশুনা করিবে, বিশ্রামাগার রুলস প্রয়োগ করিবে, বার কাউন্সিলের কোনো বা ব্যবহারিক জিনিস/বস্তু আয়োজন বা ক্রয় করিবে এবং নির্মাণ কাজ (দরপত্র আহ্বান, মূল্যতালিকা আহ্বান ইত্যাদি সহ যেকোনো কাজ করিবে এমনভাবে যেন এটি যথার্থ এবং আশাব্যঞ্জক হয় এবং ইহাতে তার সুপারিশ প্রদান করিবে যা ক্রয় নীতি গঠন সহ অন্যান্য কাজ, যা নির্বাহী কমিটি সময়ে সময়ে অর্পণ করে সেই কাজ করিবে।

 

(iv)  রিলিফ কমিটি রিলিফের জন্য আবেদন মঞ্জুর ও বিবেচনা করিবে এবং আবেদন গ্রহণকারী সেইক্ষেত্রে তার মতামত অর্থ কমিটির কাছে উপস্থাপন করিবে এবং কোনো এডভোকেটকে মেডিকেল সহায়তা দিবে এবং জরুরি অবস্থায় সাহায্য করিবে, যদি কমিটি তা উপযুক্ত মনে করে।

 

  • রোল এন্ড পাবলিকেশন কমিটি, সাজানো গোছানো পন্থায় তালিকা রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং প্রকাশনার দায়িত্বে থাকিবে; আইনের বই, BLD, জার্নাল, নির্দেশিকা, স্মারক প্রকাশের দায়িত্বে থাকিবে।

 

  • অভিযোগ ও নিয়ম শৃঙ্খলা কমিটি, অভিযোগ গ্রহণ করিবে। বিচার প্রদান পদ্ধতিতে স্বাভাবিক সতকর্তা অবলম্বন করিবে এবং বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের প্রসঙ্গে আইনজীবীদের আচরণের উপর সতর্কতা অবলম্বন করিতে এবং ন্যায়বিচার প্রদান পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো অভিযোগ সতর্কতার সাথে দেখিবে। কমিটির কাছে করা অভিযোগ পরীক্ষা ও তদন্ত করিবে এবং ঐ বিষয়ে সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে এবং অভিযোগের প্রতিকারের জন্য যথাযথ কতৃর্পক্ষের মহামান্য প্রধান বিচারপতি আইন মন্ত্রণালয় অনুমতিসহ বার কাউন্সিলে জমা দিবে। যদি অভিযোগ কোনো এডভোকেট এর বিরুদ্ধে তদন্তের পর উৎঘাটিত হয় তবে তা একইভাবে নির্বাহী কমিটির কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠাইবেন। বার এর বেঞ্চে বিদ্যমান সকল বিতর্ক অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করা হইবে যাতে এদের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে ওঠে যাতে করে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়।

 

বিধি ৭৬ :  বার কাউন্সিল যখন কমিটি গঠন করে তখন অন্য রকম/ ভিন্নরূপ কিছু না বলা হলে প্রতিটি কমিটি ও বার কাউন্সিল একই রকম থাকিবে।

 

বিধি ৭৭ :  প্রতিটি কমিটির একত্রিত হইবার আহ্বান সেক্রেটারি বা ইহার চেয়ারম্যান কতৃর্ক করা হইবে, যিনি একত্রিত হইবারও স্থান নির্ধারণ করিবেন।

 

বিধি ৭৮ :  কমিটির কাজ ঐ কমিটির সভায় নির্বাহ করিতে হইবে : তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে কমিটির চেয়ারম্যানের মতামত, নির্বাহ করার জন্য যুক্তিযুক্ত, এবং মতামত নেবার জন্য প্রত্যেক সদস্যের কাছে চক্রাকারে পাঠানো হয় এবং তদানুযায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সেখানে এইরূপ সিদ্ধান্তকে ধরিয়া নেওয়া হয় যেন সভা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছে। অবশ্য কমিটির সদস্যের সিদ্ধান্ত এর ব্যাপারে একমত হইতে হইবে।

 

[অর্থ]

 

বিধি ৮০ :  (১) চেয়ারম্যান বার কাউন্সিলের বকেয়া অর্থ উদ্ধার এবং কাউন্সিলের তহবিল ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন এবং ব্যবহারের জন্য দায়ী থাকিবে।

 

(২) সেক্রেটারি হইবেন অর্থ লেনদেনের কতৃর্পক্ষ। সে খুচরা খরচের/ব্যবহারের বিলসমূহ অনুমোদন দিবেন যেমন মনিহারী ক্রয়, ডাক ও তার অফিস রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং অফিস সরঞ্জাম এবং সকল প্রাসঙ্গিক খরচ, সভা খরচ, সেমিনার খরচ, কনফারেন্স খরচ এবং বিনোদন খরচ ইত্যাদি বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বা ভাইস—চেয়ারম্যন এর আদেশ ব্যতীত ফান্ড থেকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হইবে না। চেয়ারম্যান এবং ভাইস—চেয়ারম্যন যেকোনো ক্ষেত্রে ফান্ডের অর্থ পরিশোধ করার দ্বৈত ক্ষমতা আছে। যেইক্ষেত্রে দু’জনই অনুপস্থিত থাকেন, সেইক্ষেত্রে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ফান্ডের অর্থ পরিশোধ করিবার আদেশ দিতে পারিবে। সকল খরচাদি খুচরা নগদ অর্থ থেকে ব্যয় করা হইবে যাহা অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান সময়ে সময়ে যাচাই করিয়া দেখিবেন।

 

(৩) বার কাউন্সিলের ফান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল হিসাব চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানের ও সময়ে সময়ে যাচাই করা হইবে। সকল হিসাব চেয়ারম্যান ও ভাইস—চেয়ারম্যান এর নিয়ন্ত্রণে থাকিবে।

 

বিধি ৮১ : (১) বার কাউন্সিলের ফান্ডে অর্থ জমা হইলে তাহা ব্যাংক বা ব্যাংকসমূহের হিসাবের মাধ্যমে জমা রাখিতে হইবে এবং নির্ধারিত ব্যক্তি হিসাব সমূহ চালাইবেন।

 

(২) বার কাউন্সিল, ফান্ডের যেকোনো অংশ বিনিয়োগ করিতে পারিবে ঐ পন্থায়, যা বার কাউন্সিল সঠিক মর্মে মনে করেন।

 

(৩) বার কাউন্সিল যেকোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ফান্ড গঠন করিতে পারে, যা বার কাউন্সিলের নির্ধারিত পন্থায় পরিচালনা করা হইবে।

 

বিধি ৮২ :  সময়ে সময়ে বার কাউন্সিল ফান্ডে যে অর্থ জমা হইবে তাহা নিম্নোক্ত ক্রম অনুসারে প্রয়োগ / ব্যবহার করিতে হইবে ঃ

 

প্রথম – বার কাউন্সিলের স্টাফ সদস্যদের বেতন ও ভাতা সমূহ পরিশোধ করিতে।

 

দ্বিতীয় – এই আদেশ বা বিধির অধীনে আরোপিত কোনো দায়িত্ব পালনের দায়বদ্ধতা পূর্ণকরণের খরচ।

 

তৃতীয়ত – সভায় বার কাউন্সিল কতৃর্ক ঘোষিত খরচই ফান্ডের সঠিক চার্জ।

 

বিধি ৮৩ : (১) বার কাউন্সিল এই বিধির ফরম—E—তে বর্ণিতভাবে নগদান বই রক্ষণাবেক্ষণ করিবে।

 

(২) সকল নগদ ও চেকের রশিদ যা ফান্ডের জমা কে বৃদ্ধি করে তা নগদান বইয়ের আদান (আয়) পার্শ্বে রশিদ ইস্যু হইবার পর যতদ্রুত সম্ভব লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

 

(৩) ফান্ড থেকে যাবতীয় খরচসমূহ, খরচ সংঘটিত হইবার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নগদান বইয়ের খরচ পার্শ্বে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

 

(৪) প্রতিদিনের শেষে, ঐ দিনের মোট গ্রহণ ও প্রদানের ব্যালেন্সকে বের করিতে হইবে এবং হিসাব ক্লোজ করিতে হইবে।

 

(৫) প্রতিদিন ব্যাংকে কত টাকা জমা রাখা হইল তা নগদান বইয়ে উপযুক্ত কলামে লিখিতে হইবে এবং টাকার পরিমাণ এবং জমা রশিদ/ভাউচারের নম্বর এবং তারিখ উল্লে­খ করিতে হইবে।

 

(৬) নগদান বইয়ের প্রতিটি অন্তর্ভুক্তি দফাওয়ারী রশিদসমূহ সেক্রেটারি কতৃর্ক যাচাই করা হইবে এবং টোকেন/চিরকুট চেকসমূহ সেক্রেটারি কতৃর্ক প্রত্যায়িত হইবে এবং নগদান বই প্রতিদিন সেক্রেটারি কতৃর্ক স্বাক্ষরিত হইবে।

(৭) প্রতি মাসের শেষে জের বন্ধ করিতে হইবে এবং ব্যাংক পাস বইয়ের শেষে জের মিলিয়ে দেখিতে হইবে।

 

(৮) নগদান বইয়ের কলামের মোট পরিমাণ পরবর্তী মাসের হিসেবে স্থানান্তর করা হইবে।

 

বিধি ৮৪ : (১) প্রতি বছরে এক—চতুর্থাংশের অর্থাৎ প্রতি তিন মাস অন্তর হিসাবের একটা বিবৃতি প্রদান করিতে হইবে যাতে আয়—ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উল্লে­খ থাকিবে এবং বার কাউন্সিলে জমা দিবে।

 

(২)  প্রত্যেক আর্থিক বছর শেষে এই বিধিমালায় বর্ণিত ফরম “F” অনুযায়ী বার্ষিক হিসাব দাখিল করিতে হইবে।

 

(৩) তৈরীকৃত বার্ষিক হিসাব চাটার্ড একাউন্টে অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ এ বর্ণিত একজন চাটার্ড একাউনটেন্ট কতৃর্ক নিরীক্ষা করা হইবে, যিনি বার কাউন্সিল কতৃর্ক নির্ধারিত সম্মানির বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হইবেন।

 

(৪) উপ—বিধি (৩) এর অধীন নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে হইবে এবং তিনি বার্ষিক হিসাব, রশিদ ও ভাউচারসহ প্রাসঙ্গিক যাবতীয় সবকিছু পরীক্ষা করিয়া দেখিবেন, এবং গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে যেকোনো বই, হিসাব, উপাত্ত, হিসাবের সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে পরীক্ষা করিতে পরিবেন।

 

(৫) নিরীক্ষক বার্ষিক হিসাবের উপর ভিত্তি করিঅ তাঁর প্রতিবেদন বার কাউন্সিলে জমা দিবেন এবং তাঁর প্রতিবেদনে বলিবেন যে, বার্ষিক হিসাব সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হিসাব, যা বার কাউন্সিলে অর্থের সঠিক হিসাব প্রকাশ করা হইল।

 

(৬) চেয়ারম্যান নিরীক্ষিত হিসাবের ১ (এক) কপি করা বার কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্যের কাছে আর্থিক বছরের শুরুতে বার কাউন্সিলে সভা আহ্বানের কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্বে জমা দিতে হইবে।

 

বিধি ৮৫ :  বার কাউন্সিলের সদস্যগণ, বিমান সার্ভিসের জন্য ইকোনমি ক্লাস ও ট্রেন  রেল/স্টীমার এর জন্য ১ম শ্রেণির ভাড়ার জন্য অধিকারী হইবে, যেইক্ষেত্রে বিমান বা রেল বা স্টিমার সচরাচর পাওয়া যায়।

 

বিধি ৮৬ :  প্রাক্কলিত বাকেট বিবরণী বার কাউন্সিলের সামনে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন এর পূর্বে অর্থ কমিটির কাছে সমীক্ষার জন্য দাখিল করিতে হইবে।

 

বিধি ৮৭ :  অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান সময়ে সময়ে বিভিন্ন ফান্ডের সংগ্রহ কার্য সম্পর্কে যাচাই করিবেন; যাতে Benevolent Fund-I— অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং উক্ত যাচাইয়ের ফলাফলের প্রতিবেদন, সুনির্দিষ্ট উপাত্তসহ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এর নিকট জমা দিবেন।

 

[ভ্রমন ভাতা]

 

বিধি ৮৯ :  বার কাউন্সিলের সদস্য যারা ঢাকার বাইরে থাকেন তারা বার কাউন্সিলের বা বার কাউন্সিলের কোনো কমিটির কোনো সভায় উপস্থিত হইবার জন্য ভ্রমণ করিলে প্রতিদিন ৪০০ টাকা (চারশত টাকা) করিয়া ভ্রমণ ভাতা পাইবেন যার মধ্যে প্রতিদিনের সভা স্থলে চলিয়া আসেন তবে অতিরিক্ত ১ (এক) দিনের ভাতা পাইবেন এবং অনুরূপ ভাবে বার কাউন্সিলের কাজ বা সভা শেষ হইবার পর যদি তিনি না আসেন তবে অতিরিক্ত ১ দিনের জন্য ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন।

 

বার কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ যারা ঢাকায় থাকেন তারা প্রতিদিন সভায় উপস্থিত হইবার জন্য ২৫ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন এবং বার কাউন্সিলের সদস্য, নির্বাহী কমিটি, স্থায়ী কমিটির উপ—কমিটির এবং ট্রাইব্যুনালের সভার জন্য ১.৭.১৯৭৬ থেকে কার্যকরী তারা সবাই ভাতা পাইবেন।

 

বিধি ৮৯এ:  ট্রাইব্যুনালের সকল সদস্য প্রতিদিন ট্রাইব্যুনাল হাজিরার জন্য ৫০০ টাকা করিয়া ভাতা পাইবার অধিকারী হবেন যদি সে বসার জন্য ভাতা নেয় তবে বিধি ৮৯ অনুযায়ী যাতায়াত ভাতা পাইবার অধিকারী হইবেন না।

 

বিধি ৯০ : (এ) যেইক্ষেত্রে বিমান, রেলওয়ে, স্টীমার সচরাচর পাওয়া যায় না বা ভ্রমণে সময় নষ্ট করে না সেইক্ষেত্রে সড়ক পথে ভ্রমণের জন্য কোনো সদস্য প্রতি মাইল ৫০ পয়সা করিয়া উত্তোলন করিতে পারিবেন।

 

(বি) যখন সড়কপথে ভ্রমণ করা হইবে সদস্য ঐ ভ্রমণের প্রকৃত ব্যয় পাইবার জন্য অধিকারী হইবেন।

 

[বিবিধ]

 

বিধি ৯১ : (১) বার কাউন্সিলের কোনো সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি-

 

(a) সে (সময়) তার পদত্যাগ পত্র সেক্রেটারি বরাবর জমা দেয় (পদত্যাগ তখন থেকেই কার্যকর হবে যখন তা জমা দেওয়া হইবে) ; বা

 

(b) তালিকা থেকে সে যদি অপসারিত হয় ; বা

 

(c) তিনি যদি বার কাউন্সিলের পর পর ৩ (তিন) টি সভায় অনুপস্থিত থাকেন এবং তার সভার মধ্যে বিবৃতি ৪ (চার) মাসের কম না হয়,

 

তবে শর্ত থাকে যে, সভার যদি চেয়ারম্যান এর অনুমতি নিয়ে অনুপস্থিত থাকা হয় তাহা হইলে এইরূপ অনুমতি অনুপস্থিতি অনুপস্থিতি হিসেবে ধরা হইবে না।

 

(d) তিনি যদি সুপ্রিম কোর্টের একজন জজ হিসেবে উত্তীর্ণ হন।

 

(২) বার কাউন্সিলের একজন সদস্য যিনি, এডভোকেট হিসেবে অপসারিত হয়েছেন, তিনি তার অপসারিত কালের জন্য সদস্য হিসেবে কাজ করিতে পারিবেন না, কিন্তু তার আসন শূন্য হবে যদি তার বহিষ্কারাদেশের মেয়াদ ১ (এক) বছর বা তার বেশি বা তার সদস্য পদের বাকি মেয়াদকালকে আবৃত হয়।

 

বিধি ৯২ : অনুচ্ছেদ—৭(৩) অনুযায়ী কেবলমাত্র সহ—মনোনয়নের উদ্দেশ্যেই বার কাউন্সিলের সদস্যদের ৮ (আট) দিনের নোটিশ দিয়ে সভা আহ্বান করা যাইবে।

 

বিধি ৯৩ : রেজিস্ট্রার নিয়ম—কানুনের কার্যধারাসমূহ এবং নির্বাচনের দরখাস্তসমূহ এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার্যধারার রেকর্ড এবং নির্বাচনের রেকর্ডসমূহ ততক্ষণ সংরক্ষণ করিবে, যতক্ষণ বার কাউন্সিল তা ধ্বংস করিবে মর্মে আদেশ প্রদান করে।

 

বিধি ৯৪ :  সকল পক্ষই কার্যধারার/মামলার সার্টিফাইড কপি/আসল কপির প্রতিলিপি সংগ্রহ করিতে পারে, তবে এইজন্য তাকে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে বার কাউন্সিল, ট্রাইব্যুনাল কোনো কমিটির কার্যধারার কপি পাইবার অধিকারী হইবেন, অন্য কোনো আগ্রহী পক্ষকে, চেয়ারম্যান এর অনুমতি সাপেক্ষে সার্টিফাইড কপি দওয়া যাইতে পারে, তবে তার জন উপযুক্ত ফি জমা দিতে হইবে। হাইকোর্ট এর কোনো কপি সংগ্রহের ফি এবং বার কাউন্সিলের কোনো কার্যকর কপির ফি সমান হইবে।

 

বিধি ৯৫ :  আইনশৃঙ্খলা কার্যধারায় কোনো পক্ষ কতৃর্ক করা আবেদনের সাথে ২০ (বিশ) টাকা জমা দিতে হইবে। তবে এটর্নি জেনারেল বা তার পক্ষে অন্য কোনো এডভোকেট এর করা আবেদন এইক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

 

বিধি ৯৬ :  এটর্নি জেনারেল বা তার পক্ষে অন্য কোনো একজন বাদে অন্য সকল এডভোকেট যারা বার কাউন্সিলের কোনো কমিটি বা ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত হইতে চায় তাকে পাওয়ার অফ এটর্নির সাথে ২০ (বিশ) টাকা সেক্রেটারি বরাবর পরিশোধ করিতে হইবে।

 

বিধি ৯৭ :  এই বিধিমালার অধীন অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি বরাবর পরিশোধ করিতে হইবে বা বার কাউন্সিল অনুমোদিত অন্য কোনো ব্যক্তির বরাবরে পরিশোধ করিতে হইবে এবং পরিশোধিত সকল অর্থের রশিদ কার্যধারার সাথে সংযুক্ত করে দিতে হইবে।

 

বিধি ৯৮ :  কার্যধারার পক্ষসমূহ প্রতিদিনের জন্য বা অংশ বিশেষের জন্য ২০ (বিশ) টাকা জমা দিয়ে রেকর্ড অনুসন্ধান করার অধিকারী হইবেন।

 

বিধি ৯৯ :  একজন এডভোকেট তার তালিকাভুক্তি সনদের অনুলিপির জন্য ৫০০ টাকা ফি জমা দিয়ে সচিব বরাবর আবেদন করিতে পারেন এবং ফরম “C” অনুযায়ী রশিদ বইয়ের নকলের জন্য ২০০ টাকা ফি জমা দিয়া, পরিচয় পত্রের জন্য ২০০ টাকা ফি জমা দিয়া আবেদন করিতে পারেন। একজন এডভোকেট পেশায় দাঁড়ানোর জন্য ৫০০ টকা জমা দিয়া সনদের জন্য সচিব বরাবর আবেদন করিতে পারেন।

 

বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট আচরণবিধি : মূল আইন

BANGLADESH BAR COUNCIL CANONS OF PROFESSIONAL CONDUCT AND ETIQUETTEE

 

যেক্ষেত্রে আইনের শাসন সভ্য সমাজের অত্যাবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্য এবং আদর্শ বিচারব্যবস্থা অনুধাবনের পূর্বশর্ত ;

 

এবং যেক্ষেত্রে এরূপ সমাজ সকল নাগরিকের আইনের সমান সুরক্ষা দেয় এবং তাদের জীবন সম্পদ এবং সম্মান উপভোগে নিরাপত্তা বিধান করে;

 

এবং যেক্ষেত্রে, আইনজীবী সমাজে এরূপ অধিকারের সুরক্ষা একটি অপরিহার্য শর্ত, মানুষ আইন শেখে এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ হিসেবে শ্রদ্ধা পায় এবং জনসেবামূলক কাজের চেতনায় অনুপ্রেরিত করে এবং আইনের শাসন সুমুন্নত রাখতে উৎস্বর্গী এবং সকল ভয়ভীতি ফেলে নাগরিকদের অধিকারের জন্য প্রতিরোধ করে ;

 

এবং যেক্ষেত্রে, তাদের প্রচেষ্টার আইনজীবীরা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সকারের রক্ষণাবেক্ষণ ও তৈরীতে তৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখেন এবং তা কার্যকরী (ফলপ্রসু) করতে ভূমিকা রাখেন যাতে করে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের উপলব্ধি হয় ;

 

এবং যেক্ষেত্রে, কার্যকরীভাবে এই উচ্চ দায়িত্ব পালন করতে আইনজীবীগণ তাদের পেশায় সদস্যদের মধ্যে, মক্কেলদের মধ্যে এবং আদালতের এবং জনগণের মধ্যে কিছু সম্পর্কের কিছু সঠিক আচরণ মেনে চলতে হবে;

 

এবং সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে এরূপ আচরণের মানদণ্ড পেশাগত আচরণের কানুনের এবং আদব কায়দার সমষ্টিতে সূত্রবদ্ধ করে;

 

এখন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পেশাগত আচরণের কানুন এবং আদব কায়দা নির্ধারিত করেছে এবং প্রত্যেক এডভোকেট এর প্রতি জোরালো সুপারিশ করছে এবং কানুনসমূহ পেশাগত সদস্যদের, মক্কেলদের, আদালতে এবং জনগণের সঙ্গে মেনে চলার জন্য।

 

[অন্যান্য—আইনজীবীগণের প্রতি আচরণ]

 

১. সকল আইনজীবীর প্রতি সর্বদা পেশাগত মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং এই পেশার সদস্য হিসেবে তার ব্যক্তিগত মর্যাদা সমুন্নত রাখা আইনজীবীর কর্তব্য।

 

২. কোনো আইনজীবী কোনো প্রকার বিজ্ঞাপন কতৃর্ক বা অন্য কোনো উপায়ে তাঁর পেশাগত কাজ চাইতে পারেন না। অবশ্য সাধারণ পেশাগত কার্ড, নামফলক বা ডাইরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্ত করতে এই বিধান বাধা প্রদান করবে না যদি তাতে পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বর্তমানে ধারণকৃত সরকারি পদবীর বাহিরে কিছু না থাকে এবং এরূপ কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিবে না যা ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপনের ইঙ্গিত প্রদান করে।

 

৩. কোনো আইনজীবী তাঁর পেশাগত কাজের যোগদানের লক্ষ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারবেন না অথবা তাঁকে পেশাগত কাজের যোগান দেওয়ার জন্য বেতন দিতে পারবেন না অথবা লাইসেন্সবিহীন কোনো ব্যক্তিকে আইনপেশা পরিচালনায় অথবা ক্ষতিপূরণ গ্রহণের নিমিত্ত সহযোগিতা বা প্ররোচনা দিতে পারবেন না কিংবা জ্ঞাতসারে উক্ত লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি কতৃর্ক পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণ করিতে পারবেন না।

 

৪. কোনো আইনজীবী, কোনো পক্ষের বিতর্কিত বিষয় যা তার অনুপস্থিতিতে একজন আইনজীবী দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করেন, তা ঐ আইনজীবীর অনুমতি ব্যতীত, যোগাযোগ করতে পারবেন না।

 

৫. কোনো আইনজীবী অপর পক্ষের আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে প্রকাশ্য আদালত ব্যতিরেকে একজন জজ বা বিচারিক কর্মকর্তার সম্মুখে বিচরাধীন মামলার গুণাবলীর বিষয়ে কোনো প্রকারের আলোচনা বা সওয়াল জবাবে অবতীর্ণ হবেন না, অথবা বিপক্ষের আইনজীবীকে বিচারাধীন মামলার বিষয়ে কপি বিলি না করে মামলার গুণাবলীর বিষয়ে জজের কাছে কোনো প্রকার লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে পারবেন না। এ ক্লজ একতরফা শুনানির বিষয় বা সাব—জুডিস এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

 

৬. যেক্ষেত্রে কোনো একজন মক্কেল অতিরিক্ত আইনজীবীর সহযোগিতা গ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করে, সেক্ষেত্রে তাতে বাধা প্রদান করা উচিত নয়। তবে যেক্ষেত্রে নিযুক্তির আইজীবীর বকেয়া ফি পরিশোধ না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে একজন বন্ধ আইনজীবীর নিযুক্তি অস্বীকার করা উচিত।

 

৭. আইনজীবী নয়, মক্কেলবৃন্দই মামলারত ব্যক্তি। মামলার মক্কেলদের মধ্যে যেরূপ দুঃসম্পর্ক থাকুক না কেন আইনজীবীগণের আচরণের মধ্যে তা প্রভাব ফেলবে না। আইনজীবীগণের মধ্যে সকল ব্যক্তিগত বিরোধ নৈতিকতার সাথে পরিহার করা উচিত। কোনো জেরার অন্য পক্ষের আইনজীবীর ব্যক্তিগত তথ্য বা ইতিহাস নিয়ে অশোভন ইঙ্গিত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আইনজীবীগণের মধ্যে ব্যক্তিগত কলহ বা উচ্চ বাগবিতন্ডা বিরোধ মেটানোর জন্য দেরীর কারণ এবং তা সতর্কতার সাথে এড়িয়ে চলতে হবে।

 

৮. আইনজীবীগণের মধ্যের কাজের বিষয়ে সম্পাদিত সুস্পষ্ট চুক্তির নীতিমালা ব্যতিরেকে অপর কোনো ব্যক্তির সাথে আইন পেশার ফি ভাগ—বাটোয়ারা হতে পারবে না।

 

৯. সাংবিধানিক রীতি এবং প্র্যাকটিস মতে (আদালতে শুনানির বেলায়। এটর্নিÑজেনারেল এবং এডভোকেট জেনারেলের কার্যাবলী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, এই কার্যাবলীর শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত থাকবে এবং বার কাউন্সিল কতৃর্ক তালিকাভুক্ত আইনজীবীগণ তা মেনে চলবে।

 

১০. পেশায় জুনিয়র এবং নবীন সদস্যবৃন্দ সর্বসময় সিনিয়র এবং প্রবীণ সদস্যবৃন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। সৌজন্যতার জন্য নহে বরং সমগোত্রীয় জুনিয়র ও নবীন সদস্যবৃন্দের প্রতি সদাচারী ও সহায়ক হবেন।

 

১১. যেক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষে একাধিক আইনজীবীকে নিয়োগ দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে তাঁদের মধ্য থেকে যিনি সিনিয়র তিনি মামলা পরিচালনার অধিকারী হবেন এবং জুনিয়র সদস্যবৃন্দ তাঁকে সহায়তা করবেন।

 

[মক্কেলগণের প্রতি আচরণ]

 

১. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেলের সম্পত্তি বা মামলায় জড়িত সম্পত্তি বা স্বার্থের প্রতি আসক্ত হইবেন না।

 

২. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর মক্কেল বা পূর্ববর্তী মক্কেলের কোনো বিষয়ে নিযুক্তি হেতু বা অন্য কোনো কারণে, গোপনীয় তথ্য জেনে থাকলে তিনি তদ্বিষয়ে আইনগত সহায়তা দানের জন্য তাঁর মক্কেল বা পূর্ববর্তী মক্কেলের বিরুদ্ধে নিয়োগ লাভ করবেন না। অবশ্য যেক্ষেত্রে কোনো একজন আইনজীবী যিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যক্তি কতৃর্ক নিযুক্তি হননি এবং এরূপ নিযুক্তি লাভের জন্য সেবাগত ফি নিননি সেক্ষেত্রে তিনি এরূপ ব্যক্তির স্বাার্থের প্রতিকূলে নিযুক্তির লাভে বারিত নন।

 

৩. যেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধ পক্ষের সাথে বা বিরোধীয় বিষয়বস্তুতে কোনো একজন আইনজীবীর সম্পর্ক থাকে, সেক্ষেত্রে তা প্রথমে ব্যক্ত না করে তিনি উক্ত ব্যক্তির পক্ষে পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণ করবেন না।

 

৪. কোনো একজন আইনজীবী পরস্পরবিরোধী স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করবেন না।

 

৫. কোনো একজন আইনজীবী স্ব—নামে বা বেনামে কোনো সম্পত্তি ইচ্ছাপত্র কতৃর্ক, বন্ধক উদ্ধার কতৃর্ক বা আদালত—এর নিলাম কিনবেন না। তিনি কোনো একটি পক্ষের যে সম্পত্তির জন্য আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করিয়াছেন সে কাজের পারিশ্রমিক, পুরস্কার বা দান হিসেবে উক্ত সম্পত্তি পুরোপুরি বা অংশবিশেষ গ্রহণ করবেন না।

 

৬. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর নিজের সম্পত্তির সাথে মক্কেলের সম্পত্তি একত্রিত করে ফেলবেন না এবং যদি তিনি মক্কেলের অর্থ বা সম্পদ পেয়ে থাকেন বা রিসিভ করে থাকেন, তাহলে তা অতি তাড়াতাড়ি উক্ত মক্কেলকে জানিয়ে দিবেন।

 

৭. কোনো একজন আইনজীবী যে পর্যন্ত না একজন পরামর্শক নিযুক্তি না হবেন সে পর্যন্ত কোনো মামলার বাদী বা আসামি পক্ষে মামলা সম্পর্কে উপদেশ দেওয়া আরম্ভ করবেন না। অবশ্য যেক্ষেত্রে কোনো পক্ষের সাথে বা বিষয়বস্তুর সাথে তার সম্পর্ক এরূপ হয় যে তার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেক্ষেত্রে তিনি তা করতে পারেন।

 

৮. কোনো একজন আইনজীবী তাঁর পেশাগত ক্ষমতায় কোনো আইন লংঘনের জন্য পরামর্শ দিবেন না। আইন বলবৎ নিন মর্মে সরল বিশ্বাসে পরামর্শ প্রদান করলে অত্র বিধি প্রযোজ্য হবে না।

 

৯. একজন আসামির অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো আইনজীবীর ব্যক্তিগতভাবে জানা হতে সৃষ্ট মতামত বা বিশ্বাস যা—ই হোক না কেন তিনি উক্ত আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে মামলা চালানোর অধিকার রাখেন। অন্যদিকে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যিনি কেবলমাত্র পরিস্থিতির শিকার তার পক্ষে আইনজীবী রূপে মামলা চালানোর জন্য অস্বীকৃতি জ্ঞাপনও করতে পারেন। যদি আসামি পক্ষে মামলা চালানোর এরূপ দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে কোনো একজন আইনজীবী ন্যায়ানুগ ও সম্মানজনকভাবে দেশের আইন কতৃর্ক অনুমোদিত সকল উপায়ে তার আত্মপক্ষ সমর্থন করতে বাধ্য এজন্য যে, কোনো ব্যক্তিকেই আইনের সঠিক প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে তার জীবন বা স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

 

১০. ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনজীবীগণ এরূপ কোনো প্রকার দাবি করবেন না যেন তাদের পরামর্শ ও সেবার চেয়ে অতিরিক্ত হয় অথবা তার অবমূল্যায়ন হয়। মক্কেলের ফি পরিশোধ করার সক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও সেবার মূল্যের চেয়ে অধিক ফি চাওয়া ন্যায়ানুগ নয়। একজন আইনজীবী আরেকজন আইনজীবী ভাইয়ের সন্তোষজনক যেকোনো অনুরোধ সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করিবেন। একজন আইনজীবীর বিধবা স্ত্রী বা এতিম সন্তানগণের বিষয়ে সকল আইনজীবী কোনো ফি ব্যতিরেকে তাদের মামলায় সহযোগিতা করিবেন।

 

ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নে উল্লি­খিত বিষয়াদি আমলে আনা উচিত

(i) মামলা চালানোর আবশ্যকীয় সময়, পরিশ্রম, সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তুর নতুনত্ব ও দুঃসাধ্যতা ;

(ii) যেক্ষেত্রে কোনো একটি বিশেষ মামলা গ্রহণ করা হয়, সেক্ষেত্রে ঐ মামলা সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু থেকে সৃষ্ট হতে পারে এরূপ মামলায়, তার উপস্থিত বারিত হতে পারে, যেন তাকে নিযুক্তি করা ন্যায়গতভাবে বেশি আশা করা যেত; কিংবা যেক্ষেত্রে ঐ বিশেষ মামলা গ্রহণ করা হয় সেক্ষেত্রে তার অন্যান্য কাজে ক্ষতির কারণ হয়;

(iii)আইনজীবীবৃন্দ যথারীতি ঐরূপ কাজে যে পরিমাণ ফি নিয়ে থাকেন;

(iv) বিরোধীয় বিষয়য়ের মূল্য এবং মক্কেল তার সেবা থেকে যে পরিমাণ আর্থিক সুবিধা করিয়া থাকেন;

(v)স্বার্থ আদায় করার অনিশ্চয়তা বা সমূহ সম্ভাবনা; এবং

(vi)নিযুক্তির রকম নৈমিত্তিক রকমের কিনা কিংবা তা কোনো প্রতিষ্ঠিত ও স্থায়ী মক্কেলের কিনা, এসব বিবেচ্য বিষয়াদি কোনোটিই স্বয়ং নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠি নয়। সেবার যথাযথ মূল্য ধার্যে্যর জন্য আরো অনেক রকম নির্দেশাবলী বিদ্যমান।

 

আইন পেশা ন্যায়বিচার পরিচালনার একটি শাখা এবং এটি কেবল অর্থ লাভের পেশা নয়, ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি কোনোভাবে ভুলে যাওয়া যাবে না।

 

১১. আইনজীবী তার মক্কেলের সাথে ফি বা পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো বিরোধ সেই পর্যন্ত পরিহার করে চলবেন যে পর্যন্ত তিনি তার বিবেচনায় তার সেবার জন্য যৌক্তিকভাবে পাওয়ার অধিকার রাখেন। মক্কেলের কোনো প্রকার আইন সম্পর্কিত বিষয়ে মামলার কেবলমাত্র অন্যায়, অপচাপ বা প্রবঞ্চনা প্রতিহতের চেষ্টা করতে হবে।

 

১২. কোনো একজন আইনজীবী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লোকগ্রাহ্য এরূপ কোনো হানিকর কোনো ঘটনাই কার্যকরভাবে উদ্ভূত বা পালিত হতে পারে না এবং প্রত্যাখ্যাত হইতে পারে না কেননা উক্ত পেশা জনসাধারণের উচ্চ ধারণা ও বিশ্বাস থেকে যা সঠিক দায়িত্ব পালন দ্বারা অর্জন করা হয়েছে। বিবেকহীনরা প্রায়শই বলে থাকেন যে, মামলায় সৃষ্ট বিষয়ে আইনজীবীগণের কর্তব্য হচ্ছে যে, যেকোনো উপায়েই হোক না কেন মক্কেলকে জিতিয়ে দেওয়া।

 

জেরা চলাকালীন ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা ধারণার প্রেক্ষিতে কোনো একজন আইনজীবী তার মক্কেলের নিরাপত্তার বা নির্দোষিতা সম্পর্কে বর্ণনা করা উচিত নয়। তার পেশায় তার মক্কেলের স্বার্থ সংগতির সাথে কোর্টের বলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন আইনজীবীর কর্তব্য হলো তার মক্কেলের স্বার্থজনিত বিষয়ে পুরোপুরিভাবে আত্মনিয়োগ করা। মক্কেলের অধিকার রক্ষায় ও প্রতিকারে কঠিন সংকল্প, শিক্ষা ও সামর্থে্যর মাধ্যমে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া যা নৈতিকভাবে প্রয়োগ হয়েছে এরূপ আইনের বিধান ব্যতিরেকে কোনো কিছুই তার কাছ থেকে নেওয়া বা আটকিয়ে রাখা যায় না। বিচারে জনগণের প্রিয়হীনতা কোনো উপায়েই তাকে পুরোপুরি দায়িত্ব পালন থেকে থামিয়ে রাখতে পারে না। বিচারের জায়গায় মক্কেল সেটুকু প্রতিকার পাওয়ার অধিকারী ও যেটুকু দেশের আইন কতৃর্ক অনুমোদিত এবং তিনি আশা করতে পারেন যে তার আইনজীবী সর্বপ্রকার প্রতিকার পাওয়ার জন্য যুক্তিতর্ক পেশ করবেন।

 

অবশ্য এটি কঠিনভাবে স্মর্তব্য যে, আইনজীবীর গভীর আস্থা আইনের পরিসীমার মধ্যে কিন্তু বাইরে প্রয়োগযোগ্য নয়। কোনো আইনজীবীর অফিস অনুমতি প্রদান করবে না তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবার তুলনায় অধিক কম, কোনো আইনে অন্য কোনো প্রতারণা বা চাতুরী। মক্কেলের বিবেক অনুযায়ী নয় বরং এডভোকেট এর বিবেক অনযায়ী মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব পালনে তিনি অবশ্যই সচেতন এবং বিবেক অনুসারী হবেন।

 

১৩. যখন কোনো একজন আইনজীবী, আনুষ্ঠানিক বিষয় যেমন কোনো দলিলের প্রত্যয়ন বা জিম্মাদারী বা রীতিসিদ্ধ বিষয়ের সাক্ষী ব্যতিরেকে তার মক্কেলের পক্ষে সাক্ষী হন, তখন সে মামলার বিচার পরিচালনার দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্যতা দায়িত্ব অন্য আইনজীবীর উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের জন্য অপরিহার্যতা ব্যতিরেকে কোনো আইনজীবী তার মক্কেলের জন্য সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত থাকবেন।

 

১৪. সচরাচর কোনো বিষয়ে যা বিচার ক্ষেত্রে মামলার গুণাগুণকে বারিত করে না, নতুবা মক্কেলের অধিকারের উল্লে­খযোগ্য ক্ষতিকারক রূপে নহে যথা, প্রতিপক্ষের আইনজীবীকে মামলা চালানোর তাগিদ দেওয়া যেক্ষেত্রে তিনি কোনো বিষয়ে শোকার্ত বা অসুস্থ থাকেন; প্রতিপক্ষের আইনজীবীর ক্ষতিকারক কোনো এক বিশেষ তারিখে মামলা চালানোর তাগিদ দেওয়া যেক্ষেত্রে অন্য তারিখে মামলা চালালে, কোনো ক্ষতির কারণ ছিলো না, বর্ধিত কোনো সময়ে লিখিত বর্ণনা পেশে রাজীনামা প্রদান করা, যুক্তিতর্ক পেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আইনজীবীকে তার স্ব—বিবেক অনুযায়ী বুদ্ধি খাটানোর সুযোগ প্রদান করতে হবে। উক্ত রকমের বিষয়ে মক্কেলের এরূপ দাবি করার সুযোগ থাকবে না যে, তার আইনজীবী হবেন কিংবা তিনি তার সুবিচার ও আদর্শের প্রতিকুলে কাজ করবেন।

 

[আদালতের প্রতি কর্তব্য]

 

১. একজন আইনজীবীর কর্তব্য হচ্ছে আদালতের সম্মুখে সম্মানজক চালচলন রক্ষা করা, আদালতের সাময়িক দায়িত্বরত কোনো অফিসার বা জজের জন্য নহে বরং এটি আদালতের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব রক্ষার জন্য। জজগণ স্ব—প্রতিরক্ষায় স্বাধীন না হওয়া হেতু তাঁরা অনুচিত সমালোচনা এবং বাক—বিতণ্ডা থেকে মুক্ত থাকার উদ্দেশ্যে বার থেকে বিশেষ সহযোগিতা পাওয়ার অধিকারী। একইভাবে যেক্ষেত্রে কোনো জুডিসিয়াল অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পর্যাপ্ত কারণ থাকে, সেক্ষেত্রে একজন আইনজীবীর অভিযোগকারী এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে রক্ষাকল্পে ও প্রতিকারের উদ্দেশ্যে অধিকার ও কর্তব্য এই যে আইনগতভাবে সেই অপরাধের পর্দা উন্মোচন করা।

 

২. একজন আইনজীবী কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো উপদেশ দিবেন না, যাহার সাক্ষ্য ও সাক্ষ্যগত তথ্যের উপাদান আছে, যাহা মামলার কাজে ত্যাগ বা বর্জন করা হয় বা গোপন করা হয়।

 

৩. কোনো একজন আইনজীবী কোনো সাক্ষীর সাক্ষ্য, প্রতিপক্ষের আইনজীবীর যুক্তিতর্ক কিংবা কোনো দলিলের বিষয়বস্তু জজ বা জুডিসিয়াল অফিসার বা জুরির সম্মুখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ভুলভাবে বিভ্রান্ত করবেন না। কিংবা সে কোনো সিদ্ধান্ত যা বাতিল হইয়াছে বা কোনো আইন যা রহিত বা সংবিধান বহিভূর্ত ঘোষণা করা হয়েছে তা জেনে থাকলে উক্ত বিষয় প্রকাশ না করে তা জজের বা জুডিসিয়াল অফিসারের সম্মুখে বর্ণনা করবেন না।

 

৪. কোনো জজ বা জুডিসিয়াল অফিসার—এর প্রতি কোনো একজন আইনজীবীর যোগাযোগ যা দৃষ্টিতে লাগে এবং চরম আতিথেয়তা বা রীতিবহিভূর্ত, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক না থাকলে, উক্ত জজ ও আইনজীবীর আচরণ ভুল ব্যাখ্যার শিকার হওয়ার কারণে তা ত্যাগ করা উচিত। কোনো একজন আইনজীবী যে মামলা বিচারাধীন আছে ঐ মামলার বিষয়বস্তু একান্তে জজ বরাবর উপস্থাপন করবেন না বা ঐ মামলার বিরোধিতা করবেন না। যদি কোনো কৌশল করে বা জজের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা লাভের চেষ্টা করা হয় তাহলে ঐ আইনজীবী তিরস্কার ও অভিযুক্তি হওয়ার যোগ্য হবেন। পেশাগত দায়িত্ব পরিপালনে একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন স্বতন্ত্র, জজের প্রাপ্য সম্মান ও তাঁর প্রতি পূর্ণ সৌজন্যই বার ও বেঞ্চের মধ্যকার আন্তরিক, ব্যক্তিগত ও অফিসিয়াল সম্পর্কের সঠিক মাপকাঠি।

 

৫. সরকার নিযুক্ত আইনজীবীর প্রাথমিক দায়িত্ব ন্যায়বিচার সম্পন্ন হয়েছে তা দেখানো, দোষী সাব্যস্ত করা নয়। আসামিকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য ঘটনা লুকানো বা সাক্ষীদের লুকানো অত্যন্ত নিন্দাযোগ্য।

 

৬. কোনো একজন আইনজীবী কতৃর্ক বিচারাধীন কোনো মামলা সম্পর্কে খবরের কাগজে প্রকাশে করা হলে তা আদালতে সুষ্ঠু বিচারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং অন্যভাবে ন্যায়বিচার পেতে ক্ষতি করতে পারে। স্বাভাবিকত এসব কর্মকে নিন্দা জ্ঞাপন করতে হবে। যেক্ষেত্রে বিশেষ কোনো মামলায় মারাত্মক কোনো অবস্থায় কোনো বর্ণনা বা ঘটনার সূত্র সাধারণ জনগণকে অবহিত করা অযৌক্তিক ও অনুচিত, ক্ষেত্রে তা ছদ্মনামে ব্যক্ত করাও রীতিবিরুদ্ধ। ঘটনার একচেটিয়া উদ্বৃতি আদালতে বিদ্যমান দলিলাদি থেকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে যাওয়া ঠিক নয়, বরং কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ মোকদ্দমাতেও একচেটিয়া বিবৃতি প্রদান পরিত্যাগ করা উচিত।

 

৭. যেক্ষেত্রে জজ মনোনয়ন ও বিনিয়োগ বিচারিক যোগ্যতার দক্ষতার তুলনায় রাজনৈতিক বিবেচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা আইনজীবীগণের দায়িত্ব। একজন আইনজীবী অযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে বিচারকের আসনে নিয়োগ ও নির্বাচনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ও আন্তরিকভাবে প্রতিবাদ জানাবেন এবং যেসব ব্যক্তি অন্য কোনো পেশা, যেমন, ব্যবসা, রাজনীতি বা অন্য ধরনের, পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুক, যেগুলো তাদের সুন্দর ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে পারে, ঐসব ব্যক্তিকে বিচারকের আসনে উন্নীত বা বসানোর চেষ্টা করবেন জুডিসিয়াল পজিশন সম্পর্কিত বিষয়ে আইনজীবীগণের প্রত্যাশা তাদের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চালিত হইবে যেন তাঁরা বিচারকের আসনকে সম্মান দিতে পারে।

 

৮. আইনজীবীগণের কর্তব্য হচ্ছে, যেক্ষেত্রে তার বিয়য়ে ডাকা হয়, সেক্ষেত্রে আদালতে হাজির থাকা এবং যেক্ষেত্রে তা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে পরিতুষ্টির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া।

 

৯. কোনো একজন আইনজীবী জজ বা জুডিসিয়াল অফিসার কতৃর্ক আইনগত মতামতের জন্য নিযুক্তি না হয়ে থাকলে তিনি স্বেচ্ছাপূর্বক বিরত থাকবেন। এরূপ মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে তাকে অবশ্যই যেকোনো পক্ষের স্বার্থ সম্পর্কে নিরপেক্ষতা ও দায়দায়িত্বের বিবেক সহকারে করতে হবে।

 

[জনসাধারণের প্রতি আচরণ]

১. কোনো একজন আইনজীবী কোনো ব্যক্তিকে আক্রোশের বশবর্তী হয়ে হয়রানির লক্ষ্যে বা কোনো বিষয় বিলম্বিত করার লক্ষ্যে কোনো মামলা পরিচালনা বা বিরোধিতার জন্য নিযুক্তি গ্রহণ কবেন না কিংবা তিনি কোনো মামলা পরিচালনা বা বিরোধিতার জন্য নিযুক্তি গ্রহণ করবেন না কিংবা তিনি কোনো ব্যক্তিকে হয়রানির লক্ষ্যে বা কোনো বিষয় বিলম্বিত করার লক্ষ্যে কোনো আপিল গ্রহণ বা পরিচালনা করবেন না।

 

২. একজন আইনজীবীর সর্বদা বিরোধী পক্ষের ও তাদের সাক্ষীদের সাথে সুন্দর ভদ্রোচিতভাবে ব্যবহার করা উচিত। তিনি কোনো মক্কেলের মামলার বিচার পরিচালনাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু করবেন না। পেশাগত বিষয়ে মক্কেলকে আইনজীবী সুবিবেচনার রক্ষক বা পালক হতে দেওয়া যাবে না। আইনজীবী প্রতিপক্ষকে গালমন্দ করবেন কিংবা অন্যায় যুক্তি দেখিয়ে আইনজীবীকে প্ররোচিত করবেন—এমন প্রকার দাবি করার অধিকার কোনো আইনজীবীর নিন।

 

৩. একজন আইনজীবী অবশ্যই একটি সিভিল মোকদ্দমা পরিচালনা করতে বা প্রতিহত করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবেন যেক্ষেত্রে তার বিশ্বাসের উদয় হয় যে, তা তার বিরোধী পক্ষকে কেবল হয়রানি বা ক্ষতিগস্ত করার লক্ষ্যে কিংবা অবৈধ কোনো কাজ করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। তবে মক্কেলের দাবিকৃত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আদালতে রায়ের লক্ষ্যে দাখিল করা কর্তব্যে উপনীত হবে যদি না তিনি একবার এরূপ দায়িত্ব এবং অধিকার গ্রহণ করেন। তাঁর অভিমত অনুযায়ী তাঁর মক্কেলের মামলা কোর্টে বিচার হওয়ার যোগ্য কেননা তাঁর কোর্টে উপস্থিতি তার বিবৃতির সমতুল্য।

 

৪. কোনো ব্যক্তি একজন মক্কেল হতে ইচ্ছা ব্যক্ত করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষে এডভাইজার বা আইনজীবী রূপে কাজ করতে আইনজীবী বাধ্য নয়। তিনি পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাইতে পারেন। প্রত্যেক আইনজীবী তার স্ব—দায়িত্বে অবশ্যই ঠিক করবেন কোন কাজ তিনি আইনজীবী রূপে গ্রহণ করবেন, বাদীর পক্ষে কোন মোকদ্দমা আদালতে উপস্থাপন করবেন এবং বিবাদীপক্ষে কোনো মোকদ্দমায় আদালতে লড়াই করবেন।

 

৫. যদি কোনো মক্কেল, কর্পোরেট বা ব্যক্তি যে পরিমাণ শক্তিশালীই হোক না কেন কিংবা কোনো কারণ, দেওয়ানি বা রাজনৈতিক, যেটুকুই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, আইন অমর্যাদা বা লঙ্ঘন বা অবমাননা হয়, তাহলে এরূপ কোনো বিষয়ে সেবা বা উপদেশ পাবেন না। কিংবা কোনো আইন, যার সেবক আইনজীবীগণ, অমর্যাদা হয় এরূপ কোনো বিষয়ে সেবা বা পরামর্শ প্রদান কিংবা বিচারকের আসনের প্রতি অশ্রদ্ধা, যার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে তিনি বাধ্য বা কোনো ব্যক্তির দুর্নীতি বা সরকারি দায়িত্ব পালনকারী কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি ট্রাস্ট ইত্যাদিকে প্ররোচিত করবেন না জনসাধারণকে প্রতারণা বা বিশ্বাসঘাতকামূলক কাজে। সেক্ষেত্রে উক্তরূপ অনুচিত সেবা বা উপদেশ প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে ঐ আইনজীবী সঠিকভাবে খুবই মারাত্মক দণ্ড পাবার যোগ্য হবেন। প্রকারান্তরে যেক্ষেত্রে তিনি মক্কেলের প্রতি মনোনিবেশ করে আইনের কঠোর নীতিমালা অনুসরণে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন সেক্ষেত্রে তার মাধ্যমে পেশার মর্যাদা বৃদ্ধি হয় এবং মক্কেলের সর্বোচ্চ স্বার্থ প্রতিষ্ঠিত হয়। কোনো আইন চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং উপযুক্ত আদালতে ব্যাখ্যা না হওয়া অবধি তিনি সুস্থ মস্তিষ্কে উক্ত আইনের অর্থ ও পরিব্যপ্তি যেটুকু বিশ্বাস করেন সেটুকু যুক্তি বা পরামর্শ দেয়ার অধিকারী। সর্বোপরি, কোনো একজন আইনজীবী দৃষ্টি রাখবেন, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনসাধারণের প্রতি কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিশ্বাস স্থাপনে কাজ করে সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে খ্যাতি ও বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেন।

 

৬. কোনো সরকারি অফিসার, বোর্ড, কমিটি বা ব্যক্তির সম্মুখে পেশাগত যোগ্যতায় উপস্থিত হওয়ার পূর্বে প্রথমে তাহার পরিচয় এবং তাহার স্বার্থে উপস্থিত হইয়াছে তাহা প্রকাশ না করিয়া এইরূপ অফিসার, বোর্ড, কমিটি বা ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হইবেন না।

 

৭. কোনো একজন আইনজীবী কোনো বিষয়ে আইনজীবীরূপে নিযুক্তি হবে না যে বিষয়ের মেরিটে পূর্বে বিচারিক যোগ্যতায় তিনি কাজ করেছেন।

 

৮. কোনো একজন আইনজীবী সাধারণ নিয়ম মতে অন্য পেশা বা ব্যবসা বা এরূপ পেশা বা ব্যবসায়ের একজন সক্রিয় পার্টনার বা বেতনভুক্ত অফিসার বা কর্মচারীর ন্যায় সাধারণ ব্যবসা বা পেশার সাথে জড়িত হবেন না।